সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইসলামাবাদ সংলাপ: যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ‘গঠনমূলক’ আলোচনায় বসবে—আশা পাকিস্তানের

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৬:৩০
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ফাইল ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ফাইল ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি বিশাল রাষ্ট্রের জনমত নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন—সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই জটিল বাস্তবতা। দীর্ঘদিন মস্কোতে কর্মরত সাংবাদিক মার্ক বেনেটস তাঁর বই ‘দ্য ডিসেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে কীভাবে রাশিয়ার জনগণের যুক্তিবোধ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।

 

এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, এই প্রক্রিয়া এতটাই গভীরে গিয়েছে যে মানুষ অনেক সময় তথ্যকে মিথ্যা জেনেও তা বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ইলিয়া ইয়াশিন কারাগারে থাকার সময় এক সহবন্দির কাছ থেকে শুনেছিলেন, ইউক্রেন ‘নাজিতে ভরা’। অথচ সেই বন্দি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই মিথ্যা প্রচার করে। তবুও বিকল্প নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তিনি সেই প্রচারণাকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘দ্বৈত বাস্তবতা’ই পুতিনের প্রোপাগান্ডার মূল শক্তি—মানুষ জানে তথ্য বিকৃত হতে পারে, কিন্তু বিকল্প না থাকায় সেটিকেই মেনে নেয়। পুতিনের ভাবমূর্তি গঠনে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ গ্লেব পাভলোভস্কি। তিনি এমন এক নেতার চিত্র তৈরি করেন, যিনি শক্তিশালী, রহস্যময় এবং জনগণের রক্ষক। এই ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ম্যাক্স অটো ভন স্টিয়ারলিটজ-এর আদলে পুতিনকে উপস্থাপন করা হয়।

 

রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় পুতিনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন তিনি সর্বশক্তিমান সিদ্ধান্তদাতা—যিনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এমনকি ২০০০ সালের কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ১১৮ নাবিক নিহত হলেও তাঁকে সরাসরি দায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি। প্রোপাগান্ডার আরেকটি কৌশল হলো ‘ভালো জার, খারাপ কর্মকর্তা’ তত্ত্ব—রাষ্ট্রে কোনো ব্যর্থতা হলে তা পুতিনের নয়, বরং অধস্তনদের দায় বলে তুলে ধরা হয়।

 

'এর উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় নেতা আলেক্সান্ডার শেসতুনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি একটি পরিবেশগত প্রকল্পের বিরোধিতা করায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুরোপুরি প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এমনকি ২০১৪ সালে মস্কোর একটি বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশকে টেলিভিশনে প্রায় ফাঁকা দেখানো হয়েছিল।

 

এই প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি নয়, বরং জনগণের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ মনে করে, তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত মস্কোতেই নেওয়া হয়—ফলে প্রতিবাদের কোনো অর্থ নেই। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে জনগণের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করা হয়, যেমন ক্রিমিয়া দখল নিয়ে উল্লাস। যদিও এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

 

তবে এই প্রোপাগান্ডার নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, জীবনমান কমেছে, অনেক এলাকায় মৌলিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। তবুও রাষ্ট্রীয় প্রচারণা এসব বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশল শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রোপাগান্ডা কার্যকর হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও ট্রিস্টান টেট
সামাজিক মাধ্যমে ফেইক বিলাসী জীবনযাপনের প্রদর্শন, স্বীকার টেট ভাইদের

বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও ট্রিস্টান টেটের আইনজীবীরা স্বীকার করেছেন, অনলাইনে তাদের বিপুল সম্পদের যে প্রদর্শন দেখা যেত, তার বড় অংশই ছিল সাজানো। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ ঠেকানোর আইনি লড়াইয়ের মধ্যে আদালতে দেওয়া নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেট ভাইদের আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানো বিলাসবহুল গাড়িগুলোর কয়েকটি তারা ভাড়া নিয়েছিলেন। এমনকি প্রায় ৫ কোটি ডলার মূল্যের একটি সুপারইয়টও তাদের মালিকানাধীন ছিল না। সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের বিনিময়ে তারা অর্থ পেয়েছিলেন।   আইনজীবীদের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল টেট ভাইদের জামিনে মুক্তি দিলে তারা পালিয়ে যেতে পারেন, এমন দাবির বিরোধিতা করা। প্রসিকিউশন তাদের বিপুল সম্পদ ও একাধিক পাসপোর্টকে সম্ভাব্য ফ্লাইট রিস্কের প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছে।   ২৮ পৃষ্ঠার এক আইনি আবেদনে টেট ভাইদের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোকে বাস্তব সম্পদের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পোস্টে ব্যঙ্গ, অতিরঞ্জন ও প্রচারণার উপাদান ছিল এবং বেশি ভিউ ও লাইক পাওয়ার মাধ্যমে আয় বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।   আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা একটি অ্যাস্টন মার্টিনের মূল্য প্রায় ২১ লাখ ডলার এবং দুটি বুগাটির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার হলেও গাড়িগুলো টেট ভাইদের নিজস্ব ছিল না। এগুলো ভিডিও তৈরির জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।   একইভাবে, প্রায় ৫ কোটি ডলার মূল্যের যে সুপারইয়ট তাদের বিলাসী জীবনযাপনের অংশ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানো হয়েছিল, আদালতের নথি অনুযায়ী সেটিও তাদের মালিকানাধীন নয়। টেট ভাইয়েরা সেটি প্রচারের জন্য অর্থ পেয়েছিলেন।   আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, অ্যান্ড্রু টেটের একাধিক পাসপোর্ট থাকার বিষয়ে আগের কিছু বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। প্রসিকিউশন তার এমন বক্তব্যকে সম্ভাব্য পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করলেও আইনজীবীরা সেটিকে রসিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   অ্যান্ড্রু টেট বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ, মানবপাচার ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি ও চরম পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আরও ১৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাই ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধেও ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে।   দুই ভাই দীর্ঘদিন রোমানিয়ায় বসবাস করেছেন। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অর্থপাচারসহ আলাদা তদন্ত চলছে।   গত ১৮ জুলাই মিয়ামিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন এবং যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতে সম্পদের প্রদর্শন নিয়ে আইনজীবীদের এই স্বীকারোক্তি তাদের জামিন ও প্রত্যর্পণসংক্রান্ত মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১১:৩৫
এবার লেবাননের তিন খ্রিষ্টান শহর দখলে নিলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

এবার লেবাননের তিন খ্রিষ্টান শহর দখলে নিলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ

ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনায় ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার কমল তেলের দাম

ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনায় ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার কমল তেলের দাম

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস

‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি
‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার ২৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ‘ঈদ মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানান।   বার্তায় মোদি আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র এই দিনটি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও শক্তিশালী করবে এবং সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনবে।   তিনি বলেন, দয়া, সহমর্মিতা এবং সমাজের জন্য কিছু করার মানসিকতা যেন মানুষের পথচলায় সবসময় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরও আশা করেন, এই দিন মানুষের মধ্যে ঐক্য ও আনন্দের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।   ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিমদের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৬:৫৫
চাঁদে পৌঁছানোর পথের হিসাব করেছিলেন নাসার এই গণিতবিদ

চাঁদে পৌঁছানোর পথের হিসাব করেছিলেন নাসার এই গণিতবিদ, ১০১ বছর বয়সে মৃত্যু

ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে

ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে

সারগোধা এলাকায় রাডার খুঁজতে পাঠানো ভারতীয় ড্রোনের একটি কিরানা হিলসে আঘাত করেছিল বলে জানিয়েছেন জেনারেল অনিল চৌহান। ছবি: এআই

পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হেনেছিল ভারতের ড্রোন, লক্ষ্য ছিল রাডার

বিড়ালের কান্না মনে করে বাইরে এসে পরিত্যক্ত জমিতে নবজাতককে খুঁজে পান স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজে। ছবি: সংগৃহীত
বিড়ালের ডাক ভেবে এগিয়ে যেতেই আবর্জনার স্তূপে মিলল নবজাতক

ব্রাজিলের পারানার পিরাকোয়ারায় পরিত্যক্ত একটি জমিতে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাড়ি তখনও সংযুক্ত ছিল। স্থানীয় এক নারী প্রথমে শব্দটি বিড়ালের কান্না ভেবে বাইরে বের হয়েছিলেন। পরে পাশের জমিতে খোঁজ করতে গিয়ে ব্যাগের ভেতর নবজাতককে দেখতে পান তিনি।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার ভোরে কুরিতিবার মহানগর এলাকার পিরাকোয়ারা পৌরসভার গুয়ারিতুবা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজে জানান, নিজের একটি বিড়াল কাঁদছে মনে করে তিনি বাড়ির বাইরে বের হন। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাশের একটি জমিতে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটির ওপর কালো একটি তোয়ালে দেওয়া ছিল।   কাছাকাছি গিয়ে ব্যাগের ভেতরে নবজাতককে দেখতে পান কাটিয়া। শিশুটির নাড়ি তখনও কাটা হয়নি এবং তার শরীরে জন্মের পরের চিহ্ন ছিল। ঘটনাটি দেখে তিনি দ্রুত আশপাশের লোকজনকে জানান এবং জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাটিয়াকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তিনি শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে কুরিতিবার হসপিটাল দে ক্লিনিকাসে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম পূর্ণ ৪০ সপ্তাহের গর্ভধারণের পর হয়েছে। তার ওজন ছিল ২ দশমিক ৮ কেজি। হাসপাতালে নেওয়ার সময় শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সে নিজে থেকেই শ্বাস নিচ্ছিল।   নবজাতককে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে দুটি হাড়ে আঘাতের চিহ্ন পান। এর মধ্যে কলারবোন ও উরুর হাড়ে ভাঙার মতো আঘাত ছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এসব আঘাত প্রসবের সময়ই হয়ে থাকতে পারে। শিশুটির জন্ম কোনো হাসপাতালে হয়নি বলেও প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।   ঘটনার তদন্তে নেমে পারানা সিভিল পুলিশ শিশুটির মাকে শনাক্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী, যিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করেন। তদন্তকারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করেন। পরে কিশোরীটি স্বীকার করেন যে সোমবার ভোরে তিনি সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তা জোয়াও পাওলো পেলায়েজের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীটি পুলিশকে বলেছেন, প্রসবের পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং শিশুটি মৃত অবস্থায় জন্মেছে বলে মনে করেছিলেন। এরপর নবজাতককে একটি তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে বাড়ির পাশের খালি জমিতে রেখে যান বলে তার বক্তব্য। পুলিশের কাছে কিশোরীটি আরও দাবি করেছেন, তার গর্ভধারণ একটি যৌন সহিংসতার ঘটনার ফল। সে কারণে পরিবার ও পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি গর্ভধারণের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। এই দাবির সত্যতা যাচাই করতেও আলাদা করে তদন্ত চলছে।   কিশোরী ও তার বাবা-মাকে পুলিশের কাছে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে আপাতত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং মামলার কার্যক্রম চলবে মুক্ত অবস্থায়। প্রাথমিকভাবে নবজাতককে পরিত্যাগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে মামলাটিকে নবজাতকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের চেষ্টার দিক থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। শিশুটিকে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ব্রাজিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালত ও শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। একটি প্রতিবেদনে কিশোরী ও তার বাবা-মায়ের শিশুটির সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞার কথাও জানানো হয়েছে।   পুলিশ এখন ঘটনার পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। কিশোরীর পরিবার গর্ভধারণের বিষয়টি আগে থেকে জানত কি না, শিশুটিকে পরিত্যাগের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং শিশুটির শরীরে পাওয়া আঘাত কীভাবে হয়েছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই নবজাতককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি যদি শব্দটি শুনে সেটিকে শুধু বিড়ালের কান্না মনে করে আর বাইরে না আসতেন, তাহলে শিশুটির কী পরিণতি হতো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ঘটনাটি ব্রাজিলের পারানা রাজ্যে নবজাতকের নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে পুলিশ এখনো তদন্ত শেষ করেনি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও শিশুটিকে পরিত্যাগের পূর্ণ কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।   সংবাদসূত্র: দ্য সান ও ইউওএল ব্রাজিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২২:৩০
দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং যেতে গিয়ে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়া যেতে চেয়েছিলেন, শহরের নামের ভুলে পৌঁছে গেলেন উত্তর কোরিয়ায়

৩ হাজার ৪০০ চুমুর দিয়ে  সাজানো গাড়ি

৩ হাজার ৪০০ চুমুর দিয়ে সাজানো গাড়ি, শেষ পর্যন্ত গুনতে হলো জরিমানা

সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং

সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং, ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরের সম্ভাবনা

0 Comments