বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অন্য দেশের সাথে তুলনা করে দেখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান নানা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি চুক্তিটিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রেখে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চুক্তিটি পড়ার সময় ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য দেশের সম্পাদিত অনুরূপ চুক্তিগুলো পাশে নিয়ে তুলনা করলে এর প্রকৃত গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট বোঝা সহজ হবে।   আজ মঙ্গলবার (৫ মে) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। চুক্তির শর্তে থাকা বাধ্যবাধকতা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেকোনো চুক্তি নিয়ে মুক্ত আলোচনা হওয়া ভালো। বাংলাদেশ চুক্তিতে ১৩১টি ক্ষেত্রে ‘শ্যাল’ (বাধ্যতামূলক শব্দ) ব্যবহার করলেও ইন্দোনেশিয়া একই ধরণের চুক্তিতে ২৩১টি ক্ষেত্রে ‘শ্যাল’ বলেছে। ফলে এটি কোনো একক ঘটনা নয়।   একই দিনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সকালের দিকে ব্রেন্ডান লিঞ্চের সাথে বৈঠক শেষে এই চুক্তি নিয়ে কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতির মাধ্যমে তৈরি হয়। বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী না হলেও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যা চাইলেই ব্যক্তিগত চুক্তির মতো বাতিল করা সম্ভব নয়।   বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, সরকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী প্রমাণিত হয়, তবে তা সংশোধনের সুযোগ খোদ চুক্তির ভেতরেই রয়েছে। চুক্তির ভেতরে এই ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ বা সংশোধন করার বিধান থাকায় এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সম্মেলনে ব্যস্ত বাংলাদেশ; অর্থমন্ত্রীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ‘স্প্রিং মিটিং’ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ব্যস্ত সময় পার করছে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে প্রতিনিধিদলটি একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছে।     ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। একই দিনে প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করে, যেখানে উন্নয়ন সহায়তা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা প্রাধান্য পায়।     এছাড়াও আটলান্টিক কাউন্সিল এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এর পাশাপাশি ইউএস চেম্বার অব কমার্স ভবনে ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে অর্থমন্ত্রী মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।     সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এই সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের এমন তৎপরতা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সংহত করবে।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সংগৃহীত ছবি
সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।   রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষভাবে দেশের সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার চলমান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।   আলোচনায় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোকে আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   তিনি আরও জানান, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।   বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকও উপস্থিত ছিলেন।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস। ছবি: ঢাকার মার্কিন দূতাবাস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।   স্মৃতিবিজড়িত উপহার ও কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তিনটি বিশেষ উপহার তুলে দেন: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের একটি ঐতিহাসিক ছবি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রের একটি ছবি। হোয়াইট হাউসের একটি বিশেষ রেপ্লিকা। এই উপহারগুলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।     আলোচনার মূল বিষয়বস্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলো ছিল: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণ। জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। প্রযুক্তি ও উন্নয়ন: প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা। মানবিক সহায়তা: রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।     মার্কিন দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া সাক্ষাৎ শেষে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস এক বার্তায় বলেন: "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে আমরা একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।" বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই এবং বিদ্যমান সব চুক্তিই ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের লুকোচুরি করা হচ্ছে না।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে তেল আমদানির জন্য ওয়াশিংটনের অনুমতি নিতে হয়—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিকভাবে প্রযোজ্য। যদি কখনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে হতে পারে, কোনো বিশেষ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির কারণে নয়। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।   আজকের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, কৌশলগত ও নিরাপত্তা জনিত কারণে কিছু বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। সরকার বর্তমানে জ্বালানি আমদানির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস থেকেই তেল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র—সবগুলো বিকল্প উৎসই সরকারের জন্য খোলা রয়েছে। দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে যেখান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই তা সংগ্রহ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: পল কাপুর

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন Paul Kapur। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দূতাবাসে এই আয়োজন করা হয়।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিভাগ তাদের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে কাপুরের বক্তব্য তুলে ধরে। এতে তিনি বলেন, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সুশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং অভিন্ন মূল্যবোধ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।   অনুষ্ঠানে কাপুর দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের মধ্যে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্র বা সীমান্তে যেকোনো পরিবর্তন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যেন তার সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক এলাকা সুরক্ষার পাশাপাশি জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে আগ্রহী।   চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে কাপুর বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিই না। বরং উন্নত প্রযুক্তি ও সহযোগিতার সুযোগ দিই, যাতে বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0