আমেরিকা

এআইনির্ভর সাইবার হামলায় বাড়ছে ঝুঁকি, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৯:৫১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিচালিত সাইবার হামলা এবং র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এসব হামলায় প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য চুরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

 

সর্বশেষ কোকা-কোলার মালিকানাধীন ডেইরি কোম্পানি ফেয়ারলাইফ  জানিয়েছে, তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার একটি অংশে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সিস্টেম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় সাইবার হামলাগুলো আরও দ্রুত, জটিল এবং লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে উঠছে। এর ফলে তথ্য চুরি, মুক্তিপণ দাবি এবং সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

 

এ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস একটি নতুন সমন্বয় উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য হচ্ছে, উন্নত এআই ব্যবস্থায় শনাক্ত হওয়া সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, তথ্য বিনিময় করা এবং সমন্বিতভাবে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই আরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মৃত তরুন ও হাসপাতাল ছবি: সংগৃহীত
আইসিইউতে চিকিৎসক নেই, ভিডিও স্ক্রিনেই চলছিল চিকিৎসা! এরপরই ২৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এক ডেন্টাল শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার মামলা করেছেন তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তির পর কোনো আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি রোগীকে দেখেননি; বরং দূরবর্তী স্থান থেকে ভিডিও স্ক্রিনের মাধ্যমে তার চিকিৎসা তদারকি করা হচ্ছিল। পরিবারের দাবি, এ অবহেলার কারণেই ২৬ বছর বয়সী কনর হাইলটনের মৃত্যু হয়েছে।    আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তীব্র পেটব্যথা, বমি, পানিশূন্যতা, মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ এবং অ্যালকোহল প্রত্যাহারজনিত জটিলতা নিয়ে কনর হাইলটন ব্রিজপোর্ট হাসপাতালের মিলফোর্ড ক্যাম্পাসে ভর্তি হন। পরে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে কোনো অনসাইট আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে গেলেও তাকে সরাসরি কোনো চিকিৎসক পরীক্ষা করেননি।    মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হাইলটনের খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে তার হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায়। জরুরি সংকেত দেওয়ার পর তাকে শ্বাসনালি দিয়ে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, জরুরি চিকিৎসা শুরু করতেও বিলম্ব হয়েছিল, কারণ যিনি রোগীকে ইনটিউবেট করতে এসেছিলেন তিনি প্রথমে আইসিইউর অবস্থানই খুঁজে পাচ্ছিলেন না।    পরিবারের আইনজীবীর দাবি, হাসপাতালটি একটি ‘টেলি–আইসিইউ’ পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছিল, যেখানে সংকটাপন্ন রোগীদের দূরবর্তী স্থান থেকে ভিডিওর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হতো। তাদের অভিযোগ, রোগী বা পরিবারের সদস্যদের আগে থেকে জানানো হয়নি যে আইসিইউতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না। যদি তারা বিষয়টি জানতেন, তাহলে কনরকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের চেষ্টা করতেন।    মামলায় ইয়েল নিউ হ্যাভেন হেলথ, ব্রিজপোর্ট হাসপাতাল মিলফোর্ড ক্যাম্পাস এবং সংশ্লিষ্ট নর্থইস্ট মেডিকেল গ্রুপকে আসামি করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে কনরের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল।    অন্যদিকে ইয়েল নিউ হ্যাভেন হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মামলার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে বিচারাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা রোগীদের নিরাপদ ও সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ১০:১৪
ছবি: সংগৃহীত

এআইনির্ভর সাইবার হামলায় বাড়ছে ঝুঁকি, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠান

আটকের করার সময়। ছবি:সংগৃহীত

উবারে বিয়ার খেতে না চাওয়ায় , কেঁচি দিয়ে বান্ধুবীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে ফ্লোরিডার নারী গ্রেপ্তার

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন, কঠোর হচ্ছে আবেদন যাচাই

নতুন জীবনের সূচনা: পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড। ছবি:সংগৃহীত
ফুড স্ট্যাম্প-মেডিকেইড নিলে গ্রিন কার্ড নাও মিলতে পারে, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি ফিরিয়ে আনছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য আবারও কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’ (Public Charge) নীতি পুনর্বহাল করছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা কর্মসূচি ব্যবহার করা হলে তা গ্রিন কার্ড আবেদনের মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন নিয়ম আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধি অনুযায়ী, অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা মূল্যায়নের সময় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি বা ফুড স্ট্যাম্প), মেডিকেইড, হাউজিং ভাউচারসহ নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারবেন। তবে এসব সুবিধা গ্রহণ করলেই গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান হবে না। আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   নতুন নিয়মে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আয়, সম্পদ, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে।   ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, এই নীতির উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া নিশ্চিত করা এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা কর্মসূচির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীলতা নিরুৎসাহিত করা।   ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চালু হয়ে ২০২০ সালে কার্যকর হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২২ সালে সেই নীতি বাতিল করে অপেক্ষাকৃত শিথিল নির্দেশনা জারি করে। এবার ট্রাম্প প্রশাসন আগের কঠোর নীতিটি আবার কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন নিয়মের কারণে অনেক অভিবাসী পরিবার—বিশেষ করে যেসব পরিবার আইনগতভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য—তারা ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড আবেদনে প্রভাব পড়ার ভয়ে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা কিংবা আবাসন সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন।   যাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন চলমান বা শিগগির আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানা এবং প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি এখন থেকে আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হবে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৯:১২
আটক হওয়া রোনাল্ড ফিশার। ছবি:সংগৃহীত

২০ বছর পলাতক থাকার পর ধরা পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী

আমেরিকার ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাপিটল। ছবি:সংগৃহীত

মেরিল্যান্ডে রেড অ্যালার্ট, ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ছবি:সংগৃহীত

২০৩৩ সাল থেকে অবসরে যাওয়া দম্পতিদের বছরে কমতে পারে ১৭ হাজার ডলারের বেশি সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা

Donald Trump ছবি: সংগৃহীত
ভাষণ সম্প্রচার না করায় এবিসি, এনবিসি ও সিএনএনের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বহুল আলোচিত প্রাইমটাইম ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করায় দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম এবিসি, এনবিসি ও সিএনএনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভাষণ চলাকালেই তিনি অভিযোগ করেন, এসব সংবাদমাধ্যম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে এবং এ কারণে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।   স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ওই ভাষণে ট্রাম্প নির্বাচন নিরাপত্তা, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য দেন। তবে এবিসি, এনবিসি ও সিএনএন তাদের প্রধান সম্প্রচার চ্যানেলে ভাষণটি সরাসরি দেখায়নি। পরিবর্তে তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং, সংক্ষিপ্ত সম্প্রচার অথবা ভাষণ-পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের পথ বেছে নেয়। অন্যদিকে ফক্স নিউজ পুরো ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে এবং সিবিএস আংশিক সম্প্রচারের পর বক্তব্যের তথ্য যাচাই শুরু করে।   ভাষণের একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, জনগণের জানার অধিকার থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম সমন্বিতভাবে তাঁর বক্তব্য প্রচার না করে রাজনৈতিক পক্ষপাতের পরিচয় দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করলে এমন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হওয়া উচিত।   ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পরপরই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও সংবাদমাধ্যমগুলোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্টের জাতীয় ভাষণ সম্প্রচার না করা জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে বঞ্চিত করার শামিল।   অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অবস্থান ভিন্ন। তারা বলছে, ট্রাম্প অতীতেও নির্বাচন নিয়ে বহুবার প্রমাণহীন দাবি করেছেন। তাই ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে তারা বক্তব্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও প্রেক্ষাপট যুক্ত করে সংবাদ পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেয়।   যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশন সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে নেই। এ দায়িত্ব স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি)। এছাড়া জাতীয় সংবাদ নেটওয়ার্ক নয়, বরং স্থানীয় সম্প্রচার স্টেশনগুলো এফসিসির লাইসেন্সের আওতায় পরিচালিত হয়। ফলে প্রেসিডেন্টের এমন হুমকি বাস্তবায়ন করা আইনি ও সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত জটিল।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সরকারের সমালোচনা প্রচারের অধিকার এবং সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তপ্ত রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৭:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা এবং উইসকনসিন, অঙ্গরাজ্যের কিছু অংশের একটি আবহাওয়া বা সতর্কতার মানচিত্র। ছবি:সংগৃহীত

মিনেসোটার আবহাওয়া আপডেট: টুইন সিটিজে জরুরি সতর্কতা

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে শাহীন-৩ সারফেস-টু-সার্ফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। ছবি:সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে পাকিস্তান

গাড়ি ড্রাইভিং। ছবি:সংগৃহীত

গাড়ির গতি বাড়ালে কি সত্যিই জ্বালানি খরচ কমে? গবেষণা কি বলছে!

0 Comments