সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের প্রাদুর্ভাব, লেটুস কেনা ও খাওয়ায় সতর্কতার পরামর্শ

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ২২:১৬
মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও সালাদ শাকসবজি তদন্ত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও সালাদ শাকসবজি তদন্ত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও অন্যান্য সালাদ শাকসবজিকে সন্দেহ করছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণ বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছানোর পর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সালাদজাতীয় শাকসবজি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (MDHHS) জানিয়েছে, চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী লেটুস বা সালাদ শাকসবজির সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পণ্য, উৎপাদক বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি।

এমডিএইচএইচএসের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান বলেন, "এখনও নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকে এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বারবার লেটুস একটি সাধারণ খাদ্য হিসেবে সামনে এসেছে। তাই আমরা এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি, যাতে তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে পারেন।"

 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানে সাধারণত বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ঘটনা শনাক্ত হয়। কিন্তু চলতি প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছেছে, যা অঙ্গরাজ্যের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, Cyclospora নামের একটি পরজীবীর কারণে এই রোগ হয়। এতে সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী পানির মতো ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি এবং পেটের খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই রোগের ইনকিউবেশন বা সুপ্তকাল সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ইতোমধ্যে আরও অনেকে সংক্রমিত হলেও তাদের উপসর্গ পরে দেখা দিতে পারে।

প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছে এমডিএইচএইচএস। সংস্থাটি বলছে, সম্ভব হলে আগে থেকে ধোয়া ও প্যাকেটজাত লেটুস বা প্রস্তুত সালাদ না কিনে সম্পূর্ণ লেটুস কেনা ভালো। রান্নার আগে বাইরের দুই থেকে তিন স্তরের পাতা ফেলে দিতে হবে এবং ভেতরের পাতাগুলো পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

 

যেসব শাকসবজি রান্না করে খাওয়া সম্ভব, সেগুলো অন্তত ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় রান্না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কারণ, সাইক্লোস্পোরা পরজীবী সাধারণ রাসায়নিক জীবাণুনাশক এবং শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ দূর করা যায় না।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের বিভিন্ন সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে প্যাকেটজাত সালাদ, ধনেপাতা, তুলসী পাতা, রাস্পবেরি, স্নো পি এবং কাঁচা পেঁয়াজেরও সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।

 

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সুইমিং পুল বা অন্য কোনো বিনোদনমূলক জলক্রীড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। যদিও সাঁতারের সময় পানি গিলে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমান তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু দূষিত খাদ্য, বিশেষ করে শাকসবজি।

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত এখনো চলমান। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে দ্রুত জানানো হবে। এর মধ্যে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, বমিভাব বা তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র, চলছে গোপন আলোচনা

ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র থাকতে পারে, যেখানে প্রমাণিত মজুত রয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার বিষয়টি ভেনেজুয়েলার পুরো প্রমাণিত তেল মজুত নিয়ে নয়। দেশটির মোট প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল হলেও সম্ভাব্য চুক্তিতে এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সম্ভাব্য ব্যবস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এসব তেলক্ষেত্রে মালিকানার অংশ পাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেসরকারি কোম্পানিগুলো তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল রাজস্ব তৈরি হবে, যা ভেনেজুয়েলা সরকারের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জনগণ উপকৃত হবে, এমন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।   ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দেশটির ভেতরে সমালোচনার আশঙ্কা রয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণে সম্ভাব্য ব্যবস্থাটির ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে রাখতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন। তবে চূড়ান্ত চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানা যায়নি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা সফর করতে পারেন। সেখানে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে নানা কারণে চাপ তৈরি হওয়ার সময়েই এই আলোচনা সামনে এসেছে।   ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং এর প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।   ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে দেশটির তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মগুলোর জন্য পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে তৈরি মূল্যচাপ কমানো। এরই অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনর্গঠনে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো যুক্ত হয়েছে।   গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির তেল খাত নিয়ে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছে এবং দেশটির জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সম্পৃক্ততার জন্য কাজ করছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ০:৪৪
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি দীপক ও মধু আহুজা। ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ টেক্সাসের দম্পতি, উৎকণ্ঠায় দুই মেয়ে

নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

নিজেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের, অথচ ইতিহাসবিদদের মূল্যায়নে তিনি সবার নিচে

হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে ডেলিভারি চালকের অস্বাভাবিক আচরণ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নগ্ন অবস্থায় খাবার পৌঁছে দিলেন ডেলিভারিম্যান, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ল দৃশ্য

জাকারবার্গের স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার একটি পোস্ট। ছবি: এক্স থেকে সংগৃহীত
জাকারবার্গের স্ত্রীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ, সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা জবাব, ‘ভালোবাসা টাকা দিয়ে কেনা যায় না’

মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একজনের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল সম্পদের মালিক জাকারবার্গ কেন এমন একজন নারীকে বিয়ে করেছেন, যাকে তার কাছে ‘সাধারণ চেহারার’ মনে হয়েছে।   তবে মন্তব্যটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করিয়ে দেন, জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যানের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অনেক আগেই। তাদের সম্পর্কের শুরুতে দুজনই ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।   জাকারবার্গ ও চ্যানের পরিচয় ২০০৩ সালে। তখন দুজনেই হার্ভার্ডে পড়াশোনা করছিলেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় ফেসবুকও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ জাকারবার্গের বর্তমান বিপুল সম্পদ, খ্যাতি কিংবা প্রযুক্তি ব্যবসার বিশাল সাফল্য তাদের সম্পর্কের শুরুতে কোনো বাস্তবতা ছিল না।   দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের মে মাসে তারা বিয়ে করেন। এরপর তাদের পরিবারে তিন কন্যাসন্তান আসে। ২০২৩ সালে তাদের তৃতীয় কন্যা অরেলিয়া জন্ম নেয়।   প্রিসিলা চ্যান নিজেও নিজের পেশাগত পরিচয় তৈরি করেছেন। তিনি একজন শিশু চিকিৎসক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক করার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি নেন এবং শিশু চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জাকারবার্গের সঙ্গে চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহপ্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন।   শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ করা তাদের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রিসিলা দীর্ঘদিন ধরেই শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করে আসছেন। তিনি নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন।   এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো মানুষের জীবনসঙ্গী বাছাইকে শুধু চেহারা বা সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা কতটা যুক্তিসঙ্গত। তাদের যুক্তি, জাকারবার্গ যখন প্রিসিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তখন তিনি আজকের বিলিয়নিয়ার ছিলেন না। দুজনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে, যখন ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে, সেটিও তারা জানতেন না।   অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্যটির জবাবে বলেন, মানুষের প্রতি আকর্ষণ বা ভালোবাসার মূল্যায়ন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে করা যায় না। কারও জীবনসঙ্গীকে তার চেহারা দিয়ে বিচার করাও সম্পর্কের বাস্তবতাকে বোঝার জন্য যথেষ্ট নয়।   জাকারবার্গ ও চ্যানের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনও বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ২০২২ সালে তাদের বিয়ের ১০ বছর পূর্তিতে জাকারবার্গ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রায় একই ভঙ্গিতে তোলা পুরোনো ও নতুন ছবি প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ও তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।   সামাজিক মাধ্যমে প্রিসিলার চেহারা নিয়ে মন্তব্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে জাকারবার্গ তার স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় তৈরি শিল্পী ড্যানিয়েল আরশামের একটি ভাস্কর্যের ছবি প্রকাশ করার পরও সেটি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও রসিকতা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনাতেও অনেকে প্রিসিলাকে শুধু ‘জাকারবার্গের স্ত্রী’ হিসেবে না দেখে তার নিজস্ব পেশাগত পরিচয় ও কাজের কথা সামনে আনেন।   সব মিলিয়ে জাকারবার্গ ও প্রিসিলার সম্পর্কের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সম্পদের শীর্ষে পৌঁছানোর আগে। সময়ের সঙ্গে জাকারবার্গের সম্পদ ও পরিচিতি ব্যাপকভাবে বদলেছে, কিন্তু তাদের পারিবারিক সম্পর্ক সেই পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে রয়েছে।   সূত্র: চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২১:৫৬
বাড়ির গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করার আগে স্থানীয় নির্মাণবিধি ও অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম জানা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করার আগে জানুন, পারমিট ছাড়া জরিমানার মুখে পড়তে পারেন মালিকেরা

ঘুমের মধ্যে মুখে বাদুড়ের সংস্পর্শে আসেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমন্ত চিকিৎসকের মুখে ঢোকার চেষ্টা করছিল বাদুড়, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে চার দিন ক্লাস করার পর শিনের আসল বয়স ও পরিচয় সামনে আসে। ছবি: সংগৃহীত

একাকিত্ব কাটাতে ২৯ বছর বয়সে কিশোরী সেজে হাইস্কুলে ভর্তি, চার দিন ক্লাসের পর ধরা পড়লেন নারী

বাড়ির দাম বাড়ার আগে সম্ভাবনাময় ৯ শহর চিহ্নিত করেছেন রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
দাম বাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সুযোগ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের নজরে ৯ শহর

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দাম ও বন্ধকি ঋণের সুদহার বাড়তে থাকায় বড় শহরে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির কিছু শহরে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে এসব এলাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে।   সম্প্রতি ট্রাভেল + লেজার-এর এক প্রতিবেদনে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামত ও স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ৯টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব, মধ্য-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলের শহর রয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ডলার এবং মায়ামিতে তা প্রায় ৬ লাখ ডলারের কাছাকাছি। এর তুলনায় তালিকার শহরগুলোতে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে।   র‍্যালি, নর্থ ক্যারোলাইনা   তালিকার শীর্ষে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র‍্যালি। বিশেষ করে শহরের উত্তরাঞ্চল নর্থ র‍্যালিকে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী রায়ান স্মিথ। তার মতে, প্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোগ, বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এবং উচ্চ সম্পদশালী মানুষের আগমনের কারণে ওই এলাকায় আবাসনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, র‍্যালিতে গড় বাড়ির মূল্য এখন ৫ লাখ ডলারের কিছুটা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্প্রসারণের সঙ্গে আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকলে শহরটির তুলনামূলক সাশ্রয়ী অবস্থান বেশিদিন নাও থাকতে পারে।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, মিশিগান   মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ২০২০ সালের পর বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারপরও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বড় শহরগুলোর মধ্যে এটি এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এখানে গড় বাড়ির মূল্য ৩ লাখ ডলারের কিছু বেশি। শহরটির রেস্তোরাঁ, সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা, হাঁটার উপযোগী এলাকা এবং বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ তরুণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। ফলে জীবনযাত্রার মান ও বাড়ির তুলনামূলক কম দামের সমন্বয় ভবিষ্যতে আবাসনের চাহিদা আরও বাড়াতে পারে।   গ্রিনভিল, সাউথ ক্যারোলাইনা   সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলও বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে। শহরটির কাছে পাহাড়, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা খাত রয়েছে। পাশাপাশি মিশেলিন নর্থ আমেরিকার সদর দপ্তরও এখানে অবস্থিত। রেড বার্ন হোমবায়ার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেন করসিনি বলেন, মানুষ শুধু কম দামের কারণে গ্রিনভিলে যাচ্ছে না। উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগই অনেককে শহরটির দিকে টানছে। ফলে বাড়ির দাম বাড়লেও ভবিষ্যতে চাহিদা শক্তিশালী থাকতে পারে। গত এক বছরে গ্রিনভিলে গড় বাড়ির মূল্য ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্পোকেন, ওয়াশিংটন   যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের জন্য ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনকে সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্পোকেনে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ডলার। একই অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলের তুলনায় এটি অনেক কম। বিশেষ করে প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন পছন্দ করেন এবং সিয়াটলের উচ্চ বাড়ির দাম বহন করতে পারছেন না, এমন ক্রেতাদের কাছে স্পোকেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   চ্যাটানুগা, টেনেসি   টেনেসির চ্যাটানুগাও তালিকায় রয়েছে। শহরটির বিশেষ আকর্ষণ হলো প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং তুলনামূলক কম বাড়ির দাম। কেন করসিনির মতে, কোনো শহরে যদি কর্মসংস্থান বাড়ে, বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ থাকে এবং একই সঙ্গে আবাসন তুলনামূলক সাশ্রয়ী থাকে, তাহলে সেই বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ভালো হতে পারে। চ্যাটানুগায় গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার। এর তুলনায় কাছের বড় শহর ন্যাশভিলে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। ফলে ন্যাশভিলের উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতা চ্যাটানুগার দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।   রিচমন্ড, ভার্জিনিয়া   ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ইতোমধ্যে বাড়ির বাজার বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এখানে একটি বাড়ি বিক্রির চুক্তিতে যেতে গড়ে প্রায় ছয় দিন সময় লাগছে এবং প্রায় অর্ধেক বাড়ি তালিকাভুক্ত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঐতিহাসিক আবাসিক এলাকা, খাবার ও শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ, বিনোদনের সুযোগ এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও উত্তর ভার্জিনিয়ার তুলনায় রিচমন্ড এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় ভবিষ্যতে এর চাহিদা আরও বাড়তে পারে।   এথেন্স, জর্জিয়া   জর্জিয়ার এথেন্সে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বড় শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই শিক্ষার্থী আবাসন বাজারে বাড়ির চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন উন্নয়ন অব্যাহত থাকলেও সেখানে নির্মাণের জন্য জমির পরিমাণ সীমিত। বর্তমানে রিয়েল্টর ডটকমের হিসাবে বাজারটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের তুলনায় মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে নেমেছে। এতে ক্রেতাদের দর-কষাকষির কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বাড়ির দাম আবারও বাড়তে পারে বলে কেন করসিনি মনে করেন।   হিউস্টন, টেক্সাস   টেক্সাসের হিউস্টন দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের একটি। সম্প্রতি ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শহরটিতে বাড়ির দাম কমেছে। বর্তমানে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। তবে হিউস্টনের বাজারকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে এমন বলা হচ্ছে না। তারপরও রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ কারেন কোস্টিউ শহরটির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী বলে মনে করছেন। তার মতে, মহাকাশ, প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, জ্বালানি, বাণিজ্য, উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবসা বাড়ছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশও শহরটির আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর কারণে হিউস্টনে খাবার, শিল্প ও সংস্কৃতিরও শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   সিনসিনাটি, ওহাইও   ওহাইওর সিনসিনাটিকে আবাসন কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সিনসিনাটি ও ক্লিভল্যান্ড তরুণ বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করছে মূলত তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয়, বিদ্যমান বাড়ির বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন এলাকার পুনর্গঠনের কারণে। সিনসিনাটিতে গড় বাড়ির মূল্য এখনো ২ লাখ ডলারের মাঝামাঝি। ঐতিহাসিক এলাকা, পেশাদার ক্রীড়া দল, রেস্তোরাঁ ও পানীয় সংস্কৃতি এবং বাড়তে থাকা শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ শহরটির ভাবমূর্তি বদলে দিচ্ছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা বাড়তে থাকলে বর্তমানে যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী সুযোগ রয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের এই তালিকা কোনো শহরের বাড়ির দাম নিশ্চিতভাবে কতটা বাড়বে, তার পূর্বাভাস নয়। বরং কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসনের সরবরাহ, জীবনযাত্রার মান এবং আশপাশের ব্যয়বহুল শহর থেকে মানুষের স্থানান্তরের মতো বিষয় বিবেচনা করে সম্ভাবনাময় বাজারগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাভেল + লেজারের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ১৩ আগস্ট ২০২৬। প্রতিবেদনের জন্য রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামতের পাশাপাশি স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যারা বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য র‍্যালি, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, গ্রিনভিল, স্পোকেন, চ্যাটানুগা, রিচমন্ড, এথেন্স, হিউস্টন ও সিনসিনাটি নজরে রাখার মতো বাজার হতে পারে। তবে কোনো শহরে বাড়ি কেনার আগে স্থানীয় কর, বন্ধকি ঋণের সুদ, বীমা, সম্পত্তির কর, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহসহ আরও অনেক বিষয় যাচাই করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২০:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের দমনে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলারের ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ কিনছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের দমনে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলারের ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ কিনছে আইসিই

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ নিউজার্সির দম্পতি

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ নিউজার্সির দম্পতি, স্বজনদের আকুতি—‘ওদের ফিরিয়ে আনুন’

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ মাসের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২২ বছরের তরুণ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ মাসের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২২ বছরের তরুণ

0 Comments