সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#বেতনবৃদ্ধি

ডলারের নোটে ফুটে উঠেছে আমেরিকান স্বপ্নের ব্যয়ের হিসাব
‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে চাই ৫৩ লাখ ডলার! আপনার আয় কি সেই পথে হাঁটছে?

যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ বা স্বপ্নের জীবন গড়তে একজন মানুষের জীবদ্দশায় খরচ হতে পারে প্রায় ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। নিজের বাড়ি, দুটি নতুন গাড়ি, দুই সন্তানকে বড় করা ও কলেজে পড়ানো, অবসরজীবন, চিকিৎসা, বিয়ে, পোষা প্রাণী এবং প্রতিবছর ছুটি কাটানোর মতো বিষয়গুলো হিসাব করলে এই বিপুল অঙ্ক দাঁড়ায়। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের জীবন গড়ার ব্যয় গত বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন ও মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে ভালো চাকরি, নিজের বাড়ি, পরিবার নিয়ে স্বচ্ছল জীবন এবং আর্থিক নিরাপত্তার যে স্বপ্ন বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর সময় দেখেন, তা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ‘আমেরিকান ড্রিম’ ধারণাটি নতুন নয়। ১৯৩১ সালে লেখক জেমস ট্রাসলো অ্যাডামস তাঁর ‘এপিক অব আমেরিকা’ বইয়ে এমন একটি দেশের স্বপ্ন তুলে ধরেছিলেন, যেখানে সবার জীবন আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকবে। সময়ের সঙ্গে ধারণাটির অর্থ বিস্তৃত হয়েছে। অনেকের কাছে এর মানে স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার, আবার অনেকের কাছে আর্থিক নিরাপত্তা, ভালো চাকরি এবং নিজের বাড়ির মালিক হওয়া। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবে অর্জন করা যাবে কি না, তা নিয়ে মানুষের আত্মবিশ্বাস কমছে। ২০২৬ সালের এক গ্যালাপ জরিপে ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকান ড্রিম অর্জন করতে পারবেন বলে মনে করেন। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরে আত্মবিশ্বাস কমেছে চার শতাংশ পয়েন্ট। যদিও অধিকাংশ মানুষ এখনো এই স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। জীবনভর ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে বাড়ির মালিক হতে। বাড়ি কেনা, ঋণের সুদ, সম্পত্তি কর, বিমা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮২ ডলার। একটি একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম মূল্য ৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি। ৩০ বছরের গৃহঋণের সুদের হার গড়ে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ ধরে হিসাব করা হয়েছে এই ব্যয়। ঋণের মূল অর্থ ও সুদ পরিশোধেই প্রায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার ডলার লাগতে পারে। এর সঙ্গে কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যুক্ত হবে আরও প্রায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ডলার। দুটি নতুন গাড়ি কেনা ও দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ব্যয়ও কম নয়। গাড়ির ঋণ, বিমা, মেরামত, নিবন্ধন ও জ্বালানি মিলিয়ে জীবদ্দশায় খরচ হতে পারে প্রায় ১২ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ ডলার। নতুন গাড়ির গড় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। বছরে ১৫ হাজার মাইল গাড়ি চালানোর ব্যয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত। অবসরজীবনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে আরও প্রায় ১২ লাখ ৫ হাজার ১১৯ ডলার। বাড়ির ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে—এমন একটি বিবাহিত দম্পতির অবসরের পর ২০ বছরের স্বচ্ছল জীবনযাপনের ব্যয় ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। দুই সন্তানকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন এবং পরে কলেজে পড়ানোর জন্য প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই খরচ বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। ব্যয়ের বড় অংশজুড়ে রয়েছে শিশুদের যত্ন নেওয়া। কেন্দ্রে শিশুদের দেখাশোনার জন্য বছরে প্রতি শিশুর পেছনে গড়ে ১৩ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে। এর বাইরে অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের পড়াশোনার জন্য হিসাব করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। চিকিৎসার জন্য ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবারের নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭১ ডলার। আটটি খাতের মধ্যে কেবল চিকিৎসাব্যয়েই গত বছরের তুলনায় সামান্য হ্রাস দেখা গেছে। এ ছাড়া ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিবছর একটি করে ছুটি কাটানোর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৯ ডলার। একটি কুকুর ও একটি বিড়াল পালনে খাবার, চিকিৎসা ও বিমাসহ আজীবন খরচ হতে পারে প্রায় ৪০ হাজার ৭৭২ ডলার। আর বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার ৮০০ ডলার। এত ব্যয়ের বিপরীতে একজন কর্মজীবী মানুষের আয় কতটা যথেষ্ট? বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী একজন পূর্ণকালীন কর্মী ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে মধ্যম হিসাবে প্রায় ৩৬ লাখ ডলার আয় করতে পারেন। এর সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় গড়ে ২০ বছরের সুবিধা যোগ করলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১ লাখ ডলার। তবুও আমেরিকান ড্রিমের আনুমানিক ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি থেকে যায় প্রায় ১২ লাখ ডলার। এই হিসাব সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। বসবাসের জায়গা, আয়, পরিবারের আকার, শিক্ষা, অবসরের পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ব্যয় অনেকটা বদলে যেতে পারে। তালিকার সব খরচও প্রত্যেক মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবু বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, সন্তানদের শিক্ষা, গাড়ি ও অবসরজীবনের মতো বড় ব্যয় সামলানোর চাপ স্পষ্ট করে। বেতন বৃদ্ধির চেয়ে জীবনযাপনের খরচ দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেকের জন্য স্বপ্নের জীবন গড়তে শুধু নিয়মিত চাকরি ও দীর্ঘ কর্মজীবনের আয় যথেষ্ট নাও হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লোরিডায় ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার
ফ্লোরিডায় শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ন্যূনতম মজুরি বেড়ে ঘণ্টায় ১৫ ডলার হবে। এই পরিবর্তনের ফলে রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীদের বেতন বাড়বে।   ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যূনতম মজুরি ১০ ডলারে পৌঁছানোর পর প্রতি বছর এক ডলার করে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তা ১৪ ডলারে উন্নীত হয়। এবার ৩০ সেপ্টেম্বর ১৫ ডলারে পৌঁছাবে।   তবে যেসব কর্মী টিপস পান, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা। টিপস পাওয়া কর্মীদের নিয়োগকর্তাকে সরাসরি ঘণ্টায় ১১.৯৮ ডলার দিতে হবে। বাকি ৩.০২ ডলার টিপস থেকে পূরণ হওয়ার কথা।   এই মজুরি বৃদ্ধির প্রভাব রেস্তোরাঁ ব্যবসাতেও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শ্রমিকদের বেতন বাড়ার সঙ্গে ব্যবসার পরিচালন ব্যয়, ওভারটাইম খরচ এবং কর্মী ব্যবস্থাপনার ব্যয়ও বাড়বে।   ফ্লোরিডা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশনের সরকারি সম্পর্কবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সামান্থা প্যাডেট বলেন, শ্রম ব্যয় বাড়লে ব্যবসাগুলোকে কর্মীসংখ্যা, কাজের সময় এবং অটোমেশন ব্যবহারের মতো বিষয় নতুন করে ভাবতে হতে পারে।   অন্যদিকে, ফ্লোরিডার বিভিন্ন রেস্তোরাঁর শ্রম ও পরিচালন ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ওশানভিউ ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান জোহান গুতিয়েরেজের মতে, ন্যূনতম মজুরি বাড়লে ওভারটাইমের খরচও বাড়বে। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ওভারটাইম কমানোর পাশাপাশি কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।   তবে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য, এতে নিম্ন আয়ের কর্মীদের আয় বাড়বে এবং তাদের অতিরিক্ত ব্যয় স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।   ৩০ সেপ্টেম্বরের এই বৃদ্ধি ফ্লোরিডার বর্তমান বহু বছরের মজুরি বৃদ্ধির পরিকল্পনার শেষ নির্ধারিত এক ডলারের ধাপ। ২০২৭ সাল থেকে অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করে সমন্বয় করা হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
Gov. Bob Ferguson ছবি: সংগৃহীত
গভর্নরের বেতন প্রস্তাবকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভে কর্মবিরতির ডাক ৫০ হাজার সরকারি কর্মচারীর

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সরকার ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গভর্নর বব ফার্গুসনের প্রশাসনের বেতন প্রস্তাবকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে আগামী ৩১ আগস্ট কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন ফেডারেশন অব স্টেট এমপ্লয়িজ ।   ৫০ হাজারের বেশি সরকারি ও পাবলিক সেক্টরের কর্মচারীর প্রতিনিধিত্বকারী এই ইউনিয়ন বর্তমানে ২০২৭-২০২৯ মেয়াদের নতুন চুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে ইউনিয়নের অভিযোগ, রাজ্যের বাজেট সংকটের অজুহাত দেখিয়ে গভর্নরের আলোচক দল কার্যত বেতন বৃদ্ধি না দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে।   ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা কঠিন আলোচনা আশা করেছিল, কিন্তু সরকারের প্রস্তাব ছিল ‘অপমানজনক’ এবং কর্মীদের প্রতি নিরুৎসাহজনক। তাদের দাবি, নতুন চুক্তিতে কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি।   ইউনিয়নের সভাপতি মাইক ইয়েসট্রামস্কি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি দ্রুত বাড়লেও সরকারি কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এছাড়া চুক্তির অন্যান্য বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘসূত্রিতা ও বিকল্প প্রস্তাব না দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।   অন্যদিকে, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের অফিস অব ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, চলমান আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে নির্ধারিত ১ অক্টোবরের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে তারা ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।   উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের আগের চুক্তিতে সরকারি কর্মীরা দুই বছরে ৫ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিলেন। তবে ইউনিয়নের দাবি, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সেই বৃদ্ধি কর্মীদের প্রকৃত আয় ধরে রাখতে যথেষ্ট নয়।   সমঝোতা না হলে ৩১ আগস্টের কর্মবিরতি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০