সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসীর

ভিসার প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের পথে নতুন বেতন নিয়ম, ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর

নিউজিল্যান্ডে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিতে চাওয়া বিদেশিদের জন্য বেতন নির্ধারণের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় যে বেতনসীমা কার্যকর ছিল, পরবর্তীতে সেই সীমা বেড়ে গেলেও আবেদনকারীদের নতুন করে বাড়তি বেতনসীমা পূরণ করতে হবে না।   নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, পরিবর্তনের ফলে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি এবং ওয়ার্ক টু রেসিডেন্স ভিসার ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের নিয়ম আরও পূর্বানুমানযোগ্য হবে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা শুরু করার সময়কার বেতনসীমাই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।   বর্তমান নিয়মে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি রেসিডেন্ট ভিসার বেতনসীমা নিউজিল্যান্ডের মধ্যম বেতনের সঙ্গে যুক্ত। ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে এই মধ্যম বেতন ঘণ্টায় ৩৫ নিউজিল্যান্ড ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে এএনজেডএসসিও দক্ষতার স্তর ১ থেকে ৩-এর কাজের ক্ষেত্রে অন্তত এই বেতনসীমা পূরণ করতে হয়। আর কিছু স্তর ৪ ও ৫-এর কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বেতনসীমা এর দেড় গুণ, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫২.৫০ নিউজিল্যান্ড ডলার।   নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একজন অভিবাসী যখন নিউজিল্যান্ডে প্রয়োজনীয় দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু করবেন, তখন যে মধ্যম বেতনসীমা কার্যকর থাকবে, পরবর্তী সময়ে বেতনসীমা বাড়লেও তাকে সেই নতুন উচ্চ সীমায় উঠতে হবে না। তবে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় তাকে কাজের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমার অন্তত সেই পুরোনো হার বজায় রাখতে হবে।   এর ফলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাঝপথে বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ায় যোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমবে। অভিবাসীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট দক্ষতার কাজে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে।   নিউজিল্যান্ড সরকার বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথে সমস্যায় পড়তে পারেন এমন কিছু কর্মীর জন্য গ্রেস পিরিয়ডের ব্যবস্থাও রেখেছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কাজের ভিসা পাওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যে দক্ষ কাজ শুরু করা কর্মীরা ভিসা অনুমোদনের সময়কার বেতনসীমা ধরে রাখতে পারবেন।   তবে এই পরিবর্তনকে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পুরোপুরি সহজ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যোগ্য পেশা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে।   ২৪ আগস্ট থেকেই স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে আরও কিছু পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পেশার কর্মীদের জন্য আলাদা পথ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষ কারিগরি ও টেকনিশিয়ান পেশার জন্য একটি নতুন পথও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং নিউজিল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময়ের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে।   স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরির অধীনে আবেদনকারীদের মোট ছয়টি দক্ষতা পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। পেশাগত নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা আয় থেকে তিন থেকে ছয়টি পয়েন্ট পাওয়া যেতে পারে এবং নিউজিল্যান্ডে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সর্বোচ্চ আরও তিনটি পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে।   সবচেয়ে বেশি দক্ষতার অধিকারী কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময়ও তুলনামূলক কম হতে পারে। যেমন ডক্টরেটধারী বা নির্দিষ্ট উচ্চমাত্রার পেশাগত যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিরা বেশি পয়েন্ট পেতে পারেন। আবার উচ্চ আয়ের কিছু কর্মীর জন্যও দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে।   বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিউজিল্যান্ডে কাজের ভিসা নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কাজের ধরন, বেতনসীমা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর নতুন নিয়মগুলো আগে থেকেই যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, শুধু নির্দিষ্ট বেতন পেলেই নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে।   অর্থাৎ, ২৪ আগস্টের পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো বেতনসীমা বৃদ্ধির কারণে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনরত অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং শুরুতেই তাদের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমা সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা তৈরি করা। নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের পথ খুঁজছেন বিদেশিদের জন্য তাই নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আবেদন করার আগে ব্যক্তিগত যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বশেষ সরকারি শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

Unknown আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
আইস ছবি সংগৃহীত
অভিবাসী গ্রেপ্তারে স্থানীয় পুলিশকে ৫ লাখ ডলারের বীমা দিতে চায় আইস

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জোরদার হওয়া অভিবাসন অভিযানে স্থানীয় পুলিশকে আরও সক্রিয় করতে নতুন পরিকল্পনা সামনে এনেছে আইস। সংস্থাটির হয়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলারের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা বীমার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।   আইসের শুক্রবার প্রকাশিত একটি পরিকল্পনা নথিতে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত উঠে এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা পাওয়া স্থানীয় কর্মকর্তারা নিজের নামে বীমা কিনতে পারবেন। সেই বীমায় ব্যক্তিগত দায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত কভার করার কথা রয়েছে।   এই বীমা মূলত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সম্ভাব্য আইনি খরচ, ক্ষতিপূরণ বা আদালতের রায়ের কারণে তৈরি হওয়া ব্যক্তিগত আর্থিক দায় সামলাতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ অভিবাসন অভিযানে অংশ নিয়ে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মামলার মুখে পড়লে তার আর্থিক ঝুঁকির একটি অংশ বীমার আওতায় আসতে পারে।   তবে আইস সরাসরি প্রত্যেক কর্মকর্তাকে ৫ লাখ ডলার দেবে - বিষয়টি এমন নয়। কর্মকর্তারা বীমা কিনবেন এবং আইস বছরে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত বীমার খরচ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, এই পরিমাণ অর্থেই সাধারণত প্রস্তাবিত বীমার বার্ষিক খরচ মেটানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   পরিকল্পনাটি আইসের বহুল আলোচিত ২৮৭(জি) কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৬ সালের ফেডারেল অভিবাসন আইনের একটি ধারার নামে এই কর্মসূচির নামকরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইস নির্দিষ্ট চুক্তির অধীনে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের কিছু ক্ষমতা দিতে পারে।   আইসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮৭(জি) কর্মসূচির জন্য যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রচারসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। সেই ঠিকাদারই বীমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং কর্মকর্তাদের বীমার অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। তবে পরিকল্পনাটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে - চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে এমন নয়।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে। কিন্তু স্থানীয় পুলিশকে অভিবাসন অভিযানে যুক্ত করার বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে।   নতুন বীমা পরিকল্পনার গুরুত্ব এখানেই। কোনো স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আইসের হয়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত মামলার আশঙ্কায় থাকলে সেটি তার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রস্তাবিত বীমা সেই আর্থিক ঝুঁকি কমিয়ে আরও বেশি স্থানীয় কর্মকর্তাকে ২৮৭(জি) কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পারে।   তবে বীমা থাকার অর্থ কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তিনি আইনি দায়মুক্তি পাবেন - এমন নয়। এটি মূলত সম্ভাব্য ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলার বীমা ব্যবস্থা। কোনো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না বা কর্মকর্তা দায়ী কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।   ফলে আইসের নতুন প্রস্তাবটি শুধু একটি বীমা কর্মসূচির বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশকে আরও বড় পরিসরে যুক্ত করার যে উদ্যোগ চলছে, এই পরিকল্পনাকে তারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Unknown আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
১৬ আগস্ট ২০২৬ সেউতার এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে আশ্রয়ের দাবিতে অভিবাসীদের বিক্ষোভের ছবি; সংগৃহীত
স্পেনের সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসীর বিক্ষোভ, মানবিক সংকট আরও গভীর

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। রোববার, ১৬ আগস্ট, এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে জড়ো হয়ে তারা স্পেনের কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ এবং মরক্কোয় ফেরত না পাঠানোর দাবি জানান।   বিক্ষোভকারীদের হাতে স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। সেখানে তারা ‘আমরা মরক্কোয় ফিরতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’—এ ধরনের স্লোগান দেন। অনেক অভিবাসী সৈকত ও শহরের আশপাশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।   সেউতায় সাম্প্রতিক বড় ধরনের সীমান্ত অতিক্রমের পরও প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অধিকাংশ পরবর্তী সময়ে মরক্কোয় ফিরে যান।   সেউতায় অবস্থানরত অনেক অভিবাসী বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। কেউ সৈকতে তাঁবু বা ত্রিপল টাঙিয়ে থাকছেন, আবার কেউ শহরের বাইরে অবস্থান করছেন। খাবার, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   মরক্কোর তেতোয়ান থেকে আসা এক অভিবাসী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তারা সমুদ্রের পাশে ঠান্ডা ও দুর্গন্ধের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন এবং অনেক কষ্টে দিন পার করছেন।   স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের সাধারণভাবে সেউতায় থাকার বা মূল ভূখণ্ড স্পেনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সরকার সেউতায় অতিরিক্ত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এসব স্থানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে সাময়িকভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্পেনের সেনাবাহিনীও প্রায় ১ হাজার ৫০ জন আশ্রয়প্রার্থীর জন্য অস্থায়ী শিবির স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।   এরই মধ্যে ১৭ আগস্ট থেকে শতাধিক অভিবাসী আশ্রয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছেন। তাদের দাবি, স্পেনে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের জোর করে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।   অন্যদিকে, নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ঠেকাতে মরক্কো ও স্পেন উভয় দেশই নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ৩০০ অভিবাসীকে আটক করেছে।   সেউতার বর্তমান পরিস্থিতি এখন স্পেনের জন্য বড় মানবিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একদিকে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসননীতি—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে স্পেন সরকারকে।

Unknown আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০