জর্জিয়ার বাসিন্দাদের অ্যাকাউন্টে এই সপ্তাহেই ঢুকবে ট্যাক্স রিফান্ডের টাকা
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। রাজ্যের ট্যাক্স ফাইলারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই সপ্তাহ থেকেই কর রিফান্ডের টাকা জমা পড়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।
জর্জিয়া রাজস্ব বিভাগ নিশ্চিত করেছে, উদ্বৃত্ত বাজেট থেকে কর ফেরতের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ২০ মার্চ গভর্নর ব্রায়ান কেম্প একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেন, যার আওতায় এই কর রিফান্ড প্রদান করা হচ্ছে। ঘোষণার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই নাগরিকরা এই অর্থ পেতে শুরু করবেন—এখন সেই সময়ই চলছে।
এই কর্মসূচির আওতায় একক করদাতারা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন এবং যৌথভাবে কর দাখিল করা দম্পতিরা সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত এককালীন রিফান্ড পেতে পারেন।
গভর্নর কেম্প বলেন, কঠোর পরিশ্রমী নাগরিকদের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব করতে এবং তাদের উপার্জনের একটি অংশ ফেরত দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনসভায় সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কর রিফান্ড কর্মসূচি রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সাধারণ মানুষের ব্যয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। ইতোমধ্যে অনেক করদাতা তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওকল্যান্ড শহরে অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে বড় আয়োজন করেছে স্থানীয় কমিউনিটি। শহরের ফ্রুটভেল এলাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘দিয়া দে লস মুয়ের্তোস’ উৎসবে প্রায় এক লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছে সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল। এবারের আয়োজনটি শুধু সাংস্কৃতিক উৎসবেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অভিবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংহতির বিষয়ও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।উৎসবে অংশ নেন বিভিন্ন বয়স ও সংস্কৃতির মানুষ। সংগীত, নাচ, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং স্মৃতিবেদি তৈরির মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন। এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অভিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিশেষ আয়োজন। সেখানে আইনগত পরামর্শ, অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য এবং ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়।যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রুটভেল এলাকার অনেক ছোট ব্যবসাও ক্রেতা কমে যাওয়ার সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও উঠে আসে উৎসবে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন স্মৃতিবেদিতে অভিবাসন হেফাজতে মারা যাওয়া ব্যক্তি, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অভিবাসী এবং যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হয়।আয়োজকদের এবারের মূল বার্তা ছিল—সংস্কৃতি, পরিচয় ও অধিকার রক্ষায় মানুষকে একসঙ্গে থাকতে হবে। উৎসবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, ভয় ও অনিশ্চয়তার সময়েও কমিউনিটির পারস্পরিক সহযোগিতা মানুষকে সাহস জোগায়। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে তাঁরা নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি আইনি সহায়তা, সামাজিক যোগাযোগ এবং স্থানীয় সহযোগিতার সুযোগ পান।ওকল্যান্ডের এই আয়োজন আবারও দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে ১৫৮ পরিবারের আবাসন উন্নয়নে আড়াই কোটি ডলারের উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশু থেকে ছড়ানো বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা
ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ, স্কুলে ছুটি ও জরুরি সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের হেলথ ইনস্যুরেন্সের জন্য ওপেন এনরোলমেন্ট বা নতুন করে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত রোববার (১ নভেম্বর) থেকে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নতুন ইনস্যুরেন্স কেনা, পুরোনো প্ল্যান নবায়ন কিংবা পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন বাসিন্দারা। তবে শুধু মাসিক প্রিমিয়াম কম দেখে প্ল্যান বেছে নিলে চিকিৎসার সময় বড় অঙ্কের অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই ইনস্যুরেন্স বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফক্স বিজনেসের প্রতিবেদনে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স প্রফেশনালসের প্রেসিডেন্ট মাইকেল উইন্টার বলেছেন, প্রথমেই গত এক বছরে চিকিৎসার পেছনে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, নিয়মিত ওষুধ, হাসপাতালে ভর্তি কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নেওয়ার হিসাব বিবেচনায় রাখতে হবে। পাশাপাশি আগামী বছরে পরিবারের সদস্যদের কী ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও পরিকল্পনায় রাখা জরুরি। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাসিক প্রিমিয়াম। আগের বছরের তুলনায় ২০২৭ সালে অনেক হেলথ ইনস্যুরেন্স প্ল্যানের খরচ পরিবর্তিত হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব প্রিমিয়ামের ওপর পড়তে পারে। ফলে আগের বছরের প্ল্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন না করে নতুন প্রিমিয়াম এবং সম্ভাব্য সরকারি আর্থিক সহায়তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তৃতীয়ত, পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো চিকিৎসক বা হাসপাতাল আগের বছর ইন-নেটওয়ার্কে থাকলেও নতুন বছরে সেই সুবিধা নাও থাকতে পারে। আউট-অব-নেটওয়ার্ক চিকিৎসা নিলে অতিরিক্ত টাকা দিতে হতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধগুলো প্ল্যানের আওতায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। চতুর্থ বিষয় ডিডাক্টিবল ও আউট-অব-পকেট খরচ। ডিডাক্টিবল হলো ইনস্যুরেন্স নির্দিষ্ট চিকিৎসা খরচ বহন শুরু করার আগে গ্রাহককে নিজে যে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। যেমন, কোনো প্ল্যানের ডিডাক্টিবল দুই হাজার ডলার হলে সাধারণত নির্দিষ্ট চিকিৎসাসেবার প্রথম দুই হাজার ডলার গ্রাহককেই দিতে হয়। এর পাশাপাশি চিকিৎসকের ফি, কো-পেমেন্ট, কো-ইনস্যুরেন্স এবং বার্ষিক সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত খরচের সীমাও তুলনা করা জরুরি। কম প্রিমিয়ামের প্ল্যানে ডিডাক্টিবল বেশি থাকতে পারে। পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হেলথ সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা এইচএসএ। যোগ্য ইনস্যুরেন্স প্ল্যানের সঙ্গে এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চিকিৎসার জন্য কর-সুবিধাসহ অর্থ সঞ্চয় করা যায়। নির্ধারিত চিকিৎসা খরচে ব্যবহার করলে সাধারণত এই অর্থ উত্তোলনে ফেডারেল আয়কর দিতে হয় না। অ্যাকাউন্টে অব্যবহৃত অর্থ পরবর্তী বছরেও রাখা যায়। তবে সব ইনস্যুরেন্স প্ল্যান কিংবা গ্রাহক এই সুবিধার যোগ্য নন। এদিকে ফেডারেল মার্কেটপ্লেস হেলথকেয়ার ডট গভের মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কভারেজ পেতে ২০২৬ সালের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্ল্যান নির্বাচন করতে হবে। সাধারণ ওপেন এনরোলমেন্ট চলবে ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে সময়সীমা আলাদা। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়ায় নিবন্ধন চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। নিউইয়র্কে জানুয়ারি থেকে কভারেজ পেতে ১৫ ডিসেম্বর এবং নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নতুন প্ল্যান বেছে নেওয়ার আগে পারিবারিক আয়, সরকারি প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্যতা এবং চিকিৎসার সম্ভাব্য মোট খরচ বিবেচনা করা উচিত। মেডিকেইড ও শিশুদের চিপ কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তিরা বছরজুড়ে আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে মেডিকেয়ার ও চাকরিদাতার মাধ্যমে পাওয়া ইনস্যুরেন্সের নিবন্ধনের নিয়ম ও সময়সীমা আলাদা হতে পারে।
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন মুসলিম শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়ল শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ অঙ্গরাজ্যে হ্যালোইনের ক্যান্ডিতে সূচ ও ধাতব বস্তু, বিশেষ সতর্কতা জারি ; তদন্তে পুলিশ
নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় তরুণীকে গলায় ছুরিকাঘাত,হামলাকারীকে ধরতে ১০ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া এ. জেমস। ডেমোক্র্যাটিক ও ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তিনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান ও কনজারভেটিভ পার্টির মনোনীত প্রার্থী সারিথা কোমাটিরেড্ডি। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এর আগে ২৪ অক্টোবর শুরু হওয়া আগাম ভোট শেষ হয়েছে ১ নভেম্বর। নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনবিষয়ক ওয়েবসাইট এনওয়াইসি ভোটসে প্রকাশিত প্রার্থী পরিচিতিতে জেমস জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আবাসন খাতে জবাবদিহি এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুনর্নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, ভোক্তা অধিকার এবং আইনগত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবেন। জননিরাপত্তার বিষয়ে জেমস দাবি করেছেন, ২০১৯ সাল থেকে তাঁর দপ্তরের উদ্যোগে নিউইয়র্কের রাস্তাঘাট থেকে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সরানো হয়েছে। একই সময়ে মাদক পাচার, সংগঠিত অপরাধ ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আবাসন সংকট মোকাবিলায় বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জেমস। তাঁর দাবি, বাড়ির দলিল জালিয়াতি, ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে বৈষম্য এবং অনিরাপদ আবাসন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তাঁর দপ্তর ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি ও করপোরেট অনিয়মের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। জেমসের নির্বাচনী বক্তব্য অনুযায়ী, ভোক্তা অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁর দপ্তর ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসীদের অধিকার রক্ষাও জেমসের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। মেডিকেইড, অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার অধিকার রক্ষায় কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আইসিইর অভিবাসন অভিযান পর্যবেক্ষণ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাটিরেড্ডি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বারবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থের প্রতারণা বন্ধে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাবেক এই ফেডারেল প্রসিকিউটর সাইবার অপরাধ, মেডিকেইড জালিয়াতি এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণা মোকাবিলার অঙ্গীকার করেছেন। গৃহহীনতা ও মানসিক স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি। জেমস ২০১৯ সাল থেকে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট ও সিটি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে কোমাটিরেড্ডি এক দশকের বেশি সময় ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেছেন। মাদক পাচার, অর্থপাচার, সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার অপরাধের মামলায় তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদটি অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ আইনগত দায়িত্বগুলোর একটি। ভোক্তা সুরক্ষা, আর্থিক প্রতারণা, নাগরিক অধিকার এবং অঙ্গরাজ্যের স্বার্থে মামলা পরিচালনায় এই দপ্তরের ভূমিকা রয়েছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কে জয়ী হন, তার ওপর নিউইয়র্কের বিভিন্ন আইনগত উদ্যোগের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নির্ভর করবে। সূত্র: এনওয়াইসি ভোটস, নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনস
যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, পেনসিলভানিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ১৪০০ জন
‘আমরা বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি, আর সময় নেই’, ফ্লোরিডায় মৃত্যুর আগে পাইলটের শেষ বার্তা