বিগত দুই দশকে ইরাক, আফগানিস্তান এবং লিবিয়ায় শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপগুলো চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ওয়াশিংটনের এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ মিশনগুলো শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতেই নয়, বরং খোদ আমেরিকার জন্যও বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে এনেছে। ইরাক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থলসেনা মোতায়েন এবং ব্যাপক বোমা হামলার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পথ বেছে নিয়েছিল। এর ফলস্বরূপ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় এবং হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণের বিনিময়ে ইরাকে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা শেষ পর্যন্ত চরম বিশৃঙ্খলা আর লক্ষ লক্ষ ইরাকবাসীর মৃত্যুতে পর্যবসিত হয়। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের অধীনে দীর্ঘ ২০ বছর অবস্থান করেও কোনো স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি হোয়াইট হাউস। বিপুল অর্থ ব্যয়ে আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিলেও মার্কিন প্রত্যাহারের পরপরই তালেবানের হাতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, যা আমেরিকার দীর্ঘতম যুদ্ধের এক শোচনীয় সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। লিবিয়ার ক্ষেত্রে কৌশল কিছুটা ভিন্ন হলেও ফলাফল ছিল একই। সেখানে সরাসরি সেনা মোতায়েন না করে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে নিয়ে গাদ্দাফি শাসনের পতন ঘটানো হয়। কিন্তু আজ এক দশকের বেশি সময় পার হলেও লিবিয়া এখনো বিভাজন, সহিংসতা এবং চরম অরাজকতার কবলে আটকে আছে। সামগ্রিকভাবে, গত দুই দশকে আমেরিকার এই তিনটি প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে যে, জোরপূর্বক শাসন পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত কেবল মানবিক ও কৌশলগত বিপর্যয়ই ডেকে আনে।
লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা–এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তারা দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ৩০ জন এবং বেনগাজী ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত দুস্থ, অসহায় ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ১৪৫ জনসহ মোট ১৭৫ জন স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনেচ্ছুক অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে লিবিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহায়তায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির বানি ওয়ালিদ শহরে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাকে সমাহিত করা হয়। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরটিতে গাদ্দাফি পরিবারের কট্টর সমর্থকদের শোকাচ্ছন্ন উপস্থিতি লিবিয়ার বর্তমান রাজনীতিতে এক নতুন বার্তাও দিয়েছে। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গত মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে নিজ বাসভবনে অজ্ঞাত চার বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হন। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত করেছে যে, সরাসরি সংঘর্ষে গুলির আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত তা শনাক্তে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লিবিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বানি ওয়ালিদে জড়ো হন। সির্তে শহর থেকে জানাজায় অংশ নিতে আসা ওয়াদ ইব্রাহিম নামের এক সমর্থক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন লিবিয়ার সাধারণ মানুষের শেষ আশার আলো, যাকে ঘিরে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ আগামীর স্বপ্ন দেখছিলেন। উল্লেখ্য, সাইফ আল-ইসলামকে একসময় তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হতো। তিনি আন্তর্জাতিক মহলে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিতি পেলেও ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ২০২১ সালে তিনি পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে সেই নির্বাচন নানা জটিলতায় স্থগিত হয়ে যায়। বর্তমানে লিবিয়া কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ-সমর্থিত আবদুল হামিদ দাবেইবার সরকার এবং অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে খলিফা হাফতারের প্রশাসন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাইফ আল-ইসলামের এই হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার ভঙ্গুর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে এবং নতুন করে সংঘাতের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেটে ২০১২ সালের ভয়াবহ হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জুবায়ের আল-বাকুশকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পাম বন্ডি জানান, লিবিয়া থেকে জুবায়ের আল-বাকুশকে উদ্ধার করে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে। শুক্রবার ভোর রাত ৩টায় তাকে বহনকারী বিমানটি অ্যান্ড্রুজ এয়ারফোর্স বেসে অবতরণ করে। বর্তমানে সে মার্কিন হেফাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক অভিযোগ আনা হবে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বেনগাজিতে মার্কিন মিশনে উগ্রপন্থীদের ওই হামলায় তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেন্সসহ চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। প্রাথমিকভাবে একে বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া মনে করা হলেও পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এটি ছিল আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীর একটি সুপরিকল্পিত হামলা। এই ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। এর আগে এই হামলায় জড়িত থাকার দায়ে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সাজা প্রদান করেছে মার্কিন আদালত। বেনগাজি হামলার এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও দীর্ঘকাল ধরে বিতর্কের জন্ম দিয়ে আসছিল। বিশেষ করে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ভূমিকা নিয়ে রিপাবলিকানরা দফায় দফায় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর জুবায়ের আল-বাকুশের গ্রেপ্তার এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে গত এক দশক ধরে অবস্থান করছিলেন তিনি। লিবিয়ার সাবেক এক নায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি দেশটির একটি শহরে নিহত হয়েছেন। পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে ৫৩ বছর বয়সী সাইফ গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার খবর দিয়েছে রয়টার্স ও আল জাজিরা। তিনি গত এক দশক ধরে ওই শহরেই অবস্থান করছিলেন। আল জাজিরা আরবির লিবিয়া সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা বলেন, সাইফ গাদ্দাফিকে ধারণা করা হচ্ছে খুন করা হয়েছে। লিবিয়ার সাবেক একনায়ক গাদ্দাফির ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও ক্ষমতাধর ছিলেন সাইফ গাদ্দাফি। ২০১১ সালে বাবার পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হলেও পরে মুক্তি পান। তিনি দেশটির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টাও করেন। তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, তার আইনজীবী খালেদ এল-জাইদি এবং লিবিয়ার গণমাধ্যম তার নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাইফ গাদ্দাফির নিহত হওয়ার সময়কার ঘটনা ও বিবরণও পরিষ্কার নয় বলে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এক নায়ক পিতার শাসনামলে কোনো সরকারি পদে না থাকলেও তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে একসময় তাকে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হত। সাইফ গাদ্দাফিকে তার পিতার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবেও বিবেচনা করতেন অনেকে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাবলীল ইংরেজিভাষী সাইফ একসময় লিবিয়ার গ্রহণযোগ্য, পশ্চিমাপন্থি মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে তার বাবার ক্ষমতা হারানোর পর এক দশক ধরে বন্দিত্ব ও অজ্ঞাতবাসে কাটান। মুক্তির দীর্ঘদিন পর ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রচারণাও শুরু করেছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাইফ গাদ্দাফিকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল। ২০১১ সালে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর আগে তার পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি শাসন করেছিলেন। রয়টার্স লিখেছে, সাইফ তার বাবার সরকারে নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখতেন এবং উচ্চ পর্যায়ের ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক মিশনে মধ্যস্থতার ভূমিকাও পালন করতেন। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা করেন।
লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র এবং একসময়ের দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তি সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। লিবিয়া থেকে আলজাজিরা আরবির সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানিয়েছেন, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে অবস্থানরত ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তার মৃত্যু হয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই শহরেই অবস্থান করছিলেন। সাইফ গাদ্দাফির রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওথমান এই হত্যাকাণ্ডের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল কারণ কী, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিবিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কোনো দাপ্তরিক পদে না থাকলেও তাকে তার বাবার পর লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১ সালে এক অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর সাইফ গাদ্দাফিকে জিনতানের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বন্দি করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর ২০১৭ সালে তিনি মুক্তি পান এবং তখন থেকেই জিনতান শহরে অনেকটা নিভৃতে অবস্থান করছিলেন। লিবিয়ার ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার এই আকস্মিক মৃত্যু নতুন করে সংঘাত ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।