মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপান। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরিশোধিত তেল আমদানি সহায়তায় ১০ বিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।
বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলো পারস্পরিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে একটি অঞ্চলের সংকট অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলছে।
জাপান সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহে সহায়তা করা, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় মজুত গড়ে তুলতে সহায়তা করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও অবরোধের কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অর্থায়ন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যদের প্রায় এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির সমপরিমাণ ব্যয় মেটাতে সক্ষম। এ তহবিল বিভিন্ন উৎস থেকে আসবে, যার মধ্যে রয়েছে জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা।
বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতারা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তবে জাপান সরকার আশ্বস্ত করেছে, এই সহায়তা কর্মসূচির ফলে তাদের নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। দেশটির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ার জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে জাপানের এই সহায়তা উদ্যোগ আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইওয়াতে অঞ্চলে এশীয় কালো ভালুকের ধারাবাহিক অনুপ্রবেশে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক বাড়ি, খামার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। খাদ্যের সন্ধানে ভালুকগুলো বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকছে, হিমঘর খুলে খাবার খেয়ে ফেলছে এবং দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ফাঁদ বসানো, বিদ্যুৎচালিত বেড়া স্থাপন এবং অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইওয়াতে অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ১৪টি অনুপ্রবেশের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অধিকাংশ ঘটনাই একই এশীয় কালো ভালুকের কাজ। প্রাণীটি মানুষের উপস্থিতি উপেক্ষা করে বারবার বসতবাড়িতে প্রবেশ করছে, যা স্বাভাবিক আচরণের তুলনায় অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে শিজুকুইশি এলাকায়। ৮৭ বছর বয়সী এক বাসিন্দা রান্নাঘর থেকে শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে দেখেন, একটি বড় আকারের কালো ভালুক হিমঘরের দরজা খুলে ভেতরের খাবার খাচ্ছে। ঘটনাটি দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে ভালুকটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তদন্তে জানা গেছে, একই ভালুক একটি খামারে কয়েকবার ঢুকে পশুখাদ্য খেয়েছে। এছাড়া একাধিক বাড়ি থেকে চিনি, বিস্কুট, শুকনো খাবার এবং ঐতিহ্যবাহী জাপানি মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকে প্রস্তুত খাবার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে মানুষ ও ভালুকের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক খাদ্যের সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মানুষের বসতি বনাঞ্চলের আরও কাছে বিস্তৃত হওয়া এবং গ্রামীণ এলাকায় জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ভালুক মানুষের বসতিতে প্রবেশে আরও সাহসী হয়ে উঠছে। ইওয়াতে প্রশাসন জানিয়েছে, ভালুকটিকে জীবিত অবস্থায় আটক করার চেষ্টা চলছে। এজন্য বসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ফাঁদ বসানো হয়েছে এবং ভালুকের চলাচলের সম্ভাব্য পথগুলোতে বিদ্যুৎচালিত বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে টহল জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের রাতে দরজা-জানালা শক্তভাবে বন্ধ রাখা, বাড়ির বাইরে কোনো ধরনের খাদ্য বা আবর্জনা না রাখা এবং ভালুক দেখা গেলে নিজেরা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের একা বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে যদি বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা না যায় এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হয়। তাদের মতে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
জানালা ভেঙে কেবিনের বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায় রায়ানএয়ারের ফ্লাইটে। গুরুতর আহত যাত্রী হাসপাতালে, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল। গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে জানালা ভেঙে এক যাত্রী প্রায় বাইরে ছিটকে পড়ছিলেন। শেষ মুহূর্তে তাঁর পা শক্ত করে ধরে এবং অন্য দুই যাত্রীর সহায়তায় তাঁকে ভেতরে টেনে এনে প্রাণে বাঁচান তাঁর স্ত্রী। ঘটনাটি গত শুক্রবার ঘটে। ভুক্তভোগী ৬১ বছর বয়সী লিউবিসা কারোভিচ স্ত্রী স্বেতলানা গ্রকোভিচের সঙ্গে গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনে যাচ্ছিলেন। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইআরটির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গ্রকোভিচ জানান, তাঁর স্বামী প্রায় দুই মিনিট বুক পর্যন্ত উড়োজাহাজের বাইরে ঝুলে ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পা শক্ত করে ধরে ফেলি। তখন শুধু মনে হচ্ছিল, যদি মরতে হয়, আমরা একসঙ্গেই মরব।” স্বেতলানার ভাষ্য, তাঁর স্বামীর পাশের আসনে বসা এক নারী যাত্রীর সহায়তায় এবং আরও একজনের সহযোগিতায় তাঁরা তিনজন মিলে কারোভিচকে কেবিনের ভেতরে টেনে আনেন। এ সময় উড়োজাহাজে অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে এবং যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাটির সময় বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর কেবিনের ভেতরের বায়ুচাপ দ্রুত কমে যায় এবং উড়োজাহাজটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কারোভিচের সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় তিনি পুরোপুরি উড়োজাহাজের বাইরে ছিটকে পড়েননি। তাঁর মাথা ও কাঁধ কেবিনের বাইরে চলে গেলেও সিটবেল্ট এবং অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তাঁকে ধরে রাখা সম্ভব হয়। স্বেতলানা জানান, তাঁর স্বামীর হাত গুরুতর জখম হয়েছে, শরীরে ঘর্ষণ ও পোড়ার মতো ক্ষত রয়েছে এবং ঘটনার ধাক্কায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি বেঁচে আছেন। এখন তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, এমনকি পুরো ঘটনাটিও তাঁর মনে নেই।” রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, থেসালোনিকি থেকে মেমিংগেনগামী তাদের একটি ফ্লাইটে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উড়োজাহাজটি নিরাপদে ফিরে আসে। পরে এটি স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করে এবং এক আহত যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিয়োগ করা এক বিশেষজ্ঞের দাবি, ডান দিকের ইঞ্জিনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে জানালায় আঘাত করায় এটি ভেঙে যায়। তবে তদন্তকারীরা এখনো এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের এবং এর বয়স প্রায় ১৮ বছর। ঘটনাটি উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশসীমায় ঘটায় সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। লিউবিসা কারোভিচ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে প্রস্তাবিত কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আগের প্রস্তাব থেকে সরে এসে নতুন খসড়া বিলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা চীন ও ভারতের ওপর সম্ভাব্য চাপ কিছুটা কমতে পারে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধিত এই বিল অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। তবে আগের মতো ৫০০ শতাংশ শুল্কের বিধান রাখা হয়নি। দ্বিদলীয় এই বিলটি রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে চাপের মুখে ফেলা। একই সঙ্গে ভারত, চীনসহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করাও বিলটির অন্যতম উদ্দেশ্য। নতুন খসড়ায় রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি ও আর্থিক খাতেও নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত 'শ্যাডো ট্যাংকার' বহর, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইয়ামাল এলএনজি ও আর্কটিক এলএনজির মতো বড় জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তবে সংশোধিত বিলে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। এই বিধানের আওতায় জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিলে প্রেসিডেন্টকে একটি বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত বা শিথিল করতে পারবেন। বিশ্ববাজারে বর্তমানে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় আমদানিকারকদের মধ্যে রয়েছে চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম। মার্কিন সিনেটে বিলটির প্রতি সমর্থনও বাড়ছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম উত্থাপিত এই বিলের পক্ষে বর্তমানে ২৬ জন সিনেটর সমর্থন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইউক্রেন সফরকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা এই বিলে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে বিলটির সহ-উদ্যোক্তা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেছেন, আপাতত বিলের মূল উদ্দেশ্য পরিবর্তন না করাই ভালো। তার মতে, নতুন বিষয় যুক্ত করলে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কের হার ৫০০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও সংশোধিত বিলটি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ও অর্থনীতির ওপর চাপ ধরে রাখার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে মিত্র দেশগুলোর জন্য কিছুটা নীতিগত নমনীয়তাও রাখা হয়েছে।