যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় আয়োজন ‘বাংলা মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ জুন, রবিবার। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে।
গ্রেটার আটলান্টার বার্কমার সিটির বার্কমার হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে থাকছে নানা আয়োজন, যা প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি তুলে ধরবে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে দেশি-বিদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণে জমকালো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সংগীত, নৃত্য ও বিনোদনমূলক বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেবেন প্রবাসী ও আমন্ত্রিত শিল্পীবৃন্দ। পাশাপাশি মেলায় থাকবে দেশীয় খাবারের স্টল, শিশু-কিশোরদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ।
আয়োজকরা জানান, এই মেলার মাধ্যমে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলেও তারা আশাবাদী।
সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজন সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জর্জিয়া ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে পরিবার-পরিজনসহ উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলে শিশুদের অনলাইনে প্রলুব্ধ করার অভিযোগে বিশেষ অভিযানে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা অনলাইনে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন, তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরী বলে মনে করলেও বাস্তবে অপর প্রান্তে ছিলেন আন্ডারকভার গোয়েন্দারা। জ্যাকসনভিল শেরিফ অফিস (জেএসও) পরিচালিত ‘অপারেশন চেকমেট’ নামের এই অভিযান গত এপ্রিলের শেষ দিকে পাঁচ দিনব্যাপী পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় ইন্টারনেটভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ইউনিটের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছদ্মবেশে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত স্থানে দেখা করতে এলে একে একে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে মাদকবিরোধী ইউনিট এবং বিশেষ অস্ত্র ও কৌশলগত ইউনিটও অংশ নেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বয়স, পেশা ও সামাজিক অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে একজন শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থল, স্টেডিয়াম ও এরিনার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরেকজন ছিলেন যুব ক্রীড়া কার্যক্রমের প্রশিক্ষক। এছাড়া বিভিন্ন পেশা ও পারিবারিক পরিচয়ের ব্যক্তিরাও এই অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। জ্যাকসনভিল শেরিফ অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের অভিযান শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অনলাইন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং তাদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। শিশু অধিকার ও অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের লক্ষ্য করে অনলাইনে প্রতারণা, প্রলোভন এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা বাড়ছে। এ কারণে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তারা কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে সে বিষয়ে নিয়মিত নজর রাখা। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে যে, শিশুদের জন্য উপযোগী হিসেবে প্রচারিত কোনো প্ল্যাটফর্মও শতভাগ নিরাপদ নয়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্যাকসনভিল শেরিফ অফিস শিশুদের অনলাইনে প্রলুব্ধ করার কোনো ঘটনা বা সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি চালকবিহীন রোবটট্যাক্সি বাজার থেকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েইমো। দেশটির জাতীয় মহাসড়ক ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই গাড়িগুলোর সেলফ-ড্রাইভিং সফটওয়্যার হাইওয়ের রাস্তা বন্ধের সংকেত এবং সড়ক নির্মাণাধীন এলাকাগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওয়েইমো গত এপ্রিল ও মে মাসে ফিনিক্স এবং সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াতে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়। তদন্ত চলাকালীন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই গাড়ি কোম্পানিটি সাময়িকভাবে হাইওয়ে বা মহাসড়কগুলোতে তাদের রোবটট্যাক্সি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এনএইচটিএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ওয়েইমোর পঞ্চম প্রজন্মের 'অটোমেটেড ড্রাইভিং সিস্টেম' (এডিএস) চালিত জাগুয়ার মডেলের গাড়িগুলোর ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফিরিয়ে নেওয়া সমস্ত গাড়ির সফটওয়্যারেই এই মারাত্মক ত্রুটি বিদ্যমান রয়েছে। হাইওয়ের অন্যান্য সাধারণ বিপদ এড়াতে গিয়ে গাড়িগুলোর সফটওয়্যার ভুলবশত সড়ক নির্মাণাধীন এলাকাগুলোকে কম গুরুত্ব দিচ্ছিল অথবা একদমই চিনতে পারছিল না, যার ফলে গাড়িগুলো তীব্র গতিতে নির্মাণাধীন এলাকায় ঢুকে পড়ছিল। ফিনিক্স এলাকায় ঘটে যাওয়া এমন ছয়টি ঘটনায় দেখা গেছে, ওয়েইমোর রোবটট্যাক্সিগুলো হাইওয়ের রাস্তা বন্ধের সাইনবোর্ড না মেনেই সরাসরি নির্মাণাধীন জোনে ঢুকে পড়ে। অন্যদিকে মে মাসে সান ফ্রান্সিসকো এলাকায় আরও সাতটি গাড়ি হাইওয়ের সচল নির্মাণাধীন লেনে প্রবেশ করে এবং রাস্তা বন্ধের জন্য রাখা কোনগুলোর (Cones) মাঝখান দিয়েই বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে চলে যায়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এমনই এক ভুক্তভোগী যাত্রী ইলিয়ট স্লেড সংবাদমাধ্যমকে জানান, মে মাসে তিনি ও তার বাগদত্তা একটি ওয়েইমো গাড়িতে করে সান ফ্রান্সিসকোর বাসায় ফিরছিলেন। সে সময় গাড়িটি হঠাৎ একটি নির্মাণাধীন এলাকায় তীব্র গতিতে চলতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে পুলিশ গাড়িটিকে ধাওয়া করে। চালকবিহীন সেই গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় তীব্র আতঙ্কে তারা দুজনেই বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন তারা নিশ্চিত মারা যাচ্ছেন। এই ত্রুটি ও গাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ওয়েইমোর একজন মুখপাত্র জানান, হাইওয়ের নির্মাণাধীন এলাকায় গাড়িগুলোর পারফরম্যান্স আরও উন্নত করার জায়গা রয়েছে বলে তারা চিহ্নিত করেছেন। সে কারণে গত মাসে তারা স্বেচ্ছায় হাইওয়েতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখেছিলেন এবং বিষয়টি রাষ্ট্রীয় ও ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করে এনএইচটিএসএ-এর কাছে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে গাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জমা দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে আঘাত হানা মরসুমের প্রথম ট্রপিক্যাল ঝড় ‘আর্থার’-এর অবশিষ্টাংশের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আমেরিকার গলফ কোস্ট বা উপসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত এবং তীব্র ঝড়ো হাওয়ার কারণে বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং দুর্গতদের উদ্ধারে নামাতে হয়েছে বিশেষ উদ্ধারকারী দল। আটলান্টিক মহাসাগরে তৈরি হওয়া এই ট্রপিক্যাল ঝড়টি রূপ নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়লেও এর প্রভাবে লুইজিয়ানা এবং মিসিসিপি রাজ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লুইজিয়ানার লেক চার্লসের আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা ডোনাল্ড জোনস জানান, রাজ্যের একটি গ্রামীণ এলাকায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে রেকর্ড দুই ফুটের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই হয়েছে বৃহস্পতিবার। তীব্র বৃষ্টিপাতের জেরে লুইজিয়ানার রাজধানী থেকে ৭০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অ্যাভোয়েলস প্যারিশ এলাকার কমপক্ষে ২০০টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একে একটি চরম বিপর্যয়কর বন্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন আবহাওয়াবিদেরা। অন্যদিকে মিসিসিপির পার্কিনস্টন এলাকার একটি ক্যাম্পগ্রাউন্ডে আকস্মিক বন্যার কারণে বহু মানুষ আটকা পড়েন, যেখান থেকে উদ্ধারকারীরা আরভি এবং গাড়ির জানালা ভেঙে মানুষদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। মিসিসিপির গভর্নর টেট রিভস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে, রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে ঝড়ের পর রাস্তাঘাট পরিষ্কার করার কাজে নিয়োজিত থাকা এক কাউন্টি ক্রু শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ মিসিসিপির অ্যাঙ্কর লেক বাঁধের নিচের প্লাবিত এলাকার প্রায় ৩০টি বাড়িঘর থেকে বাসিন্দাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের কারণে লুইজিয়ানার অ্যাভোয়েলস প্যারিশ এবং নিউ অরলিন্স এলাকায় বেশ কয়েকটি টর্নেডো আঘাত হেনেছে বলে আবহাওয়া অফিস নিশ্চিত করেছে। নিউ অরলিন্সের কাছে অ্যাভনডেল এলাকায় একটি শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে চারটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এতে সামান্য আহত হওয়া দুই ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড এবং বন্যপ্রাণী বিষয়ক কর্মকর্তারা।