বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই মাঠের বাইরের আরেকটি দারুণ জয় উদ্যাপন করতে পারেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। এক বছর আগে মায়ামির একটি সুউচ্চ আবাসিক ভবনে করা তাঁর বিশাল বিনিয়োগ এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। গত বসন্তে 'সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেস মায়ামি' (Cipriani Residences Miami) নামক একটি বিলাসবহুল টাওয়ারে চারটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন মেসি। তাঁর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের পর আবাসন প্রকল্পটির প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত এই ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে চূড়ায় পৌঁছেছে এবং হস্তান্তরের আগেই এর ৮০ শতাংশ ফ্ল্যাট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মেসির পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন ফুটবলারও সেখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সিটিডেল ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সুউচ্চ ভবনে থাকার জন্য ছুটছেন। অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের পাশাপাশি মেক্সিকো, ইতালি, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মাস্ট ক্যাপিটাল ক্রেতাদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ না করলেও, প্রকল্পটির এই অভূতপূর্ব সফলতার কথা নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, মেসি প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার বা ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুটের একটি ৪-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন। সেই সময় ভবনটির প্রাথমিক কাজ চলছিল এবং ২০২৮ সালে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে এখন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় আগামী বছরেই ক্রেতারা ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন। প্রায় ৯৫০ ফুট উঁচু ৮৫ তলাবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে নিউইয়র্ক সিটির দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবনে পরিণত হবে।
সিপ্রিয়ানি পরিবারের উত্তর আমেরিকায় গড়ে তোলা এই প্রথম গ্রাউন্ড-আপ রেসিডেনশিয়াল প্রকল্পে ৩৯৭টি ইউনিট থাকবে। বাসিন্দাদের জন্য এখানে ৫০ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭ তলায় বিসকে উপসাগরমুখী স্পিকইজি, রিসোর্ট স্টাইলের পুল ডেক, স্পা, প্রাইভেট স্ক্রিনিং রুম এবং সিপ্রিয়ানি পরিবারের প্রায় শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যে ভরপুর নিজস্ব ডাইনিং সুবিধা। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মতে, এই মাইলফলক মায়ামির আবাসন খাতকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গন্তব্যে পরিণত করারই একটি বড় প্রমাণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে চাকরির বাজার আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর দ্রুত বিস্তার, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যয় সংকোচন, ধারাবাহিক কর্মী ছাঁটাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের ফলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স ইঞ্জিনিয়ার, ডেভঅপস, ডেটা ও অন্যান্য আইটি পেশাজীবীদের জন্য চাকরি পাওয়া এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় লিংকডইনে হাজার হাজার চাকরির বিজ্ঞাপন থাকলেও অনেক আবেদনকারী মাসের পর মাস কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করেন এমন পেশাজীবীদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তথাকথিত “ঘোস্ট জব” অর্থাৎ এমন চাকরির বিজ্ঞাপন, যেগুলো সক্রিয়ভাবে নিয়োগের জন্য নয় বা পদ পূরণ হয়ে যাওয়ার পরও সরানো হয়নি প্রার্থীদের বিভ্রান্ত করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লিংকডইনের সব চাকরির বিজ্ঞাপন ভুয়া। অনেক ক্ষেত্রেই তীব্র প্রতিযোগিতা, স্বয়ংক্রিয় আবেদন বাছাই ব্যবস্থা ATS এবং দুর্বল আবেদনপত্রের কারণেও যোগ্য প্রার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়েই বাদ পড়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু বেশি আবেদন করলেই হবে না; প্রতিটি আবেদন হতে হবে পরিকল্পিত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং মানসম্মত। ডেলয়েট সার্ভিসেস এলপির ট্রানজিশন অ্যাসিস্ট্যান্স ম্যানেজার আইলিন ব্যাক্সটার বলেন, সব চাকরির জন্য একই রেজুমে ব্যবহার করার সময় এখন আর নেই। প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল রেখে রেজুমে কাস্টমাইজ করা উচিত। তার মতে, নিয়োগকারী বা হায়ারিং ম্যানেজাররা সাধারণত মাত্র ৬ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে একটি রেজুমে প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন করেন। তাই আবেদনকারীর গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং অর্জন এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে অল্প সময়েই সেগুলো স্পষ্টভাবে নজরে আসে। একই প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস রিক্রুটিং স্পেশালিস্ট সোফিয়া ফানুচ্চি বলেন, চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের চাহিদা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী রেজুমে প্রস্তুত করা জরুরি। পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে রেজুমেতে উল্লেখ করা প্রতিটি অভিজ্ঞতা ও অর্জন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাখ্যা করার প্রস্তুতিও থাকতে হবে। তার মতে, ভালো প্রস্তুতি ও লক্ষ্যভিত্তিক আবেদনই একজন প্রার্থীকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখতে পারে। চাকরির জন্য আবেদন করার আগে প্রথমেই যাচাই করা উচিত, বিজ্ঞাপনটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব ক্যারিয়ার ওয়েবসাইটেও রয়েছে কি না। যদি একই পদ সেখানে সক্রিয় অবস্থায় থাকে, তাহলে সেটি সাধারণত বেশি নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করলে সেটি নিয়োগকারীদের কাছে বেশি গুরুত্বও পায়। একই জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে দিয়ে শত শত চাকরিতে আবেদন করার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি চাকরির বিবরণ মনোযোগ দিয়ে পড়ে সেই অনুযায়ী রেজুমে হালনাগাদ করা উচিত। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা দক্ষতা, প্রযুক্তি বা সফটওয়্যারের সঙ্গে আবেদনকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে তা রেজুমেতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি। এতে ATS সফটওয়্যার এবং নিয়োগকারী উভয়ের কাছেই আবেদনটি বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সম্ভব হলে প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে আলাদা কভার লেটার যুক্ত করা উচিত। সেখানে কেন ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান এবং কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতা চাকরির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সংক্ষেপে তুলে ধরলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমান চাকরির বাজারে একটি শক্তিশালী লিংকডইন প্রোফাইলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোফাইলে সর্বশেষ কর্ম-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, প্রকল্প, অর্জন এবং সার্টিফিকেশন হালনাগাদ রাখা উচিত। অনেক নিয়োগকারী আবেদনকারীর রেজুমে দেখার আগেই তার লিংকডইন প্রোফাইল পর্যালোচনা করেন। সফটওয়্যার ডেভেলপার, টেস্ট অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার কিংবা অন্যান্য প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য গিটহাব, ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও বা প্রযুক্তিগত প্রকল্পের লিংক যুক্ত করা বড় সুবিধা হতে পারে। বাস্তব প্রকল্পে কাজের নমুনা নিয়োগকারীর কাছে আবেদনকারীর দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। নিয়োগকারী বা রিক্রুটারের ইমেইলের জবাবও পেশাদারভাবে দেওয়া উচিত। ইমেইলের ভাষা সংক্ষিপ্ত, ভদ্র ও আগ্রহপূর্ণ হওয়া জরুরি। পাশাপাশি একটি মানসম্মত ইমেইল সিগনেচারে নিজের পূর্ণ নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, লিংকডইন প্রোফাইল এবং প্রয়োজন হলে পোর্টফোলিও বা গিটহাবের লিংক যুক্ত রাখা ভালো। চাকরির বাজারে পেশাগত সার্টিফিকেশনের গুরুত্বও বেড়েছে। অনেক অভিজ্ঞ পেশাজীবী বছরের পর বছর কাজ করলেও কোনো প্রযুক্তিনির্ভর বা পেশাগত সার্টিফিকেট অর্জন করেননি। কিন্তু বর্তমানে AWS, Microsoft Azure, Google Cloud, ISTQB, Scrum, PMP, CompTIA, Cisco, Salesforce কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির স্বীকৃত সার্টিফিকেশন অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। যে পেশায় কাজ করছেন, সেই ক্ষেত্রের প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেট অর্জন এখন আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়; বরং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। লিংকডইনে পূর্বের ম্যানেজার, টিম লিড বা সহকর্মীদের কাছ থেকে রেকমেন্ডেশন সংগ্রহ করাও আবেদনকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার প্রশংসাসূচক মন্তব্য অনেক সময় নিয়োগকারীর কাছে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে। শুধু লিংকডইনের ওপর নির্ভর না করে Indeed, Dice, Monster এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য চাকরির প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত সক্রিয় থাকা উচিত। প্রোফাইল ও রেজুমে নিয়মিত হালনাগাদ করলে অনেক প্ল্যাটফর্মে আবেদনকারীর প্রোফাইল সার্চ ফলাফলে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পেশাগত নেটওয়ার্কিং এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক সহকর্মী, ম্যানেজার, রিক্রুটার কিংবা একই পেশার অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, প্রযুক্তিভিত্তিক অনলাইন কমিউনিটিতে অংশ নেওয়া এবং ভার্চুয়াল বা সরাসরি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে অংশগ্রহণ করলে নতুন চাকরির সুযোগ সম্পর্কে দ্রুত জানা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে সফল হতে শুধু বেশি আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি আবেদনকে লক্ষ্যভিত্তিক, মানসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ করতে হবে। হালনাগাদ রেজুমে, শক্তিশালী লিংকডইন প্রোফাইল, প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেশন, পেশাদার যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়নের সমন্বয়ই চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই মাঠের বাইরের আরেকটি দারুণ জয় উদ্যাপন করতে পারেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। এক বছর আগে মায়ামির একটি সুউচ্চ আবাসিক ভবনে করা তাঁর বিশাল বিনিয়োগ এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। গত বসন্তে 'সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেস মায়ামি' (Cipriani Residences Miami) নামক একটি বিলাসবহুল টাওয়ারে চারটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন মেসি। তাঁর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের পর আবাসন প্রকল্পটির প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত এই ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে চূড়ায় পৌঁছেছে এবং হস্তান্তরের আগেই এর ৮০ শতাংশ ফ্ল্যাট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মেসির পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন ফুটবলারও সেখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সিটিডেল ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সুউচ্চ ভবনে থাকার জন্য ছুটছেন। অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের পাশাপাশি মেক্সিকো, ইতালি, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মাস্ট ক্যাপিটাল ক্রেতাদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ না করলেও, প্রকল্পটির এই অভূতপূর্ব সফলতার কথা নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, মেসি প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার বা ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুটের একটি ৪-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন। সেই সময় ভবনটির প্রাথমিক কাজ চলছিল এবং ২০২৮ সালে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে এখন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় আগামী বছরেই ক্রেতারা ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন। প্রায় ৯৫০ ফুট উঁচু ৮৫ তলাবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে নিউইয়র্ক সিটির দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবনে পরিণত হবে। সিপ্রিয়ানি পরিবারের উত্তর আমেরিকায় গড়ে তোলা এই প্রথম গ্রাউন্ড-আপ রেসিডেনশিয়াল প্রকল্পে ৩৯৭টি ইউনিট থাকবে। বাসিন্দাদের জন্য এখানে ৫০ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭ তলায় বিসকে উপসাগরমুখী স্পিকইজি, রিসোর্ট স্টাইলের পুল ডেক, স্পা, প্রাইভেট স্ক্রিনিং রুম এবং সিপ্রিয়ানি পরিবারের প্রায় শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যে ভরপুর নিজস্ব ডাইনিং সুবিধা। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মতে, এই মাইলফলক মায়ামির আবাসন খাতকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গন্তব্যে পরিণত করারই একটি বড় প্রমাণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামে একটি সড়কের আনুষ্ঠানিক নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে। আজ শনিবার ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৭২ স্ট্রিটের একটি অংশের নতুন নাম রাখা হয় “ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে” (Detective Didarul Islam Way)। অনুষ্ঠানে দিদারুল ইসলামের পরিবার, নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এনওয়াইপিডির কর্মকর্তারা, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে সংঘটিত প্রাণঘাতী বন্দুক হামলায় দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন। সে সময় তিনি ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় অনুমোদিত নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন। হামলাকারীর গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ তখন দিদারুল ইসলামকে সাহসী ও আত্মত্যাগী কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার সন্তান দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর প্রথমে নিউইয়র্ক সিটির স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন নিষ্ঠাবান, বিনয়ী এবং জনসেবায় নিবেদিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর হাজারো পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। এনওয়াইপিডি তাঁকে মরণোত্তর “ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড” পদে পদোন্নতি দেয়। তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং গর্ভে থাকা তৃতীয় সন্তানকে রেখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সড়কের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে” শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্মৃতিচিহ্ন নয়; এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান, জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর-নিউইয়র্ক (CAIR-NY) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, দিদারুল ইসলামের বীরত্ব ও জনসেবার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদানকে স্মরণীয় করে রাখবে। দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে ঘিরে নিউইয়র্কে এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর নামে “Didarul Islam Police Recruitment Act” শীর্ষক একটি আইন প্রস্তাবও আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য স্কুল সেফটি এজেন্টসহ অন্যান্য জননিরাপত্তা পদে কাজের অভিজ্ঞতাকে এনওয়াইপিডিতে যোগদানের ক্ষেত্রে আরও স্বীকৃতি দেওয়া। আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য, এই উদ্যোগ দিদারুল ইসলামের কর্মজীবন ও জনসেবার আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে।