অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিশুদের জন্য হামের টিকা বিদেশ থেকে আনা হয়নি বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সংসদের অধিবেশনে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে দেশের সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু সেই সময়ের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও কয়েক বছর ধরে শিশুদের জন্য হামের টিকা আমদানি করা হয়নি, যা বর্তমান সমস্যার অন্যতম কারণ। তারেক রহমান জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে এবং দ্রুত হামের টিকা সরবরাহ করেছে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হবে। হাম শনাক্তে ব্যবহৃত টেস্ট কিটের কিছু ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ সমস্যা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু কিট দেশে পৌঁছেছে এবং আরও কিছু কিট বিমানবন্দরের কাস্টমসে রয়েছে, যা দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাসী এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট- এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমাদের সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।” মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন নোয়াবের নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ জানান, প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। প্রেস সচিব আরও বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন ও টেলিভিশন দেখেন উল্লেখ করে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়ে থাকেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম বৈঠক। বৈঠকে নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাজ্জেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর।
নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানিয়েছেন, বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকরা অংশ নেন। সভায় নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, দৈনিক সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ, দৈনিক বণিক বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক দেওয়ান হানিফসহ বিভিন্ন পত্রিকার শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে মক্কার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশকোনা হজ ক্যাম্পে আল্লাহর ঘরের মেহমানরা তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট সাড়ে ৭৮ হাজার মুসল্লি হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। হজ যাত্রীদের যাতায়াতে এ বছর মোট ২০৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আগামী ২১ মে সৌদি আরবের উদ্দেশে সর্বশেষ হজ ফ্লাইটটি যাত্রা করবে। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে হজ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ (PayPal)-এর কার্যক্রম শুরু করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর আধুনিকায়ন এবং পেপালের কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং আইটি খাতের পেশাজীবীদের সহজ ও দ্রুত আন্তর্জাতিক লেনদেন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেপালের সিঙ্গাপুরভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার এই সেবাটি বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, বিগত সরকারগুলোর সময় একাধিকবার পেপাল আসার গুঞ্জন শোনা গেলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সংসদে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়ায় আইটি খাতে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হজযাত্রীদের প্রকৃত ‘খাদেম’ হিসেবে সেবা দেওয়ার জন্য হজ টিমের সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হজযাত্রীদের সেবার পরিবর্তে অন্য কোনো কাজে সময় ব্যয় করা বা দায়িত্ব অবহেলা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ভালো কাজ করবেন না, তাদের মক্কা থেকেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করতে যাচ্ছেন, এটি একটি মহা সৌভাগ্যের বিষয়। হাজিদের সঙ্গে যারা এদিক-সেদিক করবেন বা সেবায় গাফিলতি করবেন, তাদের কোনো ক্ষমা নেই।” তিনি আরও জানান, হাজিরা যাদের সেবায় সন্তুষ্ট থাকবেন, তাদের আগামী বছরও এই সুযোগ দেওয়া হবে। মন্ত্রীর এই আহ্বানে উপস্থিত হজ টিমের সদস্যরা হাত তুলে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। হজ টিমের সদস্যদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে আপনাদের কোনো আচরণের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়।” ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে শ্রমবাজারে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে সরকার—এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত জবাবে তিনি বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন শ্রমবাজার খোঁজার জন্য সরকার ইতোমধ্যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সার্বিয়া, গ্রীস, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল এবং রাশিয়া উল্লেখযোগ্য। এসব দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমেও সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সম্ভাব্য শ্রমবাজার যাচাই এবং পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ বা লবিস্ট নিয়োগের কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে কাজ চলছে এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে নতুন করে কর্মী নিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বাড়ায় সেখানে জনবল পাঠানোর প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং দেশের ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভাষা শিক্ষা চালু রয়েছে। পাশাপাশি রুশ, আরবি, জার্মান ও ইতালীয় ভাষার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সম্প্রতি শেরপুর ও বগুড়ার একটি আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন পত্রিকা পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, কোথাও গুরুতর অপ্রীতিকর ঘটনার খবর প্রকাশ পায়নি; কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ছোটখাটো ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যেখানে নির্বাচন হয়েছে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বায়তুল মোকাররম এলাকায় অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে জনমুখী কর্মসূচিগুলো ব্যাহত না হয়।” অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নানা সময় বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই দেশই আমাদের সবার চূড়ান্ত ঠিকানা। এখানে জন্মেছি, এখানেই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই দেশ গড়ার দায়িত্বও আমাদের সবার।” তিনি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে তিনি সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, নীরবতা পালন, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দিনের শুরুতে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের দিনক্ষণ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি প্রথম কোন দেশ সফর করবেন, সেটিও এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে এক বার্তায় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আতিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে দাবি করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন। এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।" অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের বিষয়ে সরকারি সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা যথাসময়ে গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে অবহিত করা হবে। এর আগ পর্যন্ত কয়েকটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কাজ চললেও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের গন্তব্য নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তাই দেশবাসীকে এসব ভিত্তিহীন সংবাদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সমিতির নেতারা প্রস্তাব করেছেন যে, প্রয়োজনে তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টায় দোকান খুলতে রাজি আছেন, তবে বন্ধের সময় যেন সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা করা হয়। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবিকার কথা বিবেচনা করে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়। একই বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারা দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল আজ (৩ এপ্রিল) থেকেই সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর আগে গতকাল মালিক সমিতি রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের ঘোষণা দিলেও সরকারের নতুন নির্দেশনায় সময় আরও কমিয়ে আনা হয়। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সন্ধ্যা ৬টায় দোকান বন্ধ করে দিলে খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। তাই সকালের সময় কমিয়ে রাতে বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় বরাদ্দের জন্য তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হঠাৎ সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে নিজ কার্যালয়ের নিচে পৌঁছান তিনি। সেখানে থেকে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে ৬ নম্বর ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা খোঁজ নেন। এরপর ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন। সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে ফিরে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি কৃষক কার্ডের ডেমো প্রদর্শনী সভায় অংশ নেন।
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকারি দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, অসাধু চক্রের তৎপরতা ও সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং সমপরিমাণ তেল আসার পথে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন ও বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা মূলত দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা বিষয়ক বিষয়ে কেন্দ্রিত ছিল।
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সচিবালয়। ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই সকাল থেকে দাপ্তরিক কাজে সক্রিয় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সকাল ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকা-এর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এরপর দুপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। বিকেলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা এবং পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচি রয়েছে। উল্লেখ্য, টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ থেকে সচিবালয়সহ দেশের সব সরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলেছে। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ এখনও বজায় রয়েছে—তারা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে উৎসবের আমেজ ভাগাভাগি করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।