নাসা

ছবি: সংগৃহীত
চাঁদ জয় থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে নাসা: সফলভাবে ফিরল আর্টেমিস ২-এর নভোচারীরা

চাঁদে মানুষের উপস্থিতি পুনরায় জোরদার করতে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচি। ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের সফলতার পর এবার ২০২৭ সালে ‘আর্টেমিস ৩’ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।   মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজে অবস্থান করে নাসার প্রশাসক Jared Isaacman ‘আর্টেমিস ২’ মিশনকে সফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু একটি সংস্থার নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক।   মিশনের নভোচারীদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তিনি জানান, এই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে যাওয়া ও নিরাপদে ফিরে আসার সক্ষমতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। এটি ভবিষ্যতের আরও বড় লক্ষ্য অর্জনের ভিত্তি তৈরি করেছে।   তিনি আরও বলেন, এখন লক্ষ্য হচ্ছে নিয়মিতভাবে চাঁদে নভোচারী পাঠানো এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে ‘আর্টেমিস ৩’ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। নাসা মনে করছে, এই কর্মসূচি শুধু চাঁদে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যতে আরও দূর মহাকাশ অভিযানের পথও সুগম করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
চন্দ্রবিজয় শেষে পৃথিবীর পথে আর্তেমিস-২: প্রশান্ত মহাসাগরে আজ অবতরণের অপেক্ষা

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মানুষের চন্দ্রাভিযানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার পথে নাসা। ১০ দিনের সফল মিশন শেষে আজ শুক্রবার পৃথিবীর বুকে ফিরে আসছেন 'আর্তেমিস-২' (Artemis II) মিশনের চার মহাকাশচারী। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ (Splashdown) করবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন তাদের 'ইন্টিগ্রিটি' নামক ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ২৫,০০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবেন। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ঘর্ষণের ফলে ক্যাপসুলটির বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অবতরণের ঠিক আগে প্রায় ছয় মিনিটের একটি 'রেডিও ব্ল্যাকআউট' বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সময় পার করতে হবে তাদের। এরপর বিশালকার প্যারাশুটের মাধ্যমে গতি কমিয়ে সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে আছড়ে পড়বে ক্যাপসুলটি। গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল আর্তেমিস-২। এই মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদের অন্ধকার দিক (Far side) প্রদক্ষিণ করেছেন এবং মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছেছিলেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই মিশনটি বেশ কিছু কারণে ঐতিহাসিক। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের গৌরব অর্জন করেছেন। আর্তেমিস-২ মূলত নাসার একটি পরীক্ষামূলক মিশন। এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই চলতি দশকের শেষের দিকে আর্তেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে চাঁদকে একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ 'ইউএসএস জন পি. মার্থা' ইতিমধ্যে সমুদ্রের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করছে ওরিয়ন ক্যাপসুল ও মহাকাশচারীদের উদ্ধার করার জন্য। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই চার বীরের নিরাপদে ঘরে ফেরার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ড গড়ে পৃথিবীর পথে আর্টেমিস-২: মহাকাশে নতুন ইতিহাস লিখলেন চার নভোচারী

৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে মহাকাশ জয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। সোমবার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।  এর আগে কোনো মানুষ পৃথিবী থেকে এত দূরে ভ্রমণ করেনি। বুধবার চাঁদের কক্ষপথ থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নভোচারীরা তাদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানান।  মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ হাজার কিলোমিটারের বেশি গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ফেরার পথে তারা চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) এবং একটি বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছেন। নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন জানান, খালি চোখে চাঁদের পৃষ্ঠ দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৮ সালে মানুষকে পুনরায় চাঁদের বুকে নামানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে তাদের এই ওরিয়ন ক্যাপসুল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ থেকে সরাসরি পৃথিবীতে ফোন, শুরু হলো আর্টেমিস-২-এর ঘরে ফেরার পালা

মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ওরিয়ন মহাকাশযান। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে চার নভোচারী এখন তাঁদের ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানের শেষ ধাপে রয়েছেন। গতকালের (৬ এপ্রিল) ঐতিহাসিক 'লুনার ফ্লাইবাই' বা চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পর আজ সপ্তম দিনে নভোচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) থাকা সহকর্মীদের সাথে একটি দীর্ঘ দূরত্বের অডিও কলে যুক্ত হন। প্রায় ১৫ মিনিটের এই কথোপকথনে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। এই অভিযানে নভোচারীরা অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া পূর্বের রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্ব (প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল) অতিক্রম করার এক নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছেন। ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠ (Far Side) দিয়ে যাওয়ার সময় মহাজাগতিক এক বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছে, যা পৃথিবীর বুক থেকে দেখা অসম্ভব। মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও পাইলট ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের পৃষ্ঠের অসাধারণ সব খানাখন্দ (Craters) এবং ধুলোবালির স্তরের বর্ণনা দিয়েছেন। ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, "চাঁদের এই দৃশ্য দেখে আমি অভিভূত। এটি এতটাই বাস্তব মনে হচ্ছিল যে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল আমি চাঁদের মাটির খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছি।" নভোচারীরা তাঁদের ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালার কাছ থেকে হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা দিয়ে অসংখ্য ছবি তুলেছেন, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী বসতি স্থাপনে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। নাসা জানিয়েছে, ওরিয়ন এখন চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে পৃথিবীর পথে যাত্রা শুরু করেছে। আজ রাতে মহাকাশযানের থ্রাস্টারগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু করার মাধ্যমে এর গতিপথ সংশোধন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ করবে। এই অভিযানে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। ২০২৬ সালের এই সফল মিশনটি মূলত আগামী বছরের আর্টেমিস-৩ মিশনের প্রস্তুতি, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। তথ্যসূত্র: নাসা অফিশিয়াল ব্লগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পৃথিবী থেকে দূরতম পথ পাড়ি, মহাকাশে ইতিহাস গড়ল আর্টেমিস ২

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সূচিত হলো। দীর্ঘ ৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে দূরতম পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশন।  সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) চার নভোচারীবাহী এই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭৩ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে মানব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার দূরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। আর্টেমিস ২ সেই সীমানাকে আরও ৬ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা তিন আমেরিকান এবং এক কানাডীয় নভোচারী বর্তমানে চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) প্রদক্ষিণ করছেন। এই যাত্রায় তারা প্রথমবারের মতো খালি চোখে চাঁদের এমন কিছু দৃশ্য দেখছেন যা এর আগে কোনো মানুষ সরাসরি দেখার সুযোগ পায়নি। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি’ পদ্ধতিতে মহাকাশযানটি এখন পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে ১০ দিনের এই ঐতিহাসিক মিশনের সমাপ্তি ঘটবে। এই মিশনের সাফল্য ২০২৮ সালে চাঁদে পুনরায় মানুষের অবতরণ এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের পথ আরও প্রশস্ত করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদ থেকে এশিয়া-আফ্রিকার ছবি তুলবে নাসা, নজিরবিহীন দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি

চাঁদে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে পৃথিবীর এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ছবি তোলার পরিকল্পনা করছে নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযানে থাকা নভোচারীরা চাঁদ থেকে পৃথিবীর বিরল দৃশ্য ধারণ করবেন।   নাসার বিজ্ঞান কর্মকর্তা কেলসি ইয়ং বলেন, ‘আর্থসেট’ ও ‘আর্থরাইজ’ পর্যায়ে নভোচারীরা পৃথিবীর যে অংশ দেখতে পাবেন, সেখানে সরাসরি এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চল দৃশ্যমান থাকবে। এ সময় পৃথিবীর মানুষের উদ্দেশে প্রতীকীভাবে ‘হাত নেড়ে শুভেচ্ছা’ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   এর আগে অভিযানের কিউরেশন লিড জুলিয়ান গ্রস জানান, চাঁদের বিভিন্ন ভৌগোলিক গঠন কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন নভোচারীরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অ্যারিস্টার্কাস মালভূমি, গ্রিমাল্ডি এবং ওশেনাস প্রোসেলারাম অঞ্চল।   নাসা জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদ ও পৃথিবীর বিরল এবং গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণায় নতুন তথ্য যোগ করবে।     ইতিমধ্যে আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ শুরু করেছেন। এই অংশটি পৃথিবী থেকে সরাসরি দেখা যায় না এবং মানুষের জন্য এটি এখনো অনেকটাই অজানা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মিশন মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
চাঁদের পথে বড় বাধা ‘টয়লেট বিভ্রাট’: মহাকাশযানে উৎকট গন্ধে দিশেহারা নভোচারীরা

প্রায় পাঁচ দশক পর মানুষকে পুনরায় চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। কিন্তু এই ঐতিহাসিক অভিযানের প্রস্তুতির মাঝেই দেখা দিয়েছে এক অস্বস্তিকর বিপত্তি। আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের জন্য ব্যবহৃত মহাকাশযানে টয়লেট বা শৌচাগার নিয়ে বড় ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন নভোচারীরা।   টয়লেটের ফ্ল্যাশ ঠিকমতো কাজ না করায় মহাকাশযান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে উৎকট দুর্গন্ধ, যা নভোচারীদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর অনুযায়ী, আর্টেমিস-২ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নভোচারীরা যখন বিভিন্ন যান্ত্রিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন, তখনই ওরিয়ন (Orion) ক্যাপসুলের টয়লেট সিস্টেমে ত্রুটি ধরা পড়ে।   নভোচারীরা অভিযোগ করেছেন যে, মূত্র ত্যাগের পর ফ্ল্যাশ করার সময় তরল বর্জ্য ঠিকমতো নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ফলে সেই বর্জ্য থেকে মহাকাশযানের ভেতরে তীব্র ও অস্বস্তিকর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা জিরো গ্র্যাভিটিতে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে প্রথমবারের মতো চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার কথা রয়েছে। প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ এই যাত্রায় নভোচারীদের সুস্থতা এবং স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা অপরিহার্য। কিন্তু টয়লেট বা ‘ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (UWMS) যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে দীর্ঘ যাত্রায় নভোচারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।   কারিগরি জটিলতা: মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মহাকাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত মানের পাখা ও এয়ার ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। আর্টেমিস-২ এর ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাশ সিস্টেমের প্রেশার বা বায়ু চলাচলের পথে কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। যার ফলে বাতাস পরিশোধিত হওয়ার বদলে দুর্গন্ধ ভেতরেই আটকে থাকছে। পূর্বের অভিজ্ঞতা: মহাকাশে টয়লেট সমস্যা নাসার জন্য নতুন নয়। এর আগেও স্পেস-এক্স (SpaceX) এর ড্রাগন ক্যাপসুলেও একবার একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে নভোচারীদের ডায়াপার ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। নাসার প্রকৌশলীরা বর্তমানে এই ত্রুটি সারিয়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আর্টেমিস-২ মিশনের যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। তার আগেই এই ‘গন্ধময়’ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারলে অভিযানের সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নভোচারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের মানবিক প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করাই এখন নাসার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদে আইফোন ও নাইকন ক্যামেরা: আর্টেমিস-২ মিশনে নাসার নভোচারীদের প্রযুক্তি

১৯৭২ সালের পর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে নাসা ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের মাধ্যমে চার নভোচারীকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠিয়েছে। গত বুধবার শুরু হওয়া এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ না করলেও চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাচ্ছেন। মহাকাশযাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত নিখুঁতভাবে ধারণ ও বিশ্লেষণের জন্য তাঁরা সঙ্গে নিয়েছেন আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং নাইকনের অত্যাধুনিক ক্যামেরাসহ বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তিপণ্য। আগামী ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসতে যাওয়া এই মিশনে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:   নাইকন ও গোপ্রো ক্যামেরার ব্যবহার মহাকাশের চরম প্রতিকূল পরিবেশে ছবি ধারণের জন্য নভোচারীরা নাইকন ডি৫ (Nikon D5) ক্যামেরা ব্যবহার করছেন, যা বিকিরণ ও শূন্য মাধ্যাকর্ষণেও কার্যকর থাকে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো মহাকাশে নেওয়া হয়েছে নাইকন জেড৯ (Nikon Z9) মডেলের ক্যামেরা। এটি মূলত ভবিষ্যতের আর্টেমিস-৩ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ওরিয়ন মহাকাশযানের সৌর প্যানেলের ডানায় চারটি গোপ্রো (GoPro) ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা বাইরে থেকে পৃথিবী ও চাঁদের উচ্চ রেজোল্যুশনের ছবি এবং মহাকাশযানের বাহ্যিক পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছে।   মহাকাশে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এই অভিযানে নভোচারীরা ব্যক্তিগত স্মার্টফোন হিসেবে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স (iPhone 17 Pro Max) ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন। ইতিমধ্যে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে আইফোন ব্যবহারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাড়া ফেলেছে। নভোচারীরা মহাকাশে ভাসমান অবস্থায় আইফোন একে অপরের দিকে ছুড়ে দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও জীবন্ত করে তুলছেন।   লেজার প্রযুক্তিতে দ্রুতগতির যোগাযোগ আর্টেমিস-২ মিশনের অন্যতম বিস্ময়কর দিক হলো ‘ওরিয়ন আর্টেমিস-২ অপটিক্যাল কমিউনিকেশনস’ বা ওটুও (O2O) প্রযুক্তি। প্রথাগত রেডিও তরঙ্গের পরিবর্তে এখানে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও টমস হার্ডওয়্যারের তথ্যমতে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ২৬০ মেগাবিট গতিতে তথ্য পাঠানো সম্ভব। ফলে চাঁদের কাছ থেকে সরাসরি ৪কে (4K) মানের ভিডিও এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য দ্রুত পৃথিবীতে পাঠানো যাচ্ছে।   ২৮টি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক নজরদারি পুরো অভিযানের প্রতিটি মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করতে মহাকাশযানে অন্তত ২৮টি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্যামেরা ওরিয়ন যানের বাইরে এবং কিছু অভ্যন্তরীণ কেবিনে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে মহাকাশযানের কারিগরি অবস্থা এবং নভোচারীদের কার্যক্রমের ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা সম্ভব হচ্ছে।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ থেকে আর্তেমিস ২-এর ক্যামেরায় ধরা পড়ল নীল গ্রহের অসামান্য দৃশ্য

দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষা শেষে নাসা যখন আবারও মানুষকে চাঁদের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই অরিওন ক্যাপসুল থেকে পাঠানো পৃথিবীর কিছু মনোমুগ্ধকর ছবি বিশ্ববাসীকে নতুন করে শিহরিত করে তুলেছে। মহাকাশের নিকষ কালো অন্ধকারের বুকে আমাদের চিরচেনা নীল গ্রহের এই অপরূপ উজ্জ্বলতা যেন এক অলৌকিক ক্যানভাস। মহাকাশযানটির জানালা দিয়ে তোলা হাই-রেজোলিউশনের ছবিগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগর এবং মেঘমালার নীল-সাদা ঘূর্ণন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মহাকাশচারীরা যখন এই দৃশ্য দেখছিলেন, তখন হয়তো কয়েক দিন আগেই ছেড়ে আসা নিজ গ্রহের জন্য তাঁদের মনে বিষণ্ণতা আর শিহরণ একসাথে খেলা করছিল। এই ছবিগুলো কেবল ইতিহাসের অংশই নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য চন্দ্রাভিযানের এক জীবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ওরিয়ন ক্যাপসুল নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেয় দানবীয় রকেটটি। নাসা ও সিএসএ-র এই অভিযানে রয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। আগামী ১০ দিন ধরে মহাকাশযানটি প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। যদিও এই অভিযানে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের পরিকল্পনা নেই, তবে এটি সফল হলে পরবর্তী 'আর্তেমিস ৩' অভিযানে মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখবে। তবে এই যুগান্তকারী সাফল্য সত্ত্বেও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উৎসাহের ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে মহাকাশ বিজ্ঞানের চেয়েও বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। তবুও বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় আর্তেমিস ২-এর পাঠানো এই ছবিগুলো মানবজাতির জন্য এক অনন্য পাওনা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের অভিমুখে রওনা হলো আর্টেমিস টু

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চাঁদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে ‘আর্টেমিস-টু’। শক্তিশালী ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে মহাকাশযানটি সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে চন্দ্রপৃষ্ঠের দিকে নিজের পথ পরিবর্তন করেছে। অ্যাপোলো-১৭ মিশনের সেই ঐতিহাসিক যাত্রার ঠিক অর্ধশতাব্দী পর, এবার তিন মার্কিন এবং এক কানাডিয়ান মহাকাশচারীকে নিয়ে এই রোমাঞ্চকর অভিযানে নেমেছে নাসা।  মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করার মাত্র ১০ মিনিট পরেই এক আবেগঘন বার্তা পাঠান কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। তিনি জানান, মহাশূন্য থেকে চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর দৃশ্য এতটাই মন্ত্রমুগ্ধকর যে, তার সহকর্মী মহাকাশচারীরা জানলা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরাতে পারছেন না। এই মিশনটি শুধুমাত্র চাঁদে ফেরার লড়াই নয়, বরং গভীর মহাকাশ গবেষণায় মানুষের সক্ষমতার এক অনন্য প্রমাণ। বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
৫৩ বছর পর আবার চাঁদের পথে মানুষের যাত্রা

৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও মানুষের চাঁদযাত্রা শুরু হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সফলভাবে আর্টেমিস-২ মিশনের উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশযানটি যাত্রা শুরু করে।   ঐতিহাসিক এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন চারজন নভোচারী—তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের এবং একজন কানাডার। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৫৩ বছর পর আবারও মানুষ চাঁদের উদ্দেশে রওনা হলো।   ৩২ তলা সমান উচ্চতার শক্তিশালী রকেটটি উৎক্ষেপণের সময় কেপ ক্যানাভেরালের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এলাকায় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উৎক্ষেপণের মুহূর্তে নাসার কর্মী থেকে শুরু করে দর্শনার্থী—সবার মধ্যেই ছিল তুমুল উচ্ছ্বাস।   উৎক্ষেপণের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় নভোচারীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, তারা পুরো মানবজাতির প্রতিনিধিত্ব করেই এই অভিযানে যাচ্ছেন। এরপর মিশনের লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের উদ্দেশে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই যাত্রা শুধু একটি মিশন নয়—এটি বিশ্বজুড়ে মানুষের আশা ও স্বপ্ন বহন করছে।   এই মিশনে অংশ নেওয়া চার নভোচারী হলেন—রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কক এবং জেরেমি হ্যানসেন।   মিশনের শুরুতে মহাকাশযানটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হবে, কারণ এটি আগে কখনও মানুষ বহন করেনি। এরপর প্রায় ১০ দিনের অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে সেখানে অবতরণ করবেন না। পাশাপাশি মহাকাশযানের ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে।   ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো অভিযানের পর সেটিই হবে চন্দ্রপৃষ্ঠে নাসার প্রথম মানব অবতরণ।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
৫৩ বছর পর মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাচ্ছে নাসা, শুরু হচ্ছে আর্টেমিস-২ অভিযান

৫৩ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদের দিকে পাঠাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের মাধ্যমে নভোচারী চাঁদে পৌঁছেছিলেন। এবার আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে নতুন করে মানুষ্যবাহী মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথে যাত্রা করবে।   নাসা জানিয়েছে, অভিযানে চারজন নভোচারী থাকবেন। দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের পর ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু হবে। উড্ডয়নের জন্য দুই ঘণ্টা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে; আবহাওয়া ও প্রযুক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিটের মধ্যে হতে পারে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী উড্ডয়ন হবে আজ ভোরের দিকে।   অভিযানটির উড্ডয়নপর্ব ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। নভোচারীরা হবেন মার্কিন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তারা ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলে চাঁদের চারপাশে কক্ষপথে ঘুরে প্রায় ১০ দিনের মিশনের পর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। যদিও এই মিশনে চাঁদে অবতরণের কোনো পরিকল্পনা নেই, এটি পৃথিবী থেকে মানুষের দূরতম যাত্রা হিসেবে ইতিহাসে থাকবে।   নাসার আর্টেমিস কর্মসূচি বহু বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মানুষের যাত্রা সহজ করা। আর্টেমিস-২ এ এই কর্মসূচির প্রথম মানববাহী মিশন। মিশনের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, নেভিগেশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তাপরোধী ঢাল পরীক্ষা করা হবে।   মিশনে ব্যবহৃত এসএলএস রকেটের মূল অংশ নির্মাণ করেছে বোয়িং, কঠিন জ্বালানির বুস্টার তৈরি করেছে নর্থরপ গ্রুম্যান এবং ওরিয়ন মহাকাশযান তৈরি করেছে লকহিড মার্টিন।   চার নভোচারীর মধ্যে তিনজনের মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রিড ওয়াইজম্যান ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৬৫ দিন কাটিয়েছেন, ভিক্টর গ্লোভার ২০২০ সালে স্পেসএক্স ক্রু-১ মিশনে ১৬৮ দিন মহাকাশে ছিলেন, এবং ক্রিস্টিনা কচ ২০১৯ সালে টানা ৩২৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করেছেন। জেরেমি হ্যানসেনের এটি প্রথম মহাকাশযাত্রা।   এই মিশনে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘটবে। ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের নিকটবর্তী অঞ্চলে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হবেন। ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী নভোচারী হিসেবে এ ধরনের মিশনে অংশ নেবেন। জেরেমি হ্যানসেন হবেন প্রথম অমার্কিন নভোচারী, যিনি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে পা রাখবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
নাসা
চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী ঘাঁটি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত মঙ্গলযানের ঘোষণা দিল নাসা

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ভবিষ্যৎ অভিযানের এক উচ্চাভিলাষী রূপরেখা প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ঘোষণা করেছেন যে ২০২৮ সালের মধ্যে চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সেখান থেকে পরবর্তী ধাপ হিসেবে মঙ্গল গ্রহে সফল মানব অভিযান পরিচালনা করা। নাসা এই চন্দ্র ঘাঁটি নির্মাণের জন্য আগামী সাত বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে যা কয়েক ডজন রোবটিক ও মানববাহী মিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।   এই মহাকাশ অভিযানের সবচেয়ে বড় চমক হলো পারমাণবিক শক্তিচালিত মহাকাশযান বা নিউক্লিয়ার-পাওয়ারড স্পেসক্রাফট। বর্তমান প্রযুক্তিতে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে যে দীর্ঘ সময় লাগে এই বিশেষ ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে সেই সময় কয়েক মাস কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। নাসা জানিয়েছে যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির উৎস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে সেখানে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কলোনি স্থাপনের প্রাথমিক কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অভিযানে স্পেসএক্স এবং ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নাসার অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।   নাসার এই নতুন পরিকল্পনায় আর্টেমিস মিশনকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে প্রতি মাসে অন্তত একটি রোবটিক ল্যান্ডার চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠের এই ঘাঁটিটি মঙ্গল অভিযানের জন্য একটি রিফুয়েলিং স্টেশন বা গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। যদিও এই প্রজেক্টের বাজেট এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানামুখী আলোচনা চলছে তবে নাসা আত্মবিশ্বাসী যে এই দশকের শেষ নাগাদ আমেরিকা মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এই পদক্ষেপ কেবল বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাই নয় বরং মহাকাশ অর্থনীতিতেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল মহাকাশের রহস্যময় ‘অদৃশ্য গ্যালাক্সি’

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন একটি গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন যা প্রায় অদৃশ্য এবং যার ৯৯.৯ শতাংশই গঠিত হয়েছে রহস্যময় ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা কৃষ্ণবস্তু দিয়ে। মহাকাশের এই রহস্যময় বস্তুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের কৌতূহল নিরসনে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের আবিষ্কৃত এই গ্যালাক্সিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্যান্ডিডেট ডার্ক গ্যালাক্সি-২’ বা CDG-2। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্যালাক্সিটি এতটাই অস্পষ্ট যে সাধারণ টেলিস্কোপে এর অস্তিত্ব ধরা পড়াও অসম্ভব। হাবল টেলিস্কোপের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারটি সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ গ্যালাক্সিগুলো (যেমন আমাদের মিল্কিওয়ে) শত শত কোটি নক্ষত্র এবং উত্তপ্ত গ্যাস দিয়ে গঠিত হয় যা উজ্জ্বল আলো ছড়ায়। কিন্তু CDG-2 গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আমাদের মিল্কিওয়ের তুলনায় এটি মাত্র ০.০০৫ শতাংশ উজ্জ্বল। এর বিশাল ভরের প্রায় পুরোটাই ডার্ক ম্যাটার, যা কোনো আলো প্রতিফলন বা শোষণ করে না। বিজ্ঞানীরা মূলত গ্যালাক্সিটির ভেতরে থাকা চারটি প্রাচীন নক্ষত্রপুঞ্জের (Globular Clusters) নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে এর মহাকর্ষীয় টান বুঝতে পেরেছেন এবং এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিস্টিকস ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক দাই লি (Dayi Li) জানান, "এটি একটি ব্যর্থ গ্যালাক্সি। সম্ভবত সৃষ্টির শুরুর দিকেই এর চারপাশের বড় গ্যালাক্সিগুলো এর ভেতরে থাকা নক্ষত্র তৈরির প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন গ্যাস কেড়ে নিয়েছিল। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি ডার্ক ম্যাটার হ্যালো এবং কিছু নক্ষত্র নিয়ে মহাকাশে টিকে আছে।" ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের মোট ভরের প্রায় ৮৫ শতাংশ হলেও আজ পর্যন্ত সরাসরি এটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। CDG-2 এর মতো গ্যালাক্সিগুলো বিজ্ঞানীদের জন্য একটি ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করবে, যেখানে সাধারণ নক্ষত্রের আলো বা গ্যাসের প্রভাব ছাড়াই ডার্ক ম্যাটারের ধর্ম নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালানো সম্ভব হবে। এই আবিষ্কারটি আবারও প্রমাণ করল যে মহাবিশ্বের বিশাল অন্ধকার অংশে এখনও এমন অনেক কিছু লুকিয়ে আছে যা আমাদের চেনা জগতের চেয়েও অনেক বেশি রহস্যময়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ব্লাড মুন । ছবি: সংগৃহীত
আজ দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’: বিরল চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী বাংলাদেশ

এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আজ ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের ফলে আকাশে দেখা যাবে বিশেষ রক্তিম চাঁদ, যা ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’ নামে পরিচিত। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করা যাবে।   চন্দ্রগ্রহণের সময়সূচি (বাংলাদেশ সময়)- পূর্ণগ্রাস শুরু: বিকাল ৫টা ২৮ মিনিট, পূর্ণগ্রাস শেষ: সন্ধ্যা ৬টা ০২ মিনিট, খণ্ডগ্রাস সমাপ্তি: রাত ৮টা ২৩ মিনিট   কেন বলা হয় ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’? জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, মার্চ মাসের পূর্ণিমাকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘ওয়ার্ম মুন’ বলা হয়। শীত শেষে মাটি উষ্ণ হতে শুরু করলে কেঁচো ও পোকামাকড় মাটির ওপরে উঠে আসে- এ থেকেই নামের উৎপত্তি।   পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের লাল আলো প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এতে চাঁদ গাঢ় লাল বা তামাটে আভা ধারণ করে, যা ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। দুইয়ের মিলিত রূপই ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’।   চন্দ্রগ্রহণ দেখতে কোনো বিশেষ চশমার প্রয়োজন নেই। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই নিরাপদে দেখা যাবে এই দৃশ্য। দূরবীন বা টেলিস্কোপ থাকলে লাল আভার সূক্ষ্ম পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব। ছবি তুলতে চাইলে ডিএসএলআর ক্যামেরায় আইএসও সামান্য বাড়িয়ে ভালো মানের ছবি ধারণ করা যাবে।   উল্লেখ্য, এই গ্রহণ পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাংশ থেকেও দেখা যাবে, তবে ইউরোপ ও আফ্রিকার বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে এটি দৃশ্যমান হবে না।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই থাকা যাবে না—নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0