সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

পাকিস্তানে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে? ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড়

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ০:১৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রহস্যময় মন্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে "বড় কিছু ঘটতে পারে"।


ইসলামাবাদে অবস্থানরত নিউইয়র্ক পোস্টের একজন সংবাদদাতাকে ট্রাম্প বলেন, "আপনার সেখানে (পাকিস্তানে) থাকা উচিত, কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে সেখানে বিশেষ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমরা সেখানেই যেতে বেশি আগ্রহী।"


জেনেভাকে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রতিই তার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প তাকে "ফ্যান্টাস্টিক" হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "ফিল্ড মার্শাল দুর্দান্ত কাজ করছেন। পাকিস্তানই হতে পারে উপযুক্ত স্থান।"


অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের তুলনায় ট্রাম্প পাকিস্তানকে কেন বেছে নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, "যেসব দেশের এই বিষয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা সেখানে কেন যাব?"


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর ট্রাম্পের এই ভরসা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
বাবার এমন অভিনব কৌশলের পরও ছেলের গেম খেলার সময় খুব একটা কমেনি। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি ছেড়ে সারাদিন গেম খেলায় মগ্ন ছেলে, গেমে তাকে হারাতে পেশাদার গেমার ভাড়া করলেন বাবা

সন্তানের ভিডিও গেমের আসক্তি নিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব অভিভাবকই কমবেশি চিন্তিত থাকেন। সন্তানকে গেম থেকে দূরে রাখতে বাবা মায়েরা বকাঝকা থেকে শুরু করে ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার মতো অনেক কিছুই করে থাকেন। তবে চীনের এক বাবা তার বেকার ছেলেকে গেমের নেশা থেকে বের করে কাজে ফেরাতে এমন এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন, যা শুনে যে কেউ অবাক হবেন। ছেলেকে গেমের ভার্চুয়াল জগতে প্রতিনিয়ত হত্যা করার জন্য রীতিমতো পেশাদার গেমার বা খেলোয়াড় ভাড়া করেছিলেন তিনি।   চীনের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী তরুণ জিয়াও ফেং। কিছুদিন আগে তিনি তার চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে সারাদিন ভিডিও গেম খেলাতেই মগ্ন থাকতেন তিনি। তার বাবার অভিযোগ ছিল, ছেলে সারাদিন অনলাইনে গেম খেলে সময় নষ্ট করছে এবং নতুন কোনো চাকরি খোঁজার ব্যাপারে তার কোনো তাগিদই নেই। ছেলেকে স্বাভাবিকভাবে বুঝিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি এক ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা করেন।   তিনি ভেবেছিলেন, ছেলেকে যখন গেম থেকে বের করে আনা যাচ্ছে না, তখন তাকেই ওই গেমের ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। তবে নিজে গেম খেলা শুরু করার বদলে তিনি অন্য পথ ধরেন। তিনি ছেলের চেয়েও অনেক বেশি দক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পেশাদার গেমারকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেন। তাদের কাজ ছিল একটাই, জিয়াও ফেং যখনই গেমে লগ ইন করবেন, তখনই তাকে খুঁজে বের করে গেমের ভেতরেই হত্যা করা।   ওই বাবার মূল পরিকল্পনা ছিল, বারবার গেমে হেরে গিয়ে বা খুন হয়ে ছেলে হতাশ হয়ে পড়বে। এক পর্যায়ে গেমের প্রতি তার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে বাধ্য হয়ে আবারও কাজের প্রতি মনোযোগী হবে।   তবে বাবার এই গোপন পরিকল্পনা খুব বেশিদিন চাপা থাকেনি। জিয়াও ফেং বুঝতে পারেন যে গেমের ভেতরে অদ্ভুত কিছু একটা ঘটছে। তিনি লক্ষ্য করেন, তিনি যখনই গেম খেলতে ঢুকছেন, তখনই নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড় তাকে টার্গেট করে আক্রমণ করছে। এক পর্যায়ে তিনি আবিষ্কার করেন যে এই ডিজিটাল গুপ্তঘাতকদের পেছনে আসলে তার নিজের বাবাই রয়েছেন।   বাবার এই কাণ্ড জানার পর জিয়াও ফেং তাকে নিজের চাকরি ছাড়ার পেছনের আসল কারণটি বুঝিয়ে বলেন। তিনি বাবাকে জানান, সারাজীবন গেম খেলার জন্য তিনি চাকরি ছাড়েননি। মূলত নিজের মনের মতো কোনো কাজ না পাওয়ার কারণেই তিনি আপাতত বেকার বসে আছেন এবং সময় কাটাচ্ছেন।   তবে বাবার এই সুপরিকল্পিত এবং ব্যয়বহুল কৌশল শেষ পর্যন্ত খুব একটা কাজে আসেনি। পেশাদার গেমার লেলিয়ে দেওয়ার পরও জিয়াও ফেং স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় খুব একটা কমিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও ওই বাবা অন্তত এটুকু ভেবে সান্ত্বনা পেতে পারেন যে ছেলের নেশা ছাড়ানোর জন্য তিনি সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছেন। ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় গেমের ভেতরেই ছেলের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলার এই ঘটনাটি এখন নেট দুনিয়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সংবাদসূত্র: দ্য এপক টাইমস, কেএসএল, দ্য গার্ডিয়ান ও অন্যান্য সমসাময়িক প্রতিবেদন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২১:৪০
যুক্তরাজ্যে ৬০ টি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত! কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাসিন্দারা

যুক্তরাজ্যে ৬০ টি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত! কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাসিন্দারা

ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি

ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি, চেহারায় যেন ২০ বছরের ছাপ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের

আয়াত শুনেই বিস্ময়করভাবে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ দৃষ্টিহীন ৫ বছরের শিশুর

আয়াত শুনেই বিস্ময়করভাবে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ দৃষ্টিহীন ৫ বছরের শিশুর

মালয়েশিয়া থেকে ১,৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ
ঝুঁকি উপেক্ষা করে মালয়েশিয়া থেকে ১,৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ

মালয়েশিয়া আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে অন্তত ১,৫০০ জন মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। দেশটির সরকার বলছে, এই প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছায় এবং যারা ফেরত যেতে সম্মত হবেন, তাদের মধ্য থেকেই প্রথম দফার তালিকা করা হবে। তবে মিয়ানমারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।    মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দুটি মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    মালয়েশিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি মিয়ানমারের নাগরিক ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রয়েছেন। তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, আশ্রয়ের আবেদন এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে।    তবে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মিয়ানমারে এখনো নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সংগঠনটি আরও বলেছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।    মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল এর আগে বলেছিলেন, ফেরত পাঠালে কারও ওপর নিপীড়নের ঝুঁকি থাকলে বা জীবন হুমকির মুখে পড়লে সরকার ওই ৫ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থীকে ফেরত পাঠাবে না। ফলে প্রত্যাবাসনের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ নয় এবং দেশটির আইনে শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ব্যবস্থাও নেই। তবু দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হয়ে আছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।    রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘও দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো সীমিত। সংস্থাটি জোর করে কাউকে ফেরত না পাঠানোর নীতির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে।    মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত থাকায় প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১০:১০
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ২৪ ঘণ্টা পর কাদার নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার ৯৪ বছরের বৃদ্ধা

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ২৪ ঘণ্টা পর কাদার নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার ৯৪ বছরের বৃদ্ধা

জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান

জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান

রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ

৩৪ বছর বয়সে গোপন রোগে মারা গেলেন ‘বিশ্বের কনিষ্ঠতম রাজা’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব নয়, ট্রাম্পকে বলেছিলাম চাপ আরও বাড়াতে: নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পরামর্শও তিনি ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।    মঙ্গলবার জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈঠকে ইরানকে মোকাবিলায় তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এগুলো হলো কূটনৈতিক সমঝোতা, সামরিক পদক্ষেপ এবং তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো।   নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি হলে ইসরায়েলের আপত্তি নেই। তবে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে এমন চুক্তি সম্ভব কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ সময় ইরানের নেতাদের ‘সেভেজ’ বা ‘বর্বর’ বলে আখ্যা দেন তিনি।    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ট্রাম্পকে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে ইরানের ওপর ‘চাপ আরও শক্ত করার’ কথা বলেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটি ওই কৌশলেরই অংশ।   সোমবার ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও শিপিং খাতকে লক্ষ্য করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের কিছু প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।    ট্রাম্পও বুধবার ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলকে সমর্থন করে বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিজয়ের দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধ চলছে। ইরান ও ওমান বর্তমানে প্রণালির ভবিষ্যৎ নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা করছে। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি খোলা এবং সেখানে মাইনও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।   এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে নতুন সামরিক সরঞ্জামও আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পুনর্গঠন ও নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ করা হয়েছে।   ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান কঠোর হওয়ার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৬:৭
৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত

৪৭ বছর পর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে সিরিয়া, ভিসা কার্ডে বিল দিলেন আল-শারা

নেপালের নুয়াকোটে বন্যার পর কাদায় ঢেকে গেছে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

‘স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলাম, কিন্তু কাদার স্রোত তাকে নিয়ে গেল’: নেপালের বন্যা নিয়ে বৃদ্ধের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলি

গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলির অভিযোগ

0 Comments