ব্রিটিশ রাজপরিবারের ছোট ছেলে এবং ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারির জীবন নিয়ে লেখা একটি নতুন বইকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। হ্যারির এক মুখপাত্র এই বইটিতে উল্লিখিত দাবিগুলোকে "ভ্রান্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র" বলে আখ্যা দিয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ, ২০২৬) এক বিবৃতিতে প্রিন্স হ্যারির মুখপাত্র জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত ওই বইটিতে হ্যারি ও তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যে ধরনের তথ্য এবং তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি একে স্রেফ কল্পকাহিনী এবং একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটিতে হ্যারির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাথে তার বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছিল। বিশেষ করে কিছু অপ্রমাণিত তথ্য সেখানে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা হ্যারির ভাবমূর্তিকে বিতর্কিত করে তোলে। বিবৃতিতে মুখপাত্র আরও বলেন, "এটি কোনো সত্যনিষ্ঠ লেখা নয়, বরং এক ধরনের বিকৃত মস্তিষ্কের ষড়যন্ত্র। পাঠকদের বিভ্রান্ত করতেই এমন কাল্পনিক গল্প সাজানো হয়েছে।" প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই তারা বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। নিজের আত্মজীবনী 'স্পেয়ার' (Spare) প্রকাশের পর হ্যারি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। তবে নতুন এই বইটি নিয়ে তার পক্ষ থেকে যে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা রাজপরিবার এবং গণমাধ্যমের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন পর্যন্ত ওই বইটির লেখকের পক্ষ থেকে হ্যারির মুখপাত্রের এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তেজনার মাঝেই নতুন এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার কোনো রাজনৈতিক ভাষ্য নয়, বরং একটি বিদ্রূপাত্মক ভাস্কর্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত ন্যাশনাল মলে প্রায় ১২ ফুট উঁচু একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে টাইটানিক সিনেমার সেই চিরচেনা জ্যাক ও রোজের ভঙ্গিতে দেখা যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে। ‘দি কিং অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামের এই সোনালি রঙের ভাস্কর্যটি তৈরি করেছে ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ নামক একটি অজ্ঞাতনামা শিল্পী গোষ্ঠী। শিল্পকর্মটিতে দেখা যাচ্ছে, টাইটানিক জাহাজের সামনের অংশে যেভাবে রোজ দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই আছেন এপস্টিন। আর পিছন থেকে তাঁকে জ্যাকের মতো জড়িয়ে ধরে আছেন ট্রাম্প। ভাস্কর্যটি এমন কৌশলে বসানো হয়েছে যাতে এটি সরাসরি ওয়াশিংটন মনুমেন্টের দিকে মুখ করে থাকে, যা ন্যাশনাল মলে আসা পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। শুধু ভাস্কর্যই নয়, এর সামনে ক্যাপিটাল হিলের দিকে মুখ করে ১০টি বিশাল ব্যানার টানানো হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প ও এপস্টিনের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবির পাশাপাশি ‘শ্যাক আমেরিকা সেফ অ্যাগেইন’ স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যানারগুলোতে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রতীক থাকলেও রহস্যময়ভাবে ‘জাস্টিস’ শব্দটি কালো রঙে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এটি এই শিল্পী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ন্যাশনাল মলে স্থাপিত তৃতীয় বিতর্কিত শিল্পকর্ম। এর আগে গত জানুয়ারিতে এপস্টিনের জন্মদিনের বার্তার প্রতিলিপি এবং সেপ্টেম্বরে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড ফরএভার’ শিরোনামে এই দুজনের হাত ধরে থাকা একটি ভাস্কর্য স্থাপন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল গোষ্ঠীটি। বরাবরের মতো এবারও শিল্পীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেছেন, তবে তাদের এই বিদ্রূপাত্মক কাজ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক।
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত থালাপতি বিজয় এবং তার স্ত্রী সঙ্গীতা সোরনালিঙ্গমের দাম্পত্য জীবনে বড় ধাক্কা লেগেছে। দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে গুণিতকের মতো এই জুটির বিচ্ছেদ চাইলেন সঙ্গীতা। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঙ্গীতা জেলা আদালতে দায়ের করা আবেদনপত্রে অভিযোগ করেছেন, বিজয় একজন সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। ২০২১ সালে প্রথমবার তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং তার পর থেকে একাধিকবার আশ্বাস পেলেও সম্পর্কটি অবসান হয়নি। বিবাহবিচ্ছেদ আবেদনে বিশেষ বিবাহ আইন, ১৯৫৪-এর ২৭(১)(ক) ও ২৭(১)(ঘ) ধারার আওতায় ব্যভিচার ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজয় ও সঙ্গীতা ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট বিয়ে করেছিলেন। দম্পতির দুই সন্তান আছে—জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা শাশা। সঙ্গীতা একজন তামিল শিল্পপতির কন্যা এবং বিয়ের আগে তিনি দীর্ঘদিন বিজয়ের ভক্ত ছিলেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তামিলনাড়ুতে চলচ্চিত্র অঙ্গন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে আদালতে মামলা বিচারাধীন।
জেফ্রি এপস্টিন—মার্কিন ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের নাম। দীর্ঘ তদন্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশ করেছে লাখ লাখ নথি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বলছেন দেশ এখন অন্য কিছুর দিকে এগিয়ে যাক, তখন কি আসলেই এই অধ্যায় শেষ করা সম্ভব? তদন্তে নতুন করে কোনো মামলা করার ভিত্তি না পাওয়া গেলেও, রাজনীতির জল অনেক দূর গড়িয়েছে। বিচার বিভাগ হয়তো বলছে কোনো অপরাধের অকাট্য প্রমাণ মেলেনি, কিন্তু ক্যাপিটল হিলে প্রতিনিধি পরিষদের তদন্ত থেমে নেই। আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে বিল ও হিলারি ক্লিনটনকে সাক্ষ্য দিতে তলব করা হয়েছে, যা মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। এদিকে, প্রকাশিত নথিতে ছয় হাজারেরও বেশিবার নাম এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যদিও ট্রাম্পের দাবি, ২০০৪ সালের পর এপস্টিনের সাথে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না, তবুও ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ—বিচার বিভাগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন করে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, এপস্টিনের সাথে সম্পর্কের কারণে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন বা ল্যারি সামার্সের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্যারিয়ার এখন হুমকির মুখে। বিল গেটস থেকে শুরু করে ইলন মাস্ক—সবাইকেই দিতে হচ্ছে নিজেদের নামের উপস্থিতির ব্যাখ্যা। ভুক্তভোগীদের দাবি স্পষ্ট, "আমাদের সাথে খেলা হচ্ছে, কিন্তু আমরা লড়াই থামাবো না।" যখন একদিকে ট্রাম্প সমর্থকরা অন্য ইস্যুতে মনোযোগ সরাচ্ছে, তখন ডেমোক্র্যাটরা পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পাদিত নথি প্রকাশের দাবিতে অনড়। এপস্টিনের মৃত্যুর বহু বছর পরেও এই রহস্যময় গল্প প্রমাণ করছে, এটি এত সহজে শেষ হওয়ার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।