কয়েক মাসের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট এবং কানসাস সিটি চিফসের তারকা ফুটবলার ট্র্যাভিস কেলসি। গত মঙ্গলবার সিএনএনের কাছে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, আগামী বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনে বিয়ের প্রস্তুতিমূলক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর শুক্রবার হবে মূল আয়োজন, যা ভোর ৪টা পর্যন্ত চলতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশে কর্মীদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। তারা বেশ কয়েকটি রহস্যময় বাক্স ভেন্যুতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক কর্মী বলেন, ‘আমার মুখ বন্ধ, আমি কিছুই বলতে পারব না।’
এই বহুল আলোচিত বিয়ে এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন নিউইয়র্ক সিটি গ্রীষ্মকালীন নানা আয়োজন ও উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। দেশটির বাস্কেটবল দল নিউইয়র্ক নিক্স দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার পর এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পাশাপাশি ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরে পর্যটকদেরও উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।
শহরে টেইলর সুইফটের ভক্তদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মীও অবস্থান নিয়েছেন। তবে কয়েক দিন আগ পর্যন্ত এই গোপন আয়োজন সম্পর্কে গণমাধ্যমের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এমনকি আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই অনুষ্ঠানস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলেও জানা গেছে।
ট্র্যাভিস কেলসির সতীর্থ এবং ‘টাইট এন্ড ইউনিভার্সিটি’র (টিইউ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জর্জ কিটল জানিয়েছেন, তিনি বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পেলেও অনুষ্ঠানটি কোথায় হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। গত সপ্তাহে ‘এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিটল বলেন, ‘আমি গত রাতে ট্র্যাভিসকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু সে শুধু হেসে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।’
তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করেছেন তিনি। কিটলের ভাষ্য, টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি অতিথিদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিয়েতে কোনো ধরনের উপহার না আনতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
কয়েক মাসের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট এবং কানসাস সিটি চিফসের তারকা ফুটবলার ট্র্যাভিস কেলসি। গত মঙ্গলবার সিএনএনের কাছে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলোর দাবি, আগামী বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনে বিয়ের প্রস্তুতিমূলক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর শুক্রবার হবে মূল আয়োজন, যা ভোর ৪টা পর্যন্ত চলতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশে কর্মীদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। তারা বেশ কয়েকটি রহস্যময় বাক্স ভেন্যুতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক কর্মী বলেন, ‘আমার মুখ বন্ধ, আমি কিছুই বলতে পারব না।’ এই বহুল আলোচিত বিয়ে এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন নিউইয়র্ক সিটি গ্রীষ্মকালীন নানা আয়োজন ও উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। দেশটির বাস্কেটবল দল নিউইয়র্ক নিক্স দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার পর এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পাশাপাশি ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরে পর্যটকদেরও উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। শহরে টেইলর সুইফটের ভক্তদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মীও অবস্থান নিয়েছেন। তবে কয়েক দিন আগ পর্যন্ত এই গোপন আয়োজন সম্পর্কে গণমাধ্যমের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এমনকি আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই অনুষ্ঠানস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলেও জানা গেছে। ট্র্যাভিস কেলসির সতীর্থ এবং ‘টাইট এন্ড ইউনিভার্সিটি’র (টিইউ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জর্জ কিটল জানিয়েছেন, তিনি বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পেলেও অনুষ্ঠানটি কোথায় হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। গত সপ্তাহে ‘এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিটল বলেন, ‘আমি গত রাতে ট্র্যাভিসকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু সে শুধু হেসে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।’ তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করেছেন তিনি। কিটলের ভাষ্য, টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি অতিথিদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিয়েতে কোনো ধরনের উপহার না আনতে।
১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিওয়ানা’ শুধু একটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রই ছিল না, এটি ছিল বলিউডে শাহরুখ খানের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। ছবিটি সেই বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি চলচ্চিত্রে পরিণত হয় এবং শাহরুখকে প্রথম সারির নায়কের আসনে বসিয়ে দেয়। তবে এই ছবি তৈরির পেছনে ছিল একের পর এক নাটকীয় ঘটনা। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল স্টোরিজ বাই শেখর-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে উঠে এসেছে ‘দিওয়ানা’ নির্মাণের নেপথ্যের নানা অজানা তথ্য। সেখানে পরিচালক পরিবর্তন, নায়কের সরে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্তে শাহরুখের যুক্ত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্রযোজক গুড্ডু ধানোয়ার একটি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি নতুন গল্পের খোঁজে চেন্নাই যান। সেখানে একটি তামিল ছবি দেখে সেটির হিন্দি রিমেক করার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে সেই ছবিই ‘দিওয়ানা’ নামে নির্মিত হয়। মূল তামিল ছবির পরিচালক ছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা বিজয়ের বাবা এস. এ. চন্দ্রশেখর। ছবিটির প্রযোজক ছিলেন বিজয়ের মা শোভা চন্দ্রশেখর। প্রথমে নায়িকার চরিত্রে মাধুরী দীক্ষিতকে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সময়সূচির জটিলতায় তিনি ছবিটি করতে পারেননি। পরে সেই চরিত্রে চূড়ান্ত হন দিব্যা ভারতী। অন্যদিকে রবির চরিত্রে নেওয়া হয় ঋষি কাপুরকে এবং দ্বিতীয় নায়ক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন আরমান কোহলি। ছবির সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় জনপ্রিয় সুরকার জুটি নাদিম-শ্রাবণকে। পরে ছবির গানই এর সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়। শুটিং শুরুর আগেই বড় ধাক্কা আসে। অন্য কাজের ব্যস্ততার কারণে পরিচালক এস. এ. চন্দ্রশেখর প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর পরিচালনার দায়িত্ব পান রাজ কানওয়ার, যিনি তখন স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিজের প্রথম কাজের অপেক্ষায় ছিলেন। এর কিছুদিন পর আরও বড় সংকট তৈরি হয়। প্রযোজনা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আরমান কোহলি ছবি ছেড়ে দেন। ফলে দ্বিতীয় নায়কের চরিত্রের জন্য নতুন মুখ খুঁজতে শুরু করেন নির্মাতারা। এই সময় পরিচালক শেখর কাপুর গুড্ডু ধানোয়াকে এক তরুণ টেলিভিশন অভিনেতার নাম প্রস্তাব করেন। ‘ফৌজি’ ও ‘সার্কাস’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিত সেই অভিনেতাই ছিলেন শাহরুখ খান। গুড্ডু ধানোয়া ও রাজ কানওয়ার দিল্লিতে গিয়ে শাহরুখের সঙ্গে দেখা করেন। তখন তিনি ইতোমধ্যে পাঁচটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন—‘দিল আশনা হ্যায়’, ‘কিং আঙ্কল’, ‘কভি হাঁ কভি না’, ‘রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান’ ও ‘চমৎকার’ ব্যস্ততার কারণে প্রথমে তিনি ‘দিওয়ানা’র প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। পরে অন্য একটি ছবির শুটিং পিছিয়ে যাওয়ায় তার হাতে সময় তৈরি হয়। তখন চিত্রনাট্য শুনে চরিত্রটির বিদ্রোহী স্বভাব এবং বিধবা বিবাহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গল্প তাকে আকৃষ্ট করে। এরপরই ছবিতে অভিনয়ে সম্মতি দেন। যদিও শাহরুখ আগে আরও পাঁচটি ছবিতে চুক্তি করেছিলেন, মুক্তির দিক থেকে ‘দিওয়ানা’ই ছিল তার প্রথম সিনেমা।১৯৯২ সালের ২৫ জুন মুক্তি পাওয়া ছবিটি সে বছর ‘বেটা’র পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি চলচ্চিত্রে পরিণত হয়। ‘তেরি উমিদ তেরা ইন্তেজার’, ‘সোচেঙ্গে তুমহে পেয়ার করেঁ কি নাহি’ এবং ‘অ্যায়সি দিওয়ানগি’ গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। নাদিম-শ্রাবণ সেরা সংগীত পরিচালকের স্বীকৃতি পান এবং ‘সোচেঙ্গে তুমহে’ গানের জন্য কুমার শানু জিতে নেন সেরা পুরুষ কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার। প্রযোজক গুড্ডু ধানোয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমা হলে শাহরুখের মোটরসাইকেলে প্রবেশের দৃশ্য দেখেই দর্শক উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। অনেকে আনন্দে পর্দার দিকে খুচরা টাকা ছুড়ে উদযাপন করেন। সেই মুহূর্তেই যেন বলিউড নতুন এক সুপারস্টারের আগমনের সাক্ষী হয়। এই ছবির জন্য শাহরুখ ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কারও জিতে নেন। ছবি মুক্তির আগে পরিবেশক মনমোহন দেশাই পরামর্শ দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নায়িকা যেন শাহরুখের চরিত্রের বদলে ঋষি কাপুরের চরিত্রের কাছেই ফিরে যান। এমনকি শাহরুখের চরিত্রকে শেষ পর্যন্ত মারা যাওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রযোজক গুড্ডু ধানোয়া ও পরিচালক রাজ কানওয়ার সেই পরামর্শ গ্রহণ করেননি। তাদের মতে, এতে বিধবা বিবাহকে কেন্দ্র করে ছবির মূল বার্তা নষ্ট হয়ে যেত। শেষ পর্যন্ত মূল চিত্রনাট্য অপরিবর্তিত রেখেই মুক্তি পায় ‘দিওয়ানা’। তিন দশকেরও বেশি সময় পরও ছবিটি শুধু শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারের সূচনা নয়, বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় আত্মপ্রকাশের গল্প হিসেবেই বিবেচিত হয়।
টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানি, মিথ্যা অপবাদ এবং চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ আদালতে এই মামলা দায়ের করেছেন তনয় শাস্ত্রী নামের এক যুবক। মামলায় মিমির কাছ থেকে মোট ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সূত্রপাত বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জের ‘যুবক সংঘ’ ক্লাবের একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। ওই অনুষ্ঠানে মূল তারকা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। তবে অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের ঝড় ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে মিমি চক্রবর্তী অভিযোগ করেছিলেন, তিনি ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এই অভিযোগটি তিনি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে মিমি সরাসরি বনগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করে। যদিও পরে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। একই ঘটনায় মিমি বনগাঁ মহকুমা আদালতেও গিয়ে নিজের গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করান। অন্যদিকে, ক্লাবের সদস্যরা মিমির এই হেনস্তার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর মিমি অনুষ্ঠানমঞ্চে এসেছিলেন। এরপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠান পরিচালনার নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে মাইক ও মঞ্চ ছাড়তে বলা হয়। আর এই সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে জেল থেকে বের হয়ে তনয় শাস্ত্রীও বনগাঁ থানায় মিমির বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ দায়ের করেন। এবার তিনি সরাসরি বনগাঁ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানিসহ দুটি মামলা ঠুকে দিয়েছেন। আদালতে তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন বিশিষ্ট আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মিমি চক্রবর্তী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তনয়ের মানহানি করেছেন। পাশাপাশি মিমির বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগও তোলা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুষ্ঠানের জন্য মিমিকে যে অগ্রিম ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, তা যেন তিনি দ্রুত ফেরত দেন। একই সাথে তার করা মিথ্যা অপবাদের কারণে মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। তবে এই আইনি নোটিশ ও মামলার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত মিমি চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।