আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী
বাংলাদেশি-আমেরিকান আইনজীবী অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট ওফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস এ আইনজীবী হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছেন। এই অনুমোদনের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে মামলা দায়ের, আবেদন উপস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মক্কেলের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে তিনি এটিকে তাঁর পেশাজীবনের একটি গর্বের মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মঈন চৌধুরী লিখেছেন, “আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত Supreme Court of the United States-এ Admitted Attorney at Law হিসেবে আমি গর্বিত।”
যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পাওয়া একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশাগত স্বীকৃতি। এ অনুমোদন পেতে একজন আইনজীবীকে সাধারণত অন্তত তিন বছর কোনো অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের বারে সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় থাকতে হয়। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে আগে থেকেই অনুমোদিত দুইজন আইনজীবীর সুপারিশ, নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং শপথ গ্রহণের মতো আনুষ্ঠানিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।
অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী নিউইয়র্ক, মিশিগানে সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত আইনজীবীদের একজন। অভিবাসন আইনসহ বিভিন্ন আইনি বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মক্কেল রয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
তাঁর এই অর্জনের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী আইনজীবী, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই এটিকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি আইনজীবীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বাংলদেশি কমিউনিটির নেতাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তি একজন অ্যাটর্নির পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সুনামের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। যদিও দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক মামলার শুনানি হয়, তবুও সেখানে আইনজীবী হিসেবে অনুমোদন পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আইন পেশায় একটি সম্মানজনক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreরাশিয়ায় চার বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিয়েছে মস্কো। বুধবার (২১ অক্টোবর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মুক্তির পর হাবার্ডকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে রাখা হয়। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার চলমান যু দ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সকালে সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান উইটকফ। তাঁর এই সফরে হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগের দিনই হাবার্ডের মুক্তির বিষয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলার কথা প্রকাশ্যে জানান। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হাবার্ডের বিষয়টি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেছেন এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তখনই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। পরদিনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে মুক্তির ঘোষণা আসে। মিশিগানের বাসিন্দা হাবার্ড পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিয়ামে বসবাস করতেন তিনি। ২০২২ সালের এপ্রিলে শহরটিতে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর তাঁকে আ ট ক করা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, তিনি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। ইউক্রেনের একটি সামরিক চৌকিতে দায়িত্ব পালনের অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে রাশিয়ার একটি আদালত রুদ্ধদ্বার বিচার শেষে হাবার্ডকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আ ক্র ম ণ শুরুর পর তিনি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। পরে রুশ বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। তবে হাবার্ডের মার্কিন আইনজীবী মার্টিন ডি লুকা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হাবার্ড জানিয়েছিলেন যে তিনি কোনো যু দ্ধ বা সামরিক ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। রুশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাবার্ড অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে তাঁর পরিবার এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পরিবারের সদস্যরা তাঁর দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী মনোভাবের কথা উল্লেখ করে অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসন হাবার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে। এর ফলে তাঁকে মুক্ত করতে মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মুক্তির আগ পর্যন্ত রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তিনিই ছিলেন ওয়াশিংটনের এই শ্রেণিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত একমাত্র ব্যক্তি। হাবার্ডের মুক্তির ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যু দ্ধ বন্ধে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপও বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় হাবার্ডের মুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের শঙ্কা, রাজ্যগুলোকে গোপনে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা
ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ আদালতের, ১ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরুর সময়সীমা
ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার বন্ধের দাবিতে নিউ ইয়র্কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
মাত্র ৮ বছর বয়সে যিশুখ্রিষ্টের বিখ্যাত প্রতিকৃতি এঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছিলেন মার্কিন শিল্পী আকিয়ানে ক্রামারিক। এবার নিজের শৈশবের এক রহস্যময় অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। আকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে থাকার সময় তিনি প্রায় সাত ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন। সে সময় তাঁকে খুঁজতে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছিল। তবে তাঁর দাবি, ওই সময় তিনি অন্য এক জগতে যাওয়ার মতো আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে স্বর্গের দৃশ্য দেখেছেন বলে তাঁর বিশ্বাস। ফক্স নিউজের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘হ্যাং আউট উইথ শন হ্যানিটি’ পডকাস্টে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন ৩২ বছর বয়সী আকিয়ানে। তিনি বলেন, তাঁর মনে হয়েছিল শরীর যেন দূরে সরে যাচ্ছে। এরপর চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। পরে তিনি নিজেকে এমন এক অবস্থানে কল্পনা করেন, যেখান থেকে নিচে নিজের পরিবার, কুকুর এবং তাঁকে খুঁজতে থাকা পুলিশ সদস্যদের দেখতে পাচ্ছিলেন। তাঁর ভাষায়, অভিজ্ঞতাটি ছিল অনেকটা ঈগলের চোখে ওপর থেকে সবকিছু দেখার মতো। আকিয়ানে জানান, তাঁকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মা বাড়িতে এসে তাঁকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ভাইয়েরাও বাড়ির আশপাশে খোঁজ করেন এবং পরে বাবাকে খবর দেওয়া হয়। প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্য এবং প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়েও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সম্ভাব্য অপহরণের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে স্থানীয় এলাকায় তাঁর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা-মা পরে জানিয়েছিলেন, তিনি প্রায় সাড়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন। কিন্তু তাঁর নিজের অনুভূতিতে অভিজ্ঞতাটি আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল। ওই সময়ে ঈশ্বর তাঁকে অসাধারণ কিছু দৃশ্য দেখিয়েছেন এবং নানা জ্ঞান দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার বর্ণনা তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। অভিজ্ঞতাটির প্রকৃতি বা এর পেছনে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। শৈশব থেকেই আকিয়ানে ছবি আঁকা ও কবিতা লেখায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি যিশুখ্রিষ্টের তৈলচিত্র ‘প্রিন্স অব পিস’ আঁকেন। ছবিটি তাঁকে শিশু প্রতিভা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। বেলোভেড গ্যালারির তথ্য অনুযায়ী, তাঁর শৈশবের স্বপ্ন ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ছবিটি আঁকার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। আকিয়ানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে, শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পচর্চার বাইরেও জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। আকিয়ানে আরও বলেন, তাঁর এই অভিজ্ঞতা পরিবারের বিশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর বাবা-মা সন্তানদের ধর্মীয় বিশ্বাসনির্ভর পরিবেশে বড় করেননি। তবে মেয়ের বর্ণিত অভিজ্ঞতার পর তাঁরা নিজেদের বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন বলে আকিয়ানে দাবি করেছেন। তাঁর শৈশবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে শন হ্যানিটির পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারের পর। সূত্র: ফক্স নিউজ, বেলোভেড গ্যালারি।
টানা তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিমানবন্দর নির্বাচিত নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি তথ্য চাওয়ায় ১০ লাখ ডলারের বিল, অপেক্ষা করতে হবে ৫০ বছর
নিউইয়র্ক সিটিতে আইস এজেন্টদের পার্কিং সুবিধা না দেওয়ার আহ্বান মেয়র মামদানির
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি শনাক্ত করতে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন পুরস্কার কর্মসূচি চালু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। এ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট ধরনের জালিয়াতি বা অপরাধের তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তাকারীরা ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার পেতে পারেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ উদ্যোগের ঘোষণা দেন। ‘ফ্রড হুইসেলব্লোয়ার ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম’ বা ‘হুইপ’ নামের কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো সরকারি অর্থের অপব্যবহার শনাক্ত করা এবং তথ্যদাতাদের পুরস্কার দ্রুত পৌঁছে দেওয়া। মার্কিন বিচার বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো পুরস্কার প্রদানের সময়সীমা কমিয়ে আনা। প্রচলিত ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তথ্যদাতাদের পুরস্কার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন কর্মসূচিতে তুলনামূলকভাবে দ্রুত অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, পুরস্কারের পরিমাণ ও তা পাওয়ার সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে আরও বেশি মানুষ জালিয়াতির তথ্য জানাতে উৎসাহিত হবেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, সরকারি কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধ করা প্রেসিডেন্টের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জালিয়াতি বন্ধে সহায়তাকারী ব্যক্তিরাও পুরস্কারের অংশীদার হতে পারবেন বলে জানান তিনি। হোয়াইট হাউসে জালিয়াতিবিরোধী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভ্যান্স। বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ডের মতে, সাধারণ মানুষকে এ কার্যক্রমে যুক্ত করা এবং দ্রুত পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা জালিয়াতি শনাক্তে সহায়ক হতে পারে। নতুন কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের পাশাপাশি কৃষি, শ্রম, শিক্ষা, আবাসন, প্রবীণ সেনাসদস্যদের কল্যাণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রশাসনের কিছু সরকারি সুবিধা ও কর্মসূচিতে জালিয়াতির তথ্য দেওয়া যাবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রবীণদের আবাসিক সেবা, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা, শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র এবং বিশেষায়িত সেবায় জালিয়াতির তথ্যের ওপর। বিচার বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, তথ্য হতে হবে নির্ভরযোগ্য, সুনির্দিষ্ট ও নতুন। তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠিত হলে তথ্যদাতা ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে পুরস্কার দেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষমতা বিচার বিভাগের হাতে থাকবে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম ১০ হাজার ডলারের পুরস্কার পাওয়ার কথা রয়েছে নিক শার্লি নামের এক অনলাইন ভিডিও নির্মাতার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিনেসোটায় শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রগুলোতে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে গত বছর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসন ওই ভিডিওকে জালিয়াতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। তবে ভিডিওতে যেসব কেন্দ্রের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটি পরিদর্শন করে পরিদর্শকেরা স্বাভাবিক কার্যক্রম চলার তথ্য পেয়েছিলেন বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় ফাহিমা মাহামুদ নামের এক নারী গত জুলাইয়ে তার শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রে শিশুদের খাবারের জন্য সরকারি অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে অতিরঞ্জিত হিসাব দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে তারবার্তার মাধ্যমে জালিয়াতি এবং সরকারকে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ছিল। তবে একটি মামলায় দোষ স্বীকারের তথ্য দিয়ে ভিডিওতে উত্থাপিত সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নতুন কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট ধরনের জালিয়াতির তথ্য দিতে উৎসাহিত করছে মার্কিন বিচার বিভাগ। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
৩ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান
ফ্লোরিডায় শিক্ষার্থীর দিকে কাঁচি ছুড়ে মারার অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার