মায়ামিতে মেসির ফ্ল্যাট কেনার পর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজরে সেই টাওয়ার
বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই মাঠের বাইরের আরেকটি দারুণ জয় উদ্যাপন করতে পারেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। এক বছর আগে মায়ামির একটি সুউচ্চ আবাসিক ভবনে করা তাঁর বিশাল বিনিয়োগ এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। গত বসন্তে 'সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেস মায়ামি' (Cipriani Residences Miami) নামক একটি বিলাসবহুল টাওয়ারে চারটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন মেসি। তাঁর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের পর আবাসন প্রকল্পটির প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত এই ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে চূড়ায় পৌঁছেছে এবং হস্তান্তরের আগেই এর ৮০ শতাংশ ফ্ল্যাট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মেসির পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন ফুটবলারও সেখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সিটিডেল ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সুউচ্চ ভবনে থাকার জন্য ছুটছেন। অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের পাশাপাশি মেক্সিকো, ইতালি, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মাস্ট ক্যাপিটাল ক্রেতাদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ না করলেও, প্রকল্পটির এই অভূতপূর্ব সফলতার কথা নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, মেসি প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার বা ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুটের একটি ৪-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন। সেই সময় ভবনটির প্রাথমিক কাজ চলছিল এবং ২০২৮ সালে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে এখন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় আগামী বছরেই ক্রেতারা ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন। প্রায় ৯৫০ ফুট উঁচু ৮৫ তলাবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে নিউইয়র্ক সিটির দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবনে পরিণত হবে।
সিপ্রিয়ানি পরিবারের উত্তর আমেরিকায় গড়ে তোলা এই প্রথম গ্রাউন্ড-আপ রেসিডেনশিয়াল প্রকল্পে ৩৯৭টি ইউনিট থাকবে। বাসিন্দাদের জন্য এখানে ৫০ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭ তলায় বিসকে উপসাগরমুখী স্পিকইজি, রিসোর্ট স্টাইলের পুল ডেক, স্পা, প্রাইভেট স্ক্রিনিং রুম এবং সিপ্রিয়ানি পরিবারের প্রায় শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যে ভরপুর নিজস্ব ডাইনিং সুবিধা। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মতে, এই মাইলফলক মায়ামির আবাসন খাতকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গন্তব্যে পরিণত করারই একটি বড় প্রমাণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দেশে ফেরার আগে গত বুধবার থাইল্যান্ডের উপকূলে নোঙর করে রণতরীটি। আর সেটি দেখতে সমুদ্রতীরে ভিড় করেন বহু মানুষ। তবে রণতরীটির বর্তমান অবস্থা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। একসময় ঝকঝকে ও চকচকে অবস্থায় দেখা গেলেও এবার এর নিচের অংশে বড় বড় জায়গাজুড়ে মরিচা দেখা গেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে—এত শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক একটি মার্কিন রণতরীর এমন অবস্থা হলো কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে মূল কারণ দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করা। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর টানা প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছে রণতরীটি। এ সময় এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং নৌ-অবরোধে অংশ নেয়। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীর পানির নিচের অংশে মরিচা পড়া স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দীর্ঘ সময় ধরে ধাতব অংশের সংস্পর্শে থাকায় এ ধরনের ক্ষয় তৈরি হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল স্কুসজার, যিনি আব্রাহাম লিংকনের মতো রণতরীতে তিনবার সমুদ্র অভিযানে ছিলেন, সিএনএনকে বলেন, কোনো জাহাজ ৬০ দিন বা তার বেশি সময় সমুদ্রে মোতায়েন থাকলে পানির নিচের অংশে মরিচা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তার মতে, যুদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে থাকা অবস্থায় সমুদ্রে থাকা জাহাজের এই মরিচা সাধারণত পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। কারণ মরিচা পরিষ্কার ও নতুন করে রং করতে হলে জাহাজের পানির স্তরের নিচের অংশে গিয়ে কাজ করতে হয়। সাবেক এই নৌ কর্মকর্তা জানান, রণতরীটি বন্দরে ফেরার পর মরিচা পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ থাইল্যান্ডে অবস্থানকালেও সম্পন্ন করা হতে পারে। অর্থাৎ, রণতরীটির নিচের অংশে মরিচা দেখা দিলেও এটি বড় ধরনের ক্ষতির লক্ষণ নয়। বরং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থেকে সামরিক দায়িত্ব পালনের স্বাভাবিক ফল হিসেবেই বিষয়টিকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন! চাকরি, শিক্ষা ও জরুরি সহায়তার ঠিকানা জেনে নিন
মরুভূমিতে বিরল তুষারপাত, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল সাদা চাদরের দৃশ্য
মিনিয়াপোলিসে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলা, সন্দেহভাজনসহ নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আপাতত আর বড় আকারে বাড়াতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। অন্তত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন হোয়াইট হাউসের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবারও জোরালো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের আলোচনা সম্পর্কে জানেন—এমন চারজন ব্যক্তি বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পাল্টা হামলা বা অন্য কোনো ঘটনা পরিস্থিতি বদলে দিলে এই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। এই মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে, তবে নভেম্বরের নির্বাচনও এখন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এর পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও রয়েছে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই অল্প ব্যবধানে। ফলে নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ আরও বড় আকার নিলে সেটি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষও বাড়ছে। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের শেষের দিকের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে ৬৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানির বাড়তি দাম, যা সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করছে। যুদ্ধের গতি কিছুটা কমানোর পেছনে সামরিক কারণও রয়েছে। কয়েক মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে গেছে। ফলে সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত আবার পূরণ করার জন্য সময় দেওয়াও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, যুদ্ধকে চাইলেই নভেম্বর পর্যন্ত শান্ত রাখা নাও যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা করে। এর জবাবে ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এরপর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আরও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের পর এটিকে সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব হামলায় ইরানে সামরিক সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা ছাড়াও মার্কিন ও উপসাগরীয় মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে তেহরান। এতে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পাল্টা জবাব দেওয়ার চাপ বাড়বে। এক পক্ষের হামলার জবাবে অন্য পক্ষের হামলা—এভাবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বাড়াতে না চাইলেও ঘটনাপ্রবাহ তাদের আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর মধ্যে ট্রাম্প নিজেও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইরান যদি সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাব দেয়, তাহলে দেশটির ওপর আরও কঠিন ও বড় মাত্রার হামলা চালানো হবে। তবে পরদিন কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচন ইরানবিষয়ক তার নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে নির্বাচনে লড়ছেন না, তার দল লড়ছে এবং তিনি দলকে সহায়তা করবেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতির ‘সময়সূচি বদলে গেছে’। আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ক্যালেন্ডারই ইরানকে পরিচালিত করছে।’ অর্থাৎ নভেম্বরের নির্বাচন এখন ইরান নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। সামরিক অভিযান কিছুটা সীমিত রাখার পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধও অব্যাহত আছে। তবে শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানকে নত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। বরং চাপ আরও বাড়লে ইরান সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তার ওপর চীনের মতো বড় শক্তিগুলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় পুরোপুরি সহযোগিতা করছে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর কৌশল কতটা সফল হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে, নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ফলে নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত সীমিত থাকবে, নাকি তার আগেই আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হবে—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাচ্ছে বিভিন্ন দেশ, এবার ৮৬ টন সোনা সরাল নেদারল্যান্ডস
জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি থাকা বিশেষ ১ ডলারের কয়েন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ, কয়েক ঘণ্টাতেই বিক্রি শেষ
টেক্সাসের হাসপাতালে বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নীতিতে একই সঙ্গে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর মেলিসা সামুয়েলসের ঘোষিত নীতিটি নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করবে, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। নীতির আওতায় ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলের কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে পড়াশোনা, চিন্তাশক্তি ও শ্রেণিকক্ষের সরাসরি শেখার পরিবেশে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তবে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এআই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের এআই সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বা এআই লিটারেসি শেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআই কীভাবে কাজ করে, এর সম্ভাবনা ও ঝুঁকি এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে। নতুন নীতিতে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এআই নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন নিয়েও স্কুলগুলোতে নতুন করে নীতিমালা কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে শেখার মৌলিক দক্ষতা শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এআই দক্ষতা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। নীতিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কার্যকর হবে। ফলে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলে ছোট শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি বড় শিক্ষার্থীদের জন্য এআই শেখার সুযোগ - দুই ধরনের নীতিই একসঙ্গে চালু হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক
সরকারে দুর্নীতি ব্যাপক মনে করেন ৮৯% মার্কিন নাগরিক, গ্যালাপের জরিপ