লিবিয়া

ছবি: সংগৃহীত
গাদ্দাফি পুত্রের শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল

লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির বানি ওয়ালিদ শহরে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাকে সমাহিত করা হয়। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরটিতে গাদ্দাফি পরিবারের কট্টর সমর্থকদের শোকাচ্ছন্ন উপস্থিতি লিবিয়ার বর্তমান রাজনীতিতে এক নতুন বার্তাও দিয়েছে।   ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গত মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে নিজ বাসভবনে অজ্ঞাত চার বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হন। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত করেছে যে, সরাসরি সংঘর্ষে গুলির আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত তা শনাক্তে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।   দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লিবিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বানি ওয়ালিদে জড়ো হন। সির্তে শহর থেকে জানাজায় অংশ নিতে আসা ওয়াদ ইব্রাহিম নামের এক সমর্থক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন লিবিয়ার সাধারণ মানুষের শেষ আশার আলো, যাকে ঘিরে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ আগামীর স্বপ্ন দেখছিলেন।   উল্লেখ্য, সাইফ আল-ইসলামকে একসময় তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হতো। তিনি আন্তর্জাতিক মহলে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিতি পেলেও ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ২০২১ সালে তিনি পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে সেই নির্বাচন নানা জটিলতায় স্থগিত হয়ে যায়।   বর্তমানে লিবিয়া কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ-সমর্থিত আবদুল হামিদ দাবেইবার সরকার এবং অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে খলিফা হাফতারের প্রশাসন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাইফ আল-ইসলামের এই হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার ভঙ্গুর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে এবং নতুন করে সংঘাতের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি
বেনগাজি হামলার মূল হোতা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার

লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেটে ২০১২ সালের ভয়াবহ হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জুবায়ের আল-বাকুশকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   পাম বন্ডি জানান, লিবিয়া থেকে জুবায়ের আল-বাকুশকে উদ্ধার করে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে। শুক্রবার ভোর রাত ৩টায় তাকে বহনকারী বিমানটি অ্যান্ড্রুজ এয়ারফোর্স বেসে অবতরণ করে। বর্তমানে সে মার্কিন হেফাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক অভিযোগ আনা হবে।   উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বেনগাজিতে মার্কিন মিশনে উগ্রপন্থীদের ওই হামলায় তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেন্সসহ চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। প্রাথমিকভাবে একে বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া মনে করা হলেও পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এটি ছিল আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীর একটি সুপরিকল্পিত হামলা।   এই ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। এর আগে এই হামলায় জড়িত থাকার দায়ে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সাজা প্রদান করেছে মার্কিন আদালত।   বেনগাজি হামলার এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও দীর্ঘকাল ধরে বিতর্কের জন্ম দিয়ে আসছিল। বিশেষ করে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ভূমিকা নিয়ে রিপাবলিকানরা দফায় দফায় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর জুবায়ের আল-বাকুশের গ্রেপ্তার এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইশতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
সাইফ আল-ইসলাম। ছবি: রয়টার্স
গাদ্দাফির ছেলে সাইফকে গুলি করে হত্যা

পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে গত এক দশক ধরে অবস্থান করছিলেন তিনি।   লিবিয়ার সাবেক এক নায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি দেশটির একটি শহরে নিহত হয়েছেন।   পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে ৫৩ বছর বয়সী সাইফ গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার খবর দিয়েছে রয়টার্স ও আল জাজিরা।   তিনি গত এক দশক ধরে ওই শহরেই অবস্থান করছিলেন।   আল জাজিরা আরবির লিবিয়া সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা বলেন, সাইফ গাদ্দাফিকে ধারণা করা হচ্ছে খুন করা হয়েছে।   লিবিয়ার সাবেক একনায়ক গাদ্দাফির ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও ক্ষমতাধর ছিলেন সাইফ গাদ্দাফি। ২০১১ সালে বাবার পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হলেও পরে মুক্তি পান। তিনি দেশটির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টাও করেন।   তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, তার আইনজীবী খালেদ এল-জাইদি এবং লিবিয়ার গণমাধ্যম তার নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।   সাইফ গাদ্দাফির নিহত হওয়ার সময়কার ঘটনা ও বিবরণও পরিষ্কার নয় বলে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।   এক নায়ক পিতার শাসনামলে কোনো সরকারি পদে না থাকলেও তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে একসময় তাকে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হত।   সাইফ গাদ্দাফিকে তার পিতার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবেও বিবেচনা করতেন অনেকে।   লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাবলীল ইংরেজিভাষী সাইফ একসময় লিবিয়ার গ্রহণযোগ্য, পশ্চিমাপন্থি মুখ হিসেবে পরিচিতি পান।   তবে তার বাবার ক্ষমতা হারানোর পর এক দশক ধরে বন্দিত্ব ও অজ্ঞাতবাসে কাটান। মুক্তির দীর্ঘদিন পর ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রচারণাও শুরু করেছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।   ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাইফ গাদ্দাফিকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল।   ২০১১ সালে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর আগে তার পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি শাসন করেছিলেন।   রয়টার্স লিখেছে, সাইফ তার বাবার সরকারে নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখতেন এবং উচ্চ পর্যায়ের ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক মিশনে মধ্যস্থতার ভূমিকাও পালন করতেন। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা করেন।  

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি
লিবিয়ায় গাদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা

লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র এবং একসময়ের দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তি সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   লিবিয়া থেকে আলজাজিরা আরবির সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানিয়েছেন, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে অবস্থানরত ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তার মৃত্যু হয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই শহরেই অবস্থান করছিলেন। সাইফ গাদ্দাফির রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওথমান এই হত্যাকাণ্ডের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল কারণ কী, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিবিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য, মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কোনো দাপ্তরিক পদে না থাকলেও তাকে তার বাবার পর লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১ সালে এক অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর সাইফ গাদ্দাফিকে জিনতানের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বন্দি করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর ২০১৭ সালে তিনি মুক্তি পান এবং তখন থেকেই জিনতান শহরে অনেকটা নিভৃতে অবস্থান করছিলেন। লিবিয়ার ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার এই আকস্মিক মৃত্যু নতুন করে সংঘাত ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বিমানবাহী রণতরী কিছুই না; মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে।   ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে।   ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য।   আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে।   প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা

Top week

ফটো: সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
আমেরিকা

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0