যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও অন্যান্য সালাদ শাকসবজিকে সন্দেহ করছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণ বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছানোর পর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সালাদজাতীয় শাকসবজি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (MDHHS) জানিয়েছে, চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী লেটুস বা সালাদ শাকসবজির সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পণ্য, উৎপাদক বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি।
এমডিএইচএইচএসের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান বলেন, "এখনও নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকে এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বারবার লেটুস একটি সাধারণ খাদ্য হিসেবে সামনে এসেছে। তাই আমরা এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি, যাতে তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে পারেন।"
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানে সাধারণত বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ঘটনা শনাক্ত হয়। কিন্তু চলতি প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছেছে, যা অঙ্গরাজ্যের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, Cyclospora নামের একটি পরজীবীর কারণে এই রোগ হয়। এতে সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী পানির মতো ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি এবং পেটের খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই রোগের ইনকিউবেশন বা সুপ্তকাল সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ইতোমধ্যে আরও অনেকে সংক্রমিত হলেও তাদের উপসর্গ পরে দেখা দিতে পারে।
প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছে এমডিএইচএইচএস। সংস্থাটি বলছে, সম্ভব হলে আগে থেকে ধোয়া ও প্যাকেটজাত লেটুস বা প্রস্তুত সালাদ না কিনে সম্পূর্ণ লেটুস কেনা ভালো। রান্নার আগে বাইরের দুই থেকে তিন স্তরের পাতা ফেলে দিতে হবে এবং ভেতরের পাতাগুলো পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
যেসব শাকসবজি রান্না করে খাওয়া সম্ভব, সেগুলো অন্তত ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় রান্না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কারণ, সাইক্লোস্পোরা পরজীবী সাধারণ রাসায়নিক জীবাণুনাশক এবং শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ দূর করা যায় না।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের বিভিন্ন সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে প্যাকেটজাত সালাদ, ধনেপাতা, তুলসী পাতা, রাস্পবেরি, স্নো পি এবং কাঁচা পেঁয়াজেরও সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সুইমিং পুল বা অন্য কোনো বিনোদনমূলক জলক্রীড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। যদিও সাঁতারের সময় পানি গিলে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমান তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু দূষিত খাদ্য, বিশেষ করে শাকসবজি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত এখনো চলমান। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে দ্রুত জানানো হবে। এর মধ্যে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, বমিভাব বা তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি নেই—এমন ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়ার সময় আয় ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আরও সতর্কভাবে যাচাই করতে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে তিনটি ফেডারেল আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এই নির্দেশনা নতুন কোনো আইন নয় এবং কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধও করা হয়নি। Office of the Comptroller of the Currency, Federal Deposit Insurance Corporation এবং National Credit Union Administration সোমবার যৌথভাবে নির্দেশনাটি প্রকাশ করে। সংস্থাগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের আইনি অনুমোদন নেই—এমন কোনো ঋণগ্রহীতার আয় তুলনামূলকভাবে অনিশ্চিত হতে পারে। ফলে তাঁর ঋণ পরিশোধের উৎসও ব্যাংকের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন কর্মসংস্থান থেকে আয় করা ব্যক্তি চাকরি হারাতে পারেন, ভবিষ্যতে বৈধভাবে কাজ করতে না-ও পারেন অথবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। এসব কারণে নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেলে বাড়ি, গাড়ি, ব্যক্তিগত ঋণ বা অন্য কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংকগুলোকে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে বলেনি। বরং ঋণ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আয় কতটা স্থিতিশীল, চাকরি ধরে রাখার সম্ভাবনা, বিদ্যমান ঋণের চাপ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাটি বাধ্যতামূলক নতুন বিধি নয়। এতে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোকে তাদের বিদ্যমান ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণের ঝুঁকি শনাক্ত, পরিমাপ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিরাপদ ঋণ যাচাই পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এ পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রত্যেক অভিবাসী বা অ-নাগরিকের ঋণ আবেদন বাড়তি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্দেশনাটি বিশেষভাবে তাঁদের আয় নিয়ে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগত কর্মানুমতি ছাড়া কাজ করছেন। গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী, কর্মভিসাধারী কিংবা অন্যভাবে কাজের অনুমোদন থাকা ব্যক্তিদের একই শ্রেণিতে রাখা হয়নি। Reuters জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে সব হিসাবধারীর নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন আগে আরও কঠোর ব্যবস্থা বিবেচনা করছে বলে ব্যাংক খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত নির্দেশনা ঋণ যাচাইয়ের ঝুঁকির ওপর জোর দিলেও সবার নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করেনি। নির্দেশনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মে মাসে সই করা “Restoring Integrity to America’s Financial System” নির্বাহী আদেশের আলোকে জারি করা হয়েছে। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অপসারণযোগ্য বা প্রবেশে অযোগ্য ব্যক্তিদের আর্থিক সেবা ও ঋণ দেওয়ার কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংক ও ঋণদাতাদের Consumer Financial Protection Bureau-এর ৮ জুনের নির্দেশনাও বিবেচনা করতে বলেছে। সেখানে Truth in Lending Act এবং Equal Credit Opportunity Act-এর অধীনে ঋণগ্রহীতার পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই ও বৈষম্য না করার আইনি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ঋণের ঝুঁকি যাচাই করা গেলেও আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈষম্যবিরোধী আইন মানতে হবে। নতুন নির্দেশনার বাস্তব প্রভাব ব্যাংক ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ আবেদনের সময় কাজের অনুমতি, চাকরির স্থায়িত্ব এবং আয়ের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বেশি প্রমাণ চাইতে পারে। তবে নির্দেশনায় সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একক কোনো নথি বা আলাদা নাগরিকত্ব যাচাই ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈধ কর্মানুমতির নথি হালনাগাদ রাখা। গাড়ি, বাড়ি বা ব্যক্তিগত ঋণের আবেদন করার সময় চাকরির চিঠি, সাম্প্রতিক পে-স্টাব, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স রিটার্ন এবং বৈধ কাজের অনুমতির প্রমাণ প্রস্তুত থাকলে আয় ও পরিশোধ সক্ষমতা দেখানো সহজ হতে পারে। কেউ বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও শুধু জাতীয়তা বা অভিবাসী পরিচয়ের কারণে ঋণ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে মনে করলে ঋণদাতার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যানের লিখিত কারণ চাইতে পারেন। কারণ নতুন নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে সামগ্রিকভাবে অভিবাসীদের ঋণ বন্ধ করার অনুমতি দেয়নি; এটি মূলত আয় ও ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি যথাযথভাবে যাচাইয়ের নির্দেশনা। সোমবারের ঘোষণার পর এখন নজর থাকবে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলো নির্দেশনাটি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করে। অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে কাগজপত্রহীন কর্মীদের ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে কোনো আবেদন শুধু অভিবাসন পরিচয়ের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার নতুন নিয়ম জারি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরের একটি নদীতীরবর্তী পার্কে ৭ বছর বয়সী এক পর্যটক শিশুকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্য ও আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারীর দ্রুত হস্তক্ষেপে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে এক ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং পোশাকবিহীন অবস্থায় দৌড়াচ্ছেন বলে একাধিক ফোনকল আসে। একজন কলকারী অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি তাকে মাথায় আঘাত করারও চেষ্টা করেছিলেন। তবে সে সময় জরুরি অন্য ঘটনার কারণে সব পুলিশ সদস্য ব্যস্ত থাকায় ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে জানায় পুলিশ। প্রায় ১২ মিনিট পর আরেকটি জরুরি ফোনকলে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি ৭ বছর বয়সী শিশুর হাত ধরে তাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাছাকাছি উইলামেট নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা ওই ব্যক্তিকে আটক করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ড্যানিয়েল ভেসি (৩১)। তার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের চেষ্টা, বৈধ অভিভাবকের হেফাজতে হস্তক্ষেপ, তৃতীয় ডিগ্রির হামলা এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মাল্টনোমাহ কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ড্যানিয়েল ভেসি শিশুটির একটি হাত ধরে টানতে শুরু করেন। তখন শিশুটির মা অন্য হাত ধরে তাকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুই দিক থেকে টানাটানির কারণে শিশুটি মাটি থেকে কিছুটা ওপরে উঠে যায়। এ সময় শিশুটির বাবা এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারী দ্রুত এগিয়ে এসে সন্দেহভাজনকে প্রতিরোধ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, উপস্থিত কয়েকজন তাকে ধাক্কা দেন, চড়-ঘুষি মারেন এবং জোর করে শিশুটিকে তার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন। একজন পথচারী অন্যদের নিরাপদ রাখতে সন্দেহভাজনের দিকে মরিচের স্প্রেও ব্যবহার করেন। ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা শিশুটিকে ঘটনাস্থলেই পরীক্ষা করেন। তার শরীরে কয়েকটি আঁচড়ের দাগ পাওয়া গেলেও গুরুতর কোনো আঘাত ছিল না। তাই তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তদন্তে আরও জানা গেছে, শিশুটি ও তার পরিবার অন্য একটি অঙ্গরাজ্য থেকে পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার সময় তারা টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে অবস্থান করছিলেন। পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনের উদ্দেশ্য, মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার পেছনের অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মামলায় আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে।
ব্যস্ত কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্বের চাপে থাকা অভিভাবকদের কিছুটা ব্যক্তিগত সময় করে দিতে প্রথমবারের মতো ‘অভিভাবক নাইট আউট’ (Parents’ Night Out) কর্মসূচি চালু করছে নিউইয়র্ক সিটি। এই উদ্যোগের আওতায় অভিভাবকরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সন্তানদের সিটির তত্ত্বাবধানে নিরাপদ পরিবেশে রেখে ব্যক্তিগত কাজ, বিশ্রাম কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৬ আগস্ট এই বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। শিশুদের জন্য থাকবে প্রশিক্ষিত কর্মীদের তত্ত্বাবধান, খেলাধুলা, শিল্পচর্চা, দলীয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। পুরো কর্মসূচিটি অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং পার্ক কমিশনার ট্রিশিয়া শিমামুরা যৌথভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। মেয়র মামদানি বলেন, অনেক অভিভাবকের জন্য কয়েক ঘণ্টা নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছাড়াই তারা এ সময় বিশ্রাম নিতে, প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে অথবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, একটি শহরকে বাসযোগ্য করে তোলার অর্থ শুধু জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো নয়; নাগরিকদের হাতে কিছুটা ব্যক্তিগত সময় ফিরিয়ে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পার্ক কমিশনার ট্রিশিয়া শিমামুরা বলেন, অভিভাবকেরা প্রতিদিন পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনায় ব্যস্ত থাকেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও কিছুটা স্বস্তির সুযোগ দেওয়া হবে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য আগাম অনলাইনে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না। আবেদন গ্রহণ করা হবে ‘আগে আসলে আগে সুযোগ’ ভিত্তিতে। শিশুদের জন্য এই সেবা নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোর পাঁচটি বিনোদন কেন্দ্রে দেওয়া হবে। এগুলো হলো ব্রুকলিনের শার্লি চিশলম বিনোদন কেন্দ্র, ম্যানহাটনের হাইব্রিজ বিনোদন কেন্দ্র, কুইন্সের আল ওর্টার বিনোদন কেন্দ্র, দ্য ব্রঙ্কসের কোয়ামে টুরে বিনোদন কেন্দ্র এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের গ্রিনবেল্ট বিনোদন কেন্দ্র। নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচিত পরিবারগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত নির্দেশনা পাঠানো হবে। শিশুদের অংশগ্রহণের জন্য একটি সম্মতিপত্র পূরণ করতে হবে এবং নিউইয়র্ক সিটি পার্কসের বিনোদন কেন্দ্রের সদস্যপদ গ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। সিটি কর্তৃপক্ষের মতে, পরিবারগুলোর ওপর শিশু লালন-পালনের চাপ কিছুটা কমানো এবং অভিভাবকদের মানসিক স্বস্তি দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কর্মসূচিটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে এ ধরনের সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।