জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “যে সংবিধান ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করে, সেই সংবিধান আমরা চাই না।” বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদর উপজেলা শাখা। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিদ্যমান সংবিধান দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, এই সংবিধানের কাঠামোর মধ্য দিয়েই অতীতে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে পরিবর্তন আনতে পারলে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দল পুনরায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে, যা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ সময় অবৈধভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের কাজ করতে না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্থানীয়দের এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এখনো প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা বন্ধ করা জরুরি।
সরকারি দল ভুল পথে হাঁটলে তাদের সঠিক পথ দেখাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে এনসিপি মহানগর উত্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এনসিপির লড়াই অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, বিএনপি গণভোটের পক্ষে কথা বললেও প্রধান সংস্কারগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং নিজেদের মতো করে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত এনসিপিকে ক্রমেই আরও শক্তভাবে বিরোধিতার অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান। আদালত সূত্রে জানা গেছে, জালাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি গ্রহণের আবেদন জানিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি এবং আব্দুল কাদেরকে ২ নম্বর আসামিসহ মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট নথিপত্র পর্যালোচনা ও শুনানি শেষে অভিযোগটি আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান না পেয়ে তা খারিজ করে দেন। মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন আবু বকর মজুমদার, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আদনান আবির, জামান মৃধা, রিফাত রশিদ ও হাসিব আল ইসলাম। এদিকে মামলার আবেদনের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ২ নম্বর আসামি আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বিগত সরকারের আমলেও তিনি একইরকম মামলার আসামি হয়ে জেল খেটেছেন। তবে বর্তমান সময়ে এমন অভিযোগে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি হিসেবে ৮৪৪ জন এবং জাতিসংঘের হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যার মধ্যে পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গণ-অভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো দোসর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শুরু হলে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করার পর সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দেওয়া হলে বিরোধী দলের সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা প্রতিবাদ জানান। পরে জাতীয় সংগীত শুরু হলে সবাই দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলীয় সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং টেবিল চাপড়ে প্রতিবাদ জানান। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ চালিয়ে যান। উল্লেখ্য, সংসদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন।
বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গ করে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিএনপি ভালো বার্তা দেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত একজন এমপি। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ার পরও বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই শপথ নিয়ে তাদের সরকারের কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, তারা আবারও পূর্বের স্বৈরাচারী ধারার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে এবং সেই স্বৈরাচারী লেজ টেনে ধরা শুরু করেছে, যা তাদেরকে মর্মাহত করেছে।
রাঙামাটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিবসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর দলত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে গত ৫ মার্চ জেলা কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিব উজ্জ্বল চাকমাসহ সাতজন এবং ৯ মার্চ জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির ৮৪ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। নেতাকর্মীদের এই ধারাবাহিক প্রস্থানের ধারায় এবার শীর্ষ নেতার সরে দাঁড়ানো দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বিপিন জ্যোতি চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। তবে সাংগঠনিক পর্যায়ে ধারাবাহিক অসহযোগিতা, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব এবং দলের ভেতরে উপদলীয় কোন্দল তৈরি হওয়ায় তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, ১১ মার্চ থেকেই তিনি সকল দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিপিন জ্যোতি চাকমা জানান, তিনি এখনো দাপ্তরিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি, তবে আজকের মধ্যেই তা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবেন। এদিকে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এম শোয়াইব বিষয়টিকে 'ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, এনসিপির পার্বত্য অঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, বিপিন জ্যোতি চাকমা এর আগেও একবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফিরে এসেছিলেন। তিনি কোনো আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক চাপে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রমজান মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত খেজুরের বিষয়টি সামনে এনে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এই ইস্যু নিয়ে এবার জোরালো বক্তব্য দিলেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু। আজ বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি হিসেবে নির্বাচিত না হলে এই সরকারি বরাদ্দের বিষয়টি সাধারণ মানুষের অগোচরেই থেকে যেত। তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই খেজুর সাধারণ মানুষ হাতে পেতও, তবে তারা মনে করত কোনো নেতা ব্যক্তিগতভাবে এটি পাঠিয়েছেন। সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তিনি হাসনাত আবদুল্লাহর এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা ডা. মিতু তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, প্রায় আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। তিনি জানান, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুরের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর জন্য বিশেষ বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। সেই বরাদ্দের অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই ওই অঞ্চলের রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য ১১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ক্ষমতার লোভ আমার কোনোদিন ছিল না, তবে জনগণের ভালোবাসার লোভ আমার চিরকাল থাকবে। আমি যতদিন আছি, আমার অঞ্চলের মানুষের হকের এক পয়সাও নষ্ট হতে দেব না।" যারা দুর্নীতি করে জনগণের অধিকার হরণ করে, তারা বেশিদিন টিকবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে কাজের হিসাব তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ‘পুঁজি হলো সততা, ন্যায়-ইনসাফ-জনতা’ স্লোগান সামনে রেখে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি সংসদীয় এলাকায় বরাদ্দকৃত সরকারি সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডিজিটাল বোর্ডে স্লাইড দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপিত এই লাইভটি অনেকটা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। লাইভে তিনি দেবিদ্বার উপজেলায় চলমান সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘কমিশনমুক্ত ব্যবসার নিশ্চয়তা’ দিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান। লাইভের শেষ দিকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ‘জবাবদিহিতা’ নামে একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ খোলার ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে তার নির্বাচনী এলাকার সব উন্নয়ন কাজের নিয়মিত আপডেট এবং প্রতিটি প্রকল্পের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানান। রাজনীতিতে আসার আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষকতা ও কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি ‘স্কুল অব এক্সিলেন্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পান। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও শিক্ষকসুলভ ভঙ্গিতে লাইভে এসে কাজের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করাকে তিনি জনগণের সামনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন। লাইভে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ধারণা দেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি জনগণের সামনে এসে এভাবে কাজের হিসাব দেওয়া এবং শিক্ষকতার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসনাত আব্দুল্লাহর এই ‘লাইভ ক্লাস’ উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে।
সংস্কার সভা (রিফর্ম অ্যাসেম্বলি) গঠনের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী ১২ মার্চ সংসদ ভবনের সামনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সংসদের পাশাপাশি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য আলাদা অধিবেশন প্রয়োজন। সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে বহু মানুষের ত্যাগ ও রক্ত রয়েছে। সেই বাস্তবতায় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংস্কার সভা গঠনের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশন শুরু হলেও কেবল সংসদের ভেতরের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংস্কার সভা গঠন জরুরি। পাটওয়ারী আরও বলেন, ১২ মার্চ যদি সংসদ ভবনের সামনে যেতে বাধা দেওয়া হয়, তবুও আন্দোলনকারীরা পিছু হটবেন না। অতীতে আন্দোলনের সময় দমন-পীড়ন সত্ত্বেও তারা রাজপথে থেকেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। তরুণদের এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার কারণে রমনা থানার বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে এ শোকজ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, “রোববার সকালে আপনি দলের অনুমতি না নিয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। সুতরাং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।” এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে অপরাধমূলক ভয়ভীতি দেখানো ও মানহানি করার অভিযোগ এনে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে রমনা থানার বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন।
রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর উত্তরার ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশ আয়োজিত ঢাকা সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক স্লোগান ও রাষ্ট্রীয় প্রতীকের পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে বক্তব্য শেষ করা হতো “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে, বর্তমানে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” ব্যবহৃত হচ্ছে। তার মতে, শুধু রাজনৈতিক প্রতীক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন ও সামাজিক সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমাজে নারী ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি সুশীল সমাজ ও নারী অধিকারকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে অনেকেই নীরব থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগীয় নেতারা।
রাঙামাটিতে National Citizen Party (NCP) জেলা কমিটির সাতজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তাদের পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করে। পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব উজ্জল চাকমা, সংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা ও মিশন চাকমা, সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রনয় বিকাশ চাকমা এবং সদস্য বিনয় চাকমা ও সুলেখা চাকমা। পদত্যাগপত্রে নেতারা জানান, আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে তারা দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় নীতি ও জোট রাজনীতি ঘিরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। পদত্যাগকারীরা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি তার স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে অন্য একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের জন্য সেই আদর্শে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব উজ্জল চাকমা পদত্যাগপত্রে লেখেন, তিনি অনেক আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শুরুতে দলটিকে বহুত্ববাদে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক শক্তি মনে হলেও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে দলের স্বতন্ত্র অবস্থান দুর্বল হয়েছে বলে তার ধারণা। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উজ্জল চাকমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। রাঙামাটি জেলা এনসিপির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, কয়েকজন নেতার পদত্যাগের খবর তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত আবেদন পাওয়া যায়নি। সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি যাচাই–বাছাই করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহ এক শিশুকে নিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন। সেখানে তিনি মির্জা আব্বাসকে ‘চাঁদাবাজ’ বলে উল্লেখ করেন এবং পরবর্তীতে শিশুটিকেও একই কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিএনপির এক সিনিয়র নেতাকে নিয়ে তাঁকে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায় এবং সেখানে একটি শিশুর উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভিডিওটি নির্বাচনকালীন সময়ে ধারণ করা হয়েছিল এবং এটি একটি ‘ক্লোজড গ্রুপে’ সীমাবদ্ধ ছিল। তবে পরবর্তীতে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ভিডিওটির জন্য তিনি নিঃশর্তভাবে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছেন এবং এ ধরনের কাজ করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক শালীনতা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে সেই বিষয়ে তিনি সচেতন থাকার অঙ্গীকারও করেন। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ-উত্তর রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য নষ্ট করার সংস্কৃতিকে তাঁরা সমর্থন করেন না। সুস্থ, সহনশীল ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চাই সবার প্রত্যাশা। সবশেষে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য আবারও দুঃখ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা।
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে তারাবির নামাজের পর মাজার এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এনসিপির নেতা সারজিস আলম একের পর এক স্লোগান দিচ্ছেন এবং সেখানে উপস্থিত অনেকেই তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সাড়া দিচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে মাজার প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়াকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে সিলেট জেলা এনসিপির সদস্য-সচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, তারাবির নামাজ শেষে মাজার এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক তরুণ জড়ো হন। তাঁদের দেখে উপস্থিত অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং পরে সারজিস আলমও তাতে কণ্ঠ মিলান। তিনি দাবি করেন, এতে মাজারের পবিত্রতা বা মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। একটি মহল বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে সিলেট জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উপদপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দরগাহ মসজিদের পবিত্র প্রাঙ্গণে পরিকল্পিতভাবে স্লোগান দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় নয়। এ ছাড়া নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম মন্তব্য করেন, সুলতানুল বাঙাল হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের সময় অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল দলীয় স্লোগান দিয়ে মাজার এলাকার আদব নষ্ট করেনি। ঘটনাটি ঘিরে সিলেটসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলতে থাকলেও এনসিপির পক্ষ থেকে এটিকে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। তবে আসিফ মাহমুদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তার দাবি, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির এসব অভিযোগ স্রেফ অপপ্রচার, যা কখনোই প্রমাণিত হবে না। বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব জনসমক্ষে তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এমন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজ আসিফ মাহমুদের পরিবারের ৪ সদস্যের মোট ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যারা সরকার পরিবর্তনের পর ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশে থেকে আইনি বিধি মেনে সব হিসাব দিচ্ছেন, তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে আসিফের বিরুদ্ধে যে ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল ও অপপ্রচার চলছে, তা দিনশেষে কেবল অভিযোগ হিসেবেই টিকে থাকবে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এসবের কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ফেসবুক পেজ থেকে আয়ের বিষয়টি সচরাচর গোপন রাখতেই পছন্দ করেন ইনফ্লুয়েন্সার বা তারকারা। তবে এক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে মাসিক ও বাৎসরিক আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো চমক দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ৪৯ লাখ ছাড়িয়েছে। নিয়মিত জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে ভিডিও, ছবি এবং মতামত শেয়ার করেন তিনি। সম্প্রতি এক তথ্যে তিনি জানান, তার একটি ভিডিও ১৭ মিলিয়ন ভিউ হওয়ার বিপরীতে তিনি মাত্র ৪০ ডলার আয় করেছেন। তবে সবশেষ দুই দিনেই এসেছে ১২০ ডলার। আয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে হাসনাত জানান, গত মাসে তার পেজ থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকার সমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি আয়ের এই ধারা বজায় থাকে, তবে তার মাসিক গড় আয় ৪ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সেই হিসেবে বছরে তার আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ লাখ টাকা। সাধারণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন থাকে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া আয়ের হিসাব জনসমক্ষে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন নজির গড়লেন এই নেতা। তার এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও অনুসারীরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া–এর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য, লেনদেন বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথি বিএফআইইউতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আসিফ মাহমুদ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠকদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়। তবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েন আসিফ মাহমুদ। নিজ জেলা কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি। বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দলীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাতিল করতে আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। সেই রায়কে অকার্যকর করতে আদালতকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, বিচার বিভাগকে দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে এর পরিণতি ভালো হবে না। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো এবং তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচি যথেষ্ট নয়; চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়া দলের মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী–ও বক্তব্য দেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ ও সংবাদ প্রচারে বাধার মধ্যেও সঠিক তথ্য জানাতে প্রথম আলোর ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক Sarjis Alam। শনিবার উগ্রবাদীদের অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত Prothom Alo ভবনে আয়োজিত ‘আলো’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সারজিস আলম বলেন, জুলাইয়ের সংকটময় সময়ে যখন ইন্টারনেট শাটডাউন ছিল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছিল, তখন প্রথম আলোর মাধ্যমেই নিহত ও হতাহতদের প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হয়েছিল। কঠিন সেই সময়ে পত্রিকাটির প্রচেষ্টাকে তিনি সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রথম আলোর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে যেন কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। মতপার্থক্য থাকলেও তা কোনোভাবেই সহিংসতা বা ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। এ সময় দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, মনিরা শারমিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের নির্মিত ‘আলো’ প্রদর্শনীটি ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত অগ্নিদগ্ধ ভবনে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রথমে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রদর্শনীর কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ২ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় শিশু তাসলিমা আক্তারের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামপুরার উলন এলাকায় নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি একটি গর্হিত অপরাধ। যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, এলাকা ও প্রভাবশালী যেকোনো ব্যক্তি হলেও তা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না; পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ঘোষণার পরও মব কালচারের ঘটনা ঘটছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির সময় শেষ হয়ে এসেছে এবং প্রথম অধিবেশনে সংস্কার ও রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। মন্ত্রী আনন্দের সঙ্গে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে আখতার হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি জানান, ‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল কর্মসূচি শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উক্ত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস