সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

জাপানে কালো ভালুকের দুঃসাহসিক অনুপ্রবেশে আতঙ্ক, ঘরে ঘরে বৈদ্যুতিক বেড়া ও ফাঁদ স্থাপন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ২:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইওয়াতে অঞ্চলে এশীয় কালো ভালুকের ধারাবাহিক অনুপ্রবেশে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক বাড়ি, খামার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। খাদ্যের সন্ধানে ভালুকগুলো বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকছে, হিমঘর খুলে খাবার খেয়ে ফেলছে এবং দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ফাঁদ বসানো, বিদ্যুৎচালিত বেড়া স্থাপন এবং অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইওয়াতে অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ১৪টি অনুপ্রবেশের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অধিকাংশ ঘটনাই একই এশীয় কালো ভালুকের কাজ। প্রাণীটি মানুষের উপস্থিতি উপেক্ষা করে বারবার বসতবাড়িতে প্রবেশ করছে, যা স্বাভাবিক আচরণের তুলনায় অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে।

 

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে শিজুকুইশি এলাকায়। ৮৭ বছর বয়সী এক বাসিন্দা রান্নাঘর থেকে শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে দেখেন, একটি বড় আকারের কালো ভালুক হিমঘরের দরজা খুলে ভেতরের খাবার খাচ্ছে। ঘটনাটি দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে ভালুকটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

 

তদন্তে জানা গেছে, একই ভালুক একটি খামারে কয়েকবার ঢুকে পশুখাদ্য খেয়েছে। এছাড়া একাধিক বাড়ি থেকে চিনি, বিস্কুট, শুকনো খাবার এবং ঐতিহ্যবাহী জাপানি মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকে প্রস্তুত খাবার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে মানুষ ও ভালুকের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক খাদ্যের সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মানুষের বসতি বনাঞ্চলের আরও কাছে বিস্তৃত হওয়া এবং গ্রামীণ এলাকায় জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ভালুক মানুষের বসতিতে প্রবেশে আরও সাহসী হয়ে উঠছে।

 

ইওয়াতে প্রশাসন জানিয়েছে, ভালুকটিকে জীবিত অবস্থায় আটক করার চেষ্টা চলছে। এজন্য বসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ফাঁদ বসানো হয়েছে এবং ভালুকের চলাচলের সম্ভাব্য পথগুলোতে বিদ্যুৎচালিত বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে টহল জোরদার করেছে।

 

কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের রাতে দরজা-জানালা শক্তভাবে বন্ধ রাখা, বাড়ির বাইরে কোনো ধরনের খাদ্য বা আবর্জনা না রাখা এবং ভালুক দেখা গেলে নিজেরা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের একা বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে যদি বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা না যায় এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হয়। তাদের মতে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
নিজের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে হাজারো প্রাণ বাঁচানো প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় স্কুল ভেসে যাওয়ার আগে ঘণ্টা বাজিয়ে ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বাঁচালেন প্রধান শিক্ষক

নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঠিক আগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করেছেন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পানি ও কাদার প্রবল স্রোত স্কুল ভবনের দিকে এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে তিনি ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেন। পরে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনতলা স্কুল ভবনটি বন্যার স্রোতে ভেসে যায়।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার ত্রিশূলী বাজার এলাকায়। সেখানে ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি ওই দিন ভয়াবহ বিপদের সতর্কবার্তা পান। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ৪৭ বছর বয়সী দাওয়াদির কাছে উজানের বেত্রাবতী এলাকা থেকে এক বন্ধু ফোন করেন। তিনি জানান, নদীর পানি ভয়াবহ গতিতে নিচের দিকে আসছে এবং উজানের একটি এলাকা ইতোমধ্যে পানির স্রোতে ভেসে গেছে। স্কুলের দিকে বন্যার পানি এগিয়ে আসতে পারে বুঝতে পেরে দাওয়াদি আর সময় নষ্ট করেননি।   সেই সময় স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা বাসে করে স্কুলের দিকে আসছিল। পরিস্থিতি বুঝে প্রধান শিক্ষক সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে দেন এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শুধু স্কুলে থাকা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিলেই তিনি থামেননি। তিনি মনে করেন, স্কুলবাসে করে যারা তখনও আসছিল, তারাও একই বিপদের মধ্যে পড়তে পারে। এরপর তিনি একে একে বাসচালকদের ফোন করে ফিরে যেতে বলেন। কয়েকটি বাসকে তিনি স্কুলের দিকে না এসে নিরাপদ জায়গায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে সক্ষম হন।   একটি বাসের চালকের সঙ্গে অবশ্য তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে সেটিকে স্কুলের কাছের একটি সেতু দিয়ে আসতে দেখে দাওয়াদি নিজেই চালককে থামার সংকেত দেন এবং ফিরে যেতে বলেন। বাসটি ফিরে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি বন্যার পানির চাপে ভেঙে পড়ে বলে দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ভয়াবহ বন্যার স্রোত স্কুল এলাকায় পৌঁছে যায়।   ত্রিশূলী নদীর পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে তিনতলা স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়। ভবনটি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, পরে সেখানে কেবল ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্তর দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, নদীর স্রোত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ও সেতুসহ বিস্তীর্ণ এলাকার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান শিক্ষক দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বন্যার স্রোত আঘাত হানার আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বিপদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।   তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। অনলাইনখবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল থেকে বের হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কর্মী পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে প্রায় তিন দিন আটকে ছিলেন। পরে ২৮ আগস্ট দাওয়াদি ও আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় স্কুলের দুই কর্মীর মৃত্যুর কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তাদের মৃত্যুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর তথ্য এক নয়। তাই তাদের পরিচয় ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো অতিরিক্ত দাবি করা হচ্ছে না।   নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সেতু, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। নেপালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এই দুর্যোগে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ত্রিশূলী উপত্যকার এই দুর্যোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় স্কুলটির ধ্বংসের মধ্য দিয়ে। যে ভবনে সেদিন সকালেও শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেটি আর ছিল না। কিন্তু ভবনটি ধ্বংস হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একটি বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   রাজেন্দ্র দাওয়াদির ঘটনাটি তাই শুধু একজন প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তের গল্প নয়। এটি দুর্যোগের সময় কয়েক মিনিটের সতর্কতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ। উজান থেকে পাওয়া একটি ফোনকলকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি যদি অপেক্ষা করতেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। দুর্যোগের পর এখন স্কুলটি কোথায় এবং কীভাবে আবার চালু করা হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।   প্রকৃতির এমন আকস্মিক দুর্যোগে কয়েক মিনিটের ব্যবধানই কখনো কখনো জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করে। ত্রিশূলী উপত্যকায় সেদিন রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্ত সেই কয়েক মিনিটকেই কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।   সংবাদসূত্র: দ্য টাইমস, বিডিনিউজ২৪

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২১:৫৪
ইংল্যান্ডের নিচে সন্ধান মিলল ১০ লাখ পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী প্রাচীন আগ্নেয়গিরির

ইংল্যান্ডের নিচে সন্ধান মিলল ১০ লাখ পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী প্রাচীন আগ্নেয়গিরির

নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু

নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু

হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায়  ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের

হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায় ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের

'পায়ে ব্যথা, আর হাঁটতে পারছি না, জানি না কোথায় যাচ্ছি
'পায়ে ব্যথা, আর হাঁটতে পারছি না, জানি না কোথায় যাচ্ছি’: গাজার শিশু

গাজায় চলমান সংঘাত ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মধ্যে এক ফিলিস্তিনি শিশুর অসহায় কথোপকথনের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কের সংবাদ টেলিভিশন চ্যানেল উলুসাল কানালের প্রচারিত ওই ভিডিওতে শিশুটিকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়।   ভিডিওতে শিশুটিকে বলতে শোনা যায়, “আমার পায়ে ব্যথা করছে। আমি আর হাঁটতে পারছি না। আমরা কোথায় যাচ্ছি, সেটাও জানি না।” দীর্ঘ সময় ধরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যেতে বাধ্য হওয়া মানুষের শারীরিক ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তার চিত্র ফুটে ওঠে তার কথায়।   গাজায় সংঘাতের কারণে বহু পরিবার বারবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি গভীর মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।   উলুসাল কানালের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির প্রেক্ষাপট ও শিশুটির পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই ভিডিওতে থাকা বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রচারিত তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি বাস্তব ঘটনার বা ওই শিশুর প্রকৃত ছবি নয়। এটি কেবল প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু বোঝাতে তৈরি করা একটি প্রতীকী ছবি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৩:৯
ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি

ভেনিসে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিরোধ , বাংলাদেশিদের ধর্মঘটের হুমকি

মায়ের ইচ্ছায় সৈনিক, এরপর ডাক্তার - নিজের স্বপ্ন পূরণে শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী!

মায়ের ইচ্ছায় সৈনিক, এরপর ডাক্তার - নিজের স্বপ্ন পূরণে শেষ পর্যন্ত মহাকাশচারী!

শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার কারণে দীর্ঘদিন পুকুরের পানিতে থাকতেন মুর্শিদাবাদের কিশোর ইকবাল শেখ। ছবি: সংগৃহীত

শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া, পাঁচ বছর পুকুরের পানিতে দিন কাটানো কিশোরের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন অনন্ত আম্বানি

প্রত্নতাত্ত্বিকদের দাবি, এল-আরাজ এলাকাতেই ছিল যিশুর সময়ের প্রাচীন বেথসাইদা শহর। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে যিশুর অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী সেই হারানো শহরের সন্ধান পেলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা

ইসরায়েলের গ্যালিলি সাগরের তীরে দীর্ঘদিনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পাওয়ার পর প্রাচীন বেথসাইদা শহর শনাক্ত করার বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন গবেষকেরা। খনন দলের একাডেমিক পরিচালক রবার্ট স্টিভেন নটলির দাবি, এ পর্যন্ত পাওয়া সম্মিলিত প্রমাণগুলো উত্তর ইসরায়েলের বর্তমান এল-আরাজ এলাকায় প্রাচীন বেথসাইদা শহরের অবস্থানের ধারণাকে শক্তিশালী করেছে।   বেথসাইদা খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন শহর। নতুন নিয়মের বর্ণনা অনুযায়ী, যিশু সেখানে কয়েকটি অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এর মধ্যে অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ দিয়ে হাজারো মানুষকে খাওয়ানোর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। যিশুর তিন শিষ্য পিতর, আন্দ্রিয় ও ফিলিপও এই শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলে ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।   প্রাচীন এই শহরের অবস্থান নিয়ে অবশ্য বহু বছর ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। গ্যালিলি সাগরের উত্তর-পূর্ব তীরে অবস্থিত এল-আরাজ এবং কাছাকাছি এট-টেল, দুটি স্থানই বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রধান দাবিদার ছিল। ২০১৬ সালে এল-আরাজ এলাকায় বড় আকারে খননকাজ শুরু করে বেথসাইদা-জুলিয়াস প্রত্নতাত্ত্বিক দল। ২০২৬ সালে এসে তারা খননের দশম মৌসুমে পৌঁছেছে। এবারের অভিযানে রোমান যুগের দেয়াল, মুদ্রা, প্রদীপ, প্রসাধনসামগ্রী, পাথরের তৈরি পেষণপাত্র এবং একটি জনসম্মুখের ভবন সাজাতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন ডোরিক স্থাপত্যের একটি অংশ পাওয়া গেছে।   গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন এল-আরাজ এলাকায় খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর সময়েও বসতি ছিল এমন ধারণাকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে হেরোদীয় আমলের বেশ কয়েকটি অক্ষত প্রদীপ এবং চুনাপাথরের তৈরি পাত্র পাওয়া গেছে। খনন দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেমে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে তৈরি হওয়া এসব প্রদীপ ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। খননস্থলে পাওয়া স্থাপত্য নিদর্শনও গবেষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। রোমান যুগের দেয়ালের পাশাপাশি একটি অর্ধেক ডোরিক স্তম্ভের অংশ পাওয়া গেছে, যা কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এল-আরাজে গির্জা, মোজাইক, বসতবাড়ির দেয়াল এবং রোমান যুগের বিভিন্ন নিদর্শনও উদ্ধার করা হয়েছে।   প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, বেথসাইদা পরবর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে জুলিয়াস নামে একটি নগরীতে রূপ নেয়। এবারের খনন সেই রূপান্তর সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাচীন গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষকে শুধু দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও এসব নিদর্শন পুরোপুরি মেলে না। বরং স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা ও পাওয়া সামগ্রী থেকে বোঝা যায়, অন্তত কিছু শহর ও জনপদ তখন যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে সেখানে একটি বাইজেন্টাইন আমলের গির্জার মেঝেতে একটি শিলালিপি পাওয়া যায়, যেখানে পিতরের নামের সঙ্গে তাঁকে প্রেরিতদের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করার ঐতিহ্যের প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, গির্জাটি পিতর ও আন্দ্রিয়ের বাড়ির ওপর নির্মিত হয়েছিল বলে পরবর্তী খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে যে দাবি রয়েছে, তার সঙ্গে এই আবিষ্কারের সম্পর্ক থাকতে পারে।   তবে বেথসাইদার অবস্থান নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। অন্য একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দল দীর্ঘদিন ধরে কাছের এট-টেল এলাকাকেই প্রাচীন বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। সেখানে লৌহ যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। ফলে এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে শনাক্ত করার দাবি এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার আলোচনার অংশ। এল-আরাজ খনন প্রকল্পের গবেষকেরা অবশ্য বলছেন, সময়ের সঙ্গে পাওয়া তথ্যগুলো একই দিকে ইঙ্গিত করছে। একাডেমিক পরিচালক স্টিভেন নটলির মতে, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি নতুন নিদর্শন প্রাচীন বেথসাইদার সঙ্গে এল-আরাজের সম্পর্কের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি এই স্থানকে গসপেল বা সুসমাচারে উল্লেখিত হারিয়ে যাওয়া শহরগুলোর অন্যতম শেষ নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।   প্রত্নতাত্ত্বিক খননের এই ধারাবাহিকতা শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া শহরের অবস্থান শনাক্ত করার প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে যিশুর সময়ের গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, অর্থনীতি, ধর্মীয় পরিবেশ এবং রোমান শাসনের প্রভাব সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আরও খনন ও গবেষণার মাধ্যমে এল-আরাজের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২২:৩২
ফ্রিডম এজ নামের এই বহুমাত্রিক মহড়ায় নৌ, বিমান ও সাইবার অভিযানের ওপর জোর দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু ৭ সেপ্টেম্বর, ক্ষুব্ধ হতে পারে উত্তর কোরিয়া

হিমবাহ ধসের পর নদীগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়, ভেঙে পড়েছিল হিমবাহ; ফের বন্যার আশঙ্কা

নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

0 Comments