আগামী গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হলে টেক্সাসের প্রতিটি পরিবারকে এককালীন ১,৫০০ ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির গভর্নর প্রার্থী জিনা হিনোজোসা। তিনি বলেছেন, রাজ্যের উদ্বৃত্ত তহবিলের একটি অংশ সরাসরি জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই হবে তার প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে হিনোজোসা ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হলে টেক্সাসের ‘রেইনি ডে ফান্ড’ বা ইকোনমিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থেকে অর্থ নিয়ে প্রতিটি পরিবারের কাছে ১,৫০০ ডলারের চেক পাঠানো হবে। তার দাবি, টেক্সাসের জনগণ রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখলেও সেই সুফল সমানভাবে পাচ্ছেন না। তিনি তার এই পরিকল্পনার নাম দিয়েছেন ‘করাপশন ট্যাক্স রিফান্ড’। তার ভাষ্য, রাজ্যের উদ্বৃত্ত অর্থ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ব্যবহার করা উচিত, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির সময়ে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। বর্তমানে টেক্সাসের ‘রেইনি ডে ফান্ড’-এ কয়েক দশক ধরে সঞ্চিত প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ রয়েছে। এই তহবিল সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে জয়ী হলেও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। টেক্সাসের আইন অনুযায়ী, ‘রেইনি ডে ফান্ড’ থেকে অর্থ ব্যয় করতে হলে অঙ্গরাজ্যের আইনসভার অনুমোদন প্রয়োজন। বর্তমানে আইনসভার উভয় কক্ষেই রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রস্তাবটি পাস করানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। অন্যদিকে বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যবহার করে সম্পত্তি কর কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে রাজ্যের উদ্বৃত্ত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা আগামী নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় টেক্সাস গভর্নর নির্বাচনে জিনা হিনোজোসা রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ অ্যাবটের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে ১,৫০০ ডলারের চেক দেওয়ার পরিকল্পনাটি এখনো কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনে জয় এবং পরবর্তীতে আইনসভার অনুমোদন ছাড়া এটি কার্যকর হবে না।
নিউইয়র্কের একটি ক্যাফে চেইন ডেমোক্র্যাট দলীয় মার্কিন আইনপ্রণেতা ড্যান গোল্ডম্যানকে সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাদের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। 'পোয়েটিকা কফি' নামের উজবেক-অনুপ্রাণিত ওই ক্যাফেটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেয় যে, ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের কারণে কংগ্রেসম্যান গোল্ডম্যানকে তাদের কোনো শাখায় আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মার্কিন বিচার বিভাগের শীর্ষ নাগরিক অধিকার বিষয়ক প্রসিকিউটর হারমিত কে. ধিলন গত সোমবার এক ঘোষণায় এই তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানান, ক্যাফেটির এমন আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং সম্ভাব্য বেআইনিও। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। ব্রুকলিন এবং ইস্ট ভিলেজে পোয়েটিকা কফির মোট সাতটি শাখা রয়েছে। গত রোববার কংগ্রেসম্যান গোল্ডম্যান তার ছোট মেয়েকে নিয়ে ব্রুকলিনের লরিমার স্ট্রিটের শাখায় কফি পান করতে যান। এর পরপরই ক্যাফেটির ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজে গোল্ডম্যানের একটি ছবি শেয়ার করে তাকে 'গণহত্যার সমর্থক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সেখানে লেখা হয়, পোয়েটিকা কোনো বর্ণবাদী, ফ্যাসিস্ট, সমকামীবিদ্বেষী কিংবা গণহত্যায় সহায়তাকারীদের সেবা দেয় না। পোস্টে আরও জানানো হয় যে, গোল্ডম্যানের খরচ করা ৯ দশমিক ৮২ ডলার তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তিনি যেন আর কখনও সেখানে না আসেন। তবে সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোল্ডম্যান এই ঘটনার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করলেও কফি শপটির বিরুদ্ধে আইনি তদন্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে যারা প্ল্যাটফর্মহীন এবং প্রকৃত ইহুদিবিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন, বিচার বিভাগের উচিত তাদের জন্য সময় ও অর্থ ব্যয় করা। মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েলের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ড্যান গোল্ডম্যান নিজেকে একজন 'গর্বিত জায়নবাদি' মনে করেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা গণহত্যার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন, যদিও তিনি সেখানকার পরিস্থিতিকে 'ভয়াবহ' বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থি সরকারের সমালোচনা করেছেন। এদিকে পোয়েটিকা কফির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ ঠিক কোন আইনি ভিত্তির ওপর নির্ভর করে ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এবং নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য আইনে জাতি, ধর্ম বা লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে সেবা প্রদানে বৈষম্য নিষিদ্ধ হলেও, রাজনৈতিক বিশ্বাস বা মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্যকে ওই আইনের সুরক্ষার আওতাভুক্ত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তবে তার কিছু সাবেক সমর্থক, দাতা ও রাজনৈতিক সহযোগী মনে করছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির সামনে নতুন নেতৃত্ব তুলে ধরার সময় এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন হ্যারিসের সাবেক দাতা, তহবিল সংগ্রাহক, নির্বাচনী প্রচারণা কর্মী, বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমান উপদেষ্টাসহ ১৫ জনের বেশি ব্যক্তি। তাদের মধ্যে কয়েকজন পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে মতামত দেন। হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি সম্ভাব্য সব রাজনৈতিক বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনও তার টিমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন দৌড়ে হ্যারিসের অন্যতম সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সান ফ্রান্সিসকো মেয়র উইলি ব্রাউন বলেন, বর্তমানে দুই নেতার মধ্যে নিউসমকে বেশি সম্ভাবনাময় মনে হয়, কারণ তিনি সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজিত কোনো প্রার্থী নন। ব্রাউন বলেন, “মানুষ সাধারণত বিজয়ীকেই সমর্থন করতে চায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিউসমকে একজন বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, হ্যারিস যদি ২০২৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে অংশ নিতেন, তবে জাতীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়তে পারত। একজন প্রভাবশালী ক্যালিফোর্নিয়া দাতা এবিসি নিউজকে বলেন, “আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি মনে করেন হ্যারিসের আবার প্রার্থী হওয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য ভালো হবে। ভোটারদের সামনে নতুন ও সতেজ নেতৃত্ব আনার প্রয়োজন রয়েছে।” হ্যারিসের দীর্ঘদিনের সমর্থক ও তহবিল সংগ্রাহক আসিফ মাহমুদ বলেন, হ্যারিস ও নিউসম উভয়েই প্রার্থী হলে ডেমোক্রেটিক দাতাদের অর্থায়ন বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান গভর্নর হিসেবে নিউসম কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। তবে হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে অনেক দাতা ও রাজনৈতিক কর্মী অন্য প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকতে পারেন, সেটি তিনি ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে হ্যারিসের প্রচারণা মাত্র ১৫ সপ্তাহে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছিল। কয়েকজন তহবিল সংগ্রাহকের মতে, এত বিপুল ব্যয়ের পর অনেক দাতাই এখন বড় অঙ্কের অর্থ রাজনৈতিক প্রচারণায় দিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। একজন সাবেক তহবিল সংগ্রাহক বলেন, “ভোটাররা এখন নতুন, তরুণ এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির নেতৃত্ব খুঁজছে। আমার মনে হয় না এই মুহূর্তে কমলা হ্যারিস সেই চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।” আরেকজন দীর্ঘদিনের ডেমোক্রেটিক দাতা বলেন, “আমি এমন কাউকে শুনিনি যিনি হ্যারিসকে আবার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। বরং বেশিরভাগের মতামত এর বিপরীত।” তবে সবাই যে একই মত পোষণ করেন, তা নয়। সাবেক বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা টম নিডস বলেন, সাধারণ ডেমোক্রেট ভোটারদের মধ্যে এখনও হ্যারিসের জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং তিনি ছোট অঙ্কের অনুদানের মাধ্যমে শক্তিশালী তৃণমূল অর্থায়ন গড়ে তুলতে সক্ষম হতে পারেন। হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক। কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক উপদেষ্টার মতে, বাইডেন প্রশাসনের অংশ হওয়ায় হ্যারিসকে এখনও সেই সময়ের সিদ্ধান্ত ও বিতর্কের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে হ্যারিসের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক অ্যাশলি এটিয়েনের দাবি, হ্যারিস ইতোমধ্যে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং ২০২৮ সালে বাইডেন ইস্যু বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ এটিকে হারানো সুযোগ হিসেবে দেখলেও, হ্যারিসের ঘনিষ্ঠদের মতে এটি ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বর্তমানে হ্যারিস ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তহবিল সংগ্রহ, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার এবং ভোটাধিকার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। আগামী আগস্টে তিনি লুইজিয়ানা ডেমোক্র্যাটদের বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেবেন বলেও জানা গেছে। হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, ভবিষ্যতে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন নাকি অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম, যেমন একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ডেমোক্রেটিক রাজনীতির অনেকেই মনে করেন, জাতীয় পরিচিতি, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা হ্যারিসকে এখনও ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখছে।
এক গুরুতর যৌন কেলেঙ্কারি ও অসদাচরণের অভিযোগে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ এরিক সোয়ালওয়েল। সোমবার তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান, যা মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাত মেয়াদে নির্বাচিত এই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে চারজন নারী যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে অন্তত এক নারীকে দুবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, যিনি একসময় তার অধীনে কাজ করতেন। এছাড়া অন্য নারীরা তার বিরুদ্ধে অশালীন বার্তা ও নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও সোয়ালওয়েল সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি আমার পরিবার, কর্মী এবং নির্বাচকদের কাছে অতীতের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। যদিও আমার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর মিথ্যা অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আমি লড়াই চালিয়ে যাব, তবুও আমি আমার ভুলের দায়ভার গ্রহণ করছি।" হাউস এথিক্স কমিটি ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, হাউস থেকে তাকে বহিষ্কারের জন্য দ্বিপক্ষীয় চাপ বাড়তে থাকায় তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, নির্বাচকরা যাতে তার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্যই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। উল্লেখ্য, এই বিতর্কের জেরে মাত্র একদিন আগেই তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হওয়ার দৌড় থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার পদত্যাগের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে একটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে টেক্সাসের রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ টনি গঞ্জালেসও (Tony Gonzales) যৌন কেলেঙ্কারির জেরে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানকে ঘিরে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে অপসারণের দাবি জোরালো করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা। তবে কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় সমর্থন না থাকায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলছেন, আবার কেউ সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি তুলেছেন। ডেলাওয়্যারের প্রতিনিধি সারা ম্যাকব্রাইড বলেন, একজন প্রেসিডেন্ট কখনোই সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গণহত্যার হুমকি দিতে পারেন না। একইভাবে নিউজার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিম মন্তব্য করেন, ট্রাম্প ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন। এদিকে মিশিগানের প্রতিনিধি শ্রী থানেদার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে চিঠি দিয়ে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। কানেক্টিকাটের প্রতিনিধি জন লার্সন ইতিমধ্যে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও দাখিল করেছেন। তবে বাস্তবতা হলো, কংগ্রেসে এই উদ্যোগ সফল হওয়ার মতো সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের হাতে নেই। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারও সরাসরি সমর্থন দেননি। বর্তমানে হাউস ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটরা বিকল্প হিসেবে ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ পাসের মাধ্যমে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। এর মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।