‘প্যাকপ্যাক না করে গুলি ছুড়ুন’, ট্রাম্পকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ ইসরায়েলি আইনপ্রণেতার
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের একজন প্রভাবশালী সদস্য। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান জভিকা ফোগেল ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, "ডোনাল্ড, যদি আপনার গুলি করার থাকে তবে গুলি ছুড়ুন, হাঁসের মতো প্যাকপ্যাক করবেন না।"
জভিকা ফোগেল ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দল 'জুয়িশ পাওয়ার' (ওতজমা ইহুদিয়া)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এই দলটি ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারের অন্যতম শরিক। দলটির প্রধান উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা ইতামার বেন-গভিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফোগেল।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইসরায়েল-গাজা পরিস্থিতি বা মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে আসা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেন ফোগেল। পশ্চিমা ঘরানার একটি জনপ্রিয় সিনেমাটিক সংলাপের ধাঁচে (If you have to shoot, shoot. Don’t talk) তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এই ব্যঙ্গাত্মক বার্তা দেন। মূলত ট্রাম্পের দীর্ঘ বাগাড়ম্বর বা মৌখিক হুঁশিয়ারির সমালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফোগেলের এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে এক ধরণের অদৃশ্য দূরত্ব বা অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবির ও ইসরায়েলি কট্টরপন্থীদের মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণে এই ধরণের কড়া সমালোচনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উগ্রপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত জভিকা ফোগেলের এই মন্তব্যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বা ট্রাম্প শিবিরে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেসেটের একজন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধানের পক্ষ থেকে এমন সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreদক্ষিণ কোরিয়ায় উড়োজাহাজের ভেতরে উচ্চস্বরে ধর্মপ্রচার এবং যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের বারবার সতর্কতা উপেক্ষা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে দুই ধর্মযাজককে জরিমানা করেছেন আদালত। দুজনকেই ১০ লাখ কোরিয়ান ওন করে জরিমানা করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট দেওয়া রায়ে সিউল সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক সিও জি-ওন ৬৪ ও ৬৮ বছর বয়সী দুই ধর্মযাজককে বিমান নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ জেজু থেকে গিমপোগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিমানটি জেজু বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে গিমপোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার পর ৬৪ বছর বয়সী এক ধর্মযাজক আসন ছেড়ে বিমানের মাঝের পথ বা আইলে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে ধর্মীয় বক্তব্য দিতে শুরু করেন। কেবিনকর্মীরা তাকে বারবার আসনে ফিরে যেতে এবং বক্তব্য বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু তিনি তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, যিশুকে বিশ্বাস না করলে তারা নরকে যাবেন। এরপর তার সঙ্গে থাকা ৬৮ বছর বয়সী আরেক ধর্মযাজকও একইভাবে বিমানের আইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে উচ্চস্বরে ধর্মীয় কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ‘হ্যালেলুজাহ’ বলে যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, তারাও নরকে যাবেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন যাত্রী আপত্তি জানান। কেবিনকর্মীরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু দুই ধর্মযাজক তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। একজন কেবিনকর্মী সতর্ক করতে এগিয়ে গেলে তিনি পাল্টা তাকে উপদেশ না দিতে বলেন। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের আপত্তি ও বারবার সতর্কতার পরও প্রায় ১৩ মিনিট ধরে তাদের এই আচরণ চলতে থাকে। পরে আদালতে দুই ধর্মযাজক অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি ছিল, বিমানে তাদের আচরণ আইন অনুযায়ী ‘বিশৃঙ্খল আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো ছিল না। একই সঙ্গে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাননি বলেও দাবি করেন। তবে আদালত তাদের সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। রায়ে বলা হয়, আইনসম্মতভাবে সংগ্রহ ও যাচাই করা প্রমাণের ভিত্তিতে দুই আসামির বিশৃঙ্খল আচরণ এবং তা করার অভিপ্রায় দুটিই প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাদের বিমান নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান নিরাপত্তা আইনে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন আচরণ নিষিদ্ধ। এর মধ্যে কেবিনে উচ্চস্বরে চিৎকার, নির্দেশ অমান্য করা, অন্য যাত্রীদের বিরক্ত বা বিপদে ফেলা এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খল আচরণ অন্তর্ভুক্ত। আইন অনুযায়ী, কোনো যাত্রী বিমানের ভেতরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেলে পাইলট ও কেবিনকর্মীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। প্রয়োজন হলে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র বা বাঁধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাকে নিয়ন্ত্রণ ও আলাদা করা যায়। বিমান অবতরণের পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে তদন্তও করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবেও বিমানে যাত্রীদের এমন আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা, আইসিএওর সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো যাত্রী বিমানবন্দর বা উড়োজাহাজে নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে না চললে কিংবা বিমানবন্দরকর্মী বা কেবিনকর্মীদের নির্দেশ উপেক্ষা করে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ব্যাহত করলে তাকে বিশৃঙ্খল যাত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিমানে যাত্রীদের এমন আচরণ যে এখনো বৈশ্বিকভাবে বড় সমস্যা, তারও ইঙ্গিত মিলেছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা, আইএটিএর পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৪০টির বেশি বিমান পরিচালনাকারী সংস্থার কাছ থেকে ৯৩ হাজার ১০৭টি বিশৃঙ্খল যাত্রী আচরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ওই হিসাবে প্রতি ৩৫৫টি ফ্লাইটে প্রায় একটি এমন ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানের কেবিনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কেবিনকর্মীদের নির্দেশ মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও চলন্ত বিমানে অন্য যাত্রীদের অসুবিধায় ফেলে বা কেবিনের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন আচরণ আইনগত পরিণতি ডেকে আনতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই ঘটনায় আদালতের জরিমানা তাই শুধু দুই ধর্মযাজকের আচরণের বিচার নয়, উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আচরণ ও কেবিনকর্মীদের নির্দেশ মানার বিষয়টিকেও আবার সামনে এনেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ফেইক বিলাসী জীবনযাপনের প্রদর্শন, স্বীকার টেট ভাইদের
এবার লেবাননের তিন খ্রিষ্টান শহর দখলে নিলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ
ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনায় ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার কমল তেলের দাম
রাশিয়ার তামবভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর দেশটির অন্যতম বড় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বিশাল লজিস্টিকস সেন্টারে আগুন ধরে পুরো স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার ২৬ আগস্ট রাতে ওই হামলায় একজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তামবভের গভর্নর ইয়েভগেনি পারভিশভ জানান, কতোভস্ক শহরের লজিস্টিকস সেন্টারটিতে ড্রোন হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন প্রায় ১ লাখ বর্গমিটার এলাকায় ছড়িয়ে যায়, যা প্রায় ১৪টি ফুটবল মাঠের সমান। পরে তিনি জানান, আগুনে লজিস্টিকস সেন্টারটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। হামলার সময় গুদামে থাকা কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় একজন কর্মী আহত হয়ে কনকাশনে আক্রান্ত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ওয়াইল্ডবেরিজও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ওই স্থাপনায় নতুন পণ্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। তামবভ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোন হামলার দায় ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। ওয়াইল্ডবেরিজের এই গুদামটি এর আগেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছিল। গত ১৮ জুলাই একই কতোভস্ক স্থাপনায় হামলায় সাতজন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। এরপর জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদাম ও লজিস্টিকস স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার আরেক বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওজনের লজিস্টিকস সেন্টারগুলোকেও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বাজারে ওয়াইল্ডবেরিজ ও ওজন দুই প্রতিষ্ঠানই বড় অংশ দখল করে আছে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি যখন ধীরগতির প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে, তখন বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস অবকাঠামোয় এ ধরনের হামলা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকদের মতে। এদিকে তামবভের পাশের লিপেতস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলার পর একটি বাড়িতে আগুন লেগে এক ব্যক্তি ও ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বেলগোরোদ অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই বারবার দাবি করে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।
‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি
চাঁদে পৌঁছানোর পথের হিসাব করেছিলেন নাসার এই গণিতবিদ, ১০১ বছর বয়সে মৃত্যু
ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে
অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের কিরানা হিলস এলাকায় একটি ভারতীয় ড্রোন বা ‘লোইটারিং মিউনিশন’ আঘাত করেছিল। তবে ওই এলাকায় পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান। মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে অপারেশন সিঁদুরের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় বাহিনীর পাঠানো ড্রোনগুলোর মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের সারগোধা এলাকার আশপাশে রাডার শনাক্ত করা। লক্ষ্য খুঁজে না পেয়ে একটি ড্রোনের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করে থাকতে পারে। কিরানা হিলস সারগোধা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এলাকাটি পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়ে আসছে। ফলে অপারেশন সিঁদুরের সময় সেখানে বিস্ফোরণ বা ধোঁয়া দেখা যাওয়ার খবর নিয়ে ভারতীয় হামলার সম্ভাবনা ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। জেনারেল চৌহান বলেন, অপারেশন সিঁদুরের আগে সারগোধা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি লোইটারিং মিউনিশন পাঠানো হয়েছিল। এগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু সময় ধরে অবস্থান করে লক্ষ্য খুঁজতে পারে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো লক্ষ্য শনাক্ত না হলে ডিভাইসটির জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়ে সেটি অন্য কোথাও আঘাত করতে পারে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করা ড্রোনটি সম্ভবত সারগোধার কাছে রাডার খুঁজছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য শনাক্ত করতে না পারার পর সেটি কিরানা হিলসের কোনো স্থাপনা বা পাহাড়ে আঘাত করে থাকতে পারে। তবে এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত ঘটনা, পরিকল্পিত হামলা নয়। ভারতের সাবেক এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এ কে ভারতীর বক্তব্যও উল্লেখ করেন। ভারতী এর আগে বলেছিলেন, কিরানা হিলসে পাকিস্তানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি। নতুন এই বক্তব্যে অবশ্য কিরানা হিলস এলাকায় ভারতীয় অস্ত্র আঘাত করার সম্ভাবনা নিয়ে আগের জল্পনার একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেল। একই সঙ্গে জেনারেল চৌহান স্পষ্ট করেছেন, ভারতের পরিকল্পিত সামরিক লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা নয়। অপারেশন সিঁদুর শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ৭ মে। ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ওই অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হয় এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়। অনুষ্ঠানে জেনারেল চৌহান অপারেশন সিঁদুরের আরেকটি বিষয়ও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের স্কারদুতে হামলার অনুমোদন ভারতীয় বিমানবাহিনী পেয়েছিল। তবে পরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেখানে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। এরপর বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে পাকিস্তানের ভোলারি এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ভোলারির একটি হ্যাঙ্গারে ভারতীয় হামলার ছবি ও স্যাটেলাইটচিত্রও প্রকাশ্যে আসে। কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোনের আঘাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে জেনারেল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, কিরানা হিলসের পারমাণবিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কোনো পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়নি। সেখানে ড্রোনের আঘাত ছিল লক্ষ্য শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ফল। এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই ব্যাখ্যার বাইরে কিরানা হিলসে ঠিক কোন স্থাপনায় ড্রোনটি আঘাত করেছিল বা কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির নির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সংবাদসূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
বিড়ালের ডাক ভেবে এগিয়ে যেতেই আবর্জনার স্তূপে মিলল নবজাতক
দক্ষিণ কোরিয়া যেতে চেয়েছিলেন, শহরের নামের ভুলে পৌঁছে গেলেন উত্তর কোরিয়ায়