এনসিপি

হাতে লিফলেট থাকায় হেনস্তার শিকার মা, হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে প্রশ্ন ছেলের

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত এক নারী কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেবিদ্বারের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারীর ছেলে আশিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে এই হেনস্তার বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানান। পরবর্তীতে প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ নিজে সেই পোস্টটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।   আশিকুর রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, তার মা এলাকায় নিয়মিত ধর্মীয় তালীম করেন এবং জামায়াত সমর্থক হিসেবে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। আজ নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে বের হলে স্থানীয় সন্ত্রাসী আল আমিন শুভ্রর হাতে তিনি হেনস্তার শিকার হন। আশিকুর রহমানের দাবি, তার মায়ের কাছে হাসনাত আবদুল্লাহর লিফলেট পাওয়াই ছিল এই হেনস্তার মূল কারণ।   ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে প্রশ্ন রেখে লেখেন, "আমি একজন দেবিদ্বারের মানুষ হিসেবে হাসনাত ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই—আপনার জন্য যারা মাঠে কাজ করছে, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কোথায়?" এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা কতটুকু? নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে এই হেনস্তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন হাসনাত আবদুল্লাহ
‘যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখাবেন’

যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুরে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।    হাসনাত বলেন, আমরা প্রত্যেকটা ভোটারের কাছে যাবো। বার বার যাবো। এই জুলাই যোদ্ধারা, যারা মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে এসেছে, তাদেরকে ভাট দখলের ভয় দেখায়েন না। যারা ভোট দখল করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে আমাদের ছাত্র শক্তি ও শিবিরের ভাইয়েরাই যথেষ্ট।    সমাবেশে উপস্থিত মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সন্তান নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে আপনারা যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, সেভাবে এই শাপলা কলিকে জেতানোর জন্য ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দিয়ে বাসায় গিয়ে নাস্তা করবেন।’      তিনি বলেন, ‘আপনাদের আচলে পরম মমতায় আমাদের আগলে রাখবেন। যারা মা-বোনের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখাবেন। যারা আপনাদের বিবস্ত্র করতে চাই, তারা ক্ষমতায় এলে সমগ্র বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করে ফেলবে। যারা আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করতে চাই, মাথার হিজাব খুলে ফেলতে চাই, তাদের ভোট দিয়ে জবাব দেবেন।’    

তাবাস্সুম মোহাম্মদ ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
জামায়াতে আমিরের অ্যাকাউন্টের প্রসঙ্গে তারেক রহমান
বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক-ম্যাক কিছুই হয়নি

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা জাতির সামনে বলছেন, আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, আপনাদের কোনো হ্যাকিং হয়নি। বাঁচার জন্য আপনারা মিথ্যা কথা বলছেন। যারা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারে, তারা নির্বাচনের পরে কী পরিমাণ মিথ্যা বলতে পারে—তা সহজেই অনুমেয়।’   সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার উপশহর কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায়। সে কারণেই দলটির শীর্ষ নেতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। অথচ এখন সেই দলই আবার নিজেদের নারী কর্মীদের গ্রামে গ্রামে পাঠাচ্ছে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের জন্য। তিনি অভিযোগ করেন, হয়তো কাউকে সামান্য অর্থও দেওয়া হতে পারে, কিন্তু পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।   তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরাও ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে অংশ নেন। সে ক্ষেত্রে তাদের দলের নেতারা নারীদের সম্পর্কে কী ধরনের মানসিকতা পোষণ করেন, সে প্রশ্ন তোলার অধিকার সবার রয়েছে। তারেক রহমান ইসলামের ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন কর্মজীবী ও সফল ব্যবসায়ী নারী। বদরের যুদ্ধে মুসলমান বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও রসদের ব্যবস্থাপনা তিনি করেছিলেন। একই যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও হজরত আয়েশা (রা.)–এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল, যা আজকের নার্সিং ব্যবস্থার প্রাথমিক রূপ।   তিনি বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামের এক নেতা বাংলাদেশের কর্মজীবী নারী, মা ও কন্যাদের সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যারা নিজেদের দেশের মানুষকে এভাবে অবমাননাকর ভাষায় চিহ্নিত করে, তাদের কাছ থেকে জনগণ ভালো কিছু আশা করতে পারে না। নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নারী সমাজকে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারে থাকাকালে মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে চালু করেছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারের একজন মা বা গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।   তিনি বলেন, নারী-পুরুষ উভয়ের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে বাংলাদেশ কখনো এগোতে পারবে না। নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই কেবল দেশ এগোবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে যেভাবে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, এখন আবার একটি মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ উদ্দেশ্যে জামায়াত তাদের লোকজনকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহে পাঠাচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।   ভোট গণনা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট গণনায় দেরি হওয়ার অজুহাতে কেউ যদি সুযোগ নিতে চায়, তাহলে তা প্রতিরোধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ভোট দেওয়ার ও ভোট গণনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জনসভায় তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। কৃষিকার্ডের মাধ্যমে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে। যুবক-যুবতীদের জন্য আইটি পার্ক স্থাপনসহ কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারে এলে যশোরের উলাশী খাল পুনঃখননসহ সারাদেশে হাজার হাজার খাল খনন করে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে এবং জিয়াউর রহমানের আমলে চালু ‘জিকে প্রকল্প’ পুনরায় কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন।   মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবার—মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের। ঐক্যবদ্ধভাবেই দেশ স্বাধীন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। জনসভার শেষ পর্বে তিনি যশোরের ছয়টি আসনসহ বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার ২২টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।   যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
হাসনাত আবদুল্লাহ
ফ্যামিলি কার্ডের নামে চাঁদাবাজির লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে এক পথযাত্রায় তারা এসব মন্তব্য করেন।   পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে আয়োজিত সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘দেশের এক পক্ষ যখন ভারতীয় গোলামি করার জন্য মুখিয়ে আছে, অন্য পক্ষ তখন আজাদী বা স্বাধীনতার আকঙ্ক্ষায় অবিচল। বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের নামে জনগণের অর্থ লুটপাটের এক নতুন মিশন শুরু হয়েছে। এটি মূলত চাঁদাবাজির নতুন লাইসেন্স ছাড়া আর কিছুই নয়।’   স্থানীয় চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীর মানুষ আজ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। আগে যেখানে ১০০ টাকা দিতে হতো, এখন সেখানে ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ভয়ে ব্যবসা ছেড়ে ঘরে বসে থাকছেন। তাই জনগণের এখন ফ্যামিলি কার্ড নয়, বরং চাঁদাবাজি বন্ধের কার্ড প্রয়োজন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই অঞ্চলে দেশের বড় খনি ও বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি, বরং লুটেরারা সম্পদ পাচার করেছে।   সমাবেশে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা করা হলে তা ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনবে। যারা দেশের মানুষকে ১৫ বছর নির্যাতন করেছে, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা শুভ ফল দেবে না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধানের শীষের বাইরে ভোট দিলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের। যারা বিকল্প পথে ক্ষমতা দখলের পায়তারা করছে, তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দিল্লির মদদে ফ্যাসিবাদ ফেরার চেষ্টা করলে তাদেরও হাসিনার মতো দিল্লি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’   নির্বাচনী এই পথযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর-৫ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোটের ইশতেহার তুলে ধরেন। সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের’ লক্ষ্যে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ রোববার রাতে রংপুরের কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ বললেও গোপনে না-এর কার্যক্রম চালাচ্ছে বিএনপি: হাসনাত আবদুল্লাহ

আসন্ন গণভোটে বিএনপি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও গোপনে ‘না’-এর কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।   রোববার রাতে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। রাত আটটার দিকে কাউনিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ পথসভায় তিনি বলেন, বিএনপি ওপেনে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু গোপনে তারা না-এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ওপেন-গোপনের খেলা বন্ধ করে জনতার কাতারে নেমে এসে গণভোটে মুখে যেটা বলবেন, কাজে সেটাই করে হ্যাঁকে জিতিয়ে আগামী সংসদে ক্ষমতার কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।   দেশে দুর্নীতি বন্ধ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোটারদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ভারতের যে রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই জাতীয় পার্টিকে ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন করতে হবে। তারা ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে মৃত; ১২ তারিখ হবে তাদের জানাজা।   এ পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খানসহ দলটির অন্যান্য নেতারা।   সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ রংপুর-৪ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে আখতার হোসেনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আখতার হোসেন শুধু কাউনিয়ার জন্য নয়, বরং দেশের যেকোনো আসন থেকে নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখেন।   হাসনাত বলেন, “তিনি শুধু নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হননি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে। যখন মিডিয়া নীরব ছিল, প্রশাসন ও মূলধারার শক্তিগুলো হাসিনাকে সমর্থন দিচ্ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যারিয়ারের চিন্তায় নির্যাতনের বিষয় উপেক্ষা করছিল, তখন একাই যিনি দাঁড়িয়েছিলেন নিপীড়নের বিরুদ্ধে—তিনি আমাদের মজলুম নেতা আখতার হোসেন।”

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
হাতিয়ায় হান্নান মাসউদের সমর্থক বিএনপিতে যোগদান

নির্বাচনী হাওয়া বইতে থাকা নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যুবশক্তি নেতা কামাল উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।   গত ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) রাতে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। কামাল উদ্দিন উপজেলার জাহাজমারা পশ্চিম শাখা জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।   দলে যোগদান শেষে কামাল উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শরীক হতেই তিনি বিএনপির পতাকাতলে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমি পারিবারিক সিদ্ধান্তে যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের অধিকার আদায়ে আগামীতে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাব।”   কামাল উদ্দিনের যোগদানের সময় উপস্থিত হাতিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল্লাহিল মজিদ নিশান দাবি করেন, শুধু কামাল উদ্দিনই নন, গত কয়েক দিনে এনসিপি ও অন্যান্য দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে হাতিয়ায় ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   তবে এই দলবদলকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, হাতিয়ার মাটিতে এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে শাপলা কলির প্রতীকের পাশে দাঁড়াচ্ছে। দুই-একজন নেতা দল পরিবর্তন করলে মাঠপর্যায়ে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বরং এনসিপি আরও শক্তিশালী হয়ে রাজপথে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
আসিফ মাহমুদ
একটি দল জাতীয়তাবাদের কথা বলে কিন্তু বিদেশি নাগরিকদের প্রার্থী করছে: আসিফ মাহমুদ

নির্বাচন আসলেই কিছু রাজনৈতিক দল বিদেশি নাগরিকদের প্রার্থী করে দেশে ‘অতিথি পাখি’র রাজনীতি শুরু করে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, শীতকালে যেমন সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখি আসে, তেমনি ভোটের মৌসুমে কিছু মানুষ বিদেশ থেকে এসে প্রার্থী হয় এবং ভোট শেষ হলে আবারও বিদেশে পাড়ি জমায়। এদের বর্জন করার সময় এসেছে।   আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ শাহজাদপুরের ঐতিহাসিক তাঁতশিল্পের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, "ব্রিটিশ আমল থেকে শাহজাদপুরের তাঁতশিল্পের খ্যাতি থাকলেও বুর্জোয়া শাসনের কারণে প্রান্তিক শ্রমিকরা এর সুফল পাননি। মধ্যস্বত্বভোগীরা আপনাদের পরিশ্রমের ফসল লুটে নিয়েছে। এনসিপি ক্ষমতায় আসলে শোষণের এই ধারা বন্ধ করে যার পরিশ্রম তাকেই ন্যায্য মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।"   প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের মান বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ করা হবে। সীমান্তে ফেলানী হত্যার মতো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বড় বড় দলগুলোর নীরবতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ এখন আর ব্যক্তিগত হিসাব করে না, বরং দেশের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা চায়। আপনারা ঋণ খেলাফিদের টাকা নিলেও ভোট দিবেন দেশপ্রেমিক ও আগ্রাসনবিরোধীদের।"   সাবেক এই উপদেষ্টা আসন্ন গণভোট বা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "হাসিনার মতো আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসক যেন বাংলাদেশে ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য আপনাদের অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।" তিনি একটি বিশেষ দলের দ্বিচারিতার সমালোচনা করে বলেন, "তাদের নেতারা মঞ্চে এক কথা বলে আর কর্মীরা মাঠে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালায়। যারা এমন মুনাফেকি করছে, তাদের চিনতে ভুল করবেন না।"   পথসভায় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন বলেন, "ঋণ খেলাফি আর বিদেশি নাগরিকরা সংসদে গেলে তারা সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং বিদেশের বেগম পাড়ার স্বার্থে আইন তৈরি করবে। তাই সচেতনভাবে আপনাদের সঠিক প্রতিনিধি বেছে নিতে হবে।"   জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান এবং এনসিপির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
এহসানুল মাহবুব জোবায়ের
১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে এনআইডি কার্ডেই সকল সেবা নিশ্চিত হবে: এহসানুল মাহবুব জোবায়ের

ফেনী-০১ আসনের রূপকার এবং জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের এম্বাসেডর এহসানুল মাহবুব জোবায়ের এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাদের জোট ক্ষমতায় আসলে নাগরিকদের আর ডজন ডজন কার্ড নিয়ে ঘুরতে হবে না; শুধুমাত্র এনআইডি কার্ডের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা ও সেবা নিশ্চিত করা হবে।   গত ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সুবারবাজারে গণভোটের প্রচারণা শেষে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। পথসভায় এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বর্তমান ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কিংবা স্বাস্থ্য কার্ডের মতো হাজারো কার্ড দিয়ে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। অতীতে আমরা দেখেছি, এসব কার্ড দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষকে চরমভাবে হয়রানি করা হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সেবা, টিআইএন (TIN) বা সরকারি ভাতার জন্য সাধারণ মানুষকে দলীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, যা অত্যন্ত অপমানজনক।"   তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে এখনই সাধারণ মানুষের এনআইডি এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। একে 'ভাওতাবাজি' উল্লেখ করে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ১১ দলীয় জোট দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে টাকার বিনিময়ে বা দলীয় বিবেচনায় কোনো সেবা বিক্রি হবে না।   উক্ত পথসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজ হোসাইন, নাহিদ রাব্বিসহ স্থানীয় ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা একযোগে শোষনমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষে আহত ১০

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি সার্ভিস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।   শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা ঘটে।   বিস্তারিত আসছে...

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
এনসিপিকে ‘বয়কট’ স্লোগান, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ

চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের বিরুদ্ধে জোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন ও শরিক দলের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, ১১ দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াত প্রার্থী মাঠে অনড় থাকা এবং এনসিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘বয়কট’ স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। তারা জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।   রোববার (২৫ জানুয়ারি) বোয়ালখালী উপজেলায় এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনসিপির বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল আরিফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এলাকায় রাজনৈতিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।   নেতাদের অভিযোগ, বোয়ালখালীতে ডা. আবু নাসেরের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই জোটের প্রার্থী জোবাইরুল আরিফের বিরুদ্ধে মিছিল করা হয়েছে এবং সেখানে ‘এনসিপি বয়কট’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং ‘জোটের ঐক্যের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেতারা।   এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতায় এনসিপিকে চট্টগ্রাম-৮ সহ সারাদেশে ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এনসিপি কেবল এই একটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জোটের অন্য শরিকরা সরে দাঁড়ালেও জামায়াত প্রার্থী এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছেন।   তারা বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়েছে, জামায়াতের এ ধরণের কর্মকাণ্ড সেই শক্তির ক্ষতি করছে। আমরা জানতে চাই, চট্টগ্রাম-৮ আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না এবং জোটের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হচ্ছে কি না।   সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সেলিম, বোয়ালখালী উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী আবরার হাবিব, ফয়সাল রায়হান এবং যুবশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সংগঠক সাঈদ বিন ইব্রাহিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছেলে শাপলা কলির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইছেন ধানের শীষে

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের নির্বাচনি মাঠে দেখা দিয়েছে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত রাজনৈতিক চিত্র। ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী, অথচ বাবা সক্রিয়ভাবে ভোট চাইছেন বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ইতোমধ্যে রামগঞ্জে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।   জানা গেছে, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম এবারের নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে তার বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা রামগঞ্জ উপজেলার ৪নং ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।   শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা ইছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঙ্গে একাধিক পথসভায় অংশ নেন। এসব সভায় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন।   এ বিষয়ে আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা বলেন, রাজনীতি তার আদর্শ ও বিশ্বাসের জায়গা। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলেই তিনি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে রয়েছেন। তবে বাবা হিসেবে তিনি ছেলের জন্য দোয়া করেন বলেও উল্লেখ করেন।   এ প্রসঙ্গে এনসিপির প্রার্থী মাহবুব আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে, তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের আলোচনায় বিষয়টি বেশ আলোড়ন তুলেছে। অনেককে বলতে শোনা গেছে, “ঘর না গুছিয়ে মাঠ গোছানো সম্ভব নয়।”   এই ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক অবস্থান রামগঞ্জের নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0