ইরান রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত
তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পেরিয়ে যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন। কয়েক দিনের সেই অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে উঠে আসেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times–এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইরে থেকে বিষয়টি সহজ বা পূর্বনির্ধারিত মনে হলেও বাস্তবে ইরানের ক্ষমতার অন্দরমহলে চলেছে তীব্র প্রতিযোগিতা। নতুন নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আলেমদের পরিষদ, সামরিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়।   উত্তরসূরি নির্বাচনে গোপন বৈঠক ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে ৮৮ সদস্যের আলেমদের পরিষদ Assembly of Experts–এর ওপর। পরিষদটি ৩ মার্চ একটি গোপন ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়া পর্যন্ত ভোট চলার কথা।   প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের হামলায় কুম শহরে পরিষদের সদর দপ্তরের আশপাশে ক্ষয়ক্ষতি হয়।   ক্ষমতার লড়াই: কট্টরপন্থী বনাম মধ্যপন্থী নতুন নেতা নির্বাচনকে ঘিরে ইরানের ক্ষমতার ভেতরে দুটি বড় শিবির তৈরি হয়। কট্টরপন্থী শিবিরে ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রভাবশালী জেনারেলরা। তারা আলি খামেনির নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন এবং মোজতবা খামেনির পক্ষে অবস্থান নেন।   অন্যদিকে মধ্যপন্থী শিবিরের নেতারা নতুন নেতৃত্ব এবং তুলনামূলক নমনীয় নীতির পক্ষে যুক্তি দেন। তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি–কে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আনেন। তবে সামরিক নেতৃত্বের শক্ত অবস্থান এবং প্রতিশোধের রাজনীতির কারণে শেষ পর্যন্ত পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এমন একজন নেতার পক্ষে মত দেন, যিনি কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারবেন।   শেষ পর্যন্ত জয় মোজতবার প্রথম দফা ভোটেই মোজতবা খামেনি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পান। পরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণে তাঁর নাম ঘোষণা বিলম্বিত করা হয়। এ সময় মধ্যপন্থীরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। সেখানে ৮৮ সদস্যের মধ্যে ৫৯ জন মোজতবা খামেনির পক্ষে ভোট দেন। ফলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন।   এরপর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: সংগৃহীত
‘বিজয় ঘোষণার সময় হয়নি’: ইরানে গণ-অভ্যুত্থান না হওয়ার কারণ জানালেন ট্রাম্প

ইরানে বড় ধরনের গণ-অভ্যুত্থান কেন দেখা যাচ্ছে না এ প্রশ্নের জবাবে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতাই দেশটিতে বড় আকারের আন্দোলন গড়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব মন্তব্য করেন।   ইরানি নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী দেশজুড়ে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা বা প্রতিবাদ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, “আপনারা একদল সন্ত্রাসীর মোকাবিলা করছেন।”   তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সরকার প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে কেউ যদি প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, তবে তাকে সরাসরি গুলি করা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কেন প্রকাশ্যে আন্দোলনে নামছে না, তা বোঝা কঠিন নয় বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।   এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর ট্রাম্প ইরানি জনগণকে রাজপথে নেমে তাদের সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই আহ্বানের পরও দেশটিতে বড় ধরনের গণ-আন্দোলন দেখা না যাওয়ায় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তার ব্যাখ্যা জানতে চান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে প্রস্তুত। জবাবে তিনি বলেন, এখনই এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় আসেনি।   ট্রাম্প বলেন, “আমি এখনই নিজেকে বিজয়ী বলতে চাই না। তার কোনো প্রয়োজনও নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, ইরানের নেতৃত্ব এখন বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।”   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব বক্তব্য ইরানের ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ইরানি জনগণের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের সমর্থনের বার্তা হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি । ফাইল ছবি রয়টার্স
আহত হলেও নিরাপদে আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

যুদ্ধকালীন ঘটনায় আহত হলেও বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বুধবার (১১ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসেফ পেজেশকিয়ান।   নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে ইউসেফ পেজেশকিয়ান জানান, মোজতবা খামেনি আহত হওয়ার খবর শোনার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তারা নিশ্চিত করেন যে আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।   ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে ‘রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে তিনি কী ধরনের আঘাত পেয়েছেন বা কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিন দিন আগে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা খামেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ফলে তার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়।   এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি ও দুইজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনি আহত হন।   তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছে ইরানের সরকারি সূত্র।   তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ইরানের তেহরানে শুক্রবারের নামাজের আগে ফিলিস্তিনিপন্থী সমাবেশে একজন মুসলিম ধর্মগুরু ফিলিস্তিনি ও ইরানি পতাকা ধরে আছেন
ইরান কেন বন্ধুহীন?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বিশ্বরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে ইরান কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই ‘বন্ধুহীন’ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে?   সম্প্রতি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক চাপ ও কৌশলগত হিসাব নিকাশের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ হন। প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, তখন ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। তবে আঞ্চলিক মিত্রদের মতে, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সেটিই ছিল ‘উপযুক্ত সময়’।   এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং দীর্ঘ ইতিহাসের অধিকারী দেশটি সংকটের মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একা হয়ে পড়েছে—এমন ধারণা বিশ্লেষকদের মধ্যে জোরালো হয়েছে।   ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া ও চীনও সামরিক বা প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। গত বছরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। তখনও এই দুই দেশ কেবল উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশে সীমাবদ্ধ ছিল।   টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ক্রমশ বিচ্ছিন্ন অবস্থানে চলে গেছে। তেহরান আশা করেছিল, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো অন্তত কূটনৈতিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে সেই সমর্থনও খুব একটা দেখা যায়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। নতুন শাসনব্যবস্থা পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। এর ফলে ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে।   ধর্মীয় মতপার্থক্যও অনেক আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ আরব দেশ সুন্নি অধ্যুষিত হলেও ইরান মূলত শিয়া রাষ্ট্র। এই ধর্মীয় বিভাজন আঞ্চলিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে।   মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বাড়াতে ইরান ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সংগঠনকে তেহরান ‘প্রতিরোধ বলয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও পশ্চিমা দেশগুলো অনেক সময় তাদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।   এই কারণেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের ভাবমূর্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক দেশের কাছে ইরানের ভূমিকা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখলেও তারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়।   সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে। একই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এই সমর্থন মূলত কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে।   অন্যদিকে রাজনৈতিক সাময়িকী পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সমর্থনেরও একটি সীমা রয়েছে। ইরান হামলার পর মস্কোর প্রতিক্রিয়া মূলত সহানুভূতি ও রাজনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, গত চার দশকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ইরান ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এক ধরনের কৌশলগত বিচ্ছিন্নতার মধ্যে পড়েছে।   একসময় পারস্য সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই দেশটি এখন জটিল কূটনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। ফলে অনেক বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান সংকটে ইরানকে কার্যত ‘বন্ধুহীন’ বলেই মনে হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ইরানের শেষ শাহের বিধবা স্ত্রী ফারাহ পাহলভি
খামেনির মৃত্যুতে ইরানি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না: শেষ শাহের স্ত্রী ফারাহ পাহলভি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও এর ফলে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের শেষ শাহের স্ত্রী ফারাহ পাহলভি।   মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কোনো ব্যক্তির মৃত্যু নিজে থেকেই একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন ঘটায় না। এ বিষয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   ফারাহ পাহলভির মতে, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণের ঐক্য এবং তারা কতটা সংগঠিতভাবে আইনের শাসনের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক রূপান্তরের পথে এগোতে পারে।   ৮৭ বছর বয়সী এই সাবেক সম্রাজ্ঞী ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর স্বামী শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির সঙ্গে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সেই সময় থেকে তিনি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।   সাক্ষাৎকারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন ইরানের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে সম্মান জানানো হয়।   ফারাহ পাহলভি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলকে ইরানিদের মৌলিক অধিকার নেতা নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মর্যাদা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। তবে সেই সমর্থন যেন ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দেওয়া হয়।   তিনি ইরানের বর্তমান কর্তৃপক্ষের প্রতিও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সহিংসতা ও রক্তপাত এড়ানো যায়।   এর আগে জানুয়ারিতে তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কঠোর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্য অনুযায়ী, ওই দমন অভিযানে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী।   এদিকে ইরানের ইসলামি সরকারের পতন ঘটলে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে সামনে আনছেন ফারাহ পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।   একই সঙ্গে তিনি চলমান সংঘাতকে বিভাজনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার না করার বার্তাও দেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর আর ইরানে ফিরে যাননি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিজের জন্মভূমি মাশহাদে সমাহিত হবেন আয়াতুল্লাহ খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–কে তার জন্মভূমি মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Agence France-Presse (এএফপি)।   ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরান–এর সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন। তাকে মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হবে, যেখানে তার বাবার কবর রয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েল–এর সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হন বলে ইরান সরকার নিশ্চিত করে। তবে তার জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।   মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই শহরেই খামেনির জন্ম হয়েছিল।   খামেনির মৃত্যুর পর ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান সরকারের হাতে নেই যুদ্ধের লাগাম, ‘স্বাধীনভাবে’ হামলা চালাচ্ছে আইআরজিসি

ইরান–এ চলমান সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর যৌথ হামলার পর এই পাল্টা অভিযান শুরু হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে বিপ্লবী গার্ড স্বাধীনভাবে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এসব অভিযানে সরকারের সরাসরি নির্দেশনা নেই।   ওমান–এর বন্দরে সাম্প্রতিক হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরাগচি বলেন, ওই হামলার সিদ্ধান্ত ইরান সরকার নেয়নি। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ইরানের বিপ্লবী গার্ড ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর রুহুল্লা খোমেনি–এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তখন সামরিক দায়িত্ব ভাগ করা হয়। সাধারণ সেনাবাহিনীকে দেশ ও সীমান্ত প্রতিরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হলেও বিপ্লবী গার্ডকে ইসলামিক বিপ্লব রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।   ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বা সুপ্রিম লিডারের কাছে সাধারণত এই বাহিনীর কার্যক্রম রিপোর্ট করা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর মৃত্যুর পর বাহিনীর কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।   আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আরাগচির বক্তব্য কৌশলগত রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে তেহরান। সূত্র: এএফপি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা শাহ পাহলভী
খামেনির মৃত্যুকে ‘স্বাধীনতার সুযোগ’ বললেন রেজা পাহলভী, ট্রাম্পকে ধন্যবাদ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভী। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি খামেনির মৃত্যুকে ইরানের জনগণের জন্য ‘স্বাধীনতার সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   লেখার শুরুতেই পাহলভী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানিদের উদ্দেশে যে মন্তব্য করেছেন“তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে” তা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ।   পাহলভীর মতে, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংঘাত উসকে দিয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।   তবে তাঁর ভাষায়, সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে দেশের ভেতরে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় বহু প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার ঘটনাকে তিনি অমানবিক বলে অভিহিত করেন।   ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে পাহলভী একটি প্রস্তাবও দেন। তিনি বলেন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে তা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করা উচিত। এরপর আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।   তিনি আরও লেখেন, “ইতিহাস খুব কম সময়ই তার মোড় ঘোরার মুহূর্ত আগাম জানায়। কিন্তু এমন সময় আসে, যখন সাহস, নেতৃত্ব ও সংহতি একটি জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।”   ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে পাহলভী পরিবার দেশের বাইরে অবস্থান করছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে রেজা পাহলভীর সম্ভাব্য ভূমিকা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্লেষণ চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই থাকা যাবে না—নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0