গাজায় ৩৯০ জনেরও বেশি কর্মী নিহত, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জাতিসংঘের
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩৯০ জনেরও বেশি সহকর্মী নিহতের ঘটনায় একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (UNRWA) বিদায়ী প্রধান ফিলিপ লাজারিনি।
জেনেভায় নিজের শেষ কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান।
লাজারিনি বলেন, গাজায় চলমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অবরুদ্ধ গাজায় জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রমের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে ইউএনআরডব্লিউএ, যা কার্যত সেখানকার অধিকাংশ মানুষের জন্য একমাত্র রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিকল্প।
এই সংস্থাটির কর্মীদের ওপর এ ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View more১৯৭৯ সালে পবিত্র কাবার বর্তমান দরজা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন থাইল্যান্ডের নাগরিক আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব। বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী আবদুল্লাহ সম্প্রতি সৌদি আরব সফরে গিয়ে সেই ঐতিহাসিক কাজের স্মৃতি তুলে ধরেছেন। সৌদি আরবের বাদশাহর অতিথি হিসেবে তিনি দেশটিতে অবস্থান করছেন বলে দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন জানিয়েছে। আবদুল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় থাইল্যান্ড থেকে তিনজন কাঠমিস্ত্রি ও তিনজন স্বর্ণকারকে সৌদি আরবে নিয়ে আসা হয়েছিল। আরবি ভাষায় দক্ষ হওয়ায় তিনি দলের অনুবাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছয় কারিগরের কাজের সমন্বয়ও করেন। মক্কার প্রধান স্বর্ণকার শেখ আহমদ ইব্রাহিম বদর তাকে এই কাজে যুক্ত করেন বলে তিনি জানিয়েছেন। দরজার নকশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সিরীয় স্থপতি মুনির আল-জুন্দি। কাবার পুরোনো দরজার মাপ নেওয়ার পর মক্কায় একটি বিশেষ কর্মশালায় নতুন দরজা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথমে কাঠের কাঠামো তৈরি করা হয়, পরে তাতে স্বর্ণের কাজ করা হয়। সৌদি আরবের সরকারি তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট সৌদিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে বাদশাহ খালিদের শাসনামলে কাবার দরজা পরিবর্তন করা হয় এবং এতে ২৮০ কেজি খাঁটি স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছিল। দরজাটি তৈরিতে প্রায় ১২ মাস সময় লেগেছিল। আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, দরজায় আল্লাহর ১৫টি সুন্দর নামও খোদাই করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয়টি এক পাশে, ছয়টি অন্য পাশে এবং তিনটি ওপরের অংশে রাখা হয়। দরজায় কোরআনের আয়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী নকশা ও আরবি ক্যালিগ্রাফিও রয়েছে। সৌদি আরবের তথ্য অনুযায়ী, দরজার অলংকরণে উঁচু করে খোদাই করা নকশা, কোরআনের আয়াত এবং আল্লাহ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামও রয়েছে। দরজা স্থাপনের সময়টিও ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো দরজা সরিয়ে নতুন দরজা বসানোর কাজ চলার সময় নিচে মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারীরা তাওয়াফ করছিলেন। কারিগররা ওপরের অংশে কাজ করছিলেন, আর নিচে কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ চলতে থাকে। ১৩৯৯ হিজরির ২২ জিলকদ, যা ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে পড়ে, নতুন দরজাটি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে কাবার যে স্বর্ণখচিত দরজাটি দেখা যায়, সেটিই ১৯৭৯ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। সৌদি সরকারের তথ্যভিত্তিক সৌদিপিডিয়া বলছে, দরজাটিতে ব্যবহৃত স্বর্ণের পরিমাণ ২৮০ কেজি এবং এটি ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ। দরজাটি তৈরির জন্য বিশেষ কর্মশালা স্থাপন করা হয়েছিল এবং এর নকশা ও অলংকরণে উন্নত কারুশিল্পের ব্যবহার করা হয়। আবদুল্লাহ বর্তমানে সৌদি আরবে বাদশাহর অতিথি হিসেবে সফর করছেন। মদিনার একটি হোটেলে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি ১৯৭৯ সালের সেই কাজের স্মৃতিচারণ করেন। তার এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসার পর কাবার বর্তমান দরজা তৈরির পেছনে থাইল্যান্ডের ছয় কারিগরের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন, সৌদিপিডিয়া
ফেসবুক পোস্টে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার দায়ে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান কর্মীর মৃত্যুদণ্ড
হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৬০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী
যুক্তরাজ্যে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
গ্রিসের এক দম্পতি ২২ বছর আগে সংরক্ষণ করে রাখা ভ্রূণ ব্যবহার করে কন্যাসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। এর কয়েক মাস আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের ২১ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছিল। সন্তানের মৃত্যুর পর নতুন করে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও গ্রিসের আইনে নারীদের আইভিএফের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৪ বছর হওয়ায় তাদের সামনে ছিল সময়ের কঠিন চাপ। ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপতি-তজেলেপি সেপ্টেম্বরের শুরুতে এথেন্সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্য ব্যবহৃত ভ্রূণটি ২০০৪ সালের ১৭ মার্চ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ভ্রূণটি সংরক্ষণের পর থেকে শিশুটির জন্ম পর্যন্ত সময় ছিল ২২ বছর পাঁচ মাসেরও বেশি। ক্রিস্টিনা ও তার স্বামী কনস্তান্তিনোস রাপতিকে প্রায় ৩০ বছর আগে পরিচয়ের পর বিয়ে করেন। সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও তিন বছর সফল না হওয়ায় তারা আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৪ সালে প্রথমবারের চেষ্টাতেই ক্রিস্টিনা গর্ভবতী হন এবং একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তাদের ছেলে জর্জ একই ভ্রূণ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদের একজন ছিল। তবে প্রসবের সময় জটিলতার কারণে জর্জকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম দিতে হয়। চিকিৎসকেরা তখন ক্রিস্টিনাকে ভবিষ্যতে আরেকটি সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার জরায়ুর গঠনসংক্রান্ত কিছু উদ্বেগের কারণে দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তাদের জানানো হয়। ফলে আরও সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও দম্পতি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে আইভিএফের সময় তৈরি হওয়া অবশিষ্ট ১২টি ভ্রূণ তারা ক্লিনিকে সংরক্ষণ করে রাখেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ২১ বছর বয়সী জর্জ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েন ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোস। কিন্তু সেই সময়ই তারা সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর কথা আবার ভাবতে শুরু করেন। ক্রিস্টিনা বলেন, ছেলেকে হারানোর পর তারা মনে করেছিলেন, আরেকটি সন্তান হয়তো তাদের জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার শক্তি দেবে। তার স্বামীও মনে করতেন, জর্জ চাইত তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক এবং পরিবার হিসেবে সুখী হওয়ার চেষ্টা করুক। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি চাপ তৈরি হয়। গ্রিসের আইনে নারীদের সহায়ক প্রজনন বা আইভিএফ চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ বয়স ৫৪ বছর। ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় সহায়ক প্রজনন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও প্রয়োজন হয়। ২০২২ সালের আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রিসে এই বয়সসীমা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫৪ করা হয়েছিল। ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করতে হয় ক্রিস্টিনাকে। ২৩ ডিসেম্বর একটি ভ্রূণ তার জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক কনস্তান্তিনোস পান্তোসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ভ্রূণটি ২০০৪ সালের একই ব্যাচের ছিল, যে ব্যাচ থেকে জর্জও জন্মেছিল। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভধারণের পুরো সময়টি প্রত্যাশার তুলনায় ভালোভাবেই এগিয়েছে। ৩৯ সপ্তাহ দুই দিন পর ক্রিস্টিনা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির ওজন ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪৯ কেজি। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়ার এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাহিত্যে এর আগে ১৮ বছর তিন মাস এবং ১৭ বছর সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফল জন্মের ঘটনা নথিভুক্ত ছিল। শিশুটির জন্মের পর পরিবারটির দীর্ঘ শোকের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ক্রিস্টিনা বলেন, মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তে তাদের মনে হয়েছে যেন আবার আলো ফিরে এসেছে। তার স্বামীর ভাষায়, এই সন্তান তাদের জীবনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দিয়েছে। তবে মেয়ের জন্মের পরও তাদের আরেকটি ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পথে বাধা রয়েছে। তাদের আরও নয়টি ভ্রূণ এখনো সংরক্ষিত রয়েছে এবং তারা মেয়েটির জন্য একজন ভাই বা বোন চান। কিন্তু গ্রিসের বর্তমান বয়সসীমার কারণে ক্রিস্টিনা দেশটিতে আর আইভিএফ করতে পারবেন না। তাই আইন পরিবর্তন না হলে তারা বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কথাও ভাবছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রিসের আইভিএফ আইন পরিবর্তনের দাবিও উঠেছে। চিকিৎসক পান্তোস মনে করেন, বয়সসীমা প্রয়োজন হলেও তা শুধু জন্মতারিখের ওপর নির্ভর করে কঠোরভাবে প্রয়োগ না করে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, চিকিৎসাগত পরিস্থিতি এবং পারিবারিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। গ্রিসে সন্তান জন্মদানের বয়সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রথমবার মা হওয়ার গড় বয়স ছিল ৩১ দশমিক ২ বছর, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ছিল ২৯ দশমিক ৯ বছর। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বেশি বয়সে গর্ভধারণের সঙ্গে বাড়তি ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণেই গ্রিসে ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন ও চিকিৎসাগত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোসের কাছে নতুন সন্তান তাদের হারানো ছেলের বিকল্প নয়। বরং ছেলেকে হারানোর পরও জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে তারা মেয়ের জন্মকে দেখছেন। সূত্র: Newsweek
‘গরুকে মা হিসেবে শ্রদ্ধা করি, জাতীয় প্রাণী ঘোষণার প্রয়োজন নেই’: যোগী আদিত্যনাথ
ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, হতে চান প্রধানমন্ত্রী
ভারতে ৬০০ বছর পুরানো শাহী মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত, রাতভর মুসলিমদের অবস্থান
বেলজিয়ামের একটি আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্র থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়নের পর ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আনার অভিযোগ উঠেছে এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যের আদালতে মামলাটি ওঠার পর গত রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে এর তথ্য প্রকাশিত হয়। অভিযোগের বিচার বেলজিয়ামে হওয়ার কথা রয়েছে। দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটির শুরু ২০২৫ সালের জুনে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বেলজিয়ামের আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্র থেকে কিশোরীটিকে নিয়ে যান ওই ব্যক্তি। পরে ফ্রান্স হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে তাঁরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। কিশোরীটি তুরস্কের নাগরিক বলে আদালতে জানানো হয়েছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে, এমন আশঙ্কায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নামও প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর বয়স নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে; কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ভিন্ন ভিন্ন জন্মতারিখ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা জানিয়েছে, বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের খোঁজা ওই ব্যক্তিকে গত ১৯ আগস্ট পশ্চিম লন্ডনের ফেলথামে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি হেফাজতে আছেন। অপহরণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
গোপনে উড়োজাহাজে আবুধাবি গেলেন নেতানিয়াহু, বৈঠক করলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে
কানাডিয়ান কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ, আমেরিকা- কানাডা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি আটক