জামাত

বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচ জামাতের আয়োজন
বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচ জামাতের আয়োজন

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে একাধিক জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে।   শুক্রবার (২০ মার্চ) ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঈদের দিন এখানে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।   ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সকালে ধারাবাহিকভাবে জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে।   প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান। দ্বিতীয় জামাতে দায়িত্ব পালন করবেন পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী।   তৃতীয় জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন। চতুর্থ জামাতে থাকবেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী।   সবশেষ পঞ্চম জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।   এছাড়া প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
জামাতের শপথ গ্রহণ
অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জামায়াত এমপিদের দ্বৈত শপথ: বিএনপিকে ছাড়াই সংসদে শফিকুর রহমানের দল

রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় মোড় নিয়ে অবশেষে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণ করলেন জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে তারা এই বিশেষ শপথ গ্রহণ করেন। বিএনপি যখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে, তখন রাজপথের দীর্ঘদিনের মিত্রকে ছাড়াই জামায়াত জোটের জনপ্রতিনিধিরা সংসদীয় কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন।   আজকের এই শপথ গ্রহণের বিশেষত্ব ছিল এর দ্বৈত রূপ। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক দুটি শপথ বাক্য পাঠ করেন। যদিও এর আগে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ঘোষণা করেছিলেন যে, বিএনপি সংস্কার পরিষদে যোগ না দিলে জামায়াতও শপথ নেবে না, তবে জরুরি এক দলীয় বৈঠকের পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকতেই জামায়াত এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   শপথ গ্রহণের এই ক্ষণটি দেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি সদস্যরা সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলেও জামায়াত জোটের সদস্যরা দুপুর ১২টার কিছু পরেই সিইসির উপস্থিতিতে নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব বুঝে নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই শপথ পাঠ করানোর মধ্য দিয়ে সংসদীয় ও সংবিধান সংস্কারের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল সংশ্লিষ্ট দলগুলো। এখন দেখার বিষয়, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিএনপি-জামায়াতের এই ভিন্ন অবস্থান আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি ও অস্থিরতার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জামায়াত

দেশের চলমান অস্থিরতা এবং জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার প্রতিবাদে আজ রাজধানীতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে যখন নানা আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তেই রাজপথে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিতে যাচ্ছে দলটি।   ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন গণমাধ্যমকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর প্রক্রিয়া এবং এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের দাবিতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল সোমবারও একই স্থানে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোট বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় আজ আবারও রাজপথে নামছে দলটির নেতাকর্মীরা।   বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে বিএনপি-জামায়াতের সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বর্জনের ঘোষণা, অন্যদিকে শপথ গ্রহণ নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে এখন উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। বায়তুল মোকাররম এলাকায় আজকের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। জনমনে প্রশ্ন এখন একটাই, এই রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে কি সংসদীয় অচলাবস্থার কোনো সমাধান আসবে?

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
বিএনপি লোগো
সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না বিএনপির এমপিরা

দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যরা সরকারি শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত দলটির সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।   জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য প্রচলিত আইন অনুযায়ী শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক থেকে বিশেষ কোটায় প্লট বরাদ্দের নিয়ম দীর্ঘদিনের। তবে বিগত কয়েক দশকে এই সুবিধাগুলোর অপব্যবহার এবং জনগণের অর্থের অপচয় নিয়ে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের সেবক হিসেবে বিলাসিতা ত্যাগ করাই তাদের দলের প্রধান লক্ষ্য। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করতে চায় যেখানে সংসদ সদস্যরা নিজেদের সুযোগ-সুবিধার চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন।   উল্লেখ্য যে, বিএনপির এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অনুরূপ একটি কঠোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তাদের দল থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় প্লট কিংবা শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করবেন না। প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তির পক্ষ থেকে এই অভিন্ন অবস্থান দেশের রাজনীতিতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এই 'ত্যাগের রাজনীতি' সংসদ সদস্যদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0