মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিনে তাকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারের সম্ভাব্য মস্কো সফরের কথাও জানিয়েছে রাশিয়া। পুতিনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার খুব শিগগিরই আবার রাশিয়া সফরে যেতে পারেন। তবে সম্ভাব্য এই সফরের বিষয়ে ওয়াশিংটন কিংবা সংশ্লিষ্ট মার্কিন প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে উইটকফ ও কুশনার ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। মস্কোর পক্ষ থেকে তাদের সফরের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ইউক্রেন সফরের সম্ভাবনা নিয়েও কিয়েভ বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউরি উশাকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক নিয়েই ট্রাম্প ও পুতিনের আলোচনার বড় অংশ আবর্তিত হয়েছে। ক্রেমলিন আরও জানিয়েছে, ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। এদিকে সোমবার থেকে ফ্রান্সের এভিওঁ শহরে শুরু হতে যাচ্ছে জি-৭ সম্মেলন। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। সম্মেলনের আগে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ বৃদ্ধির এই খবর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রোববার তারও ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। জেলেনস্কির কার্যালয় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটের এই আলাপকে কূটনীতি, যুদ্ধ এবং শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, তিনি ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দুই নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে শান্তি আলোচনার বিষয়টিও ছিল। তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান কীভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে, সে বিষয়েও ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন। জেলেনস্কির কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইউক্রেনবিষয়ক একটি ওয়ার্কিং সেশনে অংশ নিতে সম্মতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দুই নেতার মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এখনো নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন যে তিনি দ্রুত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান চান। তবে ইউক্রেনকে কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলায় কিয়েভ ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত বছর হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে জেলেনস্কিকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। ওই ঘটনার পর থেকে দুই নেতার সম্পর্ক কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে পুতিন ইউক্রেন সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইউরোপীয় মধ্যস্থতার পরিবর্তে সরাসরি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কৌশল অনুসরণ করছেন। জি-৭ সম্মেলনের আগে মস্কোর এই বার্তা অনেকের কাছে এমন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ এখনো সক্রিয় রয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় নেতারা চাইছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের পাশ কাটিয়ে এককভাবে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছে। কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জি-৭ বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে অনেক নেতা জেনেভায় অবস্থান করায় সেখানে বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা জি-৭ জোটকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেন। পুলিশের হিসাবে মিছিল শুরুর সময় প্রায় ৭ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৫ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা বলা হয়। বিক্ষোভ চলাকালে একটি টেসলা গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ভারতের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বা দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত এমন একটি দেশ, যা নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না। রুশ সংবাদমাধ্যম ও ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুতিন এসব মন্তব্য করেন। তিনি ভারতকে একটি স্বাধীন ও পূর্ণ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “ভারত সবসময় নিজের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বা চাপ উল্টো বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে পারে।” পুতিন তার বক্তব্যে মোদির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও মোদি এখন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে রাশিয়ার অত্যাধুনিক সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান এবং এস-৫০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনার প্রসঙ্গ উঠলে পুতিন বলেন, ভারত এমন একটি রাষ্ট্র, যা নিজের প্রয়োজন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। তার ভাষায়, “ভারতের কাছে যা সবচেয়ে আধুনিক, কার্যকর ও সাশ্রয়ী মনে হবে, তারা সেটিই বেছে নেবে। অন্যরা কী ভাবছে বা বলছে, তা নিয়ে ভারত সাধারণত সিদ্ধান্ত নেয় না।” রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কোনো সাময়িক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। দুই দেশের সহযোগিতা শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং যৌথ সামরিক প্রকল্পেও বিস্তৃত। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উদাহরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান ভারতের কাছে বিক্রি করতে রাশিয়া সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান। পুতিনের দাবি, সুখই-৫৭ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ভারতের প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের পর সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে বিলম্বের কারণে ভারত নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ভারত বর্তমানে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির উচ্চাভিলাষী ‘এএমসিএ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে এই যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের আগে বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে মধ্যবর্তী সময়ে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা ধরে রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে সুখই-৫৭ সংগ্রহের বিষয়টি ভারত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বার্তা নয়, বরং পরিবর্তিত বৈশ্বিক কূটনৈতিক বাস্তবতায় ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখার রাশিয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করে।
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি তাঁদের ‘মানবাধিকারের শিকারী’ (Predators) হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শীর্ষ নেতারা আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও বিচার ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, "আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকারের সংজ্ঞাকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করছে। ট্রাম্প, পুতিন এবং নেতানিয়াহুর মতো নেতারা আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বকে এক অন্ধকার ও অস্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।" প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কর্মকাণ্ডকে ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার খর্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের সমালোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রভাবশালী দেশগুলোর ‘শিকারী সুলভ’ আচরণের কারণে বিশ্বের অন্যান্য ছোট দেশগুলোও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাহস পাচ্ছে। যদি এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধারা প্রতিহত না করে, তবে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালে এসে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে।
রাশিয়ায় ইন্টারনেটের ওপর ক্রেমলিনের ক্রমবর্ধমান কড়াকড়ি এবং নতুন আইনি বিধিনিষেধের কারণে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন দেশটির জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন সম্প্রতি ইন্টারনেটে তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর প্রভাব কমাতে যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, তার ফলে আয়ের উৎস হারানোর পাশাপাশি আইনি জটিলতায় পড়ার শঙ্কায় আছেন হাজারো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার নতুন এই নীতিমালার আওতায় অনেক বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ভিপিএন (VPN) ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো রাশিয়ায় নিষিদ্ধ ছিল, তবে অনেক ইনফ্লুয়েন্সার ভিপিএন ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সরকারের নতুন সেন্সরশিপ আইন এখন সেই পথও বন্ধ করে দিচ্ছে। রুশ ইনফ্লুয়েন্সারদের মতে, এই বিধিনিষেধ কেবল তাদের বাকস্বাধীনতাই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং তাদের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছে। রাশিয়ার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম 'ভিকে' (VK) বা 'টেলিগ্রাম' ব্যবহারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হলেও, সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের মতো বিজ্ঞাপনের সুযোগ বা আয়ের সংস্থান নেই বলে দাবি করছেন তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিন প্রশাসন মূলত ইন্টারনেটে একটি 'ডিজিটাল দেয়াল' তৈরি করতে চাইছে, যাতে বাইরের বিশ্বের কোনো তথ্য বা প্রভাব রুশ নাগরিকদের কাছে পৌঁছাতে না পারে। এই সেন্সরশিপের ফলে রাশিয়ার তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি বিশাল রাষ্ট্রের জনমত নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন—সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই জটিল বাস্তবতা। দীর্ঘদিন মস্কোতে কর্মরত সাংবাদিক মার্ক বেনেটস তাঁর বই ‘দ্য ডিসেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে কীভাবে রাশিয়ার জনগণের যুক্তিবোধ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, এই প্রক্রিয়া এতটাই গভীরে গিয়েছে যে মানুষ অনেক সময় তথ্যকে মিথ্যা জেনেও তা বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ইলিয়া ইয়াশিন কারাগারে থাকার সময় এক সহবন্দির কাছ থেকে শুনেছিলেন, ইউক্রেন ‘নাজিতে ভরা’। অথচ সেই বন্দি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই মিথ্যা প্রচার করে। তবুও বিকল্প নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তিনি সেই প্রচারণাকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘দ্বৈত বাস্তবতা’ই পুতিনের প্রোপাগান্ডার মূল শক্তি—মানুষ জানে তথ্য বিকৃত হতে পারে, কিন্তু বিকল্প না থাকায় সেটিকেই মেনে নেয়। পুতিনের ভাবমূর্তি গঠনে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ গ্লেব পাভলোভস্কি। তিনি এমন এক নেতার চিত্র তৈরি করেন, যিনি শক্তিশালী, রহস্যময় এবং জনগণের রক্ষক। এই ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ম্যাক্স অটো ভন স্টিয়ারলিটজ-এর আদলে পুতিনকে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় পুতিনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন তিনি সর্বশক্তিমান সিদ্ধান্তদাতা—যিনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এমনকি ২০০০ সালের কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ১১৮ নাবিক নিহত হলেও তাঁকে সরাসরি দায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি। প্রোপাগান্ডার আরেকটি কৌশল হলো ‘ভালো জার, খারাপ কর্মকর্তা’ তত্ত্ব—রাষ্ট্রে কোনো ব্যর্থতা হলে তা পুতিনের নয়, বরং অধস্তনদের দায় বলে তুলে ধরা হয়। 'এর উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় নেতা আলেক্সান্ডার শেসতুনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি একটি পরিবেশগত প্রকল্পের বিরোধিতা করায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুরোপুরি প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এমনকি ২০১৪ সালে মস্কোর একটি বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশকে টেলিভিশনে প্রায় ফাঁকা দেখানো হয়েছিল। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি নয়, বরং জনগণের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ মনে করে, তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত মস্কোতেই নেওয়া হয়—ফলে প্রতিবাদের কোনো অর্থ নেই। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে জনগণের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করা হয়, যেমন ক্রিমিয়া দখল নিয়ে উল্লাস। যদিও এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই প্রোপাগান্ডার নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, জীবনমান কমেছে, অনেক এলাকায় মৌলিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। তবুও রাষ্ট্রীয় প্রচারণা এসব বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশল শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রোপাগান্ডা কার্যকর হতে পারে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি বিশাল রাষ্ট্রের জনমত নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন—সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই জটিল বাস্তবতা। দীর্ঘদিন মস্কোতে কর্মরত সাংবাদিক মার্ক বেনেটস তাঁর বই ‘দ্য ডিসেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে কীভাবে রাশিয়ার জনগণের যুক্তিবোধ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, এই প্রক্রিয়া এতটাই গভীরে গিয়েছে যে মানুষ অনেক সময় তথ্যকে মিথ্যা জেনেও তা বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ইলিয়া ইয়াশিন কারাগারে থাকার সময় এক সহবন্দির কাছ থেকে শুনেছিলেন, ইউক্রেন ‘নাজিতে ভরা’। অথচ সেই বন্দি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই মিথ্যা প্রচার করে। তবুও বিকল্প নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তিনি সেই প্রচারণাকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘দ্বৈত বাস্তবতা’ই পুতিনের প্রোপাগান্ডার মূল শক্তি—মানুষ জানে তথ্য বিকৃত হতে পারে, কিন্তু বিকল্প না থাকায় সেটিকেই মেনে নেয়। পুতিনের ভাবমূর্তি গঠনে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ গ্লেব পাভলোভস্কি। তিনি এমন এক নেতার চিত্র তৈরি করেন, যিনি শক্তিশালী, রহস্যময় এবং জনগণের রক্ষক। এই ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ম্যাক্স অটো ভন স্টিয়ারলিটজ-এর আদলে পুতিনকে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় পুতিনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন তিনি সর্বশক্তিমান সিদ্ধান্তদাতা—যিনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এমনকি ২০০০ সালের কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ১১৮ নাবিক নিহত হলেও তাঁকে সরাসরি দায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি। প্রোপাগান্ডার আরেকটি কৌশল হলো ‘ভালো জার, খারাপ কর্মকর্তা’ তত্ত্ব—রাষ্ট্রে কোনো ব্যর্থতা হলে তা পুতিনের নয়, বরং অধস্তনদের দায় বলে তুলে ধরা হয়। এর উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় নেতা আলেক্সান্ডার শেসতুনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি একটি পরিবেশগত প্রকল্পের বিরোধিতা করায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুরোপুরি প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এমনকি ২০১৪ সালে মস্কোর একটি বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশকে টেলিভিশনে প্রায় ফাঁকা দেখানো হয়েছিল। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি নয়, বরং জনগণের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ মনে করে, তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত মস্কোতেই নেওয়া হয়—ফলে প্রতিবাদের কোনো অর্থ নেই। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে জনগণের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করা হয়, যেমন ক্রিমিয়া দখল নিয়ে উল্লাস। যদিও এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই প্রোপাগান্ডার নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, জীবনমান কমেছে, অনেক এলাকায় মৌলিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। তবুও রাষ্ট্রীয় প্রচারণা এসব বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশল শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রোপাগান্ডা কার্যকর হতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইস্টার উপলক্ষে প্রস্তাবিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর দেওয়া এ প্রস্তাবকে ‘অস্পষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রস্তাবে স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রয়োজন ইউক্রেনেরই বেশি বলে দাবি করেন তিনি। এর আগে সোমবার অর্থোডক্স ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আসন্ন ১২ এপ্রিলের ইস্টার উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান জেলেনস্কি। তিনি এই উদ্যোগকে ‘আপসের একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। তবে রাশিয়ার মতে, এমন প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়। পেসকভ দাবি করেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে কোথাও দ্রুত, কোথাও ধীরগতিতে। এ অবস্থায় ইউক্রেনের নেতৃত্বকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, দেরি হলে সেই সিদ্ধান্তের মূল্য আরও বেড়ে যাবে। রাশিয়ার এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, তারা বর্তমান সামরিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের ওপর চাপ ধরে রাখতে চায়। গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একতরফাভাবে ইস্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। তখন জেলেনস্কি ওই বিরতি ৩০ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেননি পুতিন। এবার জেলেনস্কি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস বাজারে চাপ কমানো যায়। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি পেসকভ। তিনি শুধু জানান, রাশিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে বাল্টিক সাগর অঞ্চলের উস্ত-লুগা ও প্রিমোরস্ক বন্দরে ধারাবাহিক আঘাত হানা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কিয়েভ। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহল এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনা সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, মস্কো তেহরানকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা সরাসরি যুদ্ধ অংশগ্রহণ নয়; বরং গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া উন্নত স্যাটেলাইট তথ্যের মাধ্যমে ইরানকে মার্কিন নৌ ও বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণে সহায়তা করছে। এ কাজে রাশিয়ার “লিয়ানা” নামে পরিচিত একটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবস্থার ব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সহায়তায় উৎক্ষেপিত ইরানের “খৈয়াম” স্যাটেলাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই স্যাটেলাইট উচ্চমানের ছবি সরবরাহ করতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানকে আরও কার্যকর করে তুলছে। অন্যদিকে, পেন্টাগন মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার খবর অস্বীকার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়ার দেওয়া এই গোয়েন্দা সহায়তা সংঘাতের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা একমুখী নয়। ২০২২ সাল থেকে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছে। এখন সেই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ আবার ইরানের কাছেই ফিরে আসছে। উদাহরণ হিসেবে, সাম্প্রতিক এক হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি এমন একটি নেভিগেশন প্রযুক্তি পাওয়া গেছে, যা ইলেকট্রনিক বাধা বা জ্যামিং এড়াতে সক্ষম। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশলের মতোই এই প্রযুক্তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করছে। তবে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা থাকলেও রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই কারণে মস্কো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা কম।
ইরানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে মস্কো তেহরানের পাশে রয়েছে। শনিবার ইরানের নওরোজ বা ফারসি নববর্ষ উপলক্ষে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় এই মন্তব্য করেন তিনি বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। বার্তায় পুতিন ইরানের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি তারা সম্মানের সঙ্গে অতিক্রম করবে বলে তিনি আশা করেন। ক্রেমলিনের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ সৃষ্টি করেছে। এ সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে পুতিন এটিকে ‘নৃশংস’ বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি শর্ত দিয়েছিল রাশিয়া। তবে এ প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধিতে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। যদিও রাশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে—সে অবস্থানেই রয়েছে মস্কো। উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব থাকলেও এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো ধারা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।