সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ হাজারের বেশি বিএমডব্লিউ প্রত্যাহার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৪, ২০২৬ ৭:২১
বিএমডব্লিউ ছবি: সংগৃহীত
বিএমডব্লিউ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির কারণে ২৯ হাজারের বেশি BMW গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA) জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু BMW মডেলের ইঞ্জিন স্টার্টার রিলেতে ক্ষয় (corrosion) তৈরি হতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়ে শর্টসার্কিটের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা চরম ক্ষেত্রে গাড়িতে আগুন লাগার কারণ হতে পারে। 

 

মঙ্গলবার প্রকাশিত NHTSA-এর রিকল নোটিশ অনুযায়ী, মোট ২৯ হাজার ১১৯টি গাড়ি এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মডেলের মধ্যে রয়েছে BMW 530e xDrive, 740Le xDrive এবং BMW-এর কয়েকটি iPerformance সিরিজের গাড়ি। 

 

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিন স্টার্টার রিলের ভেতরে ক্ষয় তৈরি হলে বৈদ্যুতিক সংযোগ অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যেতে পারে। সময়ের সঙ্গে এটি শর্টসার্কিটের ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং সেখান থেকেই আগুন লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়। যদিও এখন পর্যন্ত এই রিকল-সংক্রান্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবু সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিকল কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। 

 

BMW জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের অনুমোদিত ডিলারশিপে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে ইঞ্জিন স্টার্টার বিনা খরচে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। গাড়ির মালিকদের কোনো যন্ত্রাংশ বা শ্রমমূল্য পরিশোধ করতে হবে না। 

 

মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলেছে, রিকল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। পাশাপাশি মালিকেরা নিজেদের গাড়ির Vehicle Identification Number (VIN) ব্যবহার করে NHTSA-এর রিকল ডেটাবেস বা BMW-এর রিকল সেবার মাধ্যমে গাড়িটি এই রিকলের আওতায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক গাড়িতে স্টার্টার রিলে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অংশে ত্রুটি দেখা দিলে শুধু ইঞ্জিন চালু করতে সমস্যা হয় না, বরং অতিরিক্ত তাপের কারণে বৈদ্যুতিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাধারণত দ্রুত রিকল ঘোষণা করে।

 

এটি চলতি বছরে BMW-এর একমাত্র রিকল নয়। এর আগে স্টার্টার-সংক্রান্ত পৃথক একটি ত্রুটির কারণে উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য বাজারেও বিভিন্ন মডেলের গাড়ি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে এবারের রিকলটি আলাদা একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং নির্দিষ্ট কিছু প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও iPerformance মডেলের জন্য প্রযোজ্য। 

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি BMW মালিকদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যদি আপনার গাড়ির মডেল 530e xDrive, 740Le xDrive বা সংশ্লিষ্ট iPerformance সিরিজের হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত অনুমোদিত BMW ডিলারশিপের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। গাড়িতে পোড়া গন্ধ, স্টার্ট নিতে অস্বাভাবিক সময় লাগা, বৈদ্যুতিক ত্রুটির সতর্কবার্তা বা অতিরিক্ত তাপের লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করানো উচিত। রিকল কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের পুরো খরচ BMW বহন করবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আদালতের নির্দেশে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন ইয়াদের কোর্তেস আন্দিনো নামে এক অভিবাসী। গত ২ অক্টোবরের এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ অক্টোবর মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোর্তেসের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকে বেআইনি ঘোষণা করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ফেডারেল বিচারক জেরি ব্ল্যাকওয়েল। ২ অক্টোবর মিনেসোটার বিশপ হেনরি হুইপল ফেডারেল বিল্ডিংয়ে তাঁর মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তাঁকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ফেরত দেওয়া হয়। তবে আইনজীবীর জন্য অপেক্ষমাণ প্রধান ফটক দিয়ে বের না করে তাঁকে ভবনের পেছনের একটি দরজা দিয়ে বাইরে পাঠানো হয়। সেখানে সাধারণ পোশাকে অপেক্ষা করছিলেন আইসিইর কর্মকর্তারা। এরপর তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।   কোর্তেসের আইনজীবীর বক্তব্য এবং সরকারের আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, মুক্তির মাত্র তিন মিনিট পর তাঁকে পুনরায় আটক করা হয়। তাঁর আইনজীবী জানতে চাইলে আইসিইর এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া গত মে মাস থেকেই চলছে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি আইনি দল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তির নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মামলা পর্যালোচনা করে পুনরায় গ্রেপ্তারের উপযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করছে।   মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর অনুসন্ধানে একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর এক নাগরিককে আটককেন্দ্রের বাইরে কয়েক পা এগোনোর পর পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ১ অক্টোবর গুয়াতেমালার এক নাগরিক ভবনের দরজা পেরোনোর আগেই আবার আটক হন। আদালতের নথিতে সেপ্টেম্বরের আরও দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ওই ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে ফেডারেল বিচারক জেফরি ব্রায়ান বলেন, ভবন থেকে বের হওয়ার সময় আইসিইর কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পরোয়ানা যথাযথভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। বরং হাতকড়া পরানোর আগে ভাঁজ করা একটি কাগজ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর সামনে দেখানো হয়েছিল। বিচারক সতর্ক করেন, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারকে বৈধ বলে মেনে নিলে আটকাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে।   কোর্তেসের ঘটনায় বিচারক ব্ল্যাকওয়েলও সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান। আদালত তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির সময়, তারিখ ও স্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকার নির্ধারিত সময়ে সেই তথ্য জমা না দেওয়ায় ৫ অক্টোবর বিচারক কেন আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। তবে আদালত অবমাননার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   কোর্তেসের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনও এ ঘটনার সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর স্ত্রী জেনিফারের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি এবং ২০২৫ সালের জুনে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। মিনেসোটা পাবলিক রেডিও জানায়, পুনরায় গ্রেপ্তারের পরদিন, ৩ অক্টোবর তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদিত হয়। পরে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে আবার মুক্তি দেওয়া হয়।   আইসিইর এই পদক্ষেপের বিষয়ে মিনেসোটা পাবলিক রেডিও হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং আইসিইর কাছে জানতে চেয়েছিল, কবে থেকে এ প্রক্রিয়া চলছে, কার নির্দেশে তা করা হচ্ছে এবং কতজন অভিবাসী এর আওতায় পড়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও আইসিই এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। ফলে মিনেসোটার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর কাউকে নতুন করে গ্রেপ্তার করতে হলে তার আইনি ভিত্তি কী, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নতুন ও বৈধ ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও আগের আটকাদেশ বেআইনি ঘোষণার পরপরই একই ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   মিনেসোটার এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, বিচার বিভাগের নির্দেশ এবং সরকারি সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আবার আটক করার এই প্রক্রিয়া কতটা আইনসম্মত, তা নির্ধারণে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৬:৫৩
ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি ও আইসিইর গুলির পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বাতিলের প্রস্তাব

ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি ও আইসিইর গুলির পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বাতিলের প্রস্তাব

ম্যানহাটনে ট্রাম্পের বিশাল ছবিতে কুকুরের প্রস্রাব, ভাইরাল ছবি ঘিরে আলোচনা

ম্যানহাটনে ট্রাম্পের বিশাল ছবিতে কুকুরের প্রস্রাব, ভাইরাল ছবি ঘিরে আলোচনা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকায় কলার দাম বাড়ার আশঙ্কা, ১৫ সেন্টের সস্তা ফল কি আর সস্তা থাকবে?

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকায় কলার দাম বাড়ার আশঙ্কা, ১৫ সেন্টের সস্তা ফল কি আর সস্তা থাকবে?

টেক্সাসে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাস সীমান্তে আট হাজারের বেশি সেনা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের পর রিও গ্র্যান্ডে নদীসংলগ্ন কিছু এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের তৎপরতা কমেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতি, সামরিক উপস্থিতি এবং অভিযানটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। টেক্সাসের রোমা এলাকায় সেনাসদস্য, সীমান্তরক্ষী এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। অভিযানে নজরদারি প্রযুক্তি, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক ও মানব পাচার ঠেকানো এই অভিযানের অন্যতম ঘোষিত উদ্দেশ্য। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো এবং মেক্সিকোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার ফলে অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেক্সিকো সীমান্তসংলগ্ন তামাউলিপাস এলাকায় ৫০০ সেনা পাঠিয়েছে। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের একাংশ মনে করছেন, অবৈধ পারাপার কমার পেছনে আগের প্রশাসনের আশ্রয়প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতিও ভূমিকা রেখেছে। ফলে সেনা মোতায়েনের কারণে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।   মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সীমান্ত নিরাপত্তা রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকান প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে তাদের নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা সামরিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা, মানবিক প্রভাব এবং অভিযানের প্রকৃত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও অভিবাসননীতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের এই খবরকে সরাসরি বৈধ ভিসাধারী বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। নির্দিষ্ট অভিবাসন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১২:৫২
ট্রাম্প প্রশাসনে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলের পদত্যাগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের অনুরোধ, ট্রাম্প প্রশাসনে নতুন বিতর্ক

আমেরিকায় বসেই অনলাইন ভূমিসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ করা যায়। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকা থেকেই অনলাইনে দেয়া যাবে দেশের জমির খাজনা, জানুন সম্পূর্ণ নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে উৎসবমুখর শারদীয় দুর্গোৎসব। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজন

স্বাস্থ্যসেবায় এআই যেন নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার না করে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির সহযোগী অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসায় এআইয়ে বৈষম্য কমাতে গবেষণায় এমআইটির মুসলিম অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি

স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘু রোগীদের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি। ইরানি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন গবেষক ও তাঁর হেলদি মেশিন লার্নিং দল চিকিৎসার এআই মডেলকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য করার উপায় খুঁজছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, সব রোগীর ওপর গড় হিসাবে ভালো ফল দেওয়া মডেলও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে।    ঘাসেমি এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট ফর মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচিতিতে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার লক্ষ্য, রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা উন্নত করা।    এমআইটি নিউজের ২৫ নভেম্বর ২০২৪ প্রকাশিত পরিচিতিমূলক প্রতিবেদনে জানানো হয়, টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে একটি ইরানি মার্কিন পরিবারে বেড়ে ওঠেন ঘাসেমি। ছোটবেলা থেকেই ধাঁধা, ভিডিও গেম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নে তাঁর আগ্রহ ছিল। পরে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যে নিজের কাজের ক্ষেত্র খুঁজে পান তিনি।    পিএইচডি গবেষণার সময় রোগীর চিকিৎসার ফলাফল অনুমান করতে এআই মডেল তৈরি করছিলেন ঘাসেমি। তখন তাঁর গবেষণা কমিটির সদস্য লিও সেলি জানতে চান, মডেলগুলো বিভিন্ন লিঙ্গ, ইন্স্যুরেন্স ও জাতিগত পরিচয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করছে কি না। আলাদাভাবে পরীক্ষা করে ঘাসেমি ফলাফলে ব্যবধান পান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে চিকিৎসার এআইয়ে পক্ষপাত নিয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে।    সমস্যার একটি উৎস হলো মডেলকে শেখাতে ব্যবহৃত তথ্য। এমআইটির ২০২২ সালের প্রতিবেদনে ঘাসেমি ব্যাখ্যা করেন, চিকিৎসার তথ্য মানুষের সিদ্ধান্ত ও আচরণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। সেখানে বিদ্যমান পক্ষপাত এআইয়ের মধ্যেও প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু বিপুল পরিমাণ তথ্য দিয়ে মডেল তৈরি করলেই সব রোগীর জন্য সমান মানের ফল নিশ্চিত হয় না।    ঘাসেমি যুক্ত ছিলেন এমন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআই মডেল বুকের এক্স-রেসহ বিভিন্ন মেডিকেল ছবি থেকে রোগীর স্বঘোষিত জাতিগত পরিচয় উচ্চ নির্ভুলতায় অনুমান করতে পারে। চিকিৎসকের কাছে ছবিতে সেই পরিচয়ের স্পষ্ট নির্দেশক না থাকলেও মডেল তা শনাক্ত করেছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এমন তথ্য মডেল অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করলে রোগ নির্ণয়ের সিদ্ধান্তে পক্ষপাত ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে।    এমআইটির গবেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এক হাসপাতালে ভালো কাজ করা মডেল অন্য হাসপাতালের রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল নাও দিতে পারে। রোগীর ধরন ও তথ্যের পরিবর্তন বিবেচনায় না নিলে নির্ভুলতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফলাফলের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। তাই ব্যবহারস্থলের রোগীদের ওপর আলাদাভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন তুলে ধরছেন ঘাসেমি ও তাঁর সহকর্মীরা।    তাঁদের অনুসন্ধানে জনগোষ্ঠীভেদে পার্থক্য বিবেচনা করে মডেল প্রশিক্ষণ দিলে কিছু ব্যবধান কমানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই ফল সব হাসপাতাল বা সব রোগীর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। ঘাসেমির কাজ মূলত সেই সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা ও সমাধানের পথ খোঁজা। চিকিৎসায় এআই ব্যবহার করলেই বৈষম্য দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই গবেষণা দেয় না।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১১:১০
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ‘সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া’ পার্কে রোলার কোস্টার দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও চারজন আহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে পড়ে ঝুলে ছিলেন বাবা, ঘটনার বর্ণনা দিলেন সহযাত্রী

সড়ক দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পর স্বপ্নের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমেরিকান নাগরিক রবার্ট ডাভিলা। ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্নে মুহাম্মদ সাঃ কে দেখার পর ঘুম থেকে উঠেই শাহাদাহ পাঠ করে মুসলমান হন মার্কিন নাগরিক রবার্ট

নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে শিশুর সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই সামাজিক মুহূর্তটি নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

উত্তেজনার মধ্যে স্বস্তির এক টুকরো, শিশুর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ড. ইউনূসের ছবি ভাইরাল

0 Comments