যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের পদত্যাগ
এক গুরুতর যৌন কেলেঙ্কারি ও অসদাচরণের অভিযোগে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ এরিক সোয়ালওয়েল। সোমবার তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান, যা মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
সাত মেয়াদে নির্বাচিত এই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে চারজন নারী যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে অন্তত এক নারীকে দুবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, যিনি একসময় তার অধীনে কাজ করতেন। এছাড়া অন্য নারীরা তার বিরুদ্ধে অশালীন বার্তা ও নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও সোয়ালওয়েল সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি আমার পরিবার, কর্মী এবং নির্বাচকদের কাছে অতীতের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। যদিও আমার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর মিথ্যা অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আমি লড়াই চালিয়ে যাব, তবুও আমি আমার ভুলের দায়ভার গ্রহণ করছি।"
হাউস এথিক্স কমিটি ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, হাউস থেকে তাকে বহিষ্কারের জন্য দ্বিপক্ষীয় চাপ বাড়তে থাকায় তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, নির্বাচকরা যাতে তার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্যই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের জেরে মাত্র একদিন আগেই তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হওয়ার দৌড় থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার পদত্যাগের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে একটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে টেক্সাসের রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ টনি গঞ্জালেসও (Tony Gonzales) যৌন কেলেঙ্কারির জেরে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মায়ের রাখা বন্দুক হাতে পেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হ্যারিস কাউন্টির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিস। কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ১১টার দিকে চ্যাম্পিয়নস এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গুলির খবর পেয়ে প্রিসিনক্ট ৪-এর ডেপুটিরা সেখানে যান। তারা গিয়ে দেখতে পান, একটি ক্লোজেটের ভেতরে থাকা অবস্থায় শিশুটি বন্দুকটি খুঁজে পায় এবং গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় শিশুটির মা ও ১০ বছরের এক ভাই বা বোনও বাড়িতে ছিলেন বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস। তদন্তকারীদের মতে, বন্দুকটি শিশুটির মায়ের মালিকানাধীন ছিল এবং ক্লোজেটেই রাখা হয়েছিল। হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিসের সার্জেন্ট জেসন ব্রাউন জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বন্দুকটি নিরাপদভাবে লক বা সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা ছিল না। কীভাবে শিশুটি ক্লোজেটে ঢুকে বন্দুকটি হাতে পেল, তা জানতে মায়ের ও ১০ বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আপাতত দুর্ঘটনাজনিত গুলিবর্ষণ হিসেবে তদন্ত করছে। তবে শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস। এই ঘটনায় আবারও শিশুদের নাগালের বাইরে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে নেভি জাহাজে নারী ইঞ্জিনিয়ারকে ধর্ষণ! ‘কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা’ হিসেবে আদালতে বিবেচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বিশাল এক তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ট্রাম্প জানান, চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে। ট্রাম্প এটিকে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিটি মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই করা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মজুদ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে জ্বালানির দাম কমতেও পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে নতুন করে উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হবে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও চুক্তিটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার সরকারের হিসাবে, তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে, যা বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ। বিপুল তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও পুরোনো অবকাঠামো, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের সংকটের কারণে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়ে চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন এই চুক্তির ঘোষণা এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত তেল মজুদ পুনরায় পূরণের উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে চুক্তিটি বাস্তবায়নে ভেনেজুয়েলার আইন ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির তেল খাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সংস্কারের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগ ও উৎপাদন অংশীদারত্বের সুযোগ বাড়ানো হলেও নতুন চুক্তির বাস্তবায়নে আরও আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দেশটির অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ জোরদার করে। তবে নতুন চুক্তির সুফল মার্কিন ভোক্তারা কত দ্রুত পাবেন, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তেলক্ষেত্র উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার এবং উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগবে। ফলে চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা নির্ভর করবে চুক্তির বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ এবং তেল উৎপাদন বাড়ানোর গতির ওপর।
নিউইয়র্কে ফ্রিতে ইংলিশ ও সিটিজেনশিপ প্রস্তুতির ক্লাস, বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ
ট্রাম্পের নামে থাকা সড়কের নাম বদলাতে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ চায় কানাডা
ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর তাদের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ‘ব্যাক-টু-স্কুল’ গাইড প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছে। গাইডের সঙ্গে যুক্ত একটি ৯/১১ বিষয়ক পাঠ্যক্রমে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া এবং আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেনের লেখা ‘লেটার টু আমেরিকা’কে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পাঠ্য হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ উঠেছে। ২৮ আগস্ট নিউইয়র্ক পোস্ট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, গাইডে যুক্ত বিতর্কিত ৯/১১ বিষয়ক উপকরণটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএআইআর লিংক সরানোর বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেনি। তবে সংগঠনটি নিউইয়র্ক পোস্টকে আগের একটি নথিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে একটি নোটের দিকে নির্দেশ করেছে। অন্যদিকে সিএআইআর তাদের ২৪ আগস্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানিয়েছিল, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে তারা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য একটি ‘ব্যাক-টু-স্কুল রিসোর্স গাইড’ প্রকাশ করেছে। এতে স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধিকার, হয়রানি ও বৈষম্য, ৯/১১ ও গাজা নিয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনা এবং নামাজ, পোশাক ও খাবারসংক্রান্ত ধর্মীয় সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে তথ্য ও ব্যবহারিক নির্দেশনা রয়েছে। তবে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ‘মুসলিম স্টাডিজ কারিকুলাম’ মূলত একটি পুরোনো শিক্ষাসামগ্রী, যা সিএআইআর-এনজে ও ‘টিচিং হোয়াইল মুসলিম’ যৌথভাবে তৈরি করেছিল। ২০২২ সালে সিএআইআর-এনজে জানিয়েছিল, ৯/১১ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আলোচনার সময় মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্য ও হয়রানি কমানো এবং ঘটনাটির পরবর্তী প্রভাব বোঝাতে এই পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে। পাঠ্যক্রমটির একটি অনলাইন কপিতে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেখানে হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে একই সঙ্গে হামলার পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষ এবং নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে ৯/১১ হামলার জন্য আল-কায়েদার ভূমিকা উল্লেখ করা হলেও, সমালোচকদের অভিযোগ, সেখানে হামলাকারীদের সরাসরি ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা না করে ঘটনাটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এমন একটি পাঠ্যক্রম স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য কতটা ভারসাম্যপূর্ণ। বিতর্ক আরও বাড়ে ‘লেটার টু আমেরিকা’কে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুপারিশ করা পাঠ্যের তালিকায় রাখার বিষয়টি সামনে আসার পর। এটি ওসামা বিন লাদেনের ২০০২ সালের একটি চিঠি, যেখানে তিনি ৯/১১ হামলার পক্ষে নিজের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। পাঠ্যক্রমের অনলাইন সংস্করণে দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত ওই লেখার পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের দিকে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ করা হয়েছিল। পাঠ্যক্রমে ওসামা বিন লাদেনকে ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিল এবং ওই সময় বিন লাদেনও সেখানে ছিলেন। সমালোচকদের মতে, এই বর্ণনা তার পরবর্তী ভূমিকা ও ৯/১১ হামলার সঙ্গে তার সম্পর্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না। পাঠ্যক্রমের সুপারিশের তালিকায় ‘ভি ফর ভেনডেটা’ চলচ্চিত্রের নামও রয়েছে। এ ছাড়া ৯/১১, ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিমদের ওপর হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন বই, তথ্যচিত্র ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর উল্লেখ রয়েছে। তবে সিএআইআরের বক্তব্যে বিষয়টির আরেকটি দিকও রয়েছে। সংগঠনটি বলছে, ৯/১১ নিয়ে স্কুলে আলোচনা হলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক সময় হয়রানি ও বিদ্বেষের ঘটনা বাড়ে। তাদের ২০২৬ সালের ব্যাক-টু-স্কুল প্রচারণায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও অধিকার লঙ্ঘনের ৮ হাজার ৬৮৩টি অভিযোগ তারা নথিভুক্ত করেছে, যা তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর এক বছরে সর্বোচ্চ। সিএআইআরের জাতীয় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক কোরি সেলর বলেন, শিক্ষার্থীদের ধর্ম পালনের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষা সম্পর্কে জানানো জরুরি। সংগঠনটি বিশেষ করে ৯/১১ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনার সময় মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে, ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো পরিবার এবং ইহুদি কমিউনিটির কিছু নেতা পাঠ্যক্রমটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে ৯/১১ হামলায় মাকে হারানো নিকোলাস হারোস জুনিয়র বলেন, ইসরায়েলের ৯/১১ হামলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি পাঠ্যসামগ্রীটির ব্যাখ্যাকে ‘প্রচারমূলক’ বলে সমালোচনা করেন। ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্সের সভাপতি মোশে স্পার্নও সিএআইআরের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, পাঠ্যক্রমে ৯/১১ হামলাকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি এবং বিন লাদেনের লেখা শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে শিক্ষামূলক অন্তর্ভুক্তির বদলে ক্ষতিকর প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেন। ৯/১১ হামলার পেছনে আল-কায়েদার ভূমিকা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগন হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রায় ৩ হাজার মানুষ এতে নিহত হন। তবে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত প্রতিক্রিয়া, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলাদা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সিএআইআরের পাঠ্যক্রমে মূলত সেই পরবর্তী প্রভাবের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির ২০২২ সালের বক্তব্যেও বলা হয়েছিল, ৯/১১ নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে শেখানো দরকার, যাতে ঘটনাটির পাশাপাশি মুসলিমদের ওপর পরবর্তী বৈষম্য ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলোও বোঝা যায়। এই বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ৯/১১-এর মতো একটি সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কীভাবে ইতিহাস, সন্ত্রাসবাদের কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মুসলিমদের ওপর পরবর্তী প্রভাব একসঙ্গে শেখানো হবে। একটি পক্ষ মনে করছে, শুধু হামলার ঘটনা বললে পরবর্তী বৈষম্যের ইতিহাস বাদ পড়ে যায়। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হামলার দায় ও সন্ত্রাসীদের ভূমিকা অস্পষ্ট করা হলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সিএআইআরের ২০২৬-২৭ সালের গাইড নিয়ে বিতর্ক তাই শুধু একটি লিংক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ৯/১১, ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিম পরিচয়, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং সন্ত্রাসবাদ কীভাবে পড়ানো হবে, সেই দীর্ঘদিনের বিতর্ককেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, সিএআইআর-নিউ জার্সি ও টিচিং হোয়াইল মুসলিম।
জর্জিয়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণে ২.৯ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান
মাতৃমৃত্যু কমাতে নিউইয়র্কের নতুন উদ্যোগ, ২০২৭ থেকে সিটি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত হচ্ছে প্রসূতি সহায়তা