যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি নেই—এমন ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়ার সময় আয় ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আরও সতর্কভাবে যাচাই করতে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে তিনটি ফেডারেল আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এই নির্দেশনা নতুন কোনো আইন নয় এবং কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধও করা হয়নি।
Office of the Comptroller of the Currency, Federal Deposit Insurance Corporation এবং National Credit Union Administration সোমবার যৌথভাবে নির্দেশনাটি প্রকাশ করে। সংস্থাগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের আইনি অনুমোদন নেই—এমন কোনো ঋণগ্রহীতার আয় তুলনামূলকভাবে অনিশ্চিত হতে পারে। ফলে তাঁর ঋণ পরিশোধের উৎসও ব্যাংকের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন কর্মসংস্থান থেকে আয় করা ব্যক্তি চাকরি হারাতে পারেন, ভবিষ্যতে বৈধভাবে কাজ করতে না-ও পারেন অথবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। এসব কারণে নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেলে বাড়ি, গাড়ি, ব্যক্তিগত ঋণ বা অন্য কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংকগুলোকে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে বলেনি। বরং ঋণ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আয় কতটা স্থিতিশীল, চাকরি ধরে রাখার সম্ভাবনা, বিদ্যমান ঋণের চাপ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনাটি বাধ্যতামূলক নতুন বিধি নয়। এতে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোকে তাদের বিদ্যমান ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণের ঝুঁকি শনাক্ত, পরিমাপ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিরাপদ ঋণ যাচাই পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এ পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রত্যেক অভিবাসী বা অ-নাগরিকের ঋণ আবেদন বাড়তি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্দেশনাটি বিশেষভাবে তাঁদের আয় নিয়ে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগত কর্মানুমতি ছাড়া কাজ করছেন। গ্রিন কার্ডধারী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিটধারী, কর্মভিসাধারী কিংবা অন্যভাবে কাজের অনুমোদন থাকা ব্যক্তিদের একই শ্রেণিতে রাখা হয়নি।
Reuters জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে সব হিসাবধারীর নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন আগে আরও কঠোর ব্যবস্থা বিবেচনা করছে বলে ব্যাংক খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত নির্দেশনা ঋণ যাচাইয়ের ঝুঁকির ওপর জোর দিলেও সবার নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করেনি।
নির্দেশনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মে মাসে সই করা “Restoring Integrity to America’s Financial System” নির্বাহী আদেশের আলোকে জারি করা হয়েছে। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অপসারণযোগ্য বা প্রবেশে অযোগ্য ব্যক্তিদের আর্থিক সেবা ও ঋণ দেওয়ার কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছিল।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংক ও ঋণদাতাদের Consumer Financial Protection Bureau-এর ৮ জুনের নির্দেশনাও বিবেচনা করতে বলেছে। সেখানে Truth in Lending Act এবং Equal Credit Opportunity Act-এর অধীনে ঋণগ্রহীতার পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই ও বৈষম্য না করার আইনি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ঋণের ঝুঁকি যাচাই করা গেলেও আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈষম্যবিরোধী আইন মানতে হবে।
নতুন নির্দেশনার বাস্তব প্রভাব ব্যাংক ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ আবেদনের সময় কাজের অনুমতি, চাকরির স্থায়িত্ব এবং আয়ের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বেশি প্রমাণ চাইতে পারে। তবে নির্দেশনায় সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একক কোনো নথি বা আলাদা নাগরিকত্ব যাচাই ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈধ কর্মানুমতির নথি হালনাগাদ রাখা। গাড়ি, বাড়ি বা ব্যক্তিগত ঋণের আবেদন করার সময় চাকরির চিঠি, সাম্প্রতিক পে-স্টাব, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স রিটার্ন এবং বৈধ কাজের অনুমতির প্রমাণ প্রস্তুত থাকলে আয় ও পরিশোধ সক্ষমতা দেখানো সহজ হতে পারে।
কেউ বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও শুধু জাতীয়তা বা অভিবাসী পরিচয়ের কারণে ঋণ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে মনে করলে ঋণদাতার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যানের লিখিত কারণ চাইতে পারেন। কারণ নতুন নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে সামগ্রিকভাবে অভিবাসীদের ঋণ বন্ধ করার অনুমতি দেয়নি; এটি মূলত আয় ও ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি যথাযথভাবে যাচাইয়ের নির্দেশনা।
সোমবারের ঘোষণার পর এখন নজর থাকবে ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলো নির্দেশনাটি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করে। অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে কাগজপত্রহীন কর্মীদের ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে কোনো আবেদন শুধু অভিবাসন পরিচয়ের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার নতুন নিয়ম জারি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে তুলনামূলক কম দামে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ এনে দিয়েছে নতুন একটি হাউজিং লটারি। আপার ম্যানহাটনের ইনউড গার্ডেনস (Inwood Gardens) নামে ২৩ তলা মিচেল-লামা (Mitchell-Lama) সমবায় আবাসন প্রকল্পে নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম PIX11 জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় এক, দুই ও তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ থাকছে। এক শয়নকক্ষের ইউনিটের ক্রয়মূল্য শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৮২০ ডলার থেকে। তবে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার পাশাপাশি প্রতি মাসে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) খরচও পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্পটির অনেক অ্যাপার্টমেন্টে বড় ব্যক্তিগত টেরেস রয়েছে। এছাড়া ভবনে ইনডোর ও আউটডোর পার্কিং, স্থায়ী ব্যবস্থাপনা অফিস, কমিউনিটি রুম এবং লন্ড্রি সুবিধাও রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ১ হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ৪৬০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৭১৭ দশমিক ১৫ থেকে ৯৩৯ দশমিক ৭১ ডলার। এই ইউনিটের জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা হতে হবে ১ থেকে ২ জন এবং বার্ষিক পারিবারিক আয় হতে হবে ২৮ হাজার ৬৮৬ থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে। দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ২ হাজার ৩৮০ থেকে ২ হাজার ৯১০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৯২২ দশমিক ০৪ থেকে ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৫২ ডলার। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ২ থেকে ৪ জন এবং বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার ৮৮১ দশমিক ৬০ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার হতে হবে। তিন শয়নকক্ষের ইউনিটের মূল্য ৩ হাজার ৩৮০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ১ হাজার ১৯২ দশমিক ৫৭ থেকে ১ হাজার ৪৩৫ দশমিক ২৩ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৪ থেকে ৬ জন এবং বার্ষিক আয় ৪৭ হাজার ৭০২ দশমিক ৮০ থেকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। যারা কাগজের আবেদনপত্র চান, তারা নির্ধারিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সিটির মতো উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে Mitchell-Lama কর্মসূচি মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসনের সুযোগ তৈরি করে আসছে। তবে আবেদনকারীদের নির্ধারিত আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পরও চূড়ান্ত যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদন অনুমোদন করা হবে।
নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আবারও সরাসরি নিয়োগের সুযোগ নিয়ে আসছে Jobs NYC। শহরের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন নিয়োগদাতার অংশগ্রহণে ম্যানহাটন ও ব্রঙ্কসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুটি বড় চাকরি মেলা, যেখানে আবেদনকারীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগও পাবেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম PIX11 জানিয়েছে, Jobs NYC-এর উদ্যোগে আয়োজিত এসব চাকরি মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। কিছু ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হতে পারে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই একটি বৈধ ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র এবং জীবনবৃত্তান্তের (রেজ্যুমে) একাধিক কপি সঙ্গে আনতে হবে। পাশাপাশি পেশাদার বা ব্যবসায়িক পোশাক পরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়োগদাতাদের সামনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা যায়। প্রথম চাকরি মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আপার ম্যানহাটন Workforce1 Career Center, ২১৫ ওয়েস্ট ১২৫তম স্ট্রিটে। এই আয়োজনটি মূলত গ্রাহকসেবা-সংশ্লিষ্ট চাকরির ওপর গুরুত্ব দেবে। অনলাইনে অগ্রিম নিবন্ধনের সব টিকিট শেষ হয়ে গেলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিবন্ধন ছাড়াই সরাসরি উপস্থিত হয়ে অংশ নেওয়া যাবে। এই চাকরি মেলায় ক্যাশিয়ার, ফ্রন্ট ডেস্ক ক্লার্ক, ব্যাংক টেলার এবং ডিসপ্যাচারসহ বিভিন্ন পদের জন্য নিয়োগদাতারা প্রার্থী খুঁজবেন। দ্বিতীয় চাকরি মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ব্রঙ্কসের BronxWorks Classic Community Center, ২৮৬ ইস্ট ১৫৬তম স্ট্রিটে। তবে দুপুর ১টার পর প্রবেশের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এই আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য কর্মী নিয়োগের জন্য উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া কর্মসংস্থান উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সুযোগও থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চাকরি মেলা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। কারণ এখানে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়, জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে একই দিনেই প্রাথমিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। যারা নিউইয়র্কে নতুন চাকরি খুঁজছেন বা পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই দুটি চাকরি মেলা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিপুল চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে আবারও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় আইজ্যাক রোশেলের স্ত্রী ও জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অ্যালিসন কুচ সন্তান জন্মদানের পর পাওয়া প্রায় ২০ হাজার ডলারের হাসপাতাল বিল প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও যুক্তিসংগততা নিয়ে। ৩০ বছর বয়সী অ্যালিসন কুচ সম্প্রতি টিকটকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি তার হাসপাতালের বিলের প্রতিটি খাতের ব্যয় তুলে ধরেন। ভিডিওটি ইতোমধ্যে ১৫ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং হাজারো মা নিজেদের একই ধরনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কুচ জানান, সন্তান জন্মদানের জন্য ৪৮ ঘণ্টার হাসপাতালে অবস্থানের মোট বিল ছিল প্রায় ২০ হাজার ডলার। এর মধ্যে প্রসব কক্ষের জন্য প্রায় ৩,২০০ ডলার, প্রসব-পরবর্তী কক্ষের জন্য আরও ৩,২০০ ডলার, প্রসব বেদনা বাড়াতে ব্যবহৃত ওষুধ পিটোসিনের জন্য ১,১০০ ডলার, এপিডুরাল ওষুধের জন্য ৫৬০ ডলার এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রায় ১০ হাজার ডলার বিল করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে চিকিৎসকের ফি। কুচের দাবি, তার প্রসূতি চিকিৎসক প্রসবের সময় মাত্র তিন মিনিট উপস্থিত ছিলেন। অথচ সেই চিকিৎসকের নামে ৬,১৮৫ ডলার বিল করা হয়েছে। ভিডিওতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কয়েক মিনিটের উপস্থিতির জন্য এত বড় অঙ্কের বিল গ্রহণযোগ্য নয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মা-বাবা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কেউ জানান, নবজাতক নার্সারিতে না গেলেও নার্সারির বিল দিতে হয়েছে। আবার কেউ দাবি করেন, চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলেও তার নামে হাজার হাজার ডলার বিল করা হয়েছে। এমনকি এক নারী জানান, নবজাতকের দীর্ঘদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকার কারণে হাসপাতালের বিল কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। অ্যালিসন কুচের ক্ষেত্রে অবশ্য এনএফএল-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যবিমা থাকায় বীমা প্রতিষ্ঠান বিলের বড় অংশ পরিশোধ করেছে। শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের পকেট থেকে প্রায় ১,৫০০ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। তবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে অধিকাংশ পরিবারের জন্য এমন ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন। ভিডিওটির প্রতিক্রিয়ায় কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নরওয়ের অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, তাদের দেশে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার আওতায় সন্তান জন্মদানের জন্য প্রায় কোনো অর্থই পরিশোধ করতে হয় না। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালভেদে সন্তান জন্মদানের ব্যয় ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার ধরন, চিকিৎসার পদ্ধতি, ব্যবহৃত ওষুধ এবং হাসপাতালের বিলিং নীতির ওপর মোট খরচ নির্ভর করে। তবে অ্যালিসন কুচের প্রকাশ করা বিল আবারও দেশটির মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা ব্যয়, হাসপাতালের বিলিং পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।