‘নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন’, ক্ষেপে আগুন ট্রাম্প
ধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সংকট নিরসনে মিত্রদেশগুলোকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যের হয়ে লড়াই করবে না; বরং প্রতিটি দেশকে এখন থেকে নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদেরই ভূমিকা নিতে হবে।
ট্রাম্প তার পোস্টে সরাসরি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে যেসব দেশ জ্বালানি সংকটে ভুগছে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো রাষ্ট্রগুলোর উচিত এখন সাহস সঞ্চয় করা। তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশগুলোর উচিত নিজেরাই প্রণালিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করে নেওয়া।
সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষোভের সুর ছিল স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, দেশগুলোকে এখন থেকে নিজেদের লড়াই নিজেদেরই লড়তে শিখতে হবে। অতীতে বিভিন্ন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে একা ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র আর সাহায্য করতে সেখানে থাকবে না—যেমন তোমরা আমাদের জন্য ছিলে না।" মূলত ইরানবিরোধী অভিযানে যেসব দেশ সরাসরি অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্য করেই এই কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, "ইরান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কঠিন কাজ এরই মধ্যে শেষ।" পোস্টের একদম শেষে তিনি মিত্রদের প্রতি চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে লেখেন, "নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন!"
ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে এক পরিবারের হাতে ধরা পড়েছে প্রাগৈতিহাসিক মেগালোডন হাঙরের একটি জীবাশ্ম দাঁত। সাধারণ একটি বিচ ভ্রমণের মধ্যে পাওয়া বস্তুটি যে পৃথিবী থেকে লাখ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশালাকৃতির এক শিকারি হাঙরের স্মৃতি বহন করছে, সেটিই এখন ঘটনাটিকে বিশেষ করে তুলেছে। ডব্লিউসিভিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজার্সির সৈকতে পরিবারটি দাঁতটি খুঁজে পায়। প্রথম দেখায় এটি সাধারণ পাথর বা অন্য কোনো সামুদ্রিক বস্তু মনে হলেও এর আকার ও গঠন নজর কাড়ে। পরে এটি মেগালোডনের জীবাশ্ম দাঁত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার খবর সামনে আসে। মেগালোডন ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে পরিচিত সবচেয়ে বড় শিকারি হাঙরগুলোর একটি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম ওটোডাস মেগালোডন। জীবাশ্মের তথ্য থেকে জানা যায়, বিশাল এই হাঙর কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর সমুদ্রে বিচরণ করেছে এবং আনুমানিক ৩৬ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। মেগালোডনের দাঁতই প্রাণীটির সবচেয়ে বেশি পাওয়া জীবাশ্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। হাঙরের কঙ্কাল মূলত কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি হওয়ায় মৃত্যুর পর তা সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। বিপরীতে দাঁত তুলনামূলকভাবে শক্ত হওয়ায় সেগুলো পলির নিচে চাপা পড়ে লাখ লাখ বছর টিকে থেকে জীবাশ্মে পরিণত হতে পারে। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, মেগালোডনের দাঁত প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারত। দাঁতের কিনারা ছিল করাতের মতো ধারালো। তিমি, বড় মাছ এবং অন্য হাঙর শিকারে এসব শক্তিশালী দাঁত ব্যবহার করত প্রাণীটি। নিউজার্সিতে প্রাগৈতিহাসিক হাঙরের দাঁত পাওয়ার ঘটনা একেবারে নতুন নয়। রাজ্যের বিভিন্ন সৈকত ও নদীর তীর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রজাতির হাঙরের জীবাশ্ম দাঁত পাওয়া যাচ্ছে। নিউজার্সি স্টেট মিউজিয়ামের প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া জীবাশ্ম হাঙরের দাঁত সংরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে জার্সি শোরের কিছু এলাকায় জীবাশ্ম সন্ধানীদের নিয়মিত আনাগোনা রয়েছে। ঢেউ, জোয়ার এবং উপকূলের বালু ও পলির পরিবর্তনের কারণে বহু পুরোনো জীবাশ্ম কখনো কখনো মাটির স্তর থেকে বেরিয়ে সৈকতে চলে আসে। তবে মেগালোডনের দাঁত পাওয়া মানে বর্তমানে ওই অঞ্চলে এই বিশাল হাঙরের অস্তিত্ব রয়েছে এমন নয়। জীবাশ্মবিষয়ক বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, মেগালোডন প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ের কোনো মেগালোডন দাঁত বা অন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিউজার্সির ওই পরিবারের জন্য তাই সৈকতে পাওয়া দাঁতটি কেবল একটি ব্যতিক্রমী সংগ্রহ নয়। এটি এমন এক সামুদ্রিক শিকারির জীবাশ্ম স্মৃতি, যে পৃথিবীর মহাসাগরে বিচরণ করেছিল মানুষের আবির্ভাবের বহু আগে।
ইমরানের মৃত্যুর গুঞ্জন, দেখা না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে নামবেন আফ্রিদি
রোনালদোকে বিয়ের পরও জর্জিনার থাকবে না তার সম্পত্তিতে স্বয়ংক্রিয় মালিকানা
সূর্যগ্রহণের আলোছায়ায় হাঁটু গেড়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব! মুহূর্তেই ভাইরাল
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি হত্যার ৪৯ দিন পর তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনজনের মরদেহ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হয়। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং তাদের শিশুকন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। গত ২৬ জুন রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাদের হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির হোসেন অয়ন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনিও দেশে ফিরেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ইতালিতে প্রথম জানাজা শেষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে সেগুলো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় চরকাঁকড়া ইউনিয়নের শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তিনজনকে পাশাপাশি দাফনের কথা রয়েছে। গত ২৬ জুন রাতে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাসালোত্তি এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ইতালির পুলিশ ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামাল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করা হয়। অয়নও হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রোমের পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তার অস্ত্রোপচারও করা হয়। ঘটনার পর রোমের প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে ইতালীয় পুলিশ ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে তার ছবি প্রকাশ করে। তাকে ধরতে ইতালিজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাল ও সীমান্ত এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। তদন্তকারীরা হত্যার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি জানতে অনুসন্ধান শুরু করেন। হত্যাকাণ্ডের পর অয়ন পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে সন্দেহভাজন শাহাদাতের সঙ্গে তার বিরোধ হয়েছিল। তদন্তকারীরা পরে সন্দেহভাজনের ফোনসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করে হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখেন। তিনজনের ময়নাতদন্তেও শরীরে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এডিএনক্রোনোসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর শরীরে আত্মরক্ষার চেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আঘাতও পাওয়া গেছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগের একটি হুমকির ঘটনাও সামনে আনা হয়। স্বজনদের দাবি, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রামের বাড়িতে ‘লাল বাহিনী’ নাম ব্যবহার করে একটি চিঠির মাধ্যমে পরিবারটিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠিতে স্বর্ণালংকার ও অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তবে রোমের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই হুমকির কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কামাল উদ্দিন বাবুলের পরিবার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা পরিবারটির তিন সদস্য একসঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনায় তখনই এলাকায় শোক নেমে আসে। প্রায় সাত সপ্তাহ পর তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে ফেরায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আবারও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
বাসায় হঠাৎ আইসিই এলে কী করবেন? দরজা খোলার আগে বাংলাদেশিদের জানা জরুরি ৫ রাইটস
পরকীয়ার প্রতিশোধে প্রেমিককে আইসিই এর গাতে ধরিয়ে ডিপোর্ট করালেন প্রেমিকা
নিউইয়র্কের আবাসন সংকট রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমি সফর করছেন। সফরে তিনি দেশজুড়ে সহিংস অপরাধ কমার তথ্য তুলে ধরবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেবেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের সফরের সময় ২০২৫ সালের নতুন এফবিআই অপরাধ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হবে। ওই পরিসংখ্যানে হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই ও গুরুতর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংস অপরাধ কমার তথ্য রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সফরে থাকবেন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। অপরাধ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি নিউইয়র্কের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নাসাউ কাউন্টিতে ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে ট্রাম্পের এই সফরকে আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে অপরাধ কমার পেছনে প্রশাসনের নীতির কতটা ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরাও এক বছরের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি কমেছে, ঋণের সুদে চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, বাড়ছে খেলাপি