সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানোর পর গাড়িতেই সন্তানের জন্ম দিলেন মা

Unknown প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৫:২৫
এক গর্ভবতী নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির ভেতরে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ছবি:সংগৃহীত
এক গর্ভবতী নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির ভেতরে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে এক গর্ভবতী নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির ভেতরে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলেও তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পর ঘটে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যারিজোনার ওই নারী প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পর তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল ছাড়ার কিছু সময় পরই তার প্রসব ব্যথা দ্রুত বেড়ে যায়।

 

বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় গাড়ির ভেতরেই শিশুটির জন্ম হয়।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি ছিল একই সঙ্গে ভয়াবহ ও আবেগপূর্ণ। তারা আশা করেননি যে এত দ্রুত প্রসব শুরু হয়ে যাবে এবং হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রসবের সময় নির্ধারণ করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে শেষ পর্যায়ের গর্ভাবস্থায় ব্যথার ধরন, জরায়ুমুখের পরিবর্তন এবং অন্যান্য লক্ষণ দেখে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন একজন রোগীকে হাসপাতালে রাখা প্রয়োজন কি না।

 

তবে প্রসবের কাছাকাছি সময়ে কোনো নারীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার আগে তার শারীরিক অবস্থা, প্রসবের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের সময় হাসপাতাল, চিকিৎসক এবং রোগীর মধ্যে যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে প্রসবের সময় নির্ধারণ, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়গুলো নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নানা ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।

 

অ্যারিজোনার এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে প্রসবকালীন জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব। চিকিৎসকদের মতে, প্রসবের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক মার্কিন সেনার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক মার্কিন সেনার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জার্মানিতে সামরিক দায়িত্বে থাকাকালীন দুই শিশুর ওপর ভয়ংকর মাত্রায় শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের দায়ে আটলান্টার এক সাবেক মার্কিন সেনাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। ৩৭ বছর বয়সী অ্যাডাম শুয়েটার নামের ওই অপরাধী ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জার্মানির গ্রাফেনওয়ের ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন।   বৃহস্পতিবার একজন ফেডারেল বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আজীবন নজরদারিতে (সুপারভাইসড রিলিজ) রাখার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ইউরোপে অবস্থানকালে শুয়েটার ১০ বছরের কম বয়সী দুই শিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন চালান। বিচারের সময় এক ভুক্তভোগী সাক্ষ্য দিয়ে জানান, শুয়েটার তাকে দোতলার জানালা দিয়ে বাইরে ধাক্কা দিয়ে শূন্যে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।   এই জঘন্য অপরাধের কথা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। গত এপ্রিলে জুরি বোর্ড শুয়েটারকে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর চরম মাত্রার যৌন নিপীড়ন ও গুরুতর শারীরিক আঘাতের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।   মার্কিন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, শুয়েটার মার্কিন সেনাবাহিনীর পোশাকের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। সমাজের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের চরম সহিংসতা ও যৌন শোষণের শিকার বানানোর মধ্যে কোনো সম্মান নেই। মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস. হার্টজবার্গও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই রায় প্রমাণ করে যে অপরাধ সংঘটনের বহু বছর পর এবং মহাসাগরের ওপারে হলেও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৫:১৩
শিক্ষার্থী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, এবার ২ কোটি ডলারে কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতীয় দম্পতি

শিক্ষার্থী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, এবার ২ কোটি ডলারে কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতীয় দম্পতি

ইরাকের কুর্দিস্তান থেকেও সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে কি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল?

ইরাকের কুর্দিস্তান থেকেও সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে কি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল?

কানাডার মিল্টনে স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদে প্রার্থী হওয়া ড. খাদিজা আর মেটওয়ালি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আইএস হামলার পরিকল্পনাকারীর মা কানাডায় স্কুল বোর্ড নির্বাচনে প্রার্থী

৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পুরোহিত গ্রেগরি অ্যালেন মাদেয়া। ছবি: সংগৃহীত
চার্চের ৭ লাখ ডলার চুরি করে মাদক, ভ্রমণ ও বিলাসী জীবনযাপন; সাবেক পুরোহিত গ্রেপ্তার

পেনসিলভানিয়ার এক সাবেক ক্যাথলিক পুরোহিতের বিরুদ্ধে তিনটি গির্জা, গির্জার সদস্য ও দাতাদের পাশাপাশি নিজের বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ৪০৯ ডলার ৯৬ সেন্ট চুরির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গ্রেগরি অ্যালেন মাদেয়া নামের ৬৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি চুরি করা অর্থের একটি অংশ মাদক কেনা, যৌন সম্পর্কের জন্য অর্থ ব্যয়, বিদেশ ভ্রমণ, প্রমোদতরী ভ্রমণ এবং একটি ৩৫ হাজার ৫০০ ডলারের গাড়ি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। পশ্চিম মিফলিনের বাসিন্দা মাদেয়ার বিরুদ্ধে চুরি, বয়স্ক ব্যক্তির আর্থিক শোষণ এবং প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ফ্লোরিডার ভেরো বিচ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাকে পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ডলার এবং আগামী মাসে তাকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে।   অভিযোগ অনুযায়ী, পেনসিলভানিয়ার তিনটি গির্জা থেকে মাদেয়া প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং তার বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নিয়েছেন। তদন্তকারীদের হিসাবে, পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার তিনটি গির্জা, তাদের সদস্য, দাতা এবং তার মায়ের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ মিলিয়ে কথিত চুরির মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ লাখ ৪০ হাজার ৪০৯ ডলার ৯৬ সেন্ট। তদন্তে বলা হয়েছে, গির্জার সংগ্রহের খাম থেকেও অর্থ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই অর্থের একটি অংশ এমন একজন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে ব্যবহারের জন্য হেরোইন কেনায় ব্যয় করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির সঙ্গে মাদেয়ার হোটেলে দেখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।   তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ডেরি টাউনশিপের একটি গির্জার সাধারণ তহবিল থেকে মাদেয়া ৭৫ হাজার ডলার তুলে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ওই গির্জার নাম দ্য অ্যাসাম্পশন অব দ্য ব্লেসড ভার্জিন মেরি ইউক্রেনিয়ান ক্যাথলিক চার্চ। সেখানে তিনি পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ওই গির্জা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কাছাকাছি ম্যাককিসপোর্ট ও জিনেট শহরের ইউক্রেনীয় ক্যাথলিক গির্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি গির্জা থেকেও তিনি অর্থ নিয়েছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে একটি ঘটনায় একটি গির্জা থেকে ১৯ হাজার ৪০০ ডলার মূল্যের সোনার পাত্র নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   প্রায় তিন বছর ধরে চলা তদন্তে মাদেয়াকে ঘিরে আরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, তার ফেলে দেওয়া আবর্জনার মধ্যে গির্জার সংগ্রহের খাম পাওয়া যায়। তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিভিন্ন যন্ত্রেও ডেবিট কার্ড ও ব্যাংকের নথির ছবি পাওয়া গেছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, চুরি করা অর্থের একটি অংশ বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রমোদতরীতে ভ্রমণের পেছনেও ব্যয় করা হয়েছিল। একই ব্যক্তিকে উপহার দেওয়ার জন্য ৩৫ হাজার ৫০০ ডলারের একটি ফোর্ড মুস্তাং কেনার অভিযোগও রয়েছে। পরে ওই ব্যক্তি মাদেয়ার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   মাদেয়ার বিরুদ্ধে নিজের মায়ের আর্থিক সম্পদ নেওয়ার অভিযোগও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তিনি এমন এক সময়ে তার মায়ের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন, যখন ওই বৃদ্ধা নিজের আর্থিক বিষয়গুলো পরিচালনা করতে পারছিলেন না। পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সানডে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু যে গির্জাগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেগুলোর ওপর থাকা আস্থার অপব্যবহার করেছেন তা নয়, নিজের মায়ের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করেছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পর তা সামাল দেওয়ার অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   মাদেয়াকে ১৪ আগস্ট ফ্লোরিডার ভেরো বিচে গ্রেপ্তারের পর পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চুরি, বয়স্ক ব্যক্তির আর্থিক শোষণ এবং প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। আদালতে তার জামিন ২৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মাসে মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে তাকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলোতে গির্জার তহবিল, সদস্য ও দাতাদের অর্থ এবং তার মায়ের অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি ওই অর্থ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে এবং মামলাটি আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগোবে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১২:৩০
চাকরি পাওয়ার জন্য ডোনাটের বাক্সে রেজুমে দেওয়ার অভিনব কৌশল বেছে নেন ২৫ বছর বয়সী লুকাস ইলা। ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ রেজুমে নয়, ডোনাটের বাক্সে রেজুমে পাঠিয়ে ১০টি চাকরির ইন্টারভিউ

ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ও সনদপ্রাপ্ত স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জরুরি অ্যাজমা ইনহেলার সরবরাহ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার ১০ হাজার স্কুলে বিনামূল্যে অ্যাজমার ইনহেলার

চার মাসের ছেলে জুনউকে নিয়ে সিউল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোগামী ফ্লাইটে উঠেছিলেন এক মা। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইটে বাচ্চা কাঁদলে যাত্রীরা বিরক্ত হবে ভেবে ২০০ যাত্রীকে উপহার দিলেন মা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দিতে লাগতে পারে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার! অর্থের উৎস অনিশ্চিত

রিপাবলিকানরা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচন কনভেনশনে এ ঘোষণা দেন তিনি। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, কীভাবে দেওয়া হবে এবং প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রয়টার্সের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক থাকায় পুরো কর্মসূচিতে প্রায় ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।   ট্রাম্প এই অর্থকে ‘ডিভিডেন্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ভিত্তিতেই এমন অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘোষণার সময় তিনি অর্থের নির্দিষ্ট উৎস বা বাস্তবায়নের কাঠামো জানাননি।   প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের ঘোষণাটি তাই সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।   তবে ৫ হাজার ডলারের এই পেমেন্ট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন অর্থায়ন নিয়ে। আনুমানিক ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে অর্থ দিতে হলে মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অনেক ওপরে চলে যাবে। এই বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক থেকে সরকারের আয় ব্যবহার করে এমন অর্থ দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শুল্কের আয় দিয়ে পুরো ৫ হাজার ডলারের পেমেন্ট চালানো যাবে কি না, সেটিও নির্ভর করবে ভবিষ্যতে সরকারের প্রকৃত রাজস্ব, ব্যয়ের চাপ এবং কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ওপর।   রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবটির আইনগত বৈধতা এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতিও এখনো পরিষ্কার নয়। এত বড় পরিমাণ অর্থ সরাসরি নাগরিকদের দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।   ডালাসের ভাষণে ট্রাম্প নিজেকেই রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের প্রথম দুই বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময়গুলোর একটি। একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার আহ্বান জানান।   ট্রাম্পের এই প্রস্তাব এখন পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবেই রয়েছে। অর্থের উৎস, যোগ্যতার শর্ত, পেমেন্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং আইনগত অনুমোদনের বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ বাস্তবে কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিশ্চিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৯:৪৪
শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শেরিফ ডেপুটি স্টিভেন রোমেরো। ছবি: সংগৃহীত

নাশতা সময়মতো না খাওয়ায় ৫ বছরের ছেলেকে গলায় চাপ, ক্যালিফোর্নিয়ায় শেরিফ ডেপুটি

ইলন মাস্কের প্রযুক্তিকে ব্যঙ্গ করে ভিভিয়ান উইলসনের এআইবিরোধী বার্তা

বিশ্ব জয় করলেও ঘর সামলাতে পারছেন না ইলন মাস্ক? মেয়ে ও স্ত্রীর কাছে নাস্তানাবুদ

মেডিকেইডে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জালিয়াতির মামলায় জাকিয়া খানের ৭৬ মাসের কারাদণ্ড

নিউ ইয়র্কে ডে-কেয়ার কর্ণধার জাকিয়া খানকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরতের নির্দেশ

0 Comments