যুক্তরাষ্ট্রে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির কারণে ২৯ হাজারের বেশি BMW গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA) জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু BMW মডেলের ইঞ্জিন স্টার্টার রিলেতে ক্ষয় (corrosion) তৈরি হতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়ে শর্টসার্কিটের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা চরম ক্ষেত্রে গাড়িতে আগুন লাগার কারণ হতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত NHTSA-এর রিকল নোটিশ অনুযায়ী, মোট ২৯ হাজার ১১৯টি গাড়ি এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মডেলের মধ্যে রয়েছে BMW 530e xDrive, 740Le xDrive এবং BMW-এর কয়েকটি iPerformance সিরিজের গাড়ি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিন স্টার্টার রিলের ভেতরে ক্ষয় তৈরি হলে বৈদ্যুতিক সংযোগ অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যেতে পারে। সময়ের সঙ্গে এটি শর্টসার্কিটের ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং সেখান থেকেই আগুন লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়। যদিও এখন পর্যন্ত এই রিকল-সংক্রান্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবু সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিকল কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
BMW জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের অনুমোদিত ডিলারশিপে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে ইঞ্জিন স্টার্টার বিনা খরচে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। গাড়ির মালিকদের কোনো যন্ত্রাংশ বা শ্রমমূল্য পরিশোধ করতে হবে না।
মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলেছে, রিকল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। পাশাপাশি মালিকেরা নিজেদের গাড়ির Vehicle Identification Number (VIN) ব্যবহার করে NHTSA-এর রিকল ডেটাবেস বা BMW-এর রিকল সেবার মাধ্যমে গাড়িটি এই রিকলের আওতায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক গাড়িতে স্টার্টার রিলে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অংশে ত্রুটি দেখা দিলে শুধু ইঞ্জিন চালু করতে সমস্যা হয় না, বরং অতিরিক্ত তাপের কারণে বৈদ্যুতিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাধারণত দ্রুত রিকল ঘোষণা করে।
এটি চলতি বছরে BMW-এর একমাত্র রিকল নয়। এর আগে স্টার্টার-সংক্রান্ত পৃথক একটি ত্রুটির কারণে উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য বাজারেও বিভিন্ন মডেলের গাড়ি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে এবারের রিকলটি আলাদা একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং নির্দিষ্ট কিছু প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও iPerformance মডেলের জন্য প্রযোজ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি BMW মালিকদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যদি আপনার গাড়ির মডেল 530e xDrive, 740Le xDrive বা সংশ্লিষ্ট iPerformance সিরিজের হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত অনুমোদিত BMW ডিলারশিপের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। গাড়িতে পোড়া গন্ধ, স্টার্ট নিতে অস্বাভাবিক সময় লাগা, বৈদ্যুতিক ত্রুটির সতর্কবার্তা বা অতিরিক্ত তাপের লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করানো উচিত। রিকল কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের পুরো খরচ BMW বহন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের বিডেফোর্ড শহরে ফেডারেল অভিবাসন সংস্থা আইসিই এর অভিযানে ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নিহত জোয়ান সেবাস্তিয়ান গেরেরোকে প্রথমে অভিযানের লক্ষ্য বলে জানানো হলেও পরে মেইনের সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তিনি ওই অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন না। সোমবার সকালে বিডেফোর্ডে আইসিই কর্মকর্তারা চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশপ্রাপ্ত এক ব্যক্তির সর্বশেষ পরিচিত ঠিকানায় নজরদারি চালাচ্ছিলেন বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। সংস্থাটির দাবি, ওই বাসা থেকে একটি গাড়ি বের হলে সেটি থামানোর চেষ্টা করা হয়। চালক গাড়ি নিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে এবং কর্মকর্তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে হওয়ায় একজন আইসিই কর্মকর্তা গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গেরেরো পরে মারা যান। ঘটনার পর সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং প্রথমে বলেছিলেন, নিহত ব্যক্তি গ্রেপ্তারি অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, আগের তথ্যটি সঠিক ছিল না এবং গেরেরো প্রকৃতপক্ষে ওই গ্রেপ্তারি অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন না। এরপরই ঘটনাটি নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। পরিবারের বন্ধু ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, গেরেরো কলম্বিয়ার নাগরিক ছিলেন এবং স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে মেইনে বসবাস করতেন। তাদের দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অনুমতি পেয়েছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিডেফোর্ডে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মানবাধিকারকর্মীরা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, এফবিআই এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলি চালানোর যৌক্তিকতা বা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক দফা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, হিল কান্ট্রি, ইন্টারস্টেট-৩৫ করিডর, সাউদার্ন এডওয়ার্ডস প্ল্যাটো ও রিও গ্র্যান্ডে প্লেইনসের কিছু অংশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যা পর্যবেক্ষণ সতর্কতা কার্যকর থাকবে। মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ভোরে হালনাগাদ করা পূর্বাভাসে সংস্থাটি বলেছে, সতর্কতার আওতাভুক্ত কোনো কোনো এলাকায় মানুষের জীবন হুমকিতে ফেলতে পারে—এমন বন্যা দেখা দিতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বারবার বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হওয়ার আশঙ্কা থাকায় একই জায়গায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক দফা বৃষ্টি হতে পারে। এতে মাটি পানি ধারণের ক্ষমতা হারালে নদী, খাল, শহরের সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি দ্রুত বাড়তে পারে। সতর্কতার আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে মোট দুই থেকে ছয় ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। তবে রিও গ্র্যান্ডে প্লেইনস, সাউদার্ন এডওয়ার্ডস প্ল্যাটো এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় হিল কান্ট্রির বিচ্ছিন্ন কিছু স্থানে ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এত বেশি বৃষ্টি অল্প সময়ের মধ্যে হলে ছোট নদী, নালা ও পাহাড়ি জলপথ মুহূর্তের মধ্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম টেক্সাসের শুষ্ক নদীখাত বা স্থানীয়ভাবে ‘অ্যারোইয়ো’ নামে পরিচিত জলপথগুলো নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে। সাধারণ সময়ে এসব খাত প্রায় শুকনো থাকলেও উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই সেখানে প্রবল স্রোত নেমে আসতে পারে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সতর্ক করেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আকস্মিক বন্যার পাশাপাশি এ ধরনের জলপথেও প্রাণঘাতী প্লাবন দেখা দিতে পারে। ক্যারভিল এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বন্যা পর্যবেক্ষণ সতর্কতা জারি রয়েছে। মঙ্গলবার সেখানে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ এবং ভারী বৃষ্টিসহ বজ্রঝড় হতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারও ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ স্থানভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন। ভারী বৃষ্টির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে নিচু সড়ক, কালভার্ট, ছোট সেতু, নদীতীর, পার্বত্য খাত ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল শহুরে এলাকায়। সড়কের ওপর পানি জমে গেলে নিচে রাস্তা ধসে গেছে কি না অথবা পানির স্রোত কতটা শক্তিশালী, গাড়ির ভেতর থেকে তা বোঝা কঠিন। অল্প গভীর মনে হওয়া পানিও একটি গাড়িকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট অঙ্গরাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাকে প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও সহায়তা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ১২ জুলাই গভর্নরের কার্যালয় জানায়, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকা এলাকাগুলোয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে রাজ্যের একাধিক সংস্থার জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা সম্পদের মধ্যে রয়েছে দ্রুত প্রবাহিত পানিতে উদ্ধারকারী দল, নৌকা, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী, উঁচু চাকার যানবাহন এবং ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার। টেক্সাস ন্যাশনাল গার্ড, ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি, পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ডিপার্টমেন্ট এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম-এর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে প্রয়োজন অনুযায়ী মোতায়েন করা হতে পারে। সড়ক ও সেতুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকর্মী ও দুর্গম এলাকায় চলাচল উপযোগী যানবাহনও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গভর্নর অ্যাবট বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা নিয়মিত অনুসরণ, পারিবারিক জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক দিয়ে গাড়ি না চালানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ‘ফ্লাড ওয়াচ’ জারি হওয়ার অর্থ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন্যার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তবে সব জায়গায় বন্যা হবেই—এমন নয়। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হলে নির্দিষ্ট এলাকার জন্য ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড ওয়ার্নিং’ জারি করা হতে পারে। এমন সতর্কতা পাওয়ার পর নিচু এলাকা ছেড়ে দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। রাতে আকস্মিক বন্যা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। অন্ধকারে সড়কের পানি, স্রোতের গতি ও ভাঙা অবকাঠামো শনাক্ত করা কঠিন হয়। মোবাইল ফোনে জরুরি আবহাওয়া সতর্কতা চালু রাখা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চার্জার, পরিচয়পত্র, খাবার ও পানিসহ জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টেক্সাসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং যাত্রার আগে স্থানীয় সড়কের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হিল কান্ট্রি, সান অ্যান্টোনিওর পশ্চিমাঞ্চল, রিও গ্র্যান্ডে প্লেইনস ও দক্ষিণ-পশ্চিম টেক্সাসে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। বাসা বা কর্মস্থলের কাছে ছোট নদী, শুকনো খাল কিংবা নিচু সড়ক থাকলে পানি বাড়ার আগেই বিকল্প নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা জরুরি। আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই সাধারণ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখে ঝুঁকি কম ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সতর্কতার মূল বার্তা হলো—পানিতে ঢাকা রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা নয়; গাড়ি ঘুরিয়ে নিরাপদ পথে ফিরে যেতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ইস্ট সেন্ট লুইসে একই পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো একাধিক বন্দুক হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনায় ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। ইলিনয় স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, রোববার ইস্ট সেন্ট লুইসের তিনটি পৃথক স্থানে, যার মধ্যে একটি পার্কও রয়েছে, এ হামলাগুলো সংঘটিত হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল পরিকল্পিত বা ‘টার্গেটেড’ হামলা এবং এলোমেলোভাবে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা নয়। ইলিনয় স্টেট পুলিশের পরিচালক ব্রেন্ডন কেলি বলেন, নিহতদের বয়স ছিল ৭৪, ৪৯, ২৫, ২৪ এবং ২১ বছর। যদিও নিহতদের পারিবারিক সম্পর্ক বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে অন্তত একজন সন্দেহভাজনের সঙ্গে ওই পরিবারের পূর্বপরিচয় বা সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই স্টেট পুলিশ একটি গাড়ি থামিয়ে ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে সেন্ট ক্লেয়ার কাউন্টির স্টেটস অ্যাটর্নি জেমস গমরিক জানান, মঙ্গলবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ হামলায় নিজের মা, বোন এবং সৎ সন্তানদের হারিয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান মার্কাস মে। তিনি বলেন, “এক মুহূর্তে আমি যেন পুরো পরিবারকেই হারিয়ে ফেললাম।” ইলিনয় স্টেট পুলিশের পরিচালক ব্রেন্ডন কেলি বলেন, “এটি ভয়াবহ এবং নৃশংস ঘটনা। কিন্তু এতে ইস্ট সেন্ট লুইসের ইতিবাচক অগ্রগতি থেমে যাবে না।” সিটি কাউন্সিল সদস্য কোর্টনি হফম্যানও বলেন, এটি জনসাধারণের ওপর নির্বিচারে চালানো হামলা নয়; বরং নির্দিষ্ট একটি পরিবারকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর কারণ নেই। মিসিসিপি নদীর তীরে অবস্থিত ইস্ট সেন্ট লুইস শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৫০০। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরটিতে ১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা ২০২০ সালের ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পেছনের কারণ, হামলাকারীদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।