পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে ঈদ আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পুরানা পল্টন ও বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে এসেছে। ঈদ কেবল আনন্দের উৎসব নয়, বরং এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি আরও বলেন, সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। সমাবেশে জামায়াত নেতারা দল-মত নির্বিশেষে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম এবং মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য কামরুল আহসান ও শাহীন আহমেদ খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ইরানে হামলা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলি পণ্য বয়কটসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। রোববার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইরানের জনগণের বিপক্ষে গিয়ে এ ধরনের হামলা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। জাতিসংঘ ও ওআইসি ইতিবাচক ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হলে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সমাবেশে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে এবং মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমান হত্যার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান। বক্তারা আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা প্রস্তাব আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অখণ্ড রাখতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি অভিযোগ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার একটি চক্রান্ত। বুধবার দুপুরে দলের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার আর দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচিত না হলে ভবিষ্যতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী চক্রান্তকারীরা আরও উৎসাহিত হবে। তিনি আরও বলেন, বিচারের নামে যেসব নিরপরাধ বিডিআর সদস্য কারাদণ্ড ভোগ করছেন, তাঁদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, পিলখানা বিদ্রোহকে কেবল একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা ঘটনাটির সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়। রফিকুল ইসলাম খান দাবি করেন, ওই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা এবং দেশের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ-এর নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন হেলাল উদ্দিন, মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, আব্দুল মান্নান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম। সভা শেষে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা কর্মকর্তাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামের সব শহীদ ও আহতদের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ–এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। নতুন সংসদের এই অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন–পরবর্তী নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় এবং প্রথমেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এবার বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান এ এম এম নাসির উদ্দীন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বের বিষয়টি এখনো আলোচনা হয়নি। আগামী কার্যক্রম সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্য অধিবেশনের অন্তত এক ঘণ্টা আগে অন্য কোনো সদস্যকে স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য সংসদ সচিবের কাছে লিখিত প্রস্তাব দিতে পারেন। প্রস্তাবটি তৃতীয় কোনো সদস্যের সমর্থনসহ জমা দিতে হয়। প্রস্তাবিত ব্যক্তি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিতে সম্মত—এমন ঘোষণাও সংযুক্ত থাকতে হবে। তবে কেউ নিজের নাম প্রস্তাব বা সমর্থন করতে পারবেন না এবং নিজের নির্বাচনের সময় সভাপতিত্বও করতে পারবেন না। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন এবং এরপর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। কোনো পদ শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে অথবা সংসদ বৈঠকরত না থাকলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তা পূরণ করতে হবে। সংসদ গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে) কোনো ব্যক্তি স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার কিংবা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রস্তাবের মাধ্যমে একজনকে সভাপতিত্বের জন্য নির্বাচিত করা যেতে পারে। এবারের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি কারো নাম মনোনীত করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংবিধান ও সংসদের বিধি অনুসরণ করেই প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ১২ মার্চের অধিবেশনের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিক্রম মিশ্রি। নতুন বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ায় ভারতের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। হাইকমিশন জানায়, পররাষ্ট্রসচিব দুই দেশের জনগণ-কেন্দ্রিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমানকে তার নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের প্রতি ভারত-এর দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। অপরদিকে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সভ্যতাগত বন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং ভোটারদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য জোট। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশে জোটের নেতারা এসব অভিযোগ করেন। জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের দিন প্রশাসনকে ব্যবহার করে ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের নামে দেশের মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে, এবং নির্বাচনের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত করা হয়েছে। খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে নির্বাচিত প্রার্থীদের জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি হয়। এছাড়া নির্বাচনের পর জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়ন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। খুলনা-৫ আসনে হেরে যাওয়া জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম করে ১১-দলীয় প্রার্থীদের বিজয় থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচনের পর সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানান। জোটের অন্যান্য নেতারা বিএনপিকে ‘ভুল পথ’ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। ঢাকা-১২ আসনের বিজয়ী জামায়াত প্রার্থী সাইফুল আলম মিলন বলেন, দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা বায়তুল মোকাররম থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা পদে ডা. শফিকুর রহমানকে মনোনীত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অপরদিকে বিরোধীদলীয় উপনেতা (ডেপুটি লিডার) পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন নাহিদ ইসলাম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে জামায়াত ও ১১ দলের জোটের সঙ্গে বৈঠকের পর। সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আলোচনায় আছেন: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী ও সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানজনক কোনো পদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধীদল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকারও মনোনীত হবেন। চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আলোচনা চলাকালীন আলোচনায় আছেন দলের সাবেক আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং মীর কাসেম আলির ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। সূত্র বলছে, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি। সূত্র মতে, ১১ দলের শরিকদের মধ্যে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ হুইপ পদে মনোনীত হতে পারেন। জামায়াত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম জানিয়েছেন, সংসদের এসব পদ নিয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ১১ দলীয় জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শরিকদের জন্যও ছাড় দিতে হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ২০টি আসনের সব কটির ফল পাওয়া গেছে। ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকার এই ২০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৮ জনই প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকার ১৩টি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ৭টি আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে একটি আসনে জয় পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। হেভিওয়েট প্রার্থী ও তিন দলের প্রধানের অংশগ্রহণের কারণে ঢাকার আসনগুলো এবার আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ঢাকা–১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা–১৫ থেকে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং ঢাকা–১১ আসন থেকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন। এই তিন শীর্ষ নেতাই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন। দেশজুড়ে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয় পাওয়া দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে জোর আলোচনা রয়েছে। ঢাকা থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে কেবল দুজন এর আগেও সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁরা হলেন ঢাকা–২ আসন থেকে নির্বাচিত আমানউল্লাহ আমান এবং ঢাকা–৮ আসনের মির্জা আব্বাস। ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান এর আগে পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। দুই মেয়াদে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদে ঢাকা–৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি মন্ত্রী ও অবিভক্ত ঢাকার মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। এ ছাড়া ঢাকা–৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এর আগে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও সংসদ সদস্য হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম জয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল– যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের নীতিগুলো ক্রমাগত পরিমার্জন করেছে। তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এসব কথা বলেন। এ সাক্ষাৎকারে তিনি জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সেই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে জোট না হলেও জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক সহযোগিতা এবং জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে জামায়াত ইতিবাচক বলেও জানান দলটির আমির। ‘দ্য উইক’-এর দিল্লির ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজা প্রশ্ন করেন, প্রথাগত নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে কাটানো বছরগুলো থেকে জামায়াত কী শিক্ষা নিয়েছে? জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকলেও জামায়াত কখনও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে একই প্রতীকে অংশ নিয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে থাকে তখন সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য কতটা জরুরি। এই বছরগুলো শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে আরও শক্তিশালী করেছে। সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করেছি, দলের শৃঙ্খলা আরও কঠোর করেছি এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর করেছি। সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে রাজনৈতিক কৌশলগুলোও নতুন করে সাজিয়েছি। ডা. শফিকুর রহমান জানান, ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থার মধ্যে থাকলেও জামায়াত কখনোই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সুশৃঙ্খল কাঠামোর প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের ছাত্র সংগঠন সাফল্য দেখিয়েছে। জামায়াত এখন শুধু একটি আদর্শিক দল নয়, বরং কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের অংশীদার করে দেশ গড়ার পরিকল্পনা করছে। জামায়াতের আমির স্পষ্ট করেছেন, তারা শুধু নির্দিষ্ট আদর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাসী। এরই মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন করেছে জামায়াত। তবে বিএনপির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না হলেও জাতীয় স্বার্থে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’ ও ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে তারা ইতিবাচক। জোটবদ্ধ রাজনীতির ক্ষেত্রে তাদের তিনটি মূলনীতি হলো– জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি। সংখ্যালঘু ও নারীদের বিষয়ে জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। প্রমাণ হিসেবে তিনি হিন্দু প্রার্থী মনোনয়নের কথা উল্লেখ করেন। তবে আসন বণ্টন ও জোটগত সমীকরণের কারণে নারী প্রার্থী দেওয়া যায়নি। জোটের অন্য নারী প্রার্থীদের জামায়াত সব ধরনের সমর্থন দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে নারী জনপ্রতিনিধি হওয়ার নজির তিনি তুলে ধরেন। অতীতের বিতর্ক নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যদি কোনো জামায়াত সদস্যের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন থেকে সাতজন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ–১ (শিবগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলমীর প্রার্থী ড. কেরামত আলী নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। অন্যান্য যোগদানকারীরা হলেন— নাইমুল ডাক্তার (৩ নং ওয়ার্ড), মর্তুজা (বিএনপি কর্মী, ৩ নং ওয়ার্ড), হুমায়ুন মেম্বার, খায়রুল ইসলাম (বিএনপি কর্মী, ১ নং ওয়ার্ড) এবং মসিদুল (৩ নং ওয়ার্ড)। ড. কেরামত আলী বলেন, দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্ত হচ্ছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবেন না। আমরা একটা ইসলামি দল। আসলে পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়ে আমরা রাজনীতিতে এসেছি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি। এদিন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটির মহিলা শাখার চার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, শীর্ষ পদে নারীরা ক্ষমতায় আছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা। জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু নারীদের সমস্যার তেমন একটা পরিবর্তন ঘটেনি। এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসে মহিলা জামায়াতের নেত্রীরা। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নানা অভিযোগ সিইসির কাছে উপস্থাপন করা হয়। জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, সদস্য মারজিয়া বেগম ও ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, ভোটের প্রচারে গিয়ে দলটির নারী সদস্যরা আক্রমণের শিকার হন। নারী কর্মীরা যখন ভোটের প্রচারণায় যাচ্ছেন তখন একদল লোক হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা। সাইবার সিকিউরিটি আইনে প্রস্তুতি নিয়েছি। এ ধরনের কার্যক্রম এবং দলের শীর্ষ নেতার আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে। যারা এ কাজে জড়িত তাদের খোঁজ নিয়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াতের এই নারী নেত্রীরা। তারা বলেন, আমরা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এটি জাতিরও প্রত্যাশা। দুটো নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা ইতিবাচক নির্বাচন আমাদের প্রত্যাশা। এ ব্যাপারে সরকার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। জামায়াত নেত্রীরা বলেন, এই প্রথম জামাতের মহিলা উইং থেকে আমরা নির্বাচন কমিশন এসেছি। সারা বাংলাদেশে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে হামলা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। বাংলাদেশে ফিফটি পার্সেন্ট নারী। আমরা সুষ্ঠু একটা পরিবেশ ভোট দিতে চাই। এই বোনদের প্রতিহত করতে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের ৫০ পার্সেন্ট আমরা রিপ্রেজেন্ট করছি। এই অর্গানাইজেশনে আমাদের অধিকার দিচ্ছে, আমাদের সম্মান দিচ্ছে। আমাদের মেয়েদের মধ্যে কাজ হচ্ছে। আমরা লিডারশিপ দিচ্ছি। আমরা ট্রেনিং নিচ্ছি। কিছু মহল এই অ্যাক্টিভিটি পছন্দ করছে না। তাই প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ওপর হামলা করছে। আমরা কোনো খারাপ কাজ করছি না। একটা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ করে দেওয়ার জন্য ইসির কাছে দাবি জানিয়েছি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।