মহাকাশ থেকে সরাসরি পৃথিবীতে ফোন, শুরু হলো আর্টেমিস-২-এর ঘরে ফেরার পালা
মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ওরিয়ন মহাকাশযান। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে চার নভোচারী এখন তাঁদের ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানের শেষ ধাপে রয়েছেন।
গতকালের (৬ এপ্রিল) ঐতিহাসিক 'লুনার ফ্লাইবাই' বা চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পর আজ সপ্তম দিনে নভোচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) থাকা সহকর্মীদের সাথে একটি দীর্ঘ দূরত্বের অডিও কলে যুক্ত হন। প্রায় ১৫ মিনিটের এই কথোপকথনে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন।
এই অভিযানে নভোচারীরা অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া পূর্বের রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্ব (প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল) অতিক্রম করার এক নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছেন। ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠ (Far Side) দিয়ে যাওয়ার সময় মহাজাগতিক এক বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছে, যা পৃথিবীর বুক থেকে দেখা অসম্ভব।
মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও পাইলট ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের পৃষ্ঠের অসাধারণ সব খানাখন্দ (Craters) এবং ধুলোবালির স্তরের বর্ণনা দিয়েছেন। ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, "চাঁদের এই দৃশ্য দেখে আমি অভিভূত। এটি এতটাই বাস্তব মনে হচ্ছিল যে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল আমি চাঁদের মাটির খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছি।" নভোচারীরা তাঁদের ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালার কাছ থেকে হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা দিয়ে অসংখ্য ছবি তুলেছেন, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী বসতি স্থাপনে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে।
নাসা জানিয়েছে, ওরিয়ন এখন চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে পৃথিবীর পথে যাত্রা শুরু করেছে। আজ রাতে মহাকাশযানের থ্রাস্টারগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু করার মাধ্যমে এর গতিপথ সংশোধন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ করবে।
এই অভিযানে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। ২০২৬ সালের এই সফল মিশনটি মূলত আগামী বছরের আর্টেমিস-৩ মিশনের প্রস্তুতি, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। তথ্যসূত্র: নাসা অফিশিয়াল ব্লগ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইসরায়েলে সপ্তাহান্তজুড়ে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৪৮ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন। আরেকজন নিহত হয়েছেন গাড়ির ধাক্কায়, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার মোশাভ পোরাতের কাছে ৫৫৩ নম্বর সড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় ৪০-এর কোঠার এক ব্যক্তি নিহত হন। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদমের (এমডিএ) চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে গুরুতর বহু অঙ্গের আঘাত নিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর শরীরে প্রাণের কোনো লক্ষণ না থাকায় ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগে ৩০-এর কোঠার এক নারীকে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও ওই সময় গাড়িটি কীভাবে ওই ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয়, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগের রাতে, শুক্রবার, সোরেক ইন্টারচেঞ্জের কাছে ৭ নম্বর মহাসড়কে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। এমডিএর চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে সড়কের ওপর অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ছিল না। চিকিৎসাকর্মীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবারই জেরুজালেমের পিসগাত জিভ এলাকায় বাড়ির পার্কিংয়ের কাছে একটি গাড়ির ধাক্কায় চার বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়। তাকে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ৩৭৫৫ নম্বর সড়কে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় আরও দুজন সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রার আঘাত পান। গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া দুজনকে উদ্ধার করতে দমকলকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। কায়সারিয়া বন্দরের কাছে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। বহু অঙ্গের আঘাত নিয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেতানিয়ায়ও একটি গাড়ির ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। এমডিএর প্যারামেডিক ওরিয়ান লুকাক এবং জ্যেষ্ঠ জরুরি চিকিৎসাকর্মী মাওর নিনো জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, একটি গাড়ি ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিয়েছিল। আহত ব্যক্তি অচেতন ছিলেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। ঘটনাস্থলেই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার পর নিবিড় চিকিৎসাসুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সড়ক দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন মহাসড়ক ও শহর এলাকায় জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে একাধিকবার কাজ করতে হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইসরায়েলের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির সড়কে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপদ গতিসীমা, চালকদের সতর্কতা এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে সপ্তাহান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন করে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার
ভয়াবহ বন্যায় ছয় দিনে ১০০ উদ্ধার অভিযান নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেনের
২১ বছরের দাম্পত্যে স্বামী সমকামী জানার পর বদলে গেল সম্পর্ক, সামনে এলো পুরোনো লক্ষণগুলো
ফ্রাঙ্কফোর্ট, ইলিনয়, ৫ সেপ্টেম্বর: লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত হত্যামামলা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছিলেন ইলিনয়ের ফ্রাঙ্কফোর্টের এক মা। এর কয়েক ঘণ্টা পর নিজ বাড়ির বেসমেন্টে তার ২ বছরের ছেলে ব্যারেটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় মা কোরি এ. ওয়ালশের বিরুদ্ধে তিনটি ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফ্রাঙ্কফোর্টের ব্রুক স্টোন কোর্টের বাড়িতে পুলিশকে ডাকা হয় ২ বছরের একটি শিশুকে আহত অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে। প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বেসমেন্টে দেখতে পান এবং সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, শিশুটিকে বেসমেন্টের একটি রাফটারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার গলায় একটি লিগেচার ছিল। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে লিগেচারের চাপে গলায় চাপ পড়ে শ্বাসরোধ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর ধরন নির্ধারণের প্রক্রিয়া তখনও চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই বাড়িতে ওয়ালশকেও আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ওপরের তলার একটি বাথটাবে ছিলেন এবং নিজের শরীরে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা জখম ছিল। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, হাসপাতালে ওয়ালশ তদন্তকারীদের কাছে তার ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি শিশুটিকে “ডেভিল” ও “অ্যান্টি-ক্রাইস্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলেও নথিতে বলা হয়েছে। তার কথিত বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের মিল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার আরেকটি আলোচিত দিক হলো লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার নিয়ে ওয়ালশের আগ্রহ। প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করে NBC Chicago জানিয়েছে, ওয়ালশ সম্প্রতি ক্ল্যান্সির মামলায় “খুব বেশি আগ্রহী” হয়ে উঠেছিলেন এবং বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাটে মামলাটি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরেও তিনি এ বিষয়ে মেসেজ করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তার তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ক্ল্যান্সির পক্ষ দাবি করেছে, তিনি গুরুতর পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রসিকিউশন অবশ্য বলেছে, তিনি তার কাজের প্রকৃতি বুঝতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলেন। ৪ সেপ্টেম্বর তার মামলায় জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। তবে ওয়ালশের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার প্রতি আগ্রহ এবং তার নিজের ছেলের মৃত্যুর মধ্যে কোনো সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই। বিষয়টি তদন্তে উঠে আসা একটি তথ্য হিসেবে আদালতের নথিতে রয়েছে। ওয়ালশের আইনজীবী বলেছেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল সাইকোটিক এপিসোডের মধ্যে ছিলেন। এটি বর্তমানে তার আইনজীবীর পক্ষের বক্তব্য, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ঘটনার সময় বাড়িতে আরও তিন শিশু ছিল বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শিশু ছিল এবং দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানও বাড়িতে ফিরে আসে। তাদের কেউ আহত হয়নি। ওয়ালশের স্বামী ঘটনার সময় অঙ্গরাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে আদালতের নথিতে বলা হয়েছে। ওয়ালশ বর্তমানে হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তার ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন, তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ডেনমার্কসহ ৫ দেশের উদ্যোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অভিবাসী ফেরানোর পরিকল্পনা ২০২৭ সালেই
“লিবিয়া ভ্রমণ মানেই নিশ্চিত বিপদ”- যাওয়ার আগেই উইল ও ডিএনএ নমুনা রাখতে বলল যুক্তরাষ্ট্র
১৬ বছর বয়সে নারীদের নিরাপত্তায় স্মার্ট কানের দুল, হামলাকারীর ছবি তুলে সতর্ক করবে পুলিশকে
ভারতের বেঙ্গালুরুর এক নারী আগস্ট মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৯১ রুপি খরচ করার পর নিজেই বিস্মিত হয়েছেন। মাসিক ব্যয়ের হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তিনি জানতে চান, বেঙ্গালুরুতে এক মাসে এত টাকা খরচ করা কি স্বাভাবিক? তার এই পোস্ট ঘিরে শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয় ও মানুষের ব্যক্তিগত খরচের ধরন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেঙ্গালুরুর এই নারী ত্রিশা সিধওয়ানি শহরের এইচএসআর এলাকায় থাকেন। ৩ সেপ্টেম্বর আগস্ট মাসের খরচ হিসাব করতে গিয়ে তিনি মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৯১ রুপি ব্যয়ের তথ্য দেখতে পান। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানতে চান, অন্যরাও কি প্রতি মাসে এত খরচ করেন। তার পোস্টের পর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা যায়। কেউ কেউ বলেন, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে এ ধরনের ব্যয় অস্বাভাবিক নয়। আবার অনেকে জানান, তারা এর তুলনায় অনেক কম খরচে মাস চালান। একজন মন্তব্যকারী বলেন, মোট লেনদেনকে সরাসরি মাসিক খরচ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। নিজের এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর বা বিনিয়োগের অর্থও এতে থাকতে পারে। তাই প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় জানতে হলে খরচের বিস্তারিত হিসাব আলাদা করা প্রয়োজন। আরেক ব্যবহারকারী জানান, তিনি বেঙ্গালুরুতে মাসে প্রায় ১৫ হাজার রুপিতে চলেন। অন্যরাও নিজেদের কম বাজেটের কথা তুলে ধরে বলেন, শহরে বসবাসের খরচ ব্যক্তির জীবনযাপন, বাসস্থান ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। ফলে ত্রিশা সিধওয়ানির ১ লাখ ৮০ হাজার রুপির ব্যয়কে বেঙ্গালুরুর স্বাভাবিক মাসিক খরচের মানদণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তার পোস্টটি শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যক্তিভেদে খরচের বড় পার্থক্য নিয়ে নতুন করে অনলাইন আলোচনা তৈরি করেছে।
বন্ধুর দুই মেয়েকে বাঁচাতে গুলির সামনে দাঁড়ালেন, নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করলেন তাদের
রোগীর কষ্টকে 'অজুহাত' ভেবে অক্সিজেন ছাড়াই মাস্ক পরিয়ে দিলেন নার্স, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তরুণ