সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#মার্কিনরাজনীতি

মূল্যবৃদ্ধির চাপে স্থবির মার্কিনিদের প্রকৃত মজুরি
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে, ট্রাম্পের আমলে ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি মার্কিনিদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রকৃত মজুরি গড়ে বাড়েনি। অর্থাৎ, কর্মীদের বেতন বাড়লেও নিত্যপণ্য ও অন্যান্য সেবার মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সেই বৃদ্ধি তাল মেলাতে পারেনি। ফলে আগের তুলনায় বেশি বেতন পেয়েও অনেক মার্কিনির ক্রয়ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।   ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে পণ্য ও সেবার দামও বেড়েছে প্রায় একই হারে। ফলে মজুরি বৃদ্ধির বড় অংশই মূল্যবৃদ্ধির কারণে কার্যত হারিয়ে গেছে। মজুরি বাড়লেও সেই অর্থ দিয়ে আগের তুলনায় বেশি পণ্য বা সেবা কেনার সুযোগ তৈরি হয়নি। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর গড় ঘণ্টাপ্রতি প্রকৃত মজুরি কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ওই মাসে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছিল মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে, ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ, কর্মীদের আয় সামান্য বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। বার্ষিক হিসাবেও একই চাপ দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত ঘণ্টাপ্রতি মজুরি কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে ৩ শতাংশ, কিন্তু ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। উৎপাদন ও তদারকির দায়িত্বে নেই—এমন কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রকৃত ঘণ্টাপ্রতি মজুরি এক বছরে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। গত ছয় মাস ধরে মূল্যস্ফীতি গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার আয়ের বড় অংশ খাবার, জ্বালানি, বাসাভাড়া ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করে, তাদের জন্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক এক মাসে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বেড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচ নয়, পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন সেবার ব্যয়েও প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থনীতি, নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক মার্কিনি মনে করছেন, তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ এখনো কমেনি। চলতি বছরের শুরুতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টিও মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য অর্থনীতির চিত্রকে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে আগ্রাসী অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপ বাইডেন প্রশাসনের সময়কার মূল্যস্ফীতির সংকটের প্রভাব কমিয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে, মজুরি বৃদ্ধি করেছে এবং বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যেসব শিল্প ও কাজ একসময় দেশের বাইরে চলে গিয়েছিল, সেসব ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান তৈরির দাবি করেছে প্রশাসন। তবে প্রকৃত মজুরির হিসাব সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। শুধু বেতন কতটা বেড়েছে, তা দেখলেই পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না। সেই আয়ে আগের তুলনায় কতটা পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করতে হয়। মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির ব্যবধান না থাকলে আয় বাড়ার সুফল সীমিত হয়ে পড়ে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত গড় মজুরি বৃদ্ধির প্রায় পুরোটা মূল্যবৃদ্ধিতে সমন্বিত হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান আরও দেখাচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসে প্রকৃত মজুরি কমেছে। ফলে অর্থনীতি নিয়ে সরকারের ইতিবাচক বক্তব্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগও সামনে থাকছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভোটারদের মনোভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে প্রস্তুত মার্কিন তরুণরা
তুরুপের তাস এবার তরুণ ভোটাররা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বদলে যেতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন তরুণ ভোটাররা। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদের বড় একটি অংশ এবার ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে। তরুণদের এই অংশগ্রহণ বাস্তবে কতটা বাড়ে, তার ওপর নির্ভর করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যক্তিগত অধিকার এবং রাজনীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তরুণদের ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক ভোটারদের তুলনায় তরুণদের ভোট দেওয়ার হার ঐতিহাসিকভাবে কম। তবে এবার জেনারেশন জি বা জেন জির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই প্রজন্মের ভোট কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক আলবার্তো মেদিনা মনে করেন, তরুণদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পেছনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বড় ভূমিকা রাখছে। তাঁর ভাষায়, অনেক তরুণ নিজেদের জীবন, সমবয়সীদের পরিস্থিতি এবং তাঁদের বসবাসের সম্প্রদায়ের উন্নতি চান। এই প্রত্যাশাই তাঁদের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী করে তুলছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে অ্যালায়েন্স ফর ইয়ুথ পাওয়ার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) ও ইউগভের প্রকাশিত এক জরিপে তরুণদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় পরিচালিত ওই জরিপে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৮০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তাঁরা সম্ভবত ভোট দেবেন অথবা নিশ্চিতভাবেই ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। জরিপের এই ফলাফল তরুণ ভোটারদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তাঁদের প্রকৃত উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা আর বাস্তবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এক বিষয় নয়। তাই নির্বাচনের দিন কতজন তরুণ ভোট দিতে যান, তার ওপর তাঁদের প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এই বয়সী ভোটারদের মধ্যে সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝোঁক দেখা যায়। তবে তরুণদের রাজনৈতিক অবস্থান শুধু দলীয় পছন্দের ওপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশাও তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। মেদিনা বলেন, জেন জি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় প্রজন্মগুলোর একটি। ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের প্রায় অর্ধেক বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। এ ছাড়া তাঁদের প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন নিজেদের এলজিবিটিকিউ পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান। এই বৈচিত্র্যের কারণে ব্যক্তিগত পরিচয়, নাগরিক অধিকার এবং বন্ধু, পরিবার ও নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো তরুণদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। তাঁদের অনেকের কাছে এসব বিষয় কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; বরং দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ইয়ুথ পাওয়ার পিএসি ও ইউগভের জরিপে দেখা গেছে, এই চার অঙ্গরাজ্যে তরুণ ভোটারদের ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে তরুণদের দলীয় পছন্দ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেলেও তা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না। নির্বাচনের আগে তাঁদের অগ্রাধিকার পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হার এবং অন্যান্য বয়সী ভোটারদের অংশগ্রহণও ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। তরুণ ভোটারদের উদ্বেগের তালিকায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শীর্ষস্থানীয় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এসব বিষয়কে তাঁদের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রাখা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি রাজনীতিতে দুর্নীতি ও বড় অঙ্কের অর্থের প্রভাব কমানোর বিষয়টিও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মেদিনার মতে, তরুণরা নিজেদের জীবন ও সম্প্রদায়ের উন্নতি চান। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাঁদের মতামত কতটা গুরুত্ব পায় এবং পরিবর্তন আনার ক্ষমতা অর্জনের পথে কী বাধা রয়েছে, সেই প্রশ্নও তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে। এসব বাধা অতিক্রম করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখার আকাঙ্ক্ষা তাঁদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অল্প ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোতে তাঁদের ভোটের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তবে তরুণদের এই আগ্রহ শেষ পর্যন্ত কতটা নির্বাচনী শক্তিতে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে তাঁদের বাস্তব অংশগ্রহণের ওপর। জরিপে প্রকাশ করা পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা ভোট দিতে গেলে এবারের নির্বাচনে জেন জির ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি আবারও সামনে আনলেন ট্রাম্প
মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে ফের ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি, তবে আছে শর্ত!

মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও সামনে এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন রাজনৈতিক শর্ত। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর কথা বলেছেন তিনি। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আইন পাস হয়নি, এমনকি অর্থ বিতরণের সময়সূচি বা চূড়ান্ত যোগ্যতার শর্তও নির্ধারণ করা হয়নি।   ১২ অক্টোবর ট্রাম্প আবারও এ প্রস্তাবের কথা বলেন। তাঁর দাবি, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে কর বাড়াবে এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার দিকে এগিয়ে যাবে। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক দাবি; এর পক্ষে কোনো অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়নি। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকেরা ৫ হাজার ডলার করে পেতে পারেন। তবে কারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নিয়ম প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প প্রথমবারের মতো এ পরিকল্পনার কথা বলেন গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক এক সম্মেলনে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। এবারও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সামনে এনে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় ধরে রাখার বিষয়টির সঙ্গে একে যুক্ত করেছেন। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের ব্যয় কত হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সিএনবিসির এক হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের অর্থ বিতরণে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুলের বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্সের হিসাবে, সব প্রাপ্তবয়স্ককে অর্থ দিতে গেলে ব্যয় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেই। প্রস্তাবটি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি ও ডেভিড শোয়াইকাট এ ধরনের অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে সিনেটর বার্নি মোরেনো প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া ও জেমি রাসকিনও এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ একসঙ্গে মানুষের হাতে পৌঁছালে ভোগব্যয় বাড়তে পারে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতির চাপও তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে অর্থের উৎস, বিতরণের পদ্ধতি এবং অর্থনীতির তৎকালীন পরিস্থিতির ওপর। এ ছাড়া অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকেরা এ ধরনের প্রতিশ্রুতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে প্রস্তাবটি বেআইনি বলে কোনো আদালতের রায় হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখনো ঘোষণার পর্যায়েই রয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন, অর্থের জোগান, যোগ্যতার নিয়ম কিংবা অর্থ বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে মার্কিন নাগরিকেরা আদৌ এই অর্থ পাবেন কি না, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
কমলা হ্যারিসের সঙ্গে তাঁর স্বামী ডগ এমহফ
আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার পরিকল্পনায় কমলা হ্যারিস, তবে স্বামী ডগ এমহফের রয়েছে আপত্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে এবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে নিজের রাজনৈতিক শিবিরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিসর থেকেও অনীহা ও সংশয়ের মুখে পড়ছেন তিনি। এমনকি তাঁর স্বামী ডগ এমহফও চান না, হ্যারিস আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। তবে শেষ পর্যন্ত হ্যারিস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁকে সমর্থন করবেন বলে ধারণা করছেন এমহফের ঘনিষ্ঠজনেরা।   সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমহফ ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী অংশ না নিলেই তিনি বেশি খুশি হবেন। তবে তাঁর এই অবস্থানকে হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা, হ্যারিস চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিলে এমহফ তাঁর পাশে থাকবেন। হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সংশয় শুধু তাঁর পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন অর্থদাতা সরাসরি তাঁকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে আবারও লড়াই করা তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে। তাঁদের কেউ কেউ সম্ভাব্য এই প্রচারাভিযানকে জয়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চিত ও কঠিন বলে মনে করছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন হ্যারিস। ওই নির্বাচনে তিনি জনপ্রিয় ভোট, ইলেকটোরাল কলেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর কোনোটিতেই জয় পাননি। অথচ তাঁর নির্বাচনী প্রচারে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিপুল অর্থ সংগ্রহের পরও পরাজয় ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিস এখনো আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীভিত্তিক জরিপে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি, তাই এসব জরিপকে চূড়ান্ত জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হ্যারিস নিজেও এখন পর্যন্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। গত মাসে মিশিগানে এনএএসিপির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আবার নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা এখনো ঠিক করেননি। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভালো করতে না পারলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনার গুরুত্বও কমে যাবে। তবে তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর জন্য তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন হ্যারিস। উইসকনসিনের গভর্নর পদপ্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি এবং নেভাডার গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যারন ফোর্ডের জন্য আয়োজিত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতির কথা জানা গেছে। গত সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির একটি ভার্চুয়াল আলোচনায়ও অংশ নেন হ্যারিস। সেখানে দুই হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবককে এক ডজন অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ভোটদানে উৎসাহিত করার কাজে সহায়তা করতে বলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতে বড় নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি ২০২৮ সালে প্রার্থী হবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। হ্যারিসের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীও তাঁর আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির একাংশ নতুন নেতৃত্ব ও নতুন মুখ সামনে আনার পক্ষে। অন্যদিকে, হ্যারিসের পরিচিতি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ভোটারসমর্থন তাঁকে আলোচনায় রেখেছে। এদিকে এমহফ আবার আইন পেশায় সক্রিয় হয়েছেন। তিনি লস এঞ্জেলেসের আইন প্রতিষ্ঠান উইলকি ফার অ্যান্ড গ্যালাগারে অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন। চলতি বছরের শুরুতে হ্যারিস ও এমহফ মালিবুতে প্রায় ৮০ লাখ ডলারের একটি বাড়িও কিনেছেন। হ্যারিসের কার্যালয় এবং এমহফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে হ্যারিসের সামনে এখনো একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন কি না, তা যেমন অনিশ্চিত, তেমনি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সমর্থন ও সংশয়—দুই-ই রয়েছে। আপাতত তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান, নির্বাচনী তৎপরতা এবং দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়াই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প ও আবদুল এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
ব্যঙ্গ করে ‘মোহাম্মদ’ নামে আবদুল এল-সাইয়েদকে সম্বোধন ট্রাম্পের, সঙ্গে দিলেন ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ তকমাও

মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে নিয়ে নতুন করে তীব্র আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আক্রমণের ভাষার পাশাপাশি এবার ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে প্রার্থীর নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। আবদুল এল-সাইয়েদের বদলে তাকে ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এরপর তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।   বুধবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ ডেমোক্র্যাটদের জন্য একজন ‘ভয়ংকর প্রার্থী’। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এল-সাইয়েদ ‘জিহাদের সময়ের’ সঙ্গে যুক্ত এবং তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ হিসেবে আখ্যা দেন।   তবে ট্রাম্পের পোস্টে ব্যবহৃত ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে মিশিগানের এবারের সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নেই। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। ফলে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে নামটি বদলে লিখেছেন, নাকি ভুল করে লিখেছেন—তা স্পষ্ট নয়।   ট্রাম্প তার পোস্টে এল-সাইয়েদের সঙ্গে অনলাইন স্ট্রিমার হাসান পিকারকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি এল-সাইয়েদকে পিকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে ওই পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি ট্রাম্প।   একই পোস্টে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনও ঘোষণা করেন। তিনি রজার্সকে অত্যন্ত ভালো প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে মিশিগানের ভোটারদের তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।   মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ আলোচিত। আবদুল এল-সাইয়েদ আগস্টে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি জিতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।   সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন পোস্ট-শার স্কুল জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট, অর্থাৎ ব্যবধানটি পরিসংখ্যানগতভাবে খুব বড় নয়।   এল-সাইয়েদকে নিয়ে রিপাবলিকানদের আক্রমণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান প্রচারে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।   অন্যদিকে এল-সাইয়েদ তার প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রাখছেন। তার প্রচারণার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।   রজার্সও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত দেখিয়েছেন। বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শুল্ক বিরোধ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মিশিগানের কানাডার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় এই ইস্যুটি তার প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে।   তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টে রজার্সের প্রতি তার সমর্থন স্পষ্ট। আর আবদুল এল-সাইয়েদের নাম ‘মোহাম্মদ’ লিখে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলার বিষয়টি মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক প্রচারের নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।   মিশিগানের সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ভোটের আগে দুই দলের প্রচারণা আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের ঘিরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণও বাড়তে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের প্রচারে বারাক ওবামা
মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইদের পাশে ডেট্রয়েটে প্রচারে নামছেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদের পক্ষে প্রচারে নামছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে একটি নির্বাচনী সমাবেশে এল-সাইদের সঙ্গে অংশ নেবেন তিনি। মিশিগানের ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে ওবামার সরাসরি অংশগ্রহণকে দলটির প্রার্থীদের প্রতি বড় ধরনের সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি জানিয়েছে, ২৪ অক্টোবরের ওই সমাবেশে ওবামার সঙ্গে থাকবেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসন এবং অন্যান্য ডেমোক্র্যাট নেতা। অনুষ্ঠানটি মিশিগানে আগাম সশরীরে ভোট দেওয়ার শুরুর দিনেই হওয়ার কথা রয়েছে।   এল-সায়েদ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবামার অংশগ্রহণের বিষয়টি ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২৪ অক্টোবর শনিবার ডেট্রয়েটে প্রচারে তার সঙ্গে থাকবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। সমাবেশের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় পরে জানানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।   মিশিগানের এই সিনেট আসনটি বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকলেও এটি উন্মুক্ত আসন। অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য লড়ছেন এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। নভেম্বরের নির্বাচনে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এল-সায়েদ আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মডারেট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে খুব অল্প ব্যবধানে হারিয়ে দলটির প্রার্থী হন। প্রাইমারি শেষ হওয়ার পর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন অংশের সমর্থন একত্র করার চেষ্টা করছেন। এর আগে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসও ডেট্রয়েটে এল-সায়েদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।   ওবামার অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে আসছে, যখন মিশিগানের সিনেট লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে এল-সায়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব কম দেখা গেছে। ফক্স নিউজের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সায়েদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। জরিপটিতে ১ হাজার ২৮ জন সম্ভাব্য ভোটার অংশ নেন এবং সম্ভাব্য ভোটারদের ক্ষেত্রে নমুনা ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ।   মারিস্ট ইউনিভার্সিটির আরেক জরিপে এল-সায়েদ ৫১ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এই জরিপ ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ২৩৫ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়। আবার ট্রাফালগার গ্রুপের ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের জরিপে এল-সায়েদ ৪৭ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পান।   তবে জরিপের ফলাফলকে নির্বাচনের ফল হিসেবে দেখা যায় না। বিভিন্ন জরিপে নমুনা, ভোটার বাছাই এবং পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে পাওয়া তথ্য শুধু নির্বাচনের আগে ভোটারদের অবস্থানের একটি চিত্র তুলে ধরে।   এল-সায়েদের প্রচারে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সুযোগ এমন মানুষের দিকে বেশি যাচ্ছে, যারা ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে সফল। তার বক্তব্যে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।   অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার সঙ্গে বামঘেঁষা অনলাইন ব্যক্তিত্ব হাসান পাইকার সম্পর্ককে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। এল-সায়েদ পাইকারকে তার বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার বিশাল অনুসারী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর আগ্রহের কথাও বলেছেন। রজার্সের প্রচারে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।   এল-সায়েদ প্রাইমারিতে জয় পাওয়ার পর দলের মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোরও চেষ্টা করছেন। তার প্রচারে দলের জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত নেতাদের অংশগ্রহণ সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ। ওবামার পাশাপাশি কমালা হ্যারিসের আগের প্রচারও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।   ওবামার জন্যও মিশিগান অপরিচিত রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তিনি ডেট্রয়েটে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। এবার ২৪ অক্টোবরের সমাবেশটি মিশিগানে আগাম সশরীরে ভোট শুরুর সঙ্গে মিলছে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা এই সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করবে।   এদিকে মিশিগানে গভর্নর নির্বাচনও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসন রিপাবলিকান প্রার্থী জন জেমসের মুখোমুখি হচ্ছেন। ২৪ অক্টোবরের সমাবেশে বেনসনের উপস্থিতি থাকায় ওবামার সফর শুধু সিনেট নয়, অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারেও ভূমিকা রাখবে।   নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ওবামা আরও বেশি নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত হচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেট ও গভর্নর প্রার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন রেকর্ড করেছেন এবং সামনে আরও প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
রিপাবলিকানরা জিতলে ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন বার্তা

প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবারও কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তার প্রস্তাবটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এই অর্থপ্রদান এখনো কোনো কার্যকর সরকারি কর্মসূচি নয় এবং বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।   ট্রাম্পের প্রস্তাবটি ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ নামে পরিচিত। তার দাবি, শুল্কনীতি থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আসছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া সম্ভব হবে। সোমবার তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে এই অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।   তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। কারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, কবে অর্থ দেওয়া হবে এবং ঠিক কোন উৎস থেকে পুরো অর্থের জোগান দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।   প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয়ও বড়। বিশ্লেষকদের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দিলে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এ কারণে অর্থের উৎস এবং ফেডারেল বাজেটের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   ট্রাম্প এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী সম্মেলনে প্রথমবার এই প্রতিশ্রুতির কথা বলেন। তখন তিনি জানান, রিপাবলিকানরা নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই জয় ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে।   প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকায় এ ধরনের অর্থপ্রদানের জন্য আইনগত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে আইন আনার কথা বলেছেন।   অর্থের উৎস নিয়েও আলোচনা চলছে। ট্রাম্প শুল্ক থেকে আসা রাজস্বের কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু শুল্কের রাজস্ব দিয়ে ৫ হাজার ডলারের এই কর্মসূচির পুরো ব্যয় মেটানো কঠিন হবে। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অর্থের ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।   এর আগে ট্রাম্প বিভিন্ন সময় শুল্ক থেকে ২ হাজার ডলার এবং সরকারি ব্যয় কমিয়ে ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের ধারণার কথা বলেছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। এবারও ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাবটি কংগ্রেসের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।   তাই বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ৫ হাজার ডলারের কোনো নিশ্চিত পেমেন্ট চালু হয়নি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের সিদ্ধান্তসহ আরও কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস
‘ট্রাম্পের আনুগত্যের পরীক্ষা থেকে বের হতে হবে’, হোয়াইট হাউসকে রিপাবলিকান সিনেটরের বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেই কোনো রিপাবলিকানকে ‘অবিশ্বস্ত’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সিনেটর বলেন, হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দলের সদস্যদের নীতিগত মতপার্থক্য মেনে নেওয়া উচিত।   বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় টিলিস বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি বিষয়ে মতপার্থক্য হলেই কাউকে অবিশ্বস্ত হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ক্ষেত্রে তিনি ৯০ শতাংশের বেশি সময় ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। তবে অন্য রিপাবলিকানদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে সেটি প্রকাশ করার সুযোগ থাকা উচিত বলেও তিনি জানান।   টিলিস আরও বলেন, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’ বা সব বিষয়ে নিখুঁতভাবে একমত হওয়ার প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য সিনেটে নেই; বরং উত্তর ক্যারোলাইনার যেসব মানুষ তাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিত্ব করতেই তিনি সেখানে রয়েছেন।   ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়টিকেও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন টিলিস। তার মতে, কোনো রিপাবলিকান যদি এই যুদ্ধের বিষয়ে প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাহলে সেটিকে দলীয় অবিশ্বস্ততা হিসেবে দেখা উচিত নয়।   টিলিসের এই বক্তব্য তার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাসের প্রকাশ্য মতপার্থক্যের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করেছেন এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও টিলিসসহ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর অবস্থান নিয়েছেন।   চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও টিলিস ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি ট্রাম্পের শিকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনাকে প্রশ্ন করে বলেন, চীনের মতো দেশের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   টিলিস ২০২৬ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছেন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে তার প্রকাশ্য সমালোচনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।   টিলিসের সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের সঙ্গে সত্য কথা বলাই এক ধরনের আনুগত্য। তার মতে, কোনো বিষয়ে নীতিগতভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করা এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি অবিশ্বস্ত হওয়া—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফেডারেল বিচারকের আদেশে হোয়াইট হাউসে ফিরছে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো
ট্রাম্পের মিডিয়া নিষে ধাজ্ঞা স্থগিত করল বিচারক, সিএনএনসহ তিন মিডিয়ার প্রবেশাধিকার ফিরছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষে ধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি। বৃহস্পতিবার দেওয়া আদেশে তিনি তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই অন্তর্বর্তী আদেশ ১৪ দিন কার্যকর থাকবে।   ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে তিন সংবাদমাধ্যমের করা মা মলার পর এই আদেশ দেওয়া হয়। মা মলায় তারা অভিযোগ করে, তাদের সংবাদ কভারেজের কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করা হয়েছিল।   বিচারক কেলি তার আদেশে বলেন, প্রশাসন সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের আগে সাংবিধানিকভাবে প্রয়োজনীয় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকার সীমিত করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে হয়।   এর আগে ট্রাম্প তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নি ষি দ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি তাদের কভারেজকে মি থ্যা ও বা নো য়াট বলে অভিযোগ করেছিলেন। পরে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতে নিষে ধাজ্ঞার পক্ষে জাতীয় নি রা পত্তা এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরা হয়। তবে বিচারক কেলি ওই জাতীয় নি রা পত্তার যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, নিষে ধাজ্ঞার আগে থাকা তথ্যপ্রমাণে পাস বাতিলের সিদ্ধান্তটি জাতীয় নি রা পত্তার কারণে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।   সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ২১ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মা মলা করে। তাদের আবেদনে নিষে ধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়। পরদিন বিচার বিভাগকে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয় এবং বুধবার মা মলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির পর বৃহস্পতিবার বিচারক কেলি লিখিত আদেশে তিন সংবাদমাধ্যমের প্রেস পাস পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।   আদালতের আদেশটি মূল মা মলার চূড়ান্ত রায় নয়। এটি মা মলা চলার সময় তিন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বহাল রাখার জন্য দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশ। ১৪ দিনের মধ্যে মা মলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে এবং আদালত পরবর্তী নির্দেশ দিতে পারেন।   ফলে আপাতত সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসের প্রেস কাভারেজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নিষে ধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও তিন সংবাদমাধ্যমের আইনি বি রো ধ এখনো চলমান।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবির ক্যাপশন: ২০২৬ সালে বিভিন্ন বক্তব্য ও পোস্টে প্রায় ৯০০ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প
১ বছরেই ট্রাম্পের মুখে বাইডেনের নাম প্রায় ৯০০ বার, নেপথ্যে কারণ

২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ বার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্পের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার এবং ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে অন্তত ৮৯০ বার বাইডেনের নাম এসেছে। প্রায় ২০০টি অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকার এবং ১৯০টি ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে।   রয়টার্সের হিসাবে, গড়ে দিনে প্রায় তিনবার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। অর্থনীতি নিয়ে তিনি প্রায় ২১০ বার বাইডেনের নাম তুলেছেন। অভিবাসন প্রসঙ্গে ১৬৮ বার এবং পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে ১৩৮ বার সাবেক প্রেসিডেন্টকে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেও বাইডেনের প্রশাসনের দিকে দায় ঠেলে দিতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে।   বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের প্রসঙ্গ বারবার এসেছে। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পণ্যের দাম বাড়ার জন্য বাইডেন ও তার প্রশাসনকে দায়ী করেন ট্রাম্প। অর্থনীতির পাশাপাশি বাড়ির দাম, সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ইস্পাত শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেও বাইডেনের প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি।   অভিবাসনও ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের নাম আসার অন্যতম বড় কারণ। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অনিবন্ধিত অভিবাসন বেড়ে যাওয়ার জন্য বাইডেন প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে আসছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে নিজের প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও বি তাড় ন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা হলে তার জবাবেও বাইডেন আমলের নীতির প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি।   পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব বিষয়ে অন্তত ১৩৮ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ইরান ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের প্রসঙ্গও রয়েছে। জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে এক দিনেই ১৬ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেন ট্রাম্প, যা এক দিনে তার সর্বোচ্চ।   ট্রাম্পের বাইডেনকে বারবার উল্লেখ করার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বিভিন্ন জরিপেও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আগের প্রশাসনের নীতিকে সামনে আনা ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।   হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে কাজ করছে। অন্যদিকে বাইডেনের সাবেক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের বারবার তার পূর্বসূরির নাম উল্লেখ করার সমালোচনা করেছেন। তবে রয়টার্সের পর্যালোচনায় যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো—২০২৬ সালের রাজনৈতিক বক্তব্যে বাইডেন এখনো ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আলোচ্য ব্যক্তি হয়ে রয়েছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
সেপ্টেম্বরের এক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ফটো)
মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষ, কট্টর সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমেছে ৮ পয়েন্ট

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে কট্টর রক্ষণশীল সমর্থকদের মধ্যে তার অনুমোদন কমেছে। নতুন মারকেট ল স্কুলের জরিপে দেখা গেছে, নিজেদের ‘খুবই রক্ষণশীল’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন জুলাইয়ের ৮৪ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে ৭৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে এই গোষ্ঠীর মধ্যে তার অনুমোদন কমেছে ৮ পয়েন্ট।   জরিপে দেখা গেছে, একই সময়ে এই গোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পকে অনুমোদন না করার হার ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশ হয়েছে। ফলে অনুমোদন ও অননুমোদনের ব্যবধান জুলাইয়ের প্লাস ৬৮ পয়েন্ট থেকে সেপ্টেম্বরে প্লাস ৫২ পয়েন্টে নেমেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে একই ৮ শতাংশ মানুষ মত পরিবর্তন করেছেন। কারণ জুলাই ও সেপ্টেম্বরের জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আলাদা ছিলেন।   ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনও সেপ্টেম্বরে ৩৭ শতাংশে নেমেছে। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তার কাজের অনুমোদন দেননি। মারকেটের হিসাবে, তার দ্বিতীয় মেয়াদে এই জরিপে এটি সর্বনিম্ন সামগ্রিক অনুমোদনের হার।   জরিপে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। ৩৭ শতাংশ আমেরিকান এটিকে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থনীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলেছেন ১৬ শতাংশ এবং ইরান যুদ্ধকে বলেছেন ১০ শতাংশ।   জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি অনুমোদনও বেশ কম। সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে তার কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থনীতিতে অনুমোদন ছিল ২৮ শতাংশ, গ্যাসের দামে ২০ শতাংশ এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ২৬ শতাংশ।   মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়েও মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। জরিপে ৬৮ শতাংশ বলেছেন, আগামী ১২ মাসে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। মাত্র ১২ শতাংশ মনে করেন তা কমবে, আর ২০ শতাংশের ধারণা পরিস্থিতি প্রায় একই থাকবে।   ট্রাম্পের নীতিগুলো মূল্যস্ফীতি কমাবে কি না, সে বিষয়েও দলীয় সমর্থকদের মধ্যে পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের জরিপে ৭৬ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করতেন ট্রাম্পের নীতিতে মূল্যস্ফীতি কমবে। সেপ্টেম্বরে সেই হার নেমে হয়েছে ৩৭ শতাংশ।   তবে কট্টর রক্ষণশীলদের মধ্যে অনুমোদন কমলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহের সব সূচক একই দিকে যায়নি। সেপ্টেম্বরে ৭২ শতাংশ বলেছেন, তারা ভোট দেওয়ার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৬৯ শতাংশ। আবার খুবই বা কিছুটা উৎসাহী—দুই শ্রেণি মিলিয়ে ভোটের আগ্রহ ৭৮ শতাংশ থেকে কমে ৭৪ শতাংশ হয়েছে।   রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে অনুমোদনের ৮ পয়েন্টের পরিবর্তনকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ সেপ্টেম্বরে ‘খুবই রক্ষণশীল’ উত্তরদাতাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ১১০ জন। ফলে নমুনাগত ওঠানামার প্রভাব এখানে তুলনামূলক বেশি হতে পারে। একাধিক জরিপে একই প্রবণতা দেখা গেলে তখন বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।   মারকেটের জাতীয় জরিপটি ২ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। পুরো জরিপের মার্জিন অব এরর প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। জুলাইয়ের তুলনার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এটি একই ব্যক্তিদের ওপর করা ধারাবাহিক জরিপ নয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
৯/১১ হামলায় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এক দর্শনার্থী
‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’! বিদেশির চেয়ে দেশের উগ্রপন্থীদের বেশি ভয় মার্কিনদের

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চেয়ে দেশের অভ্যন্তরে থাকা উগ্রপন্থীদেরই বড় হুমকি মনে করছেন বেশি মানুষ। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কোনটি। এতে ৩৩ শতাংশ মানুষ ‘দেশীয় সন্ত্রাসবাদ’কে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০ শতাংশ বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে হুমকি মনে করেন। আর ৪২ শতাংশের মতে, গণগুলির মতো নির্বিচার সহিংসতাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। গত ২৮ থেকে ৩১ আগস্ট অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজার ১৬৭ জনের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়। দেশীয় উগ্রপন্থার বিষয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে আরেকটি প্রশ্নে। আদর্শ বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সংঘটিত হামলার ক্ষেত্রে ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক দেশের অভ্যন্তরের উগ্রপন্থীদের বেশি বড় হুমকি মনে করেন। বিপরীতে, ৩৪ শতাংশ বিদেশি উগ্রপন্থীদের বড় হুমকি হিসেবে দেখেছেন। জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় সন্ত্রাসী হামলা ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা মানুষের এই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড এবং ২০১৬ সালে ফ্লোরিডার একটি সমকামী নাইটক্লাবে হামলায় ৪৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এদিকে ৯/১১ হামলার প্রভাবও এখনো মার্কিনদের মধ্যে রয়ে গেছে। জরিপে ১০ জনের মধ্যে প্রায় ছয়জন জানিয়েছেন, তারা এখনো মাঝেমধ্যে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার কথা ভাবেন। একই সংখ্যক মানুষ বলেছেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের বড় কোনো হামলা হলে এর জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়াকে তারা সমর্থন করবেন। তবে ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে যাওয়াকে অনেকেই সমর্থন করেন না। জরিপে ৪৮ শতাংশ বলেছেন, আফগানিস্তান যুদ্ধের জন্য যে মূল্য দিতে হয়েছে তা সার্থক ছিল না। বিপরীতে মাত্র ২১ শতাংশ এটিকে সার্থক মনে করেন। ইরাক যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ৫১ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছেন, আর সমর্থন করেছেন ২১ শতাংশ। ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও মানুষের জীবনযাত্রায় এর স্থায়ী প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক। গ্যালাপের আলাদা এক জরিপে ৬৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ওই হামলার কারণে মানুষের জীবনযাপনের ধরন স্থায়ীভাবে বদলে গেছে। ১০ বছর পর এই মত পোষণ করেছিলেন ৫৮ শতাংশ এবং পঞ্চম বার্ষিকীতে ৫৩ শতাংশ মানুষ। তবে নিজেদের জীবনযাত্রা স্থায়ীভাবে বদলে ফেলেছেন—এমনটা বলেছেন মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও মার্কিনদের মধ্যে কঠোর অবস্থানের সমর্থন রয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে ৯/১১-এর পর ফেডারেল সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কিছুটা কার্যকর হয়েছে। বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিও বেশির ভাগ মানুষ সমর্থন করেন। ডেমোক্র্যাটদের ৭১ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৭৫ শতাংশ মনে করেন, ৯/১১-এর পর বিমানবন্দরে বাড়ানো নিরাপত্তা ভ্রমণকারীদের জন্য তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ঝামেলার তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে মানুষের সমর্থন কম। ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনায় থাকা এই প্রস্তাবকে ২৩ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছেন, আর ৪৮ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। এ ছাড়া ২০০১ সালের পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও জনপ্রিয় নয়। ৬৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া মার্কিন নাগরিকদের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ নজরদারি করার সুযোগ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দেওয়া উচিত নয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
নতুন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় রেকর্ড পতন—অনুমোদন নেমেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে
ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে রেকর্ড ৩৩ শতাংশে, চাপে রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন নতুন এক জরিপে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।   ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর জন্য ফোকালডেটার করা জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্ট। মে মাস থেকে এ বিষয়ে জরিপ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন হার। আগের মাসের তুলনায়ও ট্রাম্পের অনুমোদন ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।   জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা হতাশা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে তার বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার নেতিবাচক মত দিয়েছেন।   প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, মার্কিন অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে। আর ৫৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।   এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পরিচালনা নিয়ে সমর্থন কমেছে। মাত্র ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান এ বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট কম।   এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। শুক্রবার ডিজেলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫.৮৫ ডলারে পৌঁছায়, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   তবে ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করে এটিকে তুলনামূলক ছোট সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও কমিয়ে দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নতুন পাইপলাইন, নৌপথ ও স্থলপথে তেল পরিবহনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।   এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জনসমর্থনও বাড়ছে। গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ২৫ শতাংশ।   দুই দলের মধ্যে ৬ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। ফলে নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
গোলাবারুদের ঘাটতির খবর নাকচ করে সমালোচকদের কড়া জবাব ট্রাম্পের
গোলাবারুদের ঘাটতি নেই দাবি করে সমালোচকদের ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বললেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া দুটি পোস্টে তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন।   বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গোলাবারুদ নেই—এমন দাবি করা সংবাদমাধ্যমগুলো ‘১০০ শতাংশ ভুল’। তার অভিযোগ, এসব সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জয় দেখতে চায় না। ট্রাম্প লেখেন, যারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে প্রচার করছে, তারা আসলে ‘বিশ্বাসঘাতক’। তার ভাষায়, এসব সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক—এটাই যেন চায়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কড়া ভাষায় আরেকটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমালোচকদের ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘প্রায় সীমাহীন’ পরিমাণ মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদ রয়েছে।   ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রায় গোলাবারুদ মজুত করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই এই মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে থাকা ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের চেয়েও বেশি পরিমাণ গোলাবারুদ বিনামূল্যে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেন ও ন্যাটোকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে, যার মূল্য ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে নেওয়া যেত। ভবিষ্যতে মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
এপস্টিন তদন্তে কংগ্রেসের সমন এড়িয়ে আদালতে লিওন ব্ল্যাক
এপস্টিন তদন্তে হাজির না হয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মার্কিন ধনকুবের লিওন ব্ল্যাক

মার্কিন ধনকুবের ও বিনিয়োগকারী লিওন ব্ল্যাককে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। বরং কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির জারি করা সমনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করেন ব্ল্যাক।   মামলায় ব্ল্যাক দাবি করেছেন, প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির জারি করা সমনগুলো অবৈধ। তার মতে, এসব সমনের সঙ্গে কমিটির আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যের কোনো বৈধ সম্পর্ক নেই। কংগ্রেসের সমনের মধ্যে ছিল এপস্টিন-সংক্রান্ত কিছু গোপনীয়তা চুক্তি জমা দেওয়া এবং শপথের অধীনে ক্যামেরার সামনে জবানবন্দি দেওয়া। ব্ল্যাকের দাবি, এসব চুক্তি প্রকাশ করা হলে এমন কিছু নারীর ব্যক্তিগত তথ্য সামনে চলে আসতে পারে, যারা নিজেদের তথ্য গোপন রাখার অধিকার চেয়েছিলেন।   ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। তখন এপস্টিনকে নিয়ে কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য দিতে হাজির হয়েছিলেন ব্ল্যাক। কিন্তু আইনপ্রণেতারা তাকে কয়েকটি গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করার পর তিনি বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। এরপর কমিটি তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পাশাপাশি ক্যামেরার সামনে শপথ নিয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এবার সেই নির্দেশ মানার বদলে আদালতে গিয়ে সমনগুলোই চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি।   গোপনীয়তা চুক্তি বলতে এমন একটি আইনি চুক্তিকে বোঝায়, যেখানে দুই পক্ষ সম্মত হয় যে তাদের মধ্যে থাকা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য, ঘটনা বা ব্যক্তিগত বিষয় অন্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না। সাধারণত কোনো সম্পর্ক, চাকরি, ব্যবসায়িক চুক্তি বা বিরোধের মীমাংসার সময় এ ধরনের চুক্তি করা হয়। লিওন ব্ল্যাকের ক্ষেত্রে কংগ্রেস জানতে চাইছে, এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন কোনো গোপনীয়তা চুক্তি তিনি করেছিলেন কি না এবং সেগুলোতে কী ধরনের তথ্য গোপন রাখার কথা বলা হয়েছিল।   ব্ল্যাকের আইনজীবী সুসান এস্ট্রিচ বৃহস্পতিবার বলেন, বিষয়টি এখন আর এপস্টিনের কর্মকাণ্ডের সত্যতা খুঁজে বের করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার অভিযোগ, তদন্তের আড়ালে ব্ল্যাককে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, গোপনীয়তা চুক্তিগুলো প্রকাশ করা হলে এমন কিছু নারীর পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য সামনে আসতে পারে, যাদের এপস্টিনের সঙ্গে কোনো পরিচিত বা প্রকাশ্য সম্পর্ক নেই। এ কারণেই কংগ্রেসের ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাব দিতে আদালতে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   ব্ল্যাকের আদালতে যাওয়ার খবর সামনে আসার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, ব্ল্যাক দুটি কংগ্রেশনাল সমন অমান্য করছেন। তার ভাষায়, এপস্টিনের সঙ্গে ব্ল্যাকের সম্পর্ক এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে তার অনীহা—দুটিই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি ব্ল্যাককে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।   কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারও ব্ল্যাকের অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণের সামনে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ব্ল্যাক মামলা করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কোমারের মতে, এপস্টিনকে ঘিরে চলমান তদন্তে ব্ল্যাকের সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি সম্ভাব্য ফৌজদারি বিচারের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।   এদিকে এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ব্ল্যাকের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ব্ল্যাক জানিয়েছেন, তিনি এপস্টিনকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। দীর্ঘ সময়ের সেই সম্পর্কের সময়ে এপস্টিনকে তিনি মোট ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিলেন বলেও কংগ্রেসের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে ব্ল্যাকের দাবি, অর্থগুলো বৈধ কাজের জন্যই দেওয়া হয়েছিল এবং ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এপস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন পাচারের অভিযোগ ওঠার আগে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।   মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করা এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতেও লিওন ব্ল্যাকের নাম রয়েছে। এসব নথির মধ্যে ছবি, ভিডিও এবং তদন্তের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে, যেখানে এপস্টিনের সঙ্গে ব্ল্যাকের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে কোনো ব্যক্তির নাম এসব নথিতে থাকা বা কোনো ছবিতে দেখা যাওয়াকে নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে না। ব্ল্যাকও এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   ব্ল্যাককে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি বড় অংশ সাবেক রুশ মডেল গুজেল গ্যানিয়েভাকে নিয়ে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্যানিয়েভার সঙ্গে ব্ল্যাকের প্রায় ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর গ্যানিয়েভা ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন এবং একটি মামলা করেন। সেই মামলায় দাবি করা হয়েছিল, ২০১৫ সালে তার নীরবতা নিশ্চিত করতে ব্ল্যাক একটি গোপনীয়তা চুক্তি করেছিলেন।   গ্যানিয়েভার করা মামলাটি পরে আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের সিদ্ধান্তে তার স্বাক্ষর করা গোপনীয়তা চুক্তি এবং চুক্তির পরবর্তী সময়ে তিনি যে প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন, সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্ল্যাকের আইনজীবী গ্যানিয়েভার অভিযোগকে ‘স্পষ্টতই মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে ব্ল্যাক নিজে আগে দাবি করেছিলেন, তিনি গ্যানিয়েভার কাছ থেকে উল্টো চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন।   এপস্টিনের প্রকাশিত নথিতে গ্যানিয়েভাকে ঘিরে ব্ল্যাক ও এপস্টিনের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। একটি ই-মেইলে এপস্টিন তার সহকারীকে গ্যানিয়েভার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এই বিষয়টিও এখন কংগ্রেসের তদন্তের নজরে রয়েছে। ফলে ব্ল্যাকের গোপনীয়তা চুক্তি প্রকাশে আপত্তি এবং কংগ্রেসে হাজির না হয়ে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত—দুটিই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   এর আগে ২০২১ সালে ব্ল্যাক তার সহপ্রতিষ্ঠিত অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান। তখন তিনি বলেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জনসম্মুখের আলোচনা ও সংবাদমাধ্যমের নজরদারি তার স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। এখন আবার সেই পুরোনো সম্পর্কই তাকে কংগ্রেসের তদন্তের মুখোমুখি করেছে। আর তদন্ত কমিটির সমন এড়িয়ে আদালতে করা নতুন মামলার পর বিষয়টি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০