ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি এবং লেবাননে সংঘাত কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিতের মধ্যে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও দামের পতন অব্যাহত রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের একটি পর্বত রিসোর্টে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী শান্তি কাঠামোর অধীনে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী চুক্তির দিকে এগোনোর একটি রোডম্যাপ নিয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। পাকিস্তান ও কাতার এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করে। এই কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করে ২১ আগস্ট পর্যন্ত একটি অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরান তেল বিক্রি করতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ গ্রহণের সুযোগও তৈরি হয়েছে। আলোচনায় অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জানান, ইরান পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে এবং বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামো গঠনে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো নতুন আলোচনা বা প্রতিশ্রুতি হয়নি। ভ্যান্স বলেন, আলোচনার সময় কিছু উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই আলোচনার ধারা অব্যাহত রেখেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ইরানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও জব্দ সম্পদ মুক্ত করার একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিতে ছাড়, বিদেশে জব্দ অর্থের কিছু অংশ মুক্ত করা এবং পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আলোচনায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত কমানোর একটি প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হবে। লেবাননে সহিংসতা কমে আসার দাবি করা হলেও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরের একটি হাসপাতালের পরিচালক হাসান ওজনি জানান, দীর্ঘ সময় পর টানা দুই দিন তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, তিনি প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রায়ই হাসপাতালে অবস্থান করছেন, কারণ পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। লেবানন সরকার জানিয়েছে, সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অনেকে এখনো নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘরে ফিরতে পারছে না। এদিকে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলের আটটি এলাকায় সামরিক সতর্কতা শিথিল করেছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো কূটনৈতিক সমাধানে তারা আপত্তি নয়, তবে চুক্তিতে এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে যাতে ইরান সামরিক উদ্দেশ্যে কোনো অর্থ ব্যবহার করতে না পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। সোমবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, এটি ইরানের সার্বভৌম জলসীমা এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর। আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “আপনি হুমকি দেন; আমরা পদক্ষেপ নেই।” তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালি আপনার ব্যক্তিগত ক্যাসিনো নয়, কিংবা আধুনিক দিনের জলদস্যুদের পেছনের উঠানও নয়; এটি ইরানের সার্বভৌম জলসীমা।” এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনে ওই অঞ্চল দখল করা হবে। তিনি বলেন, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে টোল আদায় করতেও পিছপা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর হরমুজ প্রণালিতে কার্যত আরোপিত অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল। তবে লেবাননে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস আবারও প্রণালিটি বন্ধের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি বলেন, “তোমাদের দেশের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না” এবং প্রয়োজনে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, আলোচনার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে আলোচনা শুরুর পর্যায়কে দুই পক্ষই জটিল হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির সেখানে পৌঁছেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান কারিগরি (টেকনিক্যাল) পর্যায়ের আলোচনায় তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন। জানা গেছে, ইসলামাবাদের সমঝোতা স্মারক কাঠামোর আওতায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নিতে তিনি ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনার সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বা সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন বলে তার মুখপাত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেন। শনিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পারমাণবিক ইস্যু এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভ্যান্স বলেন, “শিরোনামগুলো দেখে যা মনে হয়, বাস্তবে সেখানে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকেই যাচ্ছে এবং উত্তেজনাও কিছুটা কমছে।” তিনি আরও বলেন, “এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে হবে, যাতে ইসরাইল এবং লেবানন উভয় দেশই নিরাপদ ও স্থিতিশীল থাকতে পারে।” আলোচনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নজর বাড়ছে, কারণ এতে একাধিক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত খবরকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো অর্থ দেবে না এবং এ ধরনের খবর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে না। তার ভাষায়, “আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে, এমন খবর ভুয়া। এটি ডেমোক্র্যাটরা ছড়িয়ে থাকতে পারে।” তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ইরানের জন্য জব্দকৃত সম্পদ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং সম্ভাব্য পুনর্গঠন সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ওই কর্মকর্তার মতে, প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করছে তার ওপর। এ বিষয়ে সোমবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স সম্ভাব্য তহবিল প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে সহায়তার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের সদস্য দেশগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও এক কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আলোচিত সমঝোতা কাঠামোর খসড়ায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলের একটি সম্ভাব্য ধারা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের সমঝোতা স্মারক, চূড়ান্ত চুক্তি নয়। তাদের মতে, প্রকৃত কারিগরি আলোচনা শুরু হবে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এবং সেখানে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরান কোনো নগদ অর্থ পাচ্ছে না এবং চুক্তি স্বাক্ষরের বিনিময়ে কোনো সরাসরি তহবিল ছাড় দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, চুক্তির কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগ অগ্রাধিকার পায় এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভবিষ্যতে সীমিত অর্থনৈতিক সুবিধার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়ে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিউবা। চার মাস ধরে চলা এই অবরোধের ফলে দেশটির বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। রাজধানী হাভানার বাসিন্দারা টানা কয়েক দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেই সাথে মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা দৈনিক মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। মাসের পর মাস ধরে পেট্রোল পাম্পগুলো খালি পড়ে আছে। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় এখন কাঠ ও কয়লাই রান্নার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের পেনশনের টাকা দিয়ে এক বোতল গ্যাস কেনাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এদিকে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং বাতাসে আর্দ্রতা ৭৫ শতাংশ হওয়ায় ফ্যান ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে রাতে ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়া সাধারণ মানুষ থালা-বাসন বাজিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। এই চরম সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিউবার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এবং তাঁর পরিবারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় দেশটির পর্যটন খাত বড় ধাক্কা খেয়েছে। বড় বড় আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনগুলো কিউবা থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া কিউবার ব্যাংকগুলো জানিয়েছে যে দেশে এখন থেকে ভিসা এবং মাস্টারকার্ড আর কাজ করবে না। সব মিলিয়ে কিউবার সরকার ও জনগণের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। একদিকে খরা ও তীব্র গরমের পূর্বাভাস, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থান ও সামরিক নজরদারির কারণে কিউবার ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে দুই দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে পিয়ংইয়ং পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত প্রায় সাত বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় এটিই তাঁর প্রথম সফর। সম্প্রতি রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে বেইজিংয়ের সাথে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা ঘোচাতেই শি জিনপিংয়ের এই সফর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পিয়ংইয়ংয়ের সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পিয়ংইয়ংয়ের কেন্দ্রস্থলে কিম ইল-সুং স্কয়ারে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ও তাঁর স্ত্রী রি সোল-জু। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়। কুুমসুসান রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় দুই নেতার মধ্যে বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শি জিনপিং এক বিবৃতিতে জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, উত্তর কোরিয়ার প্রতি চীনের সমর্থন সবসময় বজায় থাকবে। একই সাথে তিনি দুই দেশের সীমান্ত বন্দরগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়া এবং বিমান ও আন্তর্জাতিক ট্রেন যোগাযোগ পুনরায় চালু করে বাণিজ্য ও পর্যটন বাড়ানোর ওপর জোর দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা এবং মস্কোর সাথে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করার মাধ্যমে পুতিনের বেশ কাছাকাছি চলে গেছে উত্তর কোরিয়া। বেইজিং মনে করে, রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার এই মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এ অঞ্চলে চীনের নিজস্ব প্রভাবকে কিছুটা ম্লান করতে পারে। তাই ঐতিহাসিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের বলয়ে ধরে রাখাই এখন শি জিনপিংয়ের মূল লক্ষ্য।
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠন কাজে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য একটি বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রটির বরাতে জানা যায়, ইরানের হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অবকাঠামোগত ক্ষতি পুনর্গঠনের জন্য ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি হলে একই নীতি প্রয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসিন রেজাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়। চলমান উত্তেজনার মধ্যে সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে সমুদ্রপথে হুমকি হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ৬ জুন তেহরান সফর করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। আলোচনায় ইরান তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ ফেরতের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রমে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি হিসেবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় দুই সেনা কর্মকর্তা ও এক সৈনিক নিহত হয়েছেন। লেবানন সেনাবাহিনী এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যদিও ইসরায়েল বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা বলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জব্দ ইরানি সম্পদ পুনর্বণ্টনের মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে এবং চলমান শান্তি আলোচনা নতুন সংকটে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ওয়াশিংটন থেকে নতুন এক কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণার মাধ্যমে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে নতুন এই নীতির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। খবর আল-জাজিরার। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত বা প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন এই নীতির লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখা এবং বহিরাগত প্রভাব মোকাবিলা করা। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গৃহীত এই পদক্ষেপ ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে চীনের বাড়তে থাকা বিনিয়োগ ও প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর পক্ষে কাজ করবে, অর্থায়ন দেবে কিংবা কৌশলগত সম্পদে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো কর্মকাণ্ডকেও এই নীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন এই নীতির মাধ্যমে বিদেশি সমালোচক বা রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। অতীতে রাজনৈতিক কারণে ভিসা বাতিলের নজির থাকায় এ আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। ‘ডনরো ডকট্রিন’ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি হতে পারে এবং এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যৌথভাবে উদ্ধার করবে ওয়াশিংটন ও তেহরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একসঙ্গে ধীরেসুস্থে এসব স্থানে প্রবেশ করবে এবং বড় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হবে। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সম্ভাব্য এ ধরনের কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং তেহরান আগেই স্পষ্ট করেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ছাড়বে না। এর আগে ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘পারমাণবিক ধূলা’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সাধারণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান মতবিরোধের কারণে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। সূত্র: আল জাজিরা
স্থায়ী ও বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি নয় বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, তেহরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাতের স্থায়ী অবসানই তাদের লক্ষ্য। তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম-এর সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খাতিবজাদেহ বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি হতে হলে তা লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটিকে ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করছি না। এই সংঘাত এখন একবারেই শেষ হওয়া উচিত।” হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই জলপথ সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। যদিও এটি ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমার মধ্যে পড়ে, তবুও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবাধ চলাচল বজায় রাখা হয়েছে। এ অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে ইরানের এই কূটনীতিক বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক চুক্তির ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ প্রায় সব শর্তে রাজি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। ট্রাম্প জানান, আগে যেসব বিষয়ে ইরান অনড় অবস্থানে ছিল, এখন তারা সেসব দাবি মানতে রাজি হয়েছে। যদি এই চুক্তি চূড়ান্ত হয় এবং তা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই সপ্তাহান্তেই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরবর্তী বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে। তবে নতুন চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তবে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হবে। প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ বাহিনীর অবরোধ অত্যন্ত কার্যকরভাবে বজায় রয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক চাপ ও অবরোধের কারণেই ইরান আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনা কেবল ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) ইসলামাবাদের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান। রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তানের প্রতি ইরানের পূর্ণ আস্থা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের কোনো বিশ্বাস নেই—আর এই অবস্থান ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে মোগাদ্দাম বলেন, ইরান অঞ্চলে কোনো আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না, বরং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি। রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে জানান, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শক্তির ধারাবাহিক চাপের মুখে রয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসবাদের কারণে ইরানে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিত্বরাও রয়েছেন। ব্যাপক মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা প্রয়োজন হলেও তা ‘যেকোনো মূল্যে’ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেস্ক্যুর। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা পরিস্থিতির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যারিসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন কীভাবে নিরাপদভাবে পুনরায় শুরু করা যায়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া না গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিলের শেষ নাগাদ আরও ১০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। একাধিক বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে পাঠানো সেনাদের একটি বড় অংশ যাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’-এর মাধ্যমে। এই জাহাজসহ আরও কয়েকটি নৌযানে করে প্রায় ৬ হাজার সেনা মোতায়েন করা হবে। এর পাশাপাশি ‘বক্সার’ উভচর প্রস্তুত গ্রুপ এবং ১১তম মেরিন ইউনিটের আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ সেনা চলতি মাসের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। সব মিলিয়ে নতুন এই মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এই অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি প্রধান বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন রয়েছে, যেগুলো সরাসরি অভিযানে অংশ নিচ্ছে। নতুন রণতরি যুক্ত হলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে তিনে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক কিছু তথ্য অনুযায়ী, সীমিত সংখ্যক জাহাজ এখনো এই অবরোধ অতিক্রম করতে সক্ষম হচ্ছে। একই সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতিও জোরদার করছে। যুদ্ধবিরতির বর্তমান সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল।
ইরানকে কোনো ধরণের মরণাস্ত্র সরবরাহ না করতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মতি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্তে তিনি অত্যন্ত খুশি এবং এটি হরমজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দিতে সহায়তা করবে। আগামী ১৪ ও ১৫ মে দ্বিতীয় মেয়াদে চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেখানে শি জিনপিংয়ের সাথে তার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সাথে যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত হবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করা। পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়া তেহরান কোনো সমঝোতা করতে পারবে না। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ চাইলেই খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তবে ইরানকে বুঝতে হবে যে তাদের কাছে পারমাণবিক মরণাস্ত্র রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকা চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু তারা তা চায় না। ন্য্যাটোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে এই যুদ্ধে মিত্ররা আমেরিকাকে কোনো সহায়তা করেনি। ইউরোপের এই জোটের পেছনে শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিপদের সময় ন্যাটো মিত্ররা তাদের পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এমনকি যুদ্ধের সময় অনেক দেশ মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বজায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের সাথে ট্রাম্পের এই কথিত সমঝোতা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় নতুন দিকে ঘুরতে পারে এবং হরমজ প্রণালীর সংকট নিরসনে পথ সুগম হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে এবং দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) আল-জাজিরা ও ডন নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার অংশ হিসেবেই এই ঝটিকা সফর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী দুই দিনের মধ্যে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির অসাধারণ কাজ করছেন এবং পাকিস্তানই এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার যোগ্য।” এমনকি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘প্রায় শেষের পথে’। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছিলেন, গত রবিবারের বৈঠকটি অমীমাংসিত থাকলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বাঘায়ি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের ‘অনস্বীকার্য অধিকার’। তবে তিনি একটি সমঝোতার সুযোগ রেখে জানান যে, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও ধরণ নিয়ে তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট জামাল ফারেস আলরোয়ায়ির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, উল্লিখিত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা করে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুদ্ধে সহায়তা করায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির দায় এসব দেশের ওপরও বর্তায়। এ কারণে ইরান তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বা নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কয়েক দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও পৃথক সামরিক পদক্ষেপ নেয়। সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহে মোহাজেরানি জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতে দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
রাশিয়ায় চলমান যুদ্ধের জন্য এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করছে ক্রেমলিন, যেখানে ড্রোন বাহিনীতে যোগ দিতে তাদের ওপর তৈরি করা হচ্ছে নজিরবিহীন মানসিক চাপ। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোর নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন যুদ্ধের প্রচারণামূলক পোস্টার এবং ড্রোন পরিচালনার ভিডিও গেমিং বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে পুরো শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করতে মাত্র এক বছরের চুক্তি, সম্মুখ সমর থেকে দূরে থাকা এবং উচ্চ বেতনের পাশাপাশি বিশাল অংকের আর্থিক বোনাসের লোভ দেখানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে, এই চুক্তিগুলো আসলে এক ধরণের ফাঁদ এবং একবার সই করলে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধে আটকে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। রাশিয়ার বর্তমান আইন অনুযায়ী আংশিক সংহতির ডিক্রি বহাল থাকায় এক বছরের চুক্তির প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হওয়ার কোনো আইনি গ্যারান্টি নেই বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় ঘাটতি রয়েছে বা যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ঝুঁকিতে আছে, তাদের বহিষ্কারের ভয় দেখিয়ে যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও গেমারদের ড্রোন চালক হিসেবে গড়ে তোলার এই কৌশলী প্রচারণা তরুণ প্রজন্মের কাছে যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আড়াল করে একটি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে ক্রেমলিন। অনেক শিক্ষার্থী সরাসরি জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন নিয়মিত সভা করে তাদের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন যা সাধারণ শিক্ষার পরিবেশকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন সরাসরি সামরিক চুক্তি প্রচার করছে যা রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণেরই স্পষ্ট প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধান বলছে যে, বিশাল অংকের অর্থের প্রলোভন সত্ত্বেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এই প্রচারণা নিয়ে সন্দিহান এবং তারা একে এক ধরণের মরণফাঁদ হিসেবেই দেখছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, রুশ শিক্ষার্থী নিয়োগ, ড্রোন বাহিনী প্রচারণা, ক্রেমলিন সামরিক নীতি, আন্তর্জাতিক সংবাদ।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের অন্তত ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে হামলায় সহযোগিতার অভিযোগ তুলে পাঁচটি আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণও চেয়েছে দেশটি। রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করা হবে। মোহাজেরানির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে অবকাঠামো ও স্থাপনার ক্ষতি নিরূপণ করা হবে। এরপর বাজেট ঘাটতি, শিল্পকারখানা বন্ধ থাকা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি স্কুলে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। অভিযোগ করা হয়েছে, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করা উচিত। সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েলসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার ওই বৈঠকে মতপার্থক্য কাটেনি, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দুই দেশ আবারও আলোচনায় বসতে পারে। যদিও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি, তবুও উভয় পক্ষ আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা উভয় পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার পরও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলে। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের প্রথম সরাসরি বৈঠক, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের পক্ষে ছিলেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৮০ শতাংশ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। এর ফলে চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। বৈঠকের এক পর্যায়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রতিনিধিদের সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করব?” তিনি অভিযোগ করেন, আগের আলোচনায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালে হামলা না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এই আস্থাহীনতাই আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ইরানের পক্ষ থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা, হিমায়িত সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হয়। আলোচনার পরিবেশ এক পর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে আলাদা কক্ষে নিয়ে বিরতির ব্যবস্থা করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ দিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ইরানের। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে, যা দুই দেশকেই আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করছে। ফলে বৈঠকটি ব্যর্থ হলেও খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।