আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট, বিশেষ ঋণ সুবিধা দিচ্ছে সরকার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৬:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরবান ইন্সটিটিউটের তথ্যমতে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিকের জন্য দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটিতে একটি বাড়ির গড় দাম বর্তমানে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো বা ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে আরও অনেক বেশি। প্রচলিত মর্টগেজ নিয়মে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা প্রায় ১ লাখ ডলার নগদ জমা করা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক প্রকার অসম্ভব কাজ।

 

আর এর চেয়ে কম ডাউন পেমেন্ট দিলে ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপে অতিরিক্ত 'প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স' বা পিএমআই-এর বোঝা। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও যোগ্য ক্রেতাদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স (ভিএ) এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের (ইউএসডিএ) শূন্য ডাউন পেমেন্ট মর্টগেজ সুবিধা।

 

সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ভেটেরানদের আবাসন ব্যয় কমাতে ১৯৪৪ সালে জিআই বিলের অধীনে ভিএ জিরো-ডাউন পেমেন্ট ঋণ কর্মসূচি চালু করে মার্কিন সরকার। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য প্রার্থীরা কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এতে পিএমআই ফি মওকুফ থাকায় প্রতি মাসে ক্রেতাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়। ভেটেরানস ইউনাইটেড হোম লোনস-এর মর্টগেজ ইনসাইট বিভাগের ভিপি ক্রিস বার্কের মতে, নমনীয় ক্রেডিট আন্ডাররাইটিং এবং ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক সুদের হারের কারণে এটি আবাসন বাজারের অন্যতম শক্তিশালী একটি অর্থায়ন বিকল্প।

 

এই সুবিধা পেতে প্রার্থীদের ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর সাধারণত ৬২০ হতে হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে তা ৫৫০ পর্যন্তও শিথিলযোগ্য। এছাড়া আবেদনকারীর একটি 'সার্টিফিকেট অফ এলিজিবিলিটি' বা সিওই থাকা বাধ্যতামূলক। যোগ্য ভেটেরানদের পাশাপাশি শর্তসাপেক্ষে তাদের অবিবাহিত বিধবা স্ত্রীরাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন এবং এমনকি 'জাম্বো লোন'-এর ক্ষেত্রেও কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই তারা আবেদন করার সুযোগ পান।

 

অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য গ্রামীণ বা শহরতলী এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সুযোগ করে দেয় ইউএসডিএ ঋণ। নেইবারস ব্যাংকের হোমবায়ার এডুকেশন ডিরেক্টর অ্যাশলে হ্যারিসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৭ শতাংশ ভূখণ্ডই এই সুবিধার আওতাভুক্ত, যার ফলে অনেক সাধারণ মানুষ সহজেই এর সুবিধা নিতে পারেন।

 

এই ঋণেও কোনো ডাউন পেমেন্ট লাগে না এবং ব্যয়বহুল পিএমআইয়ের ঝামেলা নেই, তবে সামান্য একটি অগ্রিম ফি যুক্ত থাকে। ইউএসডিএ ঋণ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর মোট পারিবারিক আয় স্থানীয় গড় আয়ের ১১৫ শতাংশের নিচে হতে হয় এবং স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের জন্য ক্রেডিট স্কোর অন্তত ৬৪০ প্রয়োজন হয়। এছাড়াও শর্ত থাকে যে, কেনা বাড়িটিকে অবশ্যই আবেদনকারীর প্রাথমিক বাসস্থান বা 'প্রাইমারি রেসিডেন্স' হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

 

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, 'শূন্য ডাউন পেমেন্ট' মানেই যে পকেট থেকে কোনো অর্থ খরচ হবে না, বিষয়টি এমন নয়। ভিএ লোনের ক্ষেত্রে ১.২৫ থেকে ৩.৩ শতাংশ পর্যন্ত ফান্ডিং ফি দিতে হতে পারে, যা সাধারণত মূল ঋণের সাথে যুক্ত করা যায়। পাশাপাশি ক্লোজিং কস্ট, হোম ইন্সপেকশন বা প্রপার্টি অ্যাপ্রাইজালের মতো খরচগুলো ক্রেতাকেই বহন করতে হয়, তবে এক্ষেত্রে বিক্রেতার সাথে আলোচনার মাধ্যমে খরচ কিছুটা সমন্বয় করার সুযোগ থাকে। এছাড়া শূন্য ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কিনলে শুরুতে কোনো ইকুইটি থাকে না।

 

ফলে হঠাৎ বাড়ির দাম কমে গেলে বা দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হলে ঋণের পরিমাণ বাড়ির বর্তমান মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যাকে 'নেগেটিভ ইকুইটি' বলা হয়। তা সত্ত্বেও, দেশের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের এবং সাধারণ মানুষের মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত করতে এই মর্টগেজ সুবিধাগুলো নিঃসন্দেহে এক অনন্য সুযোগ হিসেবে কাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য আয়ান্না প্রেসলির স্বামীর বাড়িতে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃতদেহ, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আয়ান্না প্রেসলির স্বামীর মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (স্থানীয় সময়) বোস্টনের মাটাপ্যান এলাকার ২৫ মাল্টা স্ট্রিটের ওই বাড়ি থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। বোস্টন পুলিশের মুখপাত্র জেমস মোসিয়া সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ওই বাড়িতে এক ব্যক্তিকে তদন্ত করার জন্য পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।   প্রাথমিকভাবে মৃত ব্যক্তির পরিচয় বা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশের হোমিসাইড বা হত্যা তদন্ত ইউনিট বর্তমানে পুরো ঘটনাটির তদন্ত করছে বলে নিশ্চিত করেছেন মোসিয়া। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িটির বাইরে বোস্টন পুলিশের টহল গাড়ি অবস্থান করতে দেখা যায় এবং পুরো ঘটনাস্থলটি লাল ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বোস্টন শহরের সম্পত্তি নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, এই বাড়িটির বর্তমান মালিক আয়ান্না প্রেসলির স্বামী কোনান হ্যারিস। ১৯১০ সালে নির্মিত দুই তলা ও সাত বেডরুমের বিলাসবহুল এই বাড়িটির দাপ্তরিক মূল্য ৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার হলেও, বর্তমানে এটি ১১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।   চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে আয়ান্না প্রেসলির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাট নেত্রী আয়ান্না প্রেসলি ২০১৮ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে তৎকালীন দীর্ঘকালীন কংগ্রেস সদস্য মাইকেল ক্যাপুয়ানোকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৯:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও সুদের চাপে স্বপ্নভঙ্গ বহু প্রবাসী বাংলাদেশির I ছবি: সংগৃহীত

লকডাউনে বুঝেছিলেন নিজের বাড়ির প্রয়োজন, এখন দাম-সুদের চাপে অধরাই বহু প্রবাসী বাংলাদেশির সেই স্বপ্ন

লিংকডইনে হাজারো চাকরির বিজ্ঞাপন, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া I ছবি: সংগৃহীত

লিংকডইনে হাজারো চাকরি, তবুও মিলছে না সাড়া: আইটি পেশাজীবীরা কীভাবে বাড়াবেন চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা

মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

ছবি: ছবিতে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে জীবনের এক আনন্দঘন মুহূর্তে সোহাগ
নিউইয়র্কে স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন নোয়াখালীর প্রবাসী সোহাগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ২১ দিন পর মারা গেছেন নোয়াখালীর প্রবাসী রফিকুল ইসলাম সোহাগ (৪৭)। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রুকলিনের বাইতুল মামুন মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে তাকে নিউ জার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম সোহাগের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নম্বর নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করছিলেন।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুন শুক্রবার ভোরে। নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দুই তলা আবাসিক ভবনের বেজমেন্টে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (FDNY) প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়, একটি লিথিয়াম-আয়ন চালিত ডেলিভারি ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ওই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং গুরুতর দগ্ধদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় সোহাগের স্ত্রী ও দুই সন্তান ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন ধোঁয়া পুরো বেজমেন্টে ছড়িয়ে পড়লে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি একে একে স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপদে বের করে আনেন। তবে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিজেই আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় আক্রান্ত হন।   পরে উদ্ধারকারী দল তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে টানা ২১ দিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   সোহাগের মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে একজন সাহসী ও আত্মত্যাগী পিতা হিসেবে স্মরণ করছেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতেও স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৬:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট, বিশেষ ঋণ সুবিধা দিচ্ছে সরকার

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মায়ামিতে মেসির ফ্ল্যাট কেনার পর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজরে সেই টাওয়ার

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

প্রথম অ্যাসাইনমেন্টই হলো জীবনের শেষ মিশন, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিহত ২৩ বছরের মার্কিন এয়ারম্যান

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
১৪২ মাইল গতিতে টেসলা চালিয়ে প্রাণ কেড়ে নিলেন মা-শিশুর, চালকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘণ্টায় ১৪২ মাইল বেগে টেসলা গাড়ি চালিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটানোর দায়ে এক চালককে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সান হোসে এলাকার ৮৭ নম্বর হাইওয়েতে ঘটা ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইভানা বালিসট্রেরি (৩০) নামের এক নারী এবং তাঁর দুই বছর বয়সি কন্যাসন্তান লিলিয়ানার মৃত্যু হয়। ৩১ বছর বয়সি অভিযুক্ত টেসলা চালকের নাম জাচারি চেরনিকি। প্রসিকিউটর ও ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রল (সিএইচপি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেও তিনি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত এই মারাত্মক প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   গত ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর ব্যস্ত ওই মহাসড়কে চার গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তদন্তের পর প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ১৫ সেকেন্ড আগে চেরনিকির টেসলার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল, ৫ সেকেন্ড আগে ১২৬ মাইল এবং লেক্সাস গাড়িটিকে ধাক্কা দেওয়ার মুহূর্তেও গতি ছিল ১০২ মাইল। সে সময় মহাসড়কে প্রচণ্ড যানজটের কারণে ইভানাদের লেক্সাস গাড়িটি থেমে ছিল। প্রচণ্ড গতির এই সংঘর্ষের জেরে দুটি টেসলা এবং ইভানাদের লেক্সাস গাড়িটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। সান্তা ক্লারা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, মা ও শিশু দুজনেই গাড়ির ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মর্মান্তিকভাবে মারা যান। এই ঘটনায় লেক্সাসের চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও, অভিযুক্ত চেরনিকি কেবল সামান্য আঘাত পান।   দুর্ঘটনার মূল কারণ ও দোষীকে চিহ্নিত করতে সিএইচপি কয়েক মাস ধরে নিবিড় তদন্ত চালায়। অবশেষে চেরনিকিকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং চলতি বছরের ১৩ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেফ রোজেন এই চরম বেপরোয়া আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেন, "আইন অনুযায়ী কেউ যদি জনতার দিকে গুলি ছোঁড়ে, তবে তা নিঃসন্দেহে হত্যা। একইভাবে কেউ যখন ঘণ্টায় ১৪০ মাইল বেগে গাড়ি চালায়, তখন সেই চালক হয়ে ওঠেন বন্দুকধারী এবং তাঁর গাড়িটি বুলেটে পরিণত হয়।" উল্লেখ্য, ওই হাইওয়েতে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারিত ছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল।   নিহত ইভানা ও তাঁর শিশুসন্তানের স্মরণে পরিবারের পক্ষ থেকে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু তাদের পরিবারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইভানাকে অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও পরোপকারী মনের মানুষ এবং ছোট্ট লিলিয়ানাকে তাদের জীবনের অমূল্য আনন্দ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে পরিবার। এদিকে, অভিযুক্ত চেরনিকির বিরুদ্ধে হত্যার দুটি সুস্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে দীর্ঘদিনের জন্য কারাবাস করতে হতে পারে। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী ২৫ আগস্ট তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির করার দিন ধার্য করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:৫০
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নেতৃত্বের আরেক সাফল্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে WUSTএর দ্বিতীয় ক্যাম্পাস হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন মাইলফলক, লস অ্যাঞ্জেলেসে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস

নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম

নিউইয়র্কে ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ উদ্বোধন, আত্মত্যাগী বাংলাদেশি কর্মকর্তাকে স্থায়ী সম্মান

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর (ডানে) নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জোহরান মামদানি (বামে)। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

‘নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধী, নিউইয়র্কে পা রাখলে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মামদানির’

0 Comments