আন্তর্জাতিক রাজনীতি

অস্ট্রিয়ার ইরান দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকে ‘ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দিল ইরান

অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত ইরান দূতাবাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘ভণ্ডামি’র দায়ে অভিযুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালি সংকট নিয়ে কালাসের অবস্থানের প্রেক্ষিতে তেহরান এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে আলাপকালে কালাস হরমুজ প্রণালিতে ‘শুল্কমুক্ত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে আনাকে জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য ইরানের পদক্ষেপকে দায়ী করেন।   কালাসের এই বক্তব্যের জবাবে ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, ইইউ প্রধান ইরানের ‘খাঁটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের’ নিন্দা জানালেও ইরানকে লক্ষ্য করে ‘আমেরিকান-ইসরাইলি অশুভ জোটের আগ্রাসী হামলা’ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। এছাড়া আইনি প্রেক্ষাপটে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দূতাবাস উল্লেখ করেছে যে, কালাস ইরানকে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, অথচ ইরান এই চুক্তির পক্ষভুক্ত কোনো রাষ্ট্র নয়। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করছে তেহরান।   দূতাবাস আরও কঠোর ভাষায় কালাসের উপদেষ্টাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অভিযোগ করেছে যে তারা তাকে সঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসার চুক্তি (NPT) সম্মান করে চললেও তাদের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই ধরনের আচরণকে দ্বিমুখী এবং বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান দূতাবাস।   বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকে ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কেবল একপক্ষকে দায়ী না করে সামগ্রিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এই বাদানুবাদের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপ ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: আলজাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি
হরমুজ উন্মুক্ত করতে সময় চাইলেন ট্রাম্প, সহায়তার ঘোষণা জেলেনস্কির!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আর সামান্য কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি উন্মুক্ত করতে এবং সেখানকার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ট্রাম্পের এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।   জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল সচল করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথ উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি সচল করতে ড্রোন ইন্টারসেপ্টর (ড্রোন ধ্বংসকারী ব্যবস্থা), সামরিক কনভয় এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে, যা ইউক্রেন সরবরাহ করতে পারে। যদিও ইউরোপ ও ন্যাটোর সদস্যরা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে জেলেনস্কির এই অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন মিত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামরিক অভিযানের বাস্তবতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে এর মধ্যেই এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের মালিকানাধীন ও মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ক্রিবি’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরান এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ রাখলেও ফরাসি জাহাজটির সফলভাবে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
' একঘরে ' পাকিস্তান যেভাবে মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠলো
' একঘরে ' পাকিস্তান যেভাবে মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠলো!

মাত্র এক বছর আগেও কূটনৈতিকভাবে একঘরে থাকা পাকিস্তান এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বের নজিরবিহীন সমন্বয়ে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং হোয়াইট হাউসে তার বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ পাকিস্তানের এই রূপান্তরের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ইতিমধ্যে আফগান যুদ্ধে তালেবানকে সমর্থন এবং ওসামা বিন লাদেন ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই তিক্ততা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া এবং ভারতের সাথে আকাশযুদ্ধে সংযম প্রদর্শনের বিষয়টিও ওয়াশিংটনের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে। এদিকে বৈশ্বিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের এই অগ্রযাত্রা প্রতিবেশী দেশ ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ে খোদ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও দেশটির সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং তুরস্ক-মিশরের সাথে যৌথ কূটনৈতিক তৎপরতা পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে একটি অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত করেছে। তবে পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং ঘরের পাশের আফগান সীমান্ত সমস্যা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে, যা সামাল দিতে সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলতে হবে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলা বাড়ছে—উপসাগরীয় তিন দেশে আকাশ প্রতিরক্ষা পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সৌদি আরব, কুয়েত ও বাহরাইনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট—ইরান তার হামলার পরিধি ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে।   কাতারের রাজধানী দোহা সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জন হিলি জানান, ইরান পরিকল্পিতভাবে আক্রমণের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এ অবস্থায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিটেন তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।   তিনি বলেন, শুধু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নয়, কাতার-এ আগে থেকেই মোতায়েন থাকা ব্রিটিশ ‘টাইফুন’ যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ব্রিটেন তার অংশীদারদের পাশে আছে এবং থাকবে। আমাদের সেরা সামরিক সক্ষমতার একটি অংশ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ সুরক্ষায় নিয়োজিত।   সংবাদ সম্মেলনে তাকে পিট হেগসেথ-এর একটি মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। হেগসেথ ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। এর জবাবে কোনো বিতর্কে না গিয়ে জন হিলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের ঘনিষ্ঠ ও অনন্য মিত্র।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতেই দ্রুত এই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে এটি অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব বজায় রাখার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ কূটনীতিকের পদত্যাগ: ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কার অভিযোগ

জাতিসংঘের এক কূটনীতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোববার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মোহাম্মদ সাফা। তিনি জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।   পদত্যাগপত্রে সাফা দাবি করেন, জাতিসংঘ ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, “মানবতার বিরুদ্ধে এমন অপরাধের সাক্ষী হয়ে থাকা আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়।”   সাফা আরও অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ে একটি ‘শক্তিশালী লবি’ কাজ করছে, যারা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, ভিন্নমত দমন করে একটি নির্দিষ্ট স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে পরিস্থিতির প্রকৃত ভয়াবহতা স্পষ্ট নয়। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে একটি ‘মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইন’ চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইরানকে বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।   পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক কোটি মানুষের শহর তেহরানকে উল্লেখ করে সাফা সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন। তিনি নিজের এই পদক্ষেপকে ‘হুইসেলব্লোয়িং’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এই তথ্য প্রকাশের জন্যই আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই একটি সম্ভাব্য ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ ঠেকানোর চেষ্টা এটি।”   ২০১৩ সাল থেকে পিভিএর নির্বাহী পরিচালক এবং ২০১৬ সাল থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাফা জানান, জাতিসংঘের প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর দায়িত্বে ফিরবেন না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য, পরিষ্কার বার্তা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer জানিয়েছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না এবং ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে না।   সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের নয়, আমরা এতে জড়াব না।’ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না।   তবে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে—বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়া।   স্টারমার আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্য কাজ করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। ফাইল ছবি:এএফপি
‘কখনো চেষ্টা করিনি, ভবিষ্যতেও করব না’: পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বার্তা

ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ইসমাইল বাগাই জানান, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT)-তে সই করে ইরান বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছে, তা নিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এই আন্তর্জাতিক চুক্তির লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহার ও গবেষণার অধিকার দেওয়া হয়। বাগাই বলেন, ইরান এখনো চুক্তিটির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। তবে চুক্তির আওতায় তাদের প্রাপ্য অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ দাবির বিরোধিতা করে আসছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তুলে আসছে।   উল্লেখ্য, গত বছর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর বোর্ড অব গভর্নরস এক প্রস্তাবে ইরানকে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এর প্রেক্ষাপটেই চুক্তির কার্যকারিতা ও সুফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান।   সূত্র: বিবিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে পাকিস্তানের ২০ জাহাজ চলাচলে সম্মতি দিল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানের পতাকাবাহী ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।   ইসহাক দার জানান, দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিদিন দুটি করে জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গঠনমূলক ও ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।   বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নেরই ইঙ্গিত নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ, পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলার সতর্কতা জারি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।   ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করতে বলেছে। পাশাপাশি এসব স্থাপনার এক কিলোমিটার এলাকার ভেতরে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আইআরজিসির অ্যারোস্পেস কমান্ডার সাইয়েদ মজিদ মুসাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। এর প্রতিক্রিয়া এবার আগের মতো সীমিত থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানাগুলোর কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করা উচিত, কারণ যেকোনো সময় পাল্টা হামলা শুরু হতে পারে। তবে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, আরদাকান শহরের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরও কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়ানোর ঘটনা ঘটেনি।   উল্লেখ্য, ওই স্থাপনায় ‘ইয়েলোকেক’ উৎপাদন করা হতো, যা ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং পরবর্তীতে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। ছবি: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও থেকে
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী ভারত: জয়সোয়াল

বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়স্বাল।   শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লি গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকারকে পাঠানো হয়েছিল এবং সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা বার্তাও দেওয়া হয়।   জয়স্বাল জানান, ওই বার্তায় দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে কীভাবে আরও গভীর ও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সময় হলে তা জানানো হবে।   এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। জয়স্বাল বলেন, সে সময় সংঘটিত নৃশংসতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবগত এবং এই গণহত্যার বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে ভারত সমর্থন করে।   তিনি আরও বলেন, সেই সময়ে লাখো নিরীহ মানুষকে হত্যার পাশাপাশি নারীদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয় এবং অসংখ্য মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান–হিজবুল্লাহর হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আহত ২৬১ ইসরায়েলি, বাড়ছে উত্তেজনা

ইসরায়েলে সাম্প্রতিক হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৬১ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   শুধু সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন বলেও সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে, যা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা ৫ শর্তে নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধ বন্ধে রাজি নয়। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হবে।   শর্ত না মানলে নয় যুদ্ধবিরতি ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ, ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, চলমান ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্তের কয়েকটি—বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে।   সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। ইতোমধ্যে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে করে সংঘাত ধীরে ধীরে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।   কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তবে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। পাকিস্তান ও তুরস্ক সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। বৈঠক পাকিস্তান বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে।   ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে দ্বিমুখী প্রশ্ন উঠেছে। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ—দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসাবশেষের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক উদ্ধারকর্মী। ২৪ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলে ইরানের দফায় দফায় হামলা, হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের মন্তব্যে তেহরানের কটাক্ষ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের জেরে মঙ্গলবার ইসরায়েলে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এর আগেই তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরদিনই হামলার ঘটনা পরিস্থিতির ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ইসরায়েলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ট্রাম্প একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও ইরান মার্কিন শর্ত মেনে নেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।   এর আগে ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন। পরে সাংবাদিকদের কাছেও একই বক্তব্য দেন তিনি। যদিও তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এখনো কোনো ধরনের আলোচনা শুরু হয়নি। এদিকে ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি তিনিও হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন। এর জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করে। ছবিতে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে একটি খেলনা স্টিয়ারিং হুইল দেখানো হয়, যা ট্রাম্পের মন্তব্যকে পরোক্ষভাবে উপহাস করেছে।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি এবং চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।   ইরানের অভ্যন্তরেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-এর প্রভাব বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই বাহিনীর সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের জোলকাদরকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি-এর কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।   উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যর্থ আলোচনার অভিযোগ তুলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েলই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া, উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার পাশাপাশি ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত করেছে। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়, ফলে এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান রাশিয়ার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা দ্রুত নিরসনে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-এর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান। পরে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।   বিবৃতিতে বলা হয়, লাভরভ জোর দিয়ে বলেছেন—বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ সময় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চলমান সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ক্যাস্পিয়ান সাগর অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে—এ নিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ও কংগ্রেস প্রতিনিধি গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান শুক্রবার এক অধিবেশনে এ প্রস্তাব জানান। ছবি: সংগৃহীত
একাত্তরের গণহত্যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতির দাবি: মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট নেতার প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্র-এর কংগ্রেসে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ও কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান শুক্রবার এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।   প্রস্তাবে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী মিলিশিয়াদের পরিচালিত নৃশংসতা—বিশেষ করে অপারেশন সার্চলাইট—গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীসহ সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান বলেন, “১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ঘটনাগুলো ছিল পরিকল্পিত সহিংসতার ধারাবাহিকতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যার মধ্যে পড়ে।” প্রস্তাবনায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো, বাঙালি হিন্দুদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নির্যাতনের স্বীকৃতি এবং কোনো জাতি বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর সামষ্টিক দায় চাপানোর বিরোধিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭১ সালের এই গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রস্তাবকারীদের মতে, এ স্বীকৃতি নৈতিক ও নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার পরবর্তী দৃশ্য। ফাইল ছবি : এএফপি
ইরান যুদ্ধ ‘প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইচ্ছাকৃত’: দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিকের বিস্ফোরক মতামত

যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিক মনে করেন, ইরান-এর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ‘ইচ্ছাকৃত’। সিবিএস নিউজ ও ইউগভের এক যৌথ জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত ১৭ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে ৩ হাজার ৩৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। এতে দেখা যায়, ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা এই যুদ্ধকে ‘ইচ্ছাকৃত’ বলে মনে করেন, বিপরীতে ৩৪ শতাংশ একে ‘প্রয়োজনীয়’ হিসেবে দেখছেন।   জরিপে আরও জানা যায়, ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন, যা চলতি মাসের শুরুতে ছিল ৫৬ শতাংশ। এছাড়া ৬৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধের লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। এদিকে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নেতিবাচক দিকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিভাজনের দিক থেকেও মতপার্থক্য স্পষ্ট—৯২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৭৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার যুদ্ধটিকে ‘ইচ্ছাকৃত’ মনে করলেও ৬৭ শতাংশ রিপাবলিকান এটিকে ‘প্রয়োজনীয়’ বলে মনে করছেন।   তবে একটি বিষয়ে প্রায় সর্বসম্মত মতামত দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ শতাংশই বলেছেন, এই সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ হওয়া উচিত। এছাড়া, ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ৭৩ শতাংশ দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং ৬৮ শতাংশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।   ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়েও মতভেদ রয়েছে। ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা পরিবর্তনের পক্ষে থাকলেও ৫১ শতাংশ এর প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে যুদ্ধে বিশ্বনেতাদের যোগদানের আহ্বান নেতানিয়াহুর

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, ইরান শুধু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।   রোববার দক্ষিণ ইসরায়েল-এর ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।   নেতানিয়াহুর ভাষায়, “ইরান পুরো বিশ্বকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতাদের এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার। যদিও ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ এই পথে এগোতে শুরু করেছে, তবে আরও শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরান-এর পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই অভিযানের প্রেক্ষাপটেই নেতানিয়াহুর এই আহ্বান এসেছে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আদর্শ মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন যে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করেছে।   নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ইতোমধ্যে বহু বিশ্বনেতা ব্যক্তিগতভাবে এ অভিযানে সমর্থন জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য বিস্তৃত সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News। শনিবার (২১ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে স্থল অভিযান পরিচালনার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা চেয়েছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি—পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর পক্ষে নন। তবে একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গোপন রাখা হতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিকল্প সব পথই খোলা রাখা হচ্ছে।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-এর নিয়মিত কাজ, যাতে প্রেসিডেন্টের সামনে একাধিক কৌশলগত বিকল্প থাকে। তবে পরিকল্পনা থাকা মানেই তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নয়।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি অত্যন্ত বিস্তারিত। সম্ভাব্য স্থল হামলার ক্ষেত্রে ইরানি সেনা বা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের আটক করা হলে তাদের কীভাবে পরিচালনা করা হবে, কোথায় রাখা হবে—এসব বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   এদিকে, যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনা পাঠানো শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা পুরোপুরি ওই অঞ্চলে অবস্থান নেবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ন্যাটোর প্রশিক্ষক ও উপদেষ্টারা। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: ইরাক থেকে কর্মী সরাল ন্যাটো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরার ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরাক থেকে নিজেদের কর্মীদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে ন্যাটো। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তরের উপদেষ্টা সাঈদ আল জায়াশি শুক্রবার আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসান এবং ইরাকে স্থিতিশীলতা ফিরলে ন্যাটো কর্মীরা পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করতে দেশটিতে ফিরে আসবেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা না করায় মিত্ররা ‘কাপুরুষের’ আচরণ করছে।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সংঘাত সামরিকভাবে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে “জয়ী” হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটো মিত্ররা তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।   ট্রাম্পের ভাষায়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া একটি “সহজ সামরিক পদক্ষেপ”, যা তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দূর করতে পারে। কিন্তু মিত্ররা এতে এগিয়ে না এসে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটো জোট কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোটকে “কাগুজে বাঘ” বলেও আখ্যা দেন ট্রাম্প।   সপ্তাহের শুরুতে মিত্রদের সহায়তা চাইলেও পরে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্প বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যদের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ন্যাটো জোটের ভেতরে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান অবতরণে না শ্রীলঙ্কার, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ভূখণ্ডে অবতরণের অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা। নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে।   শুক্রবার পার্লামেন্টে বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি মাসের ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ দুটি যুদ্ধবিমান অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল। বিমানগুলো জিবুতিতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে আসার কথা ছিল এবং সেগুলোতে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা ছিল।   প্রেসিডেন্ট জানান, দেশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এ সময় তাঁর বক্তব্যে সংসদ সদস্যরা করতালি দেন।   একই সময়ে ইরানও ৯ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ শ্রীলঙ্কায় ভেড়ানোর অনুমতি চেয়েছিল। ভারতের আয়োজিত একটি নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার পর জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কায় আসতে চেয়েছিল। তবে সেই অনুরোধও নাকচ করে দেয় কলম্বো।   প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে বলেন, “আমরা যদি একটি পক্ষকে অনুমতি দিতাম, তবে অন্য পক্ষকেও একই সুযোগ দিতে হতো”—এই যুক্তিতেই উভয় অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান-এর মধ্যে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি সরবরাহসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।   যুদ্ধ শুরুর পর শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি একটি ইরানি সামরিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী কয়েকজন ক্রুকে উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।   বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর শ্রীলঙ্কা সফর করছেন। তিনি সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।   ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে থাকা শ্রীলঙ্কা নতুন করে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবের মুখে পড়েছে। দেশটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার, অন্যদিকে ইরান শ্রীলঙ্কার চায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0