নিরাপত্তা

ছবি: সংগৃহীত।
জ্বালানি সংকট রুখতে ১৯ ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন

বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং মজুতদারদের অপতৎপরতা রুখতে বিজিবি সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্বরত সদস্যরা নিজস্ব ইউনিট থেকে দূরে হওয়ায় সুবিধাজনক স্থানে অস্থায়ী 'বেইজ ক্যাম্প' স্থাপন করে অভিযান ও তদারকি চালাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এসব ক্যাম্পে নিয়মিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিজিবি: রংপুর বিভাগ: রংপুর (৩টি), কুড়িগ্রাম (২টি)। রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী (৩টি)। সিলেট বিভাগ: সিলেট (২টি), মৌলভীবাজার (৩টি), সুনামগঞ্জ (১টি)। চট্টগ্রাম ও ঢাকা: কুমিল্লা (৩টি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১টি) এবং ঢাকা (১টি)। ডিপোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল এবং চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এখন তুঙ্গে। ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে বিজিবির এই সক্রিয় উপস্থিতি জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস
ইরাকে জরুরি সতর্কতা: মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।  বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় দূতাবাস জানায়, ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে মার্কিন নাগরিক এবং ওয়াশিংটন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ‘ব্যাপক আকারে’ হামলা চালিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এই হামলার বিস্তার ঘটেছে। ইরাকি আকাশসীমায় বর্তমানে মিসাইল, ড্রোন এবং রকেট হামলার চরম ঝুঁকি থাকায় নাগরিকদের বাগদাদের দূতাবাস বা এরবিলের কনস্যুলেট জেনারেলের দিকে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বার্তায় আরও বলা হয়, ইরাকের আকাশপথ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক নাগরিকদের জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহার করে স্থলপথে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইরাককে ‘লেভেল ফোর’ বা ‘ভ্রমণ নিষিদ্ধ’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় দেশে যেন জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই ডিজেল সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে 'এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড' থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং 'সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড' থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন উন্নত মানের ডিজেল আমদানি করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই আমদানির মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ বাংলাদেশের জাহাজ: বিশেষ নিরাপত্তা দেবে ইরান

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।  তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট ৬টি বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজে কোনো প্রকার হামলা করা হবে না। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই স্বস্তির খবর নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরাকের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় থাকবে।  আরাগচি বলেন, “ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই ছয়টি দেশের জাহাজে কোনো হামলা চালানো হবে না। যুদ্ধের এই কঠিন সময়েও দেশগুলো সেখানে ‘নিরাপদ প্যাসেজ’ বা চলাচলের বিশেষ সুবিধা পাবে।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান এই কৌশলগত জলপথে অবরোধ জারি করে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং দাম বৃদ্ধিতে অনেক দেশ সংকটে পড়ে। তবে ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, এই কঠোরতা শুধু ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর জন্য। এদিকে, মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান কিছু নিয়ম জারি করেছে। প্রধান শর্ত হলো— হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে।  পাশাপাশি ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, এই জলপথ ব্যবহারের জন্য সব বিদেশি জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে ‘টোল’ প্রদানের একটি আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলে কঠোর ব্যবস্থা

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে সড়কপথে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।  বিশেষ করে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় না করার বিষয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৫ মার্চ) সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের চাপ সামলাতে এবং দুর্ঘটনা রোধে চালকদের অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফিরতি যাত্রায় বয়স্ক, নারী ও শিশুদের প্রতি চালক ও সহকারীদের বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত ভাড়ার বেশি টাকা আদায় করা যাবে না। ভাড়া সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম রোধে মাঠ পর্যায়ে তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতের সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর
ইরানের নতুন সেনাপতি মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর

ইরানের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় নিরাপত্তার হাল ধরলেন অভিজ্ঞ রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী লারিজনির মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান মেহেদি তাবাতাবায়ি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর চার দশক ধরে ইরানের সামরিক, বিচার বিভাগ এবং বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি, যেখানে কুর্দি গোষ্ঠীসহ আন্তঃসীমান্ত আধাসামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলায় বিশেষ পারদর্শিতা দেখান। পরবর্তীতে তিনি আইআরজিসি-র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জোলঘাদরের নিয়োগকে ইরানের হার্ডলাইন বা কট্টরপন্থী অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি কেবল সামরিক কৌশলবিদই নন, বরং দেশটির নীতি-নির্ধারক সংস্থা 'এক্সপেডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিল'-এরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বাসিজ এবং আনসার-ই-হিজবুল্লাহর মতো আধাসামরিক বাহিনীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও বিরোধী দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।  আলী লারিজনির হত্যাকাণ্ডের পর জোলঘাদরের মতো একজন 'ব্যাটল-টেস্টেড' কমান্ডারকে বেছে নিয়ে ইরান বিশ্বকে তার কঠোর নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের বার্তাই দিল।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'ড্রাগন'
সাইপ্রাস রক্ষায় ব্যর্থ 'ড্রাগন' ডেস্ট্রয়ার: ব্রিটেনের সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা ফাঁস

সাইপ্রাসকে সুরক্ষা দিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ 'ড্রাগন' পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় লন্ডনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিন।  তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের তথাকথিত 'মিলিটারি আমব্রেলা' বা সামরিক সুরক্ষা বলয় পুরোপুরি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেলিন জানান, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের মুখে ব্রিটিশ পরিকল্পনাকারীরা কার্যত অপ্রস্তুত ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিকরাও সরকারের এই সামরিক অদূরদর্শিতার কড়া সমালোচনা করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাইপ্রাসের মতো দেশগুলো ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেয় এই আশায় যে, সংকটের সময় লন্ডন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে, প্রয়োজনের সময় ব্রিটিশদের এই সুরক্ষা ব্যবস্থা কোনো কাজেই আসছে না।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের এই 'সতর্ক অবস্থান' মূলত তাদের সামরিক সীমাবদ্ধতাকেই বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
অ্যাম্বুলেন্সগুলি পরিচালনা করত ইহুদী স্বেচ্ছাসেবং সংস্থা।
লন্ডনে ইহুদি-বিদ্বেষের ঘটনা, তদন্তে নেমেছে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ

যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের ইহুদি অধ্যুষিত গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।  স্থানীয় একটি সিনাগগের পাশে রাখা এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো মূলত ইহুদি স্বেচ্ছাসেবক দল দ্বারা পরিচালিত হতো। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাস-মোকাবিলাকারী বিশেষ পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনাকে সরাসরি ইহুদি-বিদ্বেষী আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। এক বিবৃতিতে তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। স্টারমার বলেন, আমাদের আধুনিক সমাজে কোনো ধরনের ইহুদি বিদ্বেষ বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার স্থান নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রোপলিটান পুলিশের প্রধান মার্ক রাওলি অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গোল্ডার্স গ্রিনসহ আশপাশের ইহুদি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে ২৬৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, ঘৃণাজনিত হামলার আশঙ্কা

লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ইহুদি স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ইহুদিবিদ্বেষী (অ্যান্টিসেমিটিক) ঘৃণাজনিত হামলা হিসেবে তদন্ত করছে।   সোমবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ‘হাতজোলা নর্থওয়েস্ট’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী জরুরি চিকিৎসাসেবার অন্তত চারটি অ্যাম্বুলেন্স আগুনে পুড়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িগুলোতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।   লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ভবনের জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ হতাহত হয়নি।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও জঘন্য ইহুদিবিদ্বেষী অগ্নিসংযোগ” বলে উল্লেখ করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত এখন কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট পরিচালনা করছে। যদিও এটিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা বলা হয়নি, তবুও এর পেছনে সংগঠিত কোনো গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামনে পাসওভার উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ইরানে সংবেদনশীল স্থাপনার খবর ও ছবি বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার । ফাইল ফটো
ইরানে বিদেশি গণমাধ্যমে তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ২৫ জন গ্রেপ্তার

ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশ-এ সংবেদনশীল স্থাপনার খবর ও ছবি বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রদেশটির পুলিশ প্রধানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের বরাত অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য ও চিত্র অবৈধভাবে বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছিল।   স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, এই অভিযান দেশটির নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি যে, এই ঘটনায় কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ইরাকের বাগদাদে দেশটির গোয়েন্দা সদর দপ্তর লক্ষ্য করে আজ শনিবার ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে | ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
ইরাকে গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা, নিহত ১

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ-এ গোয়েন্দা সদর দপ্তর ও একটি যোগাযোগ ভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।   শনিবার সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্রে এ হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ইরাক সরকারের নিরাপত্তা মিডিয়া ইউনিটের প্রধান জেনারেল সাদ মান।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে এএফপি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গোয়েন্দা সদর দপ্তরের পাশাপাশি একটি যোগাযোগ ভবনও হামলার শিকার হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে ইরাকের একটি নিরাপত্তা সংস্থার কার্যালয় ছিল, যা দেশটিতে উগ্রবাদবিরোধী অভিযানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে কাজ করে।   ইরাকের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদর দপ্তরের কাছে ‘আইনবহির্ভূত গোষ্ঠী’র চালানো এই ড্রোন হামলায় তাদের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।   তবে হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রহস্যময় ড্রোন, বাড়ল নিরাপত্তা উদ্বেগ

ইরান-যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক অজ্ঞাত ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে এই স্থানটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সরকারি বাসভবনের অবস্থান।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফোর্ট লেসলি জে. ম্যাকনেয়ার-এর আকাশে সম্প্রতি রাতে রহস্যময় ড্রোনগুলো শনাক্ত করা হয়। ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।   ঘটনার পর ঘাঁটির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই উচ্চ সতর্কতায় আছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রোনের এই কার্যক্রম নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।   একই সঙ্গে, দেশটির আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ‘ফোর্স প্রোটেকশন লেভেল চার্লি’ জারি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ স্তর ‘ডেল্টা’ কেবল তখনই কার্যকর হয়, যখন হামলা আসন্ন বা চলমান থাকে। এই পরিস্থিতিতে মার্কো রুবিও ও পিট হেগসেথকে নিরাপদ স্থানে সরানোর বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।   বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে একাজোট যুক্তরাজ্য ও মিত্র দেশগুলো

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবার কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ। ইরান কর্তৃক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং তেল-গ্যাস স্থাপনায় নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বিবৃতিতে দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল বা 'সেফ প্যাসেজ' নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অংশ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এই জোট। মিত্র দেশগুলো ইরানকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা, মাইন স্থাপন এবং মিসাইল নিক্ষেপের মতো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবনা মেনে চলার জন্য তেহরানের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।  বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিত্র দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এবার নতুন করে উঠে এসেছে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা তুলসি গ্যাবার্ড বলেছেন, পাকিস্তান ভবিষ্যতে এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।   বুধবার সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পাশাপাশি পাকিস্তানও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এসব প্রযুক্তি পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডকেও নাগালের মধ্যে আনতে পারে।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে বলা হয়, দেশটি ধীরে ধীরে এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে।   তবে এ মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘শাহিন-থ্রি’র পাল্লা প্রায় ২৭৫০ কিলোমিটার, যা মূলত আঞ্চলিক পরিসরে সীমাবদ্ধ। সাধারণভাবে আইসিবিএম বলতে ৫৫০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বোঝানো হয়, যা পাকিস্তানের কাছে এখনো নেই।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটারের বেশি হওয়ায় বর্তমানে সরাসরি আঘাত হানার সক্ষমতা দেশটির নেই। এই ধরনের প্রযুক্তি এখনো কেবল কয়েকটি দেশ—রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।   এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানও পরিষ্কার। দেশটির কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মূলত ভারতকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। সাবেক কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও মার্কিন মূল্যায়নকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন।   বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের মূল্যায়ন অনেক সময় সম্ভাব্য ঝুঁকির সর্বোচ্চ চিত্র তুলে ধরে। তবে এতে বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।   এই মূল্যায়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আবারও কূটনৈতিকভাবে উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও বাস্তব কৌশলগত অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রিয়াদ বৈঠকের পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ১২ মুসলিম দেশের

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপথের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একজোট হয়েছে অঞ্চলের প্রভাবশালী ১২টি রাষ্ট্র। বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক জরুরি বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো। কাতার, আজারবাইজান, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। বিবৃতিতে তেহরানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ইরানকে অবশ্যই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হবে। বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর। মন্ত্রীরা ইরানকে সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত করা বা সমুদ্রপথে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই জলপথগুলোতে কোনো ধরনের অস্থিরতা কাম্য নয় বলে তারা একমত হন। একই বৈঠকে মন্ত্রীরা লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তারা লেবাননের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় দেশগুলো একযোগে ইরানকে সংযত হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় এবার আমিরাত ও কাতারে ঈদের নামাজ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থির পরিস্থিতির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজ উন্মুক্ত ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে না। জননিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ইবাদতের জন্য শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরেই নামাজ আদায় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ইসলামি বিষয়াবলি, ওয়াক্‌ফ ও জাকাত’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে কোনো উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজের আয়োজন হবে না। মুসল্লিদের নিজ নিজ এলাকার মসজিদে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বাড়তি ভিড় সামলানোর জন্য সব মসজিদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার সরকারও। কাতারের ওয়াক্‌ফ ও ইসলাম ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পুরো উপমহাসাগরীয় অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে। তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতার ও সংলগ্ন অঞ্চলে জানমালের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশ দুটি বড় জমায়েত এড়িয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র: গোপন তথ্য ফাঁসে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।  জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (NSC) অতি গোপনীয় আলোচনার তথ্য কীভাবে জনসমক্ষে এলো, তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দেশটির 'গভর্নমেন্ট সিকিউরিটি গ্রুপ'। যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ উঠেছে যে, মার্চের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন ব্রিটিশ জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। মূলত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবরটিই ফাঁস হয়ে গেছে। এই ঘটনা ব্রিটিশ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বলয়ে বড় ধরনের ছিদ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ক্যাবিনেট অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া চিঠির বাইরে তাদের নতুন করে বলার কিছু নেই। মার্কিন-যুক্তরাজ্য সামরিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই তদন্তকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতে একজোট সৌদি আরব, কাতার ও আমিরাত

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার মুখে। এমন নাজুক সময়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জরুরি ফোনালাপ করেছেন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সৌদ।  তিনি কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ আল থানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় তারা ঐক্যবদ্ধ। বিশেষ করে কাতারের নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।  এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব প্রশমিত করতে এবং নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বড় শক্তিগুলো এখন একজোট হয়ে কাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে মিত্র দেশগুলোর অনাগ্রহে অসন্তোষ প্রকাশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রমে অংশ নিতে কিছু মিত্র দেশের অনীহায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে কেনেডি সেন্টারের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ আগ্রহী হলেও অনেকেই এই কার্যক্রমে অংশ নিতে অনিচ্ছুক। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই অনাগ্রহীদের মধ্যে এমন দেশও আছে যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।   ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংকালে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশ ইতিমধ্যেই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের মিত্র সত্ত্বেও অনেক দেশ কার্যক্রমে উৎসাহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে তাদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান করেছে, কিন্তু সংকটের সময় তাদের সক্রিয়তা প্রত্যাশার তুলনায় কম।   এদিকে সোমবার কয়েকটি মার্কিন মিত্র দেশ জানিয়েছে, আপাতত তারা হরমুজ প্রণালি চালু রাখার জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৩০টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে, তবে নতুন মাইন স্থাপন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নন।   যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ওই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি তেলসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিত্রদের নির্লিপ্ততা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইসরায়েলের লক্ষ্য করে নতুন ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে

দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়েছে ইরান। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত সোয়া ১টার দিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া নতুন মিসাইল শনাক্ত করেছে।   মিসাইলের প্রভাবে ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিমতীরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এছাড়া তেলআবিবেও মিসাইল আছড়ে পড়ার সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।   ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে ভুয়া খবর করায় আমিরাতে ১৯ ভারতীয়সহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।   রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-সামসি জানান, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোনো ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কার্যক্রম তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছে যা দেশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। দ্বিতীয় দলটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভুয়া ভিডিও তৈরি ও প্রচার করেছে। তৃতীয় দলটি অনলাইনে শত্রুপক্ষের প্রশংসা করে বিভিন্ন তথ্য প্রচার করেছে।   আমিরাত প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অভিযুক্তরা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে।   সূত্র: এনডিটিভি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0