যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ ও দিকনির্দেশনা সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা 'আইসিইএফ মনিটর'-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান 'ফ্র্যাগমেন'-এর সহযোগিতায় প্রকাশিত এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের জন্য ভিসার জটিলতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। আগে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত 'ডিউরেশন অফ স্ট্যাটাস' (D/S) সুবিধার আওতায় থাকতে পারতেন। তবে নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (সাধারণত ৪ বছর) জন্য শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হতে পারে। কোর্সের মেয়াদ বেড়ে গেলে তাদের নতুন করে 'এক্সটেনশন অফ স্টে' (EOS) আবেদন করতে হবে, যার জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অতিরিক্ত ফি প্রদানের প্রয়োজন পড়বে।
স্ক্রিনিং কোর্স শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার বা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আগে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত, যা এখন কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোতে (পোর্ট অফ এন্ট্রি) কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) কর্মকর্তাদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরও জোরালো করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের হাতে যথাযথ নথিপত্র এবং আই-২০ (I-20) ফরমের সকল তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথ (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় 'স্টেম ওপিটি' (STEM OPT) সুবিধাটি নিয়ে ২০২৬ সালে কড়াকড়ি বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক ওপিটি এবং এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। ফলে মাঝপথে পড়ালেখা বা প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় প্রবেশাধিকার পাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সময় (যেমন এফ-১ থেকে ওপিটি বা এইচ-১বি) দেশের বাইরে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় দেশ ত্যাগ করলে তা আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হলেও ২০২৬ সালের নতুন এই নীতিগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। যারা ২০২৬ সালের সেশনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা (Financial Proof) এবং একাডেমিক লক্ষ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালায় অভ্যস্ত হতে অভিজ্ঞ শিক্ষা পরামর্শক বা আইডিপি (IDP) এর মতো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: আইসিইএফ মনিটর ও ফ্র্যাগমেন (Fragomen) রিপোর্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের সবসময় বৈধ গ্রিন কার্ড সঙ্গে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্কিন সরকারের প্রকাশিত নির্দেশনায় স্থায়ী বাসিন্দাদের এই আইনি দায়িত্ব আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার প্রমাণ। তাই গ্রিন কার্ড শুধু বাড়িতে রেখে দিলেই হবে না, প্রয়োজনের সময় প্রদর্শনের জন্য তা নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কার্ডটির মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সবসময় সঙ্গে রাখার নিয়মও মেনে চলতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড সঙ্গে থাকলে তা বৈধ গ্রিন কার্ড বহনের শর্ত পূরণ নাও করতে পারে। এই বিধান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক গ্রিন কার্ডধারীর জন্য প্রযোজ্য। পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্য অ-নাগরিকদের ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের প্রমাণ সঙ্গে রাখার নিয়ম রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মধ্যে বৈধ অভিবাসন নথি বা কর্মসংস্থান অনুমতিপত্রের মতো নথি থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনের আওতায় থাকা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সঙ্গে না রাখলে আইনি পরিণতির মুখে পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার জরিমানা অথবা ৩০ দিন পর্যন্ত কারাদণ্ড, কিংবা দুটিই হতে পারে। তবে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা সাধারণত আগেই নিবন্ধিত হিসেবে বিবেচিত হন। তাই শুধু এই নিয়মের কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের আবার নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে—এমন নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেসব অ-নাগরিক আগে নিবন্ধিত হননি এবং যাদের ৩০ দিন বা তার বেশি সময় থাকার কথা, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা নিবন্ধন ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য মূল বিষয় হলো—গ্রিন কার্ডের মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করা এবং কার্ডটি সবসময় নিজের সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলারে নিতে কংগ্রেসে নতুন বিল
চাঁদপুরের জুম্মান তপদার যোগ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে
নিউইয়র্কের ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড, দুই বেডরুমের ভাড়া ছাড়াল মাসে ৮ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি মহসিন রানা নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভোরে এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে ডাকাতি করে। এ সময় দোকানের এক কর্মীকে গুলি করা হয়। পরে সন্দেহভাজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভোর আনুমানিক সাড়ে ২টার দিকে এক ক্রেতা দোকানে ঢুকে গুলিবিদ্ধ কর্মীকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে ক্রকেট কাউন্টি জরুরি সেবা, শেরিফের ডেপুটি ও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত মহসিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মহসিন রানা প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে পরিবার ও পরিচিতজনদের সূত্রে জানা গেছে। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে। তিনি টেনেসির ওই গ্যাস স্টেশনের কনভেনিয়েন্স স্টোরে কাজ করতেন। বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ১২ ও ৫ বছর বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বেলস পুলিশ, ক্রকেট কাউন্টি শেরিফের অফিস, টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, জ্যাকসন পুলিশ, ম্যাডিসন কাউন্টি শেরিফের অফিস, এটিএফ ও এফবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা ও তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে কাজ করেছে। তদন্তকারীরা এখন হামলার পুরো ঘটনা, ডাকাতির ধরন এবং গুলির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখা হয় এবং তদন্তের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। মহসিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টেনেসিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও পরিচিতজনেরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সূত্র: আওয়াজ বিডি
গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানি, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতায় খামারি ও রিপাবলিকানরা
সন্তানদের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেলেন মা
ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রিনিটি নদীতে নিখোঁজের পর দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রশান্ত মহাসাগরের বিপজ্জনক স্রোতে আটকে পড়া এক শিশুকে সাহায্য করতে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে গুরুতর মেরুদণ্ডের আঘাত পেয়েছেন পাঁচ সন্তানের বাবা জশ কোলেট। ৪২ বছর বয়সী এই ব্যক্তির ঘাড় থেকে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। বর্তমানে তাঁর সামনে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের পথ। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার সান ক্লেমেন্টের রিভিয়েরা বিচে। ওই দিন পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাচ্ছিলেন জশ। এ সময় সাত থেকে আট বছর বয়সী এক শিশু রিপ কারেন্ট বা সমুদ্রের শক্তিশালী বিপরীতমুখী স্রোতে আটকে পড়ে বলে জশের বোন হিলারি কোলেট স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএলএকে জানিয়েছেন। শিশুটিকে বিপদে দেখে তার মা প্রথমে পানিতে নামেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জশও দ্রুত এগিয়ে যান এবং শিশুটিকে সাহায্য করার জন্য সাগরে ঝাঁপ দেন। কিন্তু পানিতে নামার পরপরই তিনি পাথর অথবা পানির নিচে থাকা বালুর উঁচু অংশে আঘাত পান বলে পরিবারের ভাষ্য। আঘাতটি এতটাই গুরুতর ছিল যে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়ার ক্ষমতা হারান। সৈকতে থাকা কয়েকজন দ্রুত তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন এবং তাঁকে পানি থেকে তীরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারের পর জশ তাঁর স্ত্রীকে জানান, তাঁর মনে হচ্ছে ঘাড় ভেঙে গেছে। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা তাঁদের বলেছেন জশের ঘাড় থেকে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে। তবে যে শিশুটিকে সাহায্য করতে তিনি সাগরে নেমেছিলেন, সেই শিশু নিরাপদে পানি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। জশকে উদ্ধার করে তীরে আনার আগেই শিশুটি নিরাপদে ছিল বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গুরুতর শারীরিক অবস্থার কারণে জশ এখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। তবে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাঁর কথা বলার ক্ষমতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর বোন হিলারির ভাষ্য অনুযায়ী, এত বড় দুর্ঘটনার পরও জশ মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার পর জশের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারে। পাঁচ সন্তানের এই বাবার চিকিৎসা, থেরাপি এবং পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে স্বজনেরা অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। পরিবারের তহবিল সংগ্রহের আবেদনে বলা হয়েছে, সামনে জশের সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ এবং সহজ হবে না। তারপরও পরিবার তাঁর অবস্থার উন্নতি নিয়ে আশাবাদী এবং চিকিৎসার প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যাচের ২১ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত তহবিলে প্রায় ৬৫ হাজার ডলার উঠেছিল, যেখানে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। জশের দুর্ঘটনাটি আবারও সমুদ্রের রিপ কারেন্টের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। এ ধরনের স্রোত উপকূলের কাছ থেকে দ্রুত পানি সমুদ্রের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। ফলে ভালো সাঁতারুদের জন্যও পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। জশের পরিবার এখন তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। মেরুদণ্ডের গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর ভবিষ্যৎ শারীরিক সক্ষমতা কেমন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবার বলছে, সামনে দীর্ঘ পথ থাকলেও তারা আশা হারাচ্ছে না। সংবাদসূত্র: কেটিএলএ, নিউইয়র্ক পোস্ট ও প্যাচ
মরুভূমির ৪৯ ডিগ্রি তাপে পুড়ে গেছে পা, হাঁটুর ওপর থেকে পা কাটতে হবে ৭২ বছরের বৃদ্ধের
দুই মাসের শিশুর ডায়াপার বদলানোর সময় যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা নেতা গ্রেপ্তার