ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন এমন অভিযোগে এক নারীকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে কানেকটিকাটের একটি ফেডারেল আদালত। কানেকটিকাটে বসবাসকারী ওই নারী বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিলেন বলে মিথ্যা তথ্য দেন।
কোনো এক সময়ে বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধী নাদা রাদোভান তোমানিচ হার্টফোর্ড থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় চলে যান, কিন্তু দূরত্বও তাকে তার কর্মকাণ্ডের পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
৫৩ বছর বয়সী নাদা রাদোভান তোমানিচকে বুধবার ব্রিজপোর্ট ফেডারেল আদালত আড়াই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ডেভিড সুলিভান-এর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১২ সালে হার্টফোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তার অপরাধমূলক অতীত গোপন করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর দশকে বসনিয়া যুদ্ধের সময় তোমানিচ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সেনাবাহিনী-এর ‘জুলফিকার স্পেশাল ইউনিট’-এ দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি ও তার ইউনিটের অন্য সদস্যরা বসনিয়ান সার্ব বেসামরিক বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান, যার মধ্যে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে নাগরিকত্বের আবেদনকালে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো আটক কেন্দ্রে কাজ করেননি বা কাউকে আটক রাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এমনকি তিনি কোনো যুদ্ধাপরাধেও জড়িত ছিলেন না বলে শপথ করে মিথ্যা তথ্য দেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) -এর কর্মকর্তার সামনে সাক্ষাৎকারের সময়ও তিনি শপথ নিয়ে এসব তথ্য অস্বীকার করেন। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তিনি অবৈধভাবে নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
রায় ঘোষণার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, বহু বছর পর হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়ার তদন্তকারীদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
এফবিআইয়ের নিউ হ্যাভেন ফিল্ড অফিস-এর কর্মকর্তারা জানান, এই মামলাটি শুধু নাগরিকত্ব আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয় নয়; বরং তার অতীতের সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ও ছিল।
এই মামলাটি তদন্ত করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তে সমন্বয় সহায়তা দেয় স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ-এর হিউম্যান রাইটস ভায়োলেটরস অ্যান্ড ওয়ার ক্রাইমস সেন্টার (এইচআরভিডব্লিউসিসি) এবং মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর ফ্রড ডিটেকশন অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি (এফডিএনএস) অফিস, পাশাপাশি এফবিআই-এর ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইউনিট (আইএইচআরইউ)।
এই তদন্তে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কর্তৃপক্ষকে—বিশেষ করে তাদের বিচার মন্ত্রণালয় ও রিপাবলিকা সার্পস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষসহ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফৌজদারি ট্রাইব্যুনালের অবশিষ্ট প্রক্রিয়া-কে ধন্যবাদ জানিয়েছে, যারা তদন্ত এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে।
মামলাটি পরিচালনা করেন ক্রিমিনাল ডিভিশনের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড স্পেশাল প্রসিকিউশন্স সেকশনের ট্রায়াল অ্যাটর্নি এলিজাবেথ নিলসেন এবং কানেকটিকাট জেলার সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি আনাস্তাসিয়া কিং ও অ্যাঞ্জেল ক্রুল, এইচআরএসপি ইতিহাসবিদদের সহায়তায়। এছাড়া, বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সও এ মামলায় সহযোগিতা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে বড় পরিসরের অভিযান শুরু করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ (Department of Labor)। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানব পাচার এবং শ্রমিক শোষণের অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ এবং বিভাগের মহাপরিদর্শকের (Inspector General) কার্যালয় জানায়, তদন্তে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির পাশাপাশি প্রোগ্রাম ইলেকট্রনিক রিভিউ ম্যানেজমেন্ট (PERM) ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রাথমিক ধাপে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তে এমন বহু অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে যেখানে কিছু নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভুয়া আবেদন জমা দিয়েছে, বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বেতনের একটি অংশ ফেরত নিয়েছে এবং কম মজুরির বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে। শ্রম বিভাগের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট মোকাবিলার জন্য তৈরি সরকারি কর্মসূচির উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে এবং অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মার্কিন কর্মসংস্থানের ক্ষতি করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে শ্রম বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যদি কেউ মনে করেন এইচ-১বি বা PERM কর্মসূচির জালিয়াতির কারণে তিনি চাকরি হারিয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাহলে যেন তা কর্তৃপক্ষকে জানান। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মীদেরও জোরপূর্বক শ্রম, প্রতারণামূলক নিয়োগ বা অন্য কোনো ধরনের শোষণের শিকার হলে অভিযোগ দায়ের করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি'এসপোসিটো ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন সমন জারি করা হয়েছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। ডি'এসপোসিটো বলেন, এই ধরনের জালিয়াতি শুধু অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মানব পাচারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আড়ালে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রও সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কেবল কারখানা বা সাধারণ শ্রমিক নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্বাস্থ্যসেবা খাতসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে। শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, এই তদন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘোষিত জালিয়াতি প্রতিরোধ টাস্কফোর্সের কার্যক্রমের অংশ। এইচ-১বি ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ-অভিবাসী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, যার মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীকে সাধারণত তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিতে পারে। প্রয়োজন হলে এই মেয়াদ ছয় বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়। ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট-এর আওতায় চালু হওয়া এই কর্মসূচি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান যোগ্য মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে। অন্যদিকে, PERM ব্যবস্থা কর্মসংস্থানভিত্তিক ইবি-২ এবং ইবি-৩ গ্রিন কার্ডের আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে শ্রম বিভাগ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য, আগ্রহী ও উপলভ্য মার্কিন কর্মী রয়েছে কি না। পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই ভারতের নাগরিক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ ভিসাধারীর জন্ম চীনে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলেছে, তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেলের এক অভিবাসী কাঠমিস্ত্রিকে তার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যার সামনেই চরম নিষ্ঠুরতায় মারধর এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর বিরুদ্ধে। এই অমানবিক আচরণের শিকার উলিসেস পেনা লোপেজ ও তার পরিবার মার্কিন ফেডারেল সরকার এবং দুটি বেসরকারি কারা কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। সান জোসের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলাটি স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে সানিভেলে নিজের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে গাড়িতে বসে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লোপেজ। ঠিক তখনই আচমকা মুখে মাস্ক পরা এবং বিশেষ রণসজ্জায় সজ্জিত একদল আইস (ICE) এজেন্ট তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন কর্মকর্তা লাঠি দিয়ে লোপেজের গাড়ির কাচে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। লোপেজ গাড়ি থেকে নেমে আসামাত্রই কর্মকর্তারা তাকে জাপটে ধরেন। লোপেজের স্ত্রী আবি পেনা, যিনি একজন মার্কিন নাগরিক, সিঁড়ির ওপর থেকে বাধা পেয়ে পুরো ঘটনাটি দেখছিলেন। অন্যদিকে, তাদের তিন বছরের শিশু সন্তান জানলা দিয়ে বাবার ওপর এই নৃশংস নির্যাতন প্রত্যক্ষ করে ভয়ে ও আতঙ্কে চিৎকার করে কাঁদছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক কর্মকর্তা লোপেজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধরেন এবং বাকিরা তাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর তাকে টেনে তুলে গাড়ির সঙ্গে চেপে ধরে বুক, পাঁজর ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারতে থাকেন। লোপেজ ইংরেজি ভালো না বোঝায় কর্মকর্তারা তাকে ইংরেজিতে গালিগালাজ ও চিৎকার করছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় লোপেজ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং খিঁচুনি শুরু হয়। চিকিৎসাগতভাবে তিনি এর আগে একটি ‘মিনি স্ট্রোক’-এর ভুক্তভোগী ছিলেন। কিন্তু গাড়ি থেকে নামানোর সময় হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় তাকে ৪ ফুট উঁচু ভ্যান থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি মাথায় মারাত্মক আঘাত পান। মাটিতে পড়া অবস্থায় আইস এজেন্টরা তাকে লাথি ও ঘুষি মারতে থাকেন। এমনকি এক কর্মকর্তা তার গলা চেপে ধরে পুরো শরীরের ভর দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন, যার ফলে লোপেজ দুইবার জ্ঞান হারান। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্যারামেডিকস ডেকে তাকে মাউন্টেন ভিউয়ের এল ক্যামিনো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর লোপেজকে বেকার্সফিল্ডের কাছে অবস্থিত ‘গোল্ডেন স্টেট এনেক্স’ এবং পরবর্তীতে ‘ক্যালিফোর্নিয়া সিটি’ নামের দুটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। এগুলো পরিচালনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিইও গ্রুপ ও কোরসিভিক। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও লোপেজকে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, বরং তীব্র শীতের মধ্যে সারারাত লাইট জ্বালিয়ে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। মাসের পর মাস তার প্রয়োজনীয় ওষুধ ও হৃদরোগের জন্য নির্ধারিত খাবার বন্ধ রাখা হয়। অবশেষে গত বছরের অক্টোবরে তাকে মেক্সিকোতে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করা হয়। এদিকে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এই মামলার দাবিগুলো অস্বীকার করেছে। তাদের একজন মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৩১ বছর বয়সী লোপেজ একজন চিহ্নিত অপরাধী, যিনি ২০১৩ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার অপরাধে সাজা হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বদা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বনিম্ন বল প্রয়োগ করে থাকে বলে দাবি করেন তিনি। তবে লোপেজের আইনজীবী এলেনা হজেস বলেন, অতীতে কারও কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকলেই তাকে এভাবে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার করার অধিকার আইস কর্মকর্তাদের নেই। আইস মূলত নিজেদের নির্মম নির্যাতন ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় এড়াতেই এখন লোপেজের অতীতের অপরাধের প্রসঙ্গ সামনে আনছে। বর্তমানে মেক্সিকোতে থাকা লোপেজ শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, নির্যাতনের কারণে তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। এদিকে সানিভেলে থাকা তার স্ত্রী তীব্র মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতায় ভুগছেন। আর তাদের তিন বছরের কন্যাসন্তানটি এখনো মাঝরাতে আতঙ্কে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। কদিন আগেই তাকে ঘরের কোণে বাবার ছবি জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেছে। লোপেজের পরিবার এই অন্যায়ের বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের চাহিদা। আর সেই চাহিদা পূরণে এবার দেশটির বিভিন্ন আদিবাসী ভূমিকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করছে একাধিক প্রযুক্তি কোম্পানি। এতে কিছু উপজাতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ দেখলেও, অন্যরা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ক্যাডো নেশন সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, ডেটা সেন্টার প্রকল্প তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে। ২০১৭ সালে উপজাতিটির ক্যাসিনো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হারিয়ে যায়। এরপর থেকেই কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ের নতুন পথ খুঁজছে সম্প্রদায়টি। ক্যাডো নেশনের চেয়ারম্যান ববি গঞ্জালেজ বলেন, তাদের সম্প্রদায় দরিদ্র নয়, তবে অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে রয়েছে। তার মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণ নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উপজাতির আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে একই সম্প্রদায়ের সবাই এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন না। ওকলাহোমার বিঙ্গার শহরে ক্যাডো সম্প্রদায়ের সাবেক কাউন্সিল সদস্য ট্রেসি নিউকুমেট বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াও জীবনযাপন করা সম্ভব, কিন্তু পানির বিকল্প নেই। তার আশঙ্কা, ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে স্থানীয় জলসম্পদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ডেটা সেন্টারগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে উচ্চক্ষমতার সার্ভার ঠান্ডা রাখার জন্য বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পানি ব্যবহার, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শব্দদূষণ এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছেন। আদিবাসী ভূমিকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বহুবার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন প্রকল্পগুলো নিয়েও অনেকের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কংগ্রেস অব আমেরিকান ইন্ডিয়ানস (এনসিএআই) এই খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া এক মতামতে বলেছে, উপজাতীয় ভূমি বিস্তৃত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে এসব অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে আদিবাসী নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এআই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলেও, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্নও সমান গুরুত্ব নিয়ে সামনে এসেছে।