সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট, বিশেষ ঋণ সুবিধা দিচ্ছে সরকার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৬:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে লাগবে না ডাউন পেমেন্ট I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরবান ইন্সটিটিউটের তথ্যমতে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিকের জন্য দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটিতে একটি বাড়ির গড় দাম বর্তমানে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো বা ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে আরও অনেক বেশি। প্রচলিত মর্টগেজ নিয়মে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা প্রায় ১ লাখ ডলার নগদ জমা করা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক প্রকার অসম্ভব কাজ।

 

আর এর চেয়ে কম ডাউন পেমেন্ট দিলে ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপে অতিরিক্ত 'প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স' বা পিএমআই-এর বোঝা। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও যোগ্য ক্রেতাদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স (ভিএ) এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের (ইউএসডিএ) শূন্য ডাউন পেমেন্ট মর্টগেজ সুবিধা।

 

সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ভেটেরানদের আবাসন ব্যয় কমাতে ১৯৪৪ সালে জিআই বিলের অধীনে ভিএ জিরো-ডাউন পেমেন্ট ঋণ কর্মসূচি চালু করে মার্কিন সরকার। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য প্রার্থীরা কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এতে পিএমআই ফি মওকুফ থাকায় প্রতি মাসে ক্রেতাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়। ভেটেরানস ইউনাইটেড হোম লোনস-এর মর্টগেজ ইনসাইট বিভাগের ভিপি ক্রিস বার্কের মতে, নমনীয় ক্রেডিট আন্ডাররাইটিং এবং ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক সুদের হারের কারণে এটি আবাসন বাজারের অন্যতম শক্তিশালী একটি অর্থায়ন বিকল্প।

 

এই সুবিধা পেতে প্রার্থীদের ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর সাধারণত ৬২০ হতে হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে তা ৫৫০ পর্যন্তও শিথিলযোগ্য। এছাড়া আবেদনকারীর একটি 'সার্টিফিকেট অফ এলিজিবিলিটি' বা সিওই থাকা বাধ্যতামূলক। যোগ্য ভেটেরানদের পাশাপাশি শর্তসাপেক্ষে তাদের অবিবাহিত বিধবা স্ত্রীরাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন এবং এমনকি 'জাম্বো লোন'-এর ক্ষেত্রেও কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই তারা আবেদন করার সুযোগ পান।

 

অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য গ্রামীণ বা শহরতলী এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সুযোগ করে দেয় ইউএসডিএ ঋণ। নেইবারস ব্যাংকের হোমবায়ার এডুকেশন ডিরেক্টর অ্যাশলে হ্যারিসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৭ শতাংশ ভূখণ্ডই এই সুবিধার আওতাভুক্ত, যার ফলে অনেক সাধারণ মানুষ সহজেই এর সুবিধা নিতে পারেন।

 

এই ঋণেও কোনো ডাউন পেমেন্ট লাগে না এবং ব্যয়বহুল পিএমআইয়ের ঝামেলা নেই, তবে সামান্য একটি অগ্রিম ফি যুক্ত থাকে। ইউএসডিএ ঋণ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর মোট পারিবারিক আয় স্থানীয় গড় আয়ের ১১৫ শতাংশের নিচে হতে হয় এবং স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের জন্য ক্রেডিট স্কোর অন্তত ৬৪০ প্রয়োজন হয়। এছাড়াও শর্ত থাকে যে, কেনা বাড়িটিকে অবশ্যই আবেদনকারীর প্রাথমিক বাসস্থান বা 'প্রাইমারি রেসিডেন্স' হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

 

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, 'শূন্য ডাউন পেমেন্ট' মানেই যে পকেট থেকে কোনো অর্থ খরচ হবে না, বিষয়টি এমন নয়। ভিএ লোনের ক্ষেত্রে ১.২৫ থেকে ৩.৩ শতাংশ পর্যন্ত ফান্ডিং ফি দিতে হতে পারে, যা সাধারণত মূল ঋণের সাথে যুক্ত করা যায়। পাশাপাশি ক্লোজিং কস্ট, হোম ইন্সপেকশন বা প্রপার্টি অ্যাপ্রাইজালের মতো খরচগুলো ক্রেতাকেই বহন করতে হয়, তবে এক্ষেত্রে বিক্রেতার সাথে আলোচনার মাধ্যমে খরচ কিছুটা সমন্বয় করার সুযোগ থাকে। এছাড়া শূন্য ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কিনলে শুরুতে কোনো ইকুইটি থাকে না।

 

ফলে হঠাৎ বাড়ির দাম কমে গেলে বা দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হলে ঋণের পরিমাণ বাড়ির বর্তমান মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যাকে 'নেগেটিভ ইকুইটি' বলা হয়। তা সত্ত্বেও, দেশের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের এবং সাধারণ মানুষের মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত করতে এই মর্টগেজ সুবিধাগুলো নিঃসন্দেহে এক অনন্য সুযোগ হিসেবে কাজ করছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
কর ফেরত ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বাড়ায় মার্কিন অর্থনীতিতে শক্তির ইঙ্গিত।
২৯৬ বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স রিফান্ড, মার্কিন অর্থনীতি এখনো শক্তিশালী- বলছেন বিশ্লেষকরা

মার্কিন অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে যারা আশঙ্কা করছেন, তাদের দাবির বিপরীতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও কর ফেরতের সাম্প্রতিক তথ্য অর্থনীতিতে শক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফক্স নিউজের এক মতামতধর্মী প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের কর মৌসুমে আইআরএস প্রায় ২৯৬ বিলিয়ন ডলার কর ফেরত দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ আমেরিকানদের হাতে ফিরেছে। গড় কর ফেরতের পরিমাণও ৩৩৩ ডলার বেড়েছে। সরকারি নতুন কর আইনের আওতায় টিপস ও ওভারটাইম আয়ের ওপর নতুন কিছু ছাড় এই বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অনেক কর্মজীবী মানুষ আগের তুলনায় বেশি অর্থ হাতে রাখছেন। একই সময়ে ব্যবসাগুলোও যন্ত্রপাতি কেনা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, স্থাপনা আধুনিকায়ন ও কর্মী নিয়োগে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নতুন কর সুবিধার কারণে যোগ্য ব্যবসাগুলো বিনিয়োগের খরচ দ্রুত কর থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিবেদনের লেখক জুলিও গনজালেজের মতে, এসব প্রবণতা অর্থনীতিতে মন্দার বদলে ব্যবসায়ীদের আস্থা ও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এটি ফক্স নিউজের একটি মতামতধর্মী প্রতিবেদন, স্বাধীন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ বা সরকারি মূল্যায়ন নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৮:৪৭
বাংলাদেশিদের মার্কিন ভিসায় নতুন অধ্যায়, স্থগিতাদেশ উঠলেও কড়াকড়ি বহাল

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কী আপডেট, জেনে নিন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

একসময় ঝকঝকে ও চকচকে থাকা জাহাজটির নিচের অংশজুড়ে এবার বড় বড় জায়গায় দেখা দিয়েছে মরিচা

ঝকঝকে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী আব্রাহাম লিংকন এখন মরিচায় জর্জরিত!

পেনসিলভেনিয়ায় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয় তথ্য মিলবে জিপ কোডে

পেনসিলভেনিয়ায় নতুন! চাকরি, শিক্ষা ও জরুরি সহায়তার ঠিকানা জেনে নিন

আন্দিজ থেকে আটাকামা পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে তুষারের সাদা চাদর
মরুভূমিতে বিরল তুষারপাত, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল সাদা চাদরের দৃশ্য

দক্ষিণ আমেরিকার চিলির আটাকামা মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা বিরল তুষারপাতে সাদা হয়ে গেছে। আগস্টজুড়ে পরপর কয়েকটি শীতকালীন ঝড়ের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সাধারণত অত্যন্ত শুষ্ক এই অঞ্চলের জন্য অস্বাভাবিক।   নাসার স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, আন্দিজ পর্বতমালা থেকে আটাকামার শুষ্ক কেন্দ্র পেরিয়ে তুষার প্রায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। নাসার ল্যান্ডস্যাট ৮ ও ৯ এবং টেরা স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে মরুভূমির স্বাভাবিক বাদামি ও কমলা রঙের ভূদৃশ্য তুষারে ঢেকে যেতে দেখা যায়। বিশেষ করে চাজনান্তর মালভূমিতে ভারী তুষারপাত ও প্রবল বাতাসের কারণে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ আলমা সাময়িকভাবে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর অ্যান্টেনাগুলোও নিরাপদ অবস্থায় নেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন নিম্নচাপ ব্যবস্থা ও অস্বাভাবিকভাবে বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ বলয়ের সঙ্গে উপকূলীয় আর্দ্রতার সংযোগেই এই বিরল আবহাওয়া তৈরি হয়। এর প্রভাবে শুধু তুষারপাতই নয়, মরুভূমির কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। উত্তর চিলির উপকূলীয় শহর তালতালে তিন দিনে প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা শহরটির গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ১০ গুণ। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০১১ সালেও আটাকামায় তুষারপাত হয়েছিল, তবে ২০২৬ সালের ঘটনাটি বিস্তৃতির দিক থেকে বিশেষভাবে অস্বাভাবিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৬:৪৩
মিনিয়াপোলিসের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ অন্তত তিনজন নিহত

মিনিয়াপোলিসে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলা, সন্দেহভাজনসহ নিহত ৩

ট্রাম্প ও সহযোগীদের ইরানকেন্দ্রিক নতুন কৌশল

নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে চান ট্রাম্পের সহযোগীরা, এরপর বাড়তে পারে হামলা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাচ্ছে বিভিন্ন দেশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাচ্ছে বিভিন্ন দেশ, এবার ৮৬ টন সোনা সরাল নেদারল্যান্ডস

জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি থাকা বিশেষ ১ ডলারের কয়েন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ, কয়েক ঘণ্টাতেই বিক্রি শেষ
জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি থাকা বিশেষ ১ ডলারের কয়েন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ, কয়েক ঘণ্টাতেই বিক্রি শেষ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন নজির তৈরি করে দেশটির মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট বুধবার ট্রাম্পের ছবি থাকা ১ ডলারের কয়েন বিক্রি শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর মজুত শেষ হয়ে যায়।   কয়েনটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর এক পাশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, সঙ্গে রয়েছে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৬’ লেখা। অন্য পাশে রয়েছে প্রেসিডেনশিয়াল সিল ও ‘২৫০’ লেখা।   মিন্টের ওয়েবসাইটে ২৫টি কয়েনের একটি রোলের দাম রাখা হয়েছে ৬১ ডলার, আর ১০০টি কয়েনের ব্যাগের দাম ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। বর্তমানে এগুলো পুনরায় সরবরাহের জন্য অর্ডার নেওয়া হচ্ছে।   তবে দেখতে সোনালি হলেও কয়েনটি সোনার তৈরি নয়। এতে মূলত তামা, দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেলের মিশ্রণ রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট জানিয়েছে, কয়েনটি ২০২৬ সালের জন্য অনুমোদিত বিশেষ ১ ডলার মুদ্রা কর্মসূচির অংশ। মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে এক বছরের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৪:১২
টেক্সাসের হাসপাতালে বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

টেক্সাসের হাসপাতালে বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

নিউইয়র্কের স্কুলে এক বছর এআই নিষিদ্ধের কঠোর নীতি

নিউইয়র্কের স্কুলে এক বছর এআই নিষিদ্ধের কঠোর নীতি, প্রভাবিত হবে ৬ লাখ শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক

0 Comments