বিশ্ব

যুদ্ধবিরতির আলোচনার পথ খোলা, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা ইরানের প্রেসিডেন্টের

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৮:২৬
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।

 

পেজেশকিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। 

 

ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ওপর বাইরের শক্তিগুলো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানের ভেতরে চাপ সৃষ্টি করা, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা। তবে তাঁর দাবি, সামরিক চাপের মধ্যেও ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতি বজায় থাকলে দেশটি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

 

পেজেশকিয়ান একই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার টেবিলে ইরান প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল অর্জন করেছে। তবে তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে সেই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে; তবে একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগের যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই। 

 

ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। মধ্যস্থতাকারীদের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সেই কূটনৈতিক তৎপরতারই নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

 

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে একটি টেকসই সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা। আপাতত তেহরানের অবস্থান থেকে যে বার্তা স্পষ্ট, তা হলো—আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও চাপের মুখে আত্মসমর্পণ নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
Arijit Sing protest
“তোমরা কি নিজেদের ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছ? সব মনে রাখব” - এবার গর্জে উঠলেন অরিজিৎ সিংও

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন।    দিল্লিতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন হাজারো শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদ অভিমুখে মিছিল এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ এবং আটক করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী—উভয় পক্ষেরই আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।    বিক্ষোভের আগের দিন দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি। পরে তিনিও ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, সংবিধানের আওতায় থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের দাবি জানানো প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।    পুলিশি পদক্ষেপের পর বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এ সময় নিজের পোস্টে অরিজিৎ সিং লেখেন, “এবার তোমরা ছাত্রদের পেটাচ্ছ? তোমাদের কি লজ্জা করে না? মাননীয় মন্ত্রী ও নেতৃবৃন্দ, এসব হচ্ছেটা কী! তোমরা কি নিজেদের ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছ? সবকিছু মনে রাখা হবে।” তার এই মন্তব্য অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।    শুধু অরিজিৎ সিং নন, বিক্ষোভের পর আরও কয়েকজন শিল্পী ও অভিনয়শিল্পী প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানান। তাদের মধ্যে দিলজিৎ দোসাঞ্জ, রিতেশ দেশমুখ, জেনেলিয়া দেশমুখ, হুমা কুরেশি, প্রকাশ রাজসহ আরও কয়েকজনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ বলছে, সংসদমুখী মিছিলের অনুমতি ছিল না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৯:৪৫
রাজা তৃতীয় চার্লস

ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ দেখে মুগ্ধ খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী রাজা তৃতীয় চার্লস

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান

যুদ্ধবিরতির আলোচনার পথ খোলা, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা ইরানের প্রেসিডেন্টের

Representative image.

তেলের দাম ও দুর্বল বর্ষায় ঝুঁকিতে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

চাঙ্গি বিমানবন্দরে দেশ ছাড়ার আগেই আটক করা হয় অভিযুক্তদের। ছবি: সংগৃহীত
সিনেম্যাটিক কায়দায় সিঙ্গাপুরে হিরে চুরি, বিমানবন্দরে ধরা খেলেন দুই ভারতীয়

সিঙ্গাপুরের চায়নাটাউনের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার) মূল্যের একটি হিরা চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন দুই ভারতীয় নাগরিক। আসল হিরার পরিবর্তে একই আকার ও নম্বরের নকল হিরা রেখে পালানোর কৌশলও নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু পুরো ঘটনাই ধরা পড়ে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায়। পরে দেশ ছাড়ার আগেই বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ৪১ বছর বয়সী মাঙ্গরোলিয়া মনোজকুমার কুরজিভাইকে দুই বছর দুই মাস দুই সপ্তাহের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের আদালত। তিনি চুরির অভিযোগ স্বীকার করার পর গত ১৭ জুলাই আদালত এ রায় দেন। একই মামলার অপর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী সেরাসিয়া মিলান রামনিকভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, দুই অভিযুক্ত ভিজিট পাসে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করেন। সেখানে যাওয়ার আগে ভারতের সুরাটে তারা আসল হিরার আকৃতি, ওজন ও সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে মিল রেখে একটি নকল হিরা তৈরি করান। উদ্দেশ্য ছিল দোকানের কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসল হিরা বদলে নকলটি রেখে চলে যাওয়া।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, মনোজকুমার দোকানের বিক্রয় ব্যবস্থাপককে বিভিন্ন গয়না দেখানোর অনুরোধ করে ব্যস্ত রাখেন। সেই সুযোগে মিলান মুখে লুকিয়ে রাখা নকল হিরাটি বের করে প্রদর্শনের জন্য আনা ৪ দশমিক ৯৫ ক্যারেটের আসল হিরার সঙ্গে অদলবদল করেন। এরপর আসল হিরাটি মুখে লুকিয়ে ফেলেন।   তবে তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়। দুই ব্যক্তি দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিক্রয় ব্যবস্থাপক বিশেষ পরীক্ষার যন্ত্রে হিরাটি পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন সেটি আসল নয়।   ঘটনার পরপরই দুই অভিযুক্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই হোটেল থেকে চেক-আউট করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় ভারতের উদ্দেশে বিমানের টিকিট বুক করেন। কিন্তু চাঙ্গি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এ অভিবাসন কার্যক্রম শেষ করার সময় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে মিলানের ব্যাগ তল্লাশি করে চুরি হওয়া আসল হিরাটি উদ্ধার করা হয়।   রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র চুরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সিঙ্গাপুরে এসেছিলেন। অপরাধ সংঘটনের আগে থেকেই নকল হিরা তৈরি করা, আসল হিরা অদলবদলের কৌশল নির্ধারণ এবং দ্রুত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা তাদের পূর্বপরিকল্পিত অপরাধের প্রমাণ।   অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজকুমার আদালতে দোভাষীর মাধ্যমে জানান, ভারতে তার দুই সন্তান রয়েছে। তিনি আদালতের কাছে কম শাস্তির আবেদন করেছিলেন। তবে অপরাধের ধরন, পরিকল্পনা ও আর্থিক ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় আদালত কারাদণ্ডের রায় দেন।   সূত্র: এনডিটিভি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৬:৪৪
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নতুন কৌশলে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা সংগঠনের। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশি বাধার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ভারতের ‘তেলাপোকা’ জোটের

জর্ডানের আল-রুকবান এলাকায় মার্কিন সেনা আবাসনে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বহু সেনা নিহতের দাবি

ইরানের হামলায় আহত মার্কিন সেনাদের নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলায় দুই সপ্তাহে আহত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা, চাপের মুখে পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-১এ ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন এদুয়ার্দো বলসোনারো। ছবি: সংগৃহীত
কারাদণ্ডের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেলেন ব্রাজিলের সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ও সাবেক আইনপ্রণেতা এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র বা গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। নিজ দেশে কারাদণ্ডের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থান নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।   রয়টার্সকে এদুয়ার্দো বলসোনারো জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-১এ (EB-1A) ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এই ক্যাটাগরিতে বিজ্ঞান, শিল্প, ব্যবসা, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্রিয়াটি প্রায় এক বছর আগে শুরু হয়েছিল।   এদুয়ার্দো ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি দাবি করেন, ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার কারণেই তিনি দেশে ফিরছেন না। তার মতে, ব্রাজিলে ফিরে গেলে তিনি স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন না।   গত জুনে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট এদুয়ার্দো বলসোনারোকে চার বছর দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়ে তার বাবা জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান মামলায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে এদুয়ার্দো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ নয়, সাংবিধানিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।   জাইর বলসোনারোও বর্তমানে ব্রাজিলে আইনি জটিলতার মুখে রয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর কথিত অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। সম্প্রতি ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তার সঙ্গে সাক্ষাতের ওপরও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।    এদিকে এদুয়ার্দো বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বা ব্রাজিলের ওপর আরোপিত শুল্কের পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২২:২৬
রুশ হামলার পর কৃষ্ণসাগরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ভারতীয় নাবিকসহ নিহত ১০, তীব্র নিন্দা ভারতের

নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে গ্রেপ্তার করা হবে না, স্পষ্ট জানালেন ট্রাম্প

ইবোলায় প্রাণ হারানো একটি এতিমখানার চতুর্থ শিশুর মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস

কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণে প্রাণহানি ৯৩০ ছাড়াল, একদিনেই মারা গেছেন ৩৭ জন

0 Comments