সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

কোর্ট

এক্সনমোবিল ও সানকর এনার্জির বিরুদ্ধে বোল্ডারের জলবায়ু মামলার শুনানির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিক্ষোভ।
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সোমবার শুরু হয়েছে এমন একটি মামলা, যার রায় দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বহু মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। মামলায় কলোরাডোর বোল্ডার শহর ও কাউন্টি অভিযোগ করেছে, তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও সানকর এনার্জির জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি বাড়িয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে।   বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোম্পানি দুটির কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইছে। এর মধ্যে অবকাঠামো মেরামত, পরিবেশগত ক্ষতি, জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়া ব্যয়ের বিষয় রয়েছে।   এক্সনমোবিল ও সানকর অবশ্য এই মামলা এগিয়ে নেওয়ার বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণসংক্রান্ত বিষয় মূলত ফেডারেল আইনের আওতায় পড়ে। তাই কোনো একটি শহর বা অঙ্গরাজ্যের আইন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্গমনের জন্য কোম্পানিগুলোকে দায়ী করা উচিত নয়।   কোম্পানি দুটির পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনও অবস্থান নিয়েছে। সরকারের যুক্তি, বোল্ডারের মামলা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলো ফেডারেল পরিবেশনীতি পাশ কাটিয়ে জাতীয় পর্যায়ের জ্বালানি ও জলবায়ু নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারবে।   মামলাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার একই ধরনের প্রায় ৬০টি মামলা করেছে। এসব মামলায় জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানির কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট যদি তেল কোম্পানিগুলোর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর মধ্যে অনেক মামলা আটকে যেতে বা বাতিল হতে পারে।   অন্যদিকে বোল্ডারের পক্ষে রায় গেলে স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির আর্থিক দায় নিয়ে জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার পথ আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্পের ওপর ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   মামলাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা। সুপ্রিম কোর্টকে মূলত বিবেচনা করতে হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যার ক্ষতির জন্য স্থানীয় আদালতে অঙ্গরাজ্যের আইন ব্যবহার করে জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় কি না।   সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এই মামলায় অংশ নিচ্ছেন না। তার আর্থিক ঘোষণায় কয়েকটি তেল ও গ্যাস কোম্পানির শেয়ার থাকার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। ফলে তিনি মামলাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।   আলিটো অংশ না নেওয়ায় মামলাটিতে সমান সংখ্যক ভোট পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিচের আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের মামলা তেল উৎপাদন বন্ধ করার দাবি নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় জনগণ ও করদাতাদের যে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, তার একটি অংশের দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ওপর দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।   অন্যদিকে জ্বালানি কোম্পানিগুলো আশঙ্কা করছে, বোল্ডারের মামলা চলতে দিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের অসংখ্য মামলা হতে পারে। এতে জ্বালানি শিল্পের ওপর বিপুল আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে এবং জাতীয় জ্বালানি নীতিতে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ভিন্নতা তৈরি হতে পারে।   এই মামলার রায় শুধু এক্সনমোবিল বা সানকর এনার্জির জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্প, স্থানীয় সরকার এবং জলবায়ু ক্ষতির আইনি দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।   সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী বছরের জুনের মধ্যে আসতে পারে। ততদিন পর্যন্ত বোল্ডারসহ একই ধরনের মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই এই মামলার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকবে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে প্রায় ১৯ বছর দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে চাকরি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। শুধু চাকরি হারানোই নয়, দীর্ঘ কর্মজীবনে বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে গোলাম মাওলাকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।    অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম মাওলা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে হাইকোর্ট বিভাগের অফিস সহকারী পদে চাকরি নিয়েছিলেন। তিনি ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে চাকরিতে যোগ দেন। � BarTabazar দীর্ঘ সময় চাকরি করার পর তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৯/২০২১ করা হয়। বিভাগীয় কার্যক্রমে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সরকারি বিধি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।   তবে বিষয়টি চাকরিচ্যুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে তাঁর নিয়োগ হওয়ায় চাকরিটি শুরু থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, বৈধ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার কারণে চাকরির পুরো সময়ের বেতন-ভাতার ওপর তাঁর অধিকারও স্বীকৃত হবে না—এমন অবস্থানই নেওয়া হয়েছে অফিস আদেশে।   হিসাব অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গোলাম মাওলা বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগ শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ায় পুরো অর্থ ফেরত চাওয়া হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে তাঁকে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় চালান ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।    ঘটনাটি সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময় শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জাল বা ভুয়া সনদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন চাকরি করার একাধিক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, ২০২৬ সালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ৭৩ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বন্ধ এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ফেরত নেওয়ার নির্দেশের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।    তবে সুপ্রিম কোর্টের এই ঘটনাটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই প্রায় দুই দশক চাকরি করেছেন। ২০০৭ সালে যোগদানের পর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালে বিভাগীয় মামলা এবং ২০২৬ সালে চাকরি থেকে অপসারণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত।   এখন অফিস আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ৪২ লাখের বেশি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে গোলাম মাওলার। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, সে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
কিম জং উনকে ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলল দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত
কিম জং উনকে ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলল দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত ২০২০ সালে সীমান্তে আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওন বা প্রায় ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় দেন।   কায়েসং সীমান্ত এলাকায় থাকা ওই কার্যালয়টি ২০১৮ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চালু করা হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের ১৬ জুন উত্তর কোরিয়া বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভবনটি ধ্বংস করে। সে সময় উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছিল, দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমান্তে সরকারবিরোধী প্রচারপত্র পাঠানো বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।   ঘটনার তিন বছর পর, ২০২৩ সালের জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করে। এটিই উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সরাসরি করা প্রথম মামলা বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও এপি।   আদালত দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি করা পুরো ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওনই অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ধ্বংস হওয়া যোগাযোগ কার্যালয়ের জন্য ১০ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ওন এবং পাশের একটি সহযোগিতা কেন্দ্রের ক্ষতির জন্য ৩৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ওন ধরা হয়েছে।   তবে রায় হলেও উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা কঠিন। মামলার শুনানিতে উত্তর কোরিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পিয়ংইয়ংকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই রায়টি বাস্তবে অর্থ আদায়ের চেয়ে প্রতীকী আইনি পদক্ষেপ হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার মধ্যে আবারও সংলাপ ও সহযোগিতা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।   সোর্স: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও শুল্ক ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টকে তীব্র আক্রমণ ট্রাম্পের
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও শুল্ক ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টকে তীব্র আক্রমণ ট্রাম্পের

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন আদালত 'দেশের প্রতি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।' সোমবার ট্রুথ সোশ্যালl-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আদালত তার আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শত শত বিলিয়ন ডলারের সুবিধা নষ্ট করেছে। তিনি আরও বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বিষয়ে আদালতের অবস্থান নিয়েও তার গভীর আপত্তি রয়েছে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, বিচারপতিরা যদি মার্ক লেভিন-এর অনুষ্ঠান দেখতেন, তাহলে 'এই অর্থ উপার্জনের প্রতারণা' চলতে দিতেন না। ট্রাম্পের মতে, আদালতের উচিত দেশের স্বার্থে তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করা। তিনি সতর্ক করে বলেন,'দেশ এত বেশি ভুল সিদ্ধান্ত সহ্য করতে পারবে না।' গত বছর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। তার দীর্ঘদিনের দাবি, সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে গত ১২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪তম সংশোধনী এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সকল ব্যক্তিকেই নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। গত সপ্তাহে এই নির্বাহী আদেশ নিয়ে শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতালে কি মায়েদের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে? আর বিচারপতি নীল গোরসুচ জানতে চান, এই আদেশে নেটিভ আমেরিকানদের কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে। ট্রাম্প আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'দেশের কল্যাণে সাধারণ বুদ্ধি ব্যবহার করুন' এবং ১৪তম সংশোধনীর পুনর্ব্যাখ্যা করার জন্য বিচারপতিদের উৎসাহিত করেন।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০