বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যেই চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীন সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বেইজিংয়ে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বুধবার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরের তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। পুতিনের এই সফরে ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘চীন-রাশিয়া মৈত্রী চুক্তি’ পুনরায় নবায়ন করা হবে। এটি দুই পরাশক্তির মধ্যকার সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। লাভরভ জানিয়েছেন যে, দুই দেশের শীর্ষ নেতারা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে ইতিমধ্যে তাদের চূড়ান্ত এজেন্ডা তৈরি করছেন। হরমজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চীনে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে রাশিয়া এখন বিশেষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বড় ধরণের পরিকল্পনা করছে। লাভরভ বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকের পর জানিয়েছেন যে, মস্কো এখন চীনের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ও কৌশলগত শরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অত্যন্ত আগ্রহী। গত বছর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড ২২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পুতিনের এই আসন্ন সফর সেই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই মাইলফলককে সামনে রেখে দুই দেশই পশ্চিমা বিশ্বের চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোরালো সংকল্প ব্যক্ত করেছে। মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্ভাব্য সম্মেলনটি বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরণের মেরুকরণ ঘটাবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রতিটি স্তরে।
বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা এখন পারস্পরিক আস্থার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) বাংলাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও বিআইআইএসএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ আশিক রহমান। সাক্ষাৎকারে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। আশিক রহমান বলেন, "চীন বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত বন্ধু। বৈশ্বিক রাজনীতিতে অনেক দেশের মধ্যে আধিপত্যবাদী মনোভাব থাকলেও, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক সব সময় সমতা ও পারস্পরিক উপকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।" তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বিবর্তনকে তিনটি পর্বে ভাগ করেন এবং ২০১৬ সালে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকে সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশেষ করে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল ও ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতার কথা তিনি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকারে চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ নিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের মতো উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার করে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে চীনের গৃহীত উদ্যোগ বিশ্বের জন্য একটি মডেল। এছাড়াও চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা উদ্যোগসমূহ বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষার সাথে পরিপূরক বলে তিনি মনে করেন। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের উদাহরণ টেনে এই গবেষক বলেন, চীন তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের নতুন সরকারও ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব’ নীতি বজায় রেখে চীনের সাথে এই গভীর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ব রাজনীতির সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে—যেখানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক উন্নয়নশীল দেশ ক্রমশ চীন-নির্ভরতার দিকে ঝুঁকছে। ব্লুমবার্গ-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চীনা ঋণ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই ধারণা কিছুটা পাল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পাকিস্তান-এর উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। অতীতে জ্বালানি সংকটে পড়া দেশটি এবার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে চীন থেকে আমদানি করা সস্তা সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারকে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির বিপুলসংখ্যক পরিবার এখন সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে, যা জ্বালানি সংকটের ধাক্কা কিছুটা কমিয়েছে। একইভাবে নেপাল-এ সস্তা বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করছে। এসব ক্ষেত্রেই চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। তবে এই নির্ভরতা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে। চীন তার সরবরাহ শৃঙ্খল বিশেষ করে বিরল খনিজ ও প্রযুক্তি খাতে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য থেকে কৌশলগতভাবে সরে যান বা হরমুজ প্রণালি-সংকট সমাধানে সক্রিয় না হন, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে একটি বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে তারা কি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর ভরসা রাখবে, নাকি চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দিকে আরও ঝুঁকবে? বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু আঞ্চলিক নয়; বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে চালানো এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বুধবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ৩৩ দিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মেয়র মামদানি বলেন, একটি দেশের সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সে দেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করা উচিত। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই টেকসই সমাধান আনতে পারে না। তিনি এই যুদ্ধকে ‘নিরর্থক’ উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। তার মতে, ওয়াশিংটনের এ ধরনের যুদ্ধনীতি অতীতেও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানি আরও বলেন, যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এমন ব্যয় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিপুল অর্থ যদি জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হতো, তবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং শিক্ষাঋণ মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিল। কিন্তু যুদ্ধনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়—বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, সামরিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, বিশ্ব একটি নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রচলিত শক্তির আধিপত্য আর নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলের বহুস্তর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এটি দেখিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা যথেষ্ট নয়; বরং বহুমাত্রিক ও অভিযোজিত কৌশলই হয়ে উঠছে নতুন বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সংকট বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত একক অবস্থানে রয়েছে। ন্যাটো কিংবা আঞ্চলিক মিত্রদের সরাসরি সমর্থনের অভাব মার্কিন নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকটকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো মনে করছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কারণে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব প্রশ্নের মুখে পড়ছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নতুন কৌশল ইরান দীর্ঘদিন ধরে একটি বিকেন্দ্রীভূত ও প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা ‘মোজাইক ডকট্রিন’ নামে পরিচিত। ছোট ইউনিট, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত হামলার মাধ্যমে এই কৌশল প্রচলিত যুদ্ধনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন ঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সংঘাতের বিস্তার ও বৈশ্বিক প্রভাব হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সম্পৃক্ততায় সংঘাত আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক মাত্রা পাচ্ছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি বা সাবমেরিন কেবল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দিয়েগো গার্সিয়া: নিরাপত্তার নতুন প্রশ্ন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের এই ঘাঁটিকে নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপসহ বিস্তৃত অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। ‘এসকালেশন ট্র্যাপ’-এ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি জটিল কৌশলগত ফাঁদে পড়েছে। পিছু হটলে কৌশলগত পরাজয়ের আশঙ্কা, আর এগোলে বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি। এই বাস্তবতা আঞ্চলিক যুদ্ধকে বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কূটনৈতিক পথ ও পাকিস্তানের উদ্যোগ এই সংকটে পাকিস্তানের উদ্যোগকে একটি প্রাথমিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ইরানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের সক্ষমতা সংলাপের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন বহুপাক্ষিক উদ্যোগ। বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তোলা হলে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা একক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমাবে। অনিশ্চয়তার নতুন বিশ্ব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন আর শুধু একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়; এটি বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাসের সূচনা। সামরিক কৌশলের পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার উত্থান—সব মিলিয়ে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ঐক্য ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যথায় বিশ্ব আরও গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।