তেল বাজার

ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটে এশিয়াকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে জাপান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপান। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরিশোধিত তেল আমদানি সহায়তায় ১০ বিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।   বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলো পারস্পরিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে একটি অঞ্চলের সংকট অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলছে।   জাপান সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহে সহায়তা করা, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় মজুত গড়ে তুলতে সহায়তা করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও অবরোধের কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অর্থায়ন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যদের প্রায় এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির সমপরিমাণ ব্যয় মেটাতে সক্ষম। এ তহবিল বিভিন্ন উৎস থেকে আসবে, যার মধ্যে রয়েছে জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা।   বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতারা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।   তবে জাপান সরকার আশ্বস্ত করেছে, এই সহায়তা কর্মসূচির ফলে তাদের নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। দেশটির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ার জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে জাপানের এই সহায়তা উদ্যোগ আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
ইরানের তেল ও দ্বীপ দখলের হুমকি ট্রাম্পের! সরকার পরিবর্তনের নজিরবিহীন দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি চাইলে ইরানের বিশাল তেলের ভাণ্ডার এবং দেশটির প্রধান তেল হাব ‘খারগ দ্বীপ’ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের তেল দখল করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম বিকল্প। ট্রাম্পের মতে, দ্বীপটি দখল করা হবে অত্যন্ত সহজ কারণ সেখানে তেমন কোনো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।   অন্যদিকে, এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানে ইতিবাচকভাবে ‘সরকার পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জ সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষায়, আগের সরকারের শীর্ষ নেতারা প্রায় সবাই মারা গেছেন এবং এখন যারা পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন তারা বেশ যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছেন। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকেও তিনি একই সুরে বলেছিলেন যে, আগের নেতাদের হঠানোর মাধ্যমেই সরকার বদল হয়ে গেছে এবং ইরান এখন আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে আসতে পারে।   তবে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সেনা পৌঁছেছে। খারগ দ্বীপ দখলের হুমকিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং প্রধান তেল টার্মিনাল। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপটি হাতছাড়া হলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে কুয়েতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় একজন ভারতীয় কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: অনলাইন।
আলোচনা নাকি পিছু হটা? ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের; তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলা আলোচনাগুলো ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে। তিনি জানান, গত দুই দিনে তার প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের শত্রুতার চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত হয়েছে।   ট্রাম্প নিজ দেশের সামাজিক মাধ্যমে জানান, এই আলোচনার ভিত্তিতে তিনি যুদ্ধ বিভাগকে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যে কোনো সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই স্থগিতাদেশ চলমান আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল।   ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি এক অজ্ঞাতনামা ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। সূত্রটি দাবি করেছে, ইরানের পাল্টা হুমকির কারণে ট্রাম্প পিছু হটেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ধরনের যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও তেহরান থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, ‘ইরানের কঠোর সতর্কবার্তার’ কারণে ট্রাম্প আক্রমণ থেকে বিরত রয়েছেন।   ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে, তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। এর বিপরীতে ইরান সতর্ক করেছে, কোনো আক্রমণ হলে তারা ইসরাইলসহ পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও তেল স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে এবং প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে।   ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর তেলের বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম জিএমটি ১১:০৮ নাগাদ প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১৩ ডলার বা প্রায় ১৩.৫ শতাংশ কমে সেশন লো ৮৫.২৮ ডলারে অবস্থান করছে।   এর আগে জাহাজে ইরানের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের উপরে পৌঁছেছিল। ট্রাম্পের সামরিক হুমকি স্থগিত হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ যোগ হতে যাচ্ছে। সমুদ্রে ভাসমান ট্যাংকারে মজুত থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল এখন খালাস ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।   জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রপথে নোঙর করে থাকা জাহাজে বিপুল পরিমাণ এই তেল সংরক্ষিত রয়েছে। যদিও পরামর্শক সংস্থা এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ তাদের প্রাক্কলনে এ পরিমাণ ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল বলে উল্লেখ করেছিল।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের জন্য এই তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির পথ খুলে গেছে। এর ফলে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ তেল কেনার পরিকল্পনা করছে।   বিশ্বের জ্বালানি চাহিদায় এশিয়ার দেশগুলো বড় ভূমিকা রাখে, যেখানে তাদের মোট তেলের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তবে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় অঞ্চলের অনেক শোধনাগার উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে ইরানি তেলের সরবরাহ বাজারে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে, বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা

বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহকে স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ নিতে পারে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স বিজনেসকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সাগরে ইতিমধ্যেই থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেলের বাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে।   তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তাদের সংরক্ষিত তেল মজুতও বিশ্ববাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়ায় আছে। এই উদ্যোগের ফলে বিশ্বে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হবে।   বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের জ্ঞাতসারেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই পদক্ষেপ তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর হবে।   এছাড়া মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি মূলত বিশ্ববাজারে সংকট এড়াতে এবং ইরানের তেলের ব্যবহার বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে না পারে সেজন্য নেওয়া হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ড পরিমাণ ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মুক্তির জন্য আইইএ’র ঐক্যমত

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সদস্য দেশগুলো জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।   এটি প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মুক্ত করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। আইইএ নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী আবার সচল না হলে এই তেল সরবরাহ খুব সীমিত প্রভাবই ফেলবে।   ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বাজারে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়া হয়েছিল, যা বর্তমানে ঘোষণা করা ৪০ কোটি ব্যারেলের থেকেও কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অবরুদ্ধ তেল থাকায় এই সরবরাহ খুব নগণ্য এবং মাত্র ২৫ দিনে শেষ হয়ে যাবে।   আইইএর ঘোষণার পরও বিশ্ব তেলের বাজারে দাম প্রভাবিত হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি, আর মার্কিন WTI প্রায় ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
ইরান যুদ্ধ ক্ষতিপূরণের জন্য হরমুজ প্রণালিতে কর বসানোর পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ১২তম দিনে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে ইরানের তেল খাত সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইরান বর্তমানে যুদ্ধের প্রতিটি ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফোয়াদ ইজাদি বলেন, ‘‘ইরানি কর্মকর্তারা এমন কৌশল ভাবছেন যাতে যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষতি পূরণ করা যায়।’’   ইজাদির মতে, ইরানের ভেতরে কয়েকটি প্রস্তাব আলোচনাাধীন। এর মধ্যে একটি হলো আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা, যেখানে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো অর্থ প্রদান করবে। অন্য একটি প্রস্তাব হলো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কর আরোপ।   তিনি বলেন, ‘‘ইরান আর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারবে না, আর অন্যরা স্বাভাবিকভাবে লাভবান হবে—এমন পরিস্থিতি আর চলবে না।’’   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। এখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে, তাই নতুন কোনো কর বা বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   এদিকে তেহরান দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ১ হাজার ৩শ’র বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘এক লিটার তেলও’ যেতে দেবে না ইরান

হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সহযোগীদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ পার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তেহরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দিকে যাওয়া যেকোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারকে ইরান ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে।   ইব্রাহিম জোলফাকারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা আঘাতের নীতি এখন শেষ হয়েছে। তেহরানের বর্তমান নীতি হবে ‘আঘাতের বদলে চরম আঘাত’।   তেলের বাজার নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার দাবি, তেলের দাম মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানো শুরু করল, নৌ চলাচলে সতর্কতা জারি

ইরান তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী মাইন বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী এটি ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দুইজন গোয়েন্দা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে ইরানি বাহিনী কয়েক ডজন মাইন স্থাপন করেছে। এছাড়া তাদের ছোট জাহাজ ও মাইন বসানোর সক্ষমতার ৮০ শতাংশ এখনও অব্যাহত রয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইচ্ছা করলে তারা হাজার হাজার মাইন স্থাপন করতে সক্ষম।   বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইরানের নৌবাহিনী এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের হাতে। তারা প্রণালীর নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিস্ফোরক বোঝাই ছোট নৌকা, মিসাইলসহ অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করতে পারবে। গত সপ্তাহে বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যে কোনো জাহাজ যদি প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করে, তা ধ্বংস করা হবে।   এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং তেলের পরিবহণে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা বৈশ্বিক তেল বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার কারণ প্রকাশ করল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিতর্কিত মন্তব্য নতুন ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি অংশ হলো ইরানের বিশাল তেল মজু নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।   গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তু এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সংঘাত দ্রুত লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গোলান মালভূমি এবং বাগদাদে হামলার খবর পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।     হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল এনার্জি ডমিনেন্স কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক জ্যারড অ্যাজেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানের বিশাল তেলের মজুদ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণকে আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করছে।   বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রমাণিত তেল মজু রাখে এবং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়েছে। কিছু ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বীমা কোম্পানিগুলোও কভারেজ প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে।     সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর এক হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিকদের সুরক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন শুধুমাত্র ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক জোট এতে জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। চীনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ, উত্তর কোরিয়ার সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিলিশিয়া গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত বৈশ্বিক রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, মানবিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ততই বেড়ে যাবে।   সূত্র: ওয়াশিংটন হেরাল্ড

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোঁটা তেলও যেতে দেওয়া হবে না: ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোঁটা তেলও যেতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।   ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ‘অবৈধ’ অভিযানের ফলেই গত শনিবার হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ করা হয় বলে দাবি করেছে ইরান। এর পর থেকেই বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সর্বশেষ পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে চীন। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে, উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বড় প্রভাব পড়া প্রতিরোধ করতে হবে।   তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চীন তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যায়। চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা, যার বড় অংশই এই রুট ব্যবহার করে পরিবাহিত হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: তেল-গ্যাসের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান হামলার জবাবে ইরান পালটা হামলা চালানোর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়েছে। সোমবার কাতারএনার্জি তাদের স্থাপনায় সামরিক হামলার পর উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যায়।   আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের বেশি ছুঁয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে সপ্তাহান্তে তিনটি জাহাজে হামলার পর এ দাম বৃদ্ধি পায়। ইরান দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধে সতর্কতা দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। ডাও জোন্স প্রায় ১% কমে লেনদেন শুরু করে, নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও নিম্নমুখী ছিল। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক ১% কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের শেয়ারও বড় পতনের মুখে পড়েছে।   বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দাম ২% বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩৮৮ ডলারে পৌঁছেছে।   কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী দোহার দক্ষিণের মেসাইদ এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। প্রতিবেশী সৌদি আরবে ড্রোন হামলার পর রাস তানুরার আরামকোর প্রধান তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।   প্রাথমিক দর বেড়ে যাওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম প্রায় ৭.৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৭২.২০ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকরা জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল শুরু হলে তেলের দাম আবার কমতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় তেলের দাম বেড়ে ৮০ ডলার

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তেলের দামে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।   বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সোমবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি উঠতে পারে। আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, “যে কোনো সামরিক হামলা তেলের দাম বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়া।”   বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫–২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এই পথ দিয়ে পরিবহিত তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানি-এর প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ ব্যবহার করে। পারমার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা দেখা দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরও উঠে যেতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই থাকা যাবে না—নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0