- প্রচ্ছদ
- Topic
মেরিল্যান্ড
মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর এলাকায় ৩৭০ কোটি ডলারের একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল স্প্যারোজ পয়েন্টে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের বিভিন্ন উপাদান তৈরির জন্য নতুন উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৩১০০টি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। ৬ অক্টোবর স্প্যারোজ পয়েন্টে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন। এলাকাটি আগে বেথলেহেম স্টিলের বিশাল ইস্পাত কারখানার জন্য পরিচিত ছিল। সেই ইস্পাত কারখানা ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটির শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান কমে যায়। নতুন প্রকল্পকে ওই অঞ্চলের শিল্প পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যান্ডুরিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাবমেরিন নির্মাণে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। প্রকল্পটির মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ফেডারেল সরকার প্রায় ২৯০ কোটি ডলারের পণ্য কেনার মাধ্যমে প্রকল্পটিকে সহায়তা করবে। নতুন স্থাপনাটি শুধু সরাসরি কর্মসংস্থানই তৈরি করবে না, এর সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারী, পরিবহন, নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যবসায়ও অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে বাল্টিমোর অঞ্চলের জন্য এই বিনিয়োগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের কারণে স্প্যারোজ পয়েন্ট এলাকায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন ছিল। নতুন প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র সেই পুরোনো শিল্প এলাকাকে আবার বড় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোকে তাঁর প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের শ্রমবাজারের জন্যও বড় খবর। ৩১০০ সরাসরি চাকরি তৈরি হলে উৎপাদন, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্মাণপর্বে অস্থায়ীভাবে আরও অনেক কর্মী কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের জন্যও এ ধরনের শিল্প বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বড় উৎপাদন প্রকল্পের প্রভাব শুধু কারখানার কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, দোকান, আবাসন, নির্মাণ এবং বিভিন্ন সেবা খাতেও ব্যবসা বাড়তে পারে। প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোগগুলোর একটি হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে এবং ঘোষিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। এই বিনিয়োগ এমন সময়ে আসছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থা দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্প্যারোজ পয়েন্টের প্রকল্পটি সেই বৃহত্তর শিল্পনীতি ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২ অক্টোবর ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় তাঁকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্রও নেই। তাঁকে খুঁজে পেতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। ডিলানকে সর্বশেষ ২ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস ওয়াশিংটন ডিসির ঠিক বাইরে মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে অবস্থিত। নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা ওই দৃশ্যের পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চার দিন পর, ৬ অক্টোবর ডিলানের নতুন কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সন্ধানে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কলেজ পার্ক এলাকায় ডিলানকে কেউ দেখে থাকলে কিংবা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার সময় ডিলানের কাছে তাঁর মোবাইল ফোন ছিল না। সঙ্গে ছিল না মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্র। তবে কেন এসব ব্যক্তিগত জিনিস তাঁর সঙ্গে ছিল না কিংবা সেগুলো কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ছেলের সন্ধান চেয়ে পুলিশের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন ডিলানের মা। তিনি বলেন, পরিবার ডিলানকে অনেক ভালোবাসে এবং আশা করছে তিনি নিরাপদে আছেন। পরিবারের একমাত্র চাওয়া, ডিলান যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসেন। কলেজ পার্ক এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। গত ২ অক্টোবর ভোর থেকে পরবর্তী সময়ের বাড়ির দরজার ক্যামেরা, গাড়ির ক্যামেরা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য পরীক্ষা করে দেখতে বলেছেন ডিলানের মা। এসব দৃশ্যে ডিলানকে দেখা গেলে সেই তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, ডিলানের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং তাঁর চুল কালো। সর্বশেষ নজরদারি ক্যামেরায় যখন তাঁকে দেখা যায়, তখন তাঁর পরনে ছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো রঙের সোয়েটশার্ট, ধূসর রঙের প্যান্ট এবং সাদা জুতা। ডিলান পার্কিং গ্যারেজের কাছ থেকে এরপর কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন কি না কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরে তাঁকে পরবর্তী সময়ে কোথাও দেখা গেছে কি না, সে সম্পর্কেও পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি। নিখোঁজ হওয়ার কারণ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ডিলান স্বেচ্ছায় কোথাও গিয়েছিলেন নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তদন্তকারীরা আপাতত তাঁর সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থানের পরবর্তী সময়ের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এই কারণে নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিলানের মা স্থানীয় বাসিন্দাদের শুধু বাড়ির দরজার ক্যামেরাই নয়, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যও পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কোনো ছোট তথ্যও তাঁর গতিবিধি শনাক্ত করতে কাজে আসতে পারে বলে আশা করছে পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ডিলানের নতুন ছবি প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর শারীরিক বর্ণনা এবং সর্বশেষ পরনের পোশাকের তথ্যও ছড়িয়ে দিচ্ছে। উদ্দেশ্য, গত কয়েক দিনে কেউ তাঁকে দেখে থাকলে যেন সহজে শনাক্ত করতে পারেন এবং পুলিশকে তথ্য দিতে পারেন। ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন না থাকায় ফোনের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র সঙ্গে না থাকার কারণে পরিবার ও পুলিশের জন্য তাঁর সম্ভাব্য গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যটিই ডিলানের সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থান হিসেবে সামনে এসেছে। চার দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ডিলানের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তাঁকে কোথাও দেখা গেছে, তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে কোনো তথ্য রয়েছে কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি কোথায় যেতে পারেন সে বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন, এমন যে কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ডিলানের সন্ধানসংক্রান্ত তথ্য জানাতে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশের ৩০১-৪০৫-৩৫৫৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চার দিনেও তাঁর সন্ধান না মেলায় পরিবার এখন ছেলের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে, আর পুলিশ সম্ভাব্য তথ্য ও নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যটিতে পরিমাপ করা মোট দারিদ্র্যের প্রায় ২১ শতাংশের সঙ্গে গড়ে ওঠা আবাসন ব্যয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশ করেছে দ্য পিউ চ্যারিটেবল ট্রাস্টস। পিউ-এর বিশ্লেষণে মেরিল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সেই ১০টি অঙ্গরাজ্যের একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে গড়ের তুলনায় বেশি আবাসন ব্যয় দারিদ্র্যের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। তালিকায় রয়েছে হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, কলোরাডো, মেরিল্যান্ড, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক ও নিউ হ্যাম্পশায়ার। প্রতিবেদনটির ভিত্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ পদ্ধতি। প্রচলিত দারিদ্র্য পরিমাপের তুলনায় এই পদ্ধতিতে পরিবারের আয় ছাড়াও সরকারি সহায়তা, কর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিশেষ করে স্থানীয় আবাসন ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো এলাকায় বাড়ি বা ভাড়া বেশি হলে সেই অতিরিক্ত ব্যয় পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। মেরিল্যান্ডে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই সম্পূরক দারিদ্র্য পরিমাপ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হার ছিল ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় গড়ের তুলনায় মেরিল্যান্ডের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কম হলেও উচ্চ আবাসন ব্যয় রাজ্যের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দেশটিতে আনুমানিক ৪০ লাখ থেকে ৭০ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে পিউ-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি তৈরি না হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকছে এবং এর ফলে ভাড়া ও বাড়ির দাম দীর্ঘমেয়াদে উঁচু থাকছে। মেরিল্যান্ডের নিজস্ব আবাসন-চিত্রও একই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। রাজ্যের ২০২৫ সালের আবাসন চাহিদা মূল্যায়ন অনুযায়ী, মেরিল্যান্ডে প্রায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার ভাড়াটিয়া পরিবার রয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ আবাসন ব্যয়ের চাপে রয়েছে। অর্থাৎ এসব পরিবার তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করছে। রাজ্য সরকারের গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মেরিল্যান্ডে সাশ্রয়ী আবাসনের বড় ঘাটতি রয়েছে। ৮০ শতাংশের নিচে মধ্যম আয়সীমার পরিবারের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি সাশ্রয়ী ভাড়ার বাড়ির ঘাটতি রয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা মহামারির পর আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দিতে মেরিল্যান্ডে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার নতুন আবাসিক ইউনিট প্রয়োজন হবে বলে রাজ্যের আবাসন চাহিদা মূল্যায়নে বলা হয়েছে। বর্তমান নির্মাণের গতি বজায় থাকলে এই প্রয়োজন পূরণ করা কঠিন হবে। রাজ্য সরকারের প্রতিবেদনে স্থানীয় ভূমি-ব্যবহার নীতি, কম ঘনত্বের নির্মাণ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক বাধাকেও আবাসন সরবরাহ কম থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পিউ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আবাসন সরবরাহ বাড়িয়ে ভাড়া কমানো গেলে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত ভাড়া প্রায় ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে দারিদ্র্য ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং শিশু দারিদ্র্য কমতে পারে ২১ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত। শুধু খাদ্য সহায়তা বা নগদ সহায়তা বাড়ালেই নিম্নআয়ের পরিবারের আর্থিক সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। কারণ পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ যদি বাড়িভাড়া বা আবাসন ব্যয়ে চলে যায়, তাহলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য অর্থ কমে যায়। পিউ-এর গবেষণাও দেখিয়েছে, উচ্চ আবাসন ব্যয় সরকারি দারিদ্র্যবিরোধী কর্মসূচির কিছু ইতিবাচক প্রভাবকে দুর্বল করে দিতে পারে। মেরিল্যান্ডে এই সংকটের প্রভাব শুধু নিম্নআয়ের ভাড়াটিয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গড় দামের বাড়ি কেনার সক্ষমতা ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে বাড়ির দাম ও ভাড়ার চাপ বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও আবাসন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। পিউ-এর গবেষণার মূল বার্তা হলো, দারিদ্র্য কমাতে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন ব্যয় কমানো এবং পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মেরিল্যান্ডের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ বাড়ানো, জমি ব্যবহারের বিধিনিষেধ পর্যালোচনা এবং আবাসন সরবরাহের ঘাটতি কমানো হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। ফলে মেরিল্যান্ডের জন্য আবাসন সংকট এখন শুধু রিয়েল এস্টেট বা ভাড়ার বাজারের সমস্যা নয়; এটি দারিদ্র্য, পারিবারিক ব্যয় এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিলান শান আশারের (২২) সন্ধান চেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোর আড়াইটার দিকে কলেজ পার্কে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কিং গ্যারেজে তাঁকে শেষবার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যে তাঁর সন্ধান মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর দুইটার দিকে দিলান তাঁর বাসা থেকে বের হন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর টেরাপিন ট্রেইল গ্যারেজের ক্যামেরায় তাঁকে দেখা যায়। এরপর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি। দিলানের পরিবার তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানায়। প্রথমে প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, তাঁকে সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর দেখা গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ ২ অক্টোবরের নতুন তথ্য পায়। সর্বশেষ দেখার সময় হিসেবে এখন ওই ফুটেজের তথ্যই ব্যবহার করছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। শেষবার দেখা যাওয়ার সময় দিলানের পরনে ছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো হুডি, ধূসর প্যান্ট ও সাদা জুতা। পুলিশের দেওয়া বর্ণনায় তাঁর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৮৫ পাউন্ড। পুলিশ তাঁকে গুরুতর উদ্বেগজনক নিখোঁজ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। দিলানের মা বিনিতা আশার ছেলের খোঁজে সবার সহায়তা চেয়েছেন। ছেলের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি ফিরলে তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না - পরিবার শুধু তাঁকে নিরাপদে ফিরে পেতে চায়। দিলানকে দেখে থাকলে বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে ৩০১-৪০৫-৩৫৫৫ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। সূত্র: মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি পুলিশের তথ্য।
একাডেমিক সাফল্য, গবেষণা, নেতৃত্ব ও জনসেবায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আনুম জেহরাকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের ২০২৬ সালের ‘ফাউন্ডার্স উইক স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত করা হয়েছে। চতুর্থ বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থী আনুম আগামী মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিন থেকে স্নাতক হবেন। মাত্র তিন বছরের মেডিকেল শিক্ষাজীবনেই বিশ্ববিদ্যালয় ও এর বাইরের অসংখ্য মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছেন আনুম। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, নেতৃত্ব, মেন্টরশিপ, স্বাস্থ্যসেবা ও কমিউনিটি সার্ভিসে সক্রিয় ভূমিকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তিনি পরিচিতি পান। সম্মানটি পাওয়ার পর শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিনন্দন বার্তা পেয়েছেন তিনি। আনুম পাকিস্তান থেকে আসা একজন অভিবাসী এবং তার পরিবারের প্রথম প্রজন্মের হাইস্কুল ও কলেজ গ্র্যাজুয়েট। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড বাল্টিমোর কাউন্টি থেকে জীববিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনে শিশুদের ডায়াবেটিস নিয়ে দুই বছর রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনে ভর্তি হন। গবেষণাক্ষেত্রেও আনুমের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০টির বেশি গবেষ ণা নিবন্ধ, বিশ্লেষণ ও অ্যাবস্ট্র্যাক্টের সহলেখক। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্রে তিনি প্রধান লেখক ছিলেন। ২০২৫ সালের আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির ‘টপ টেন আর্টিকেলস’ তালিকায় তার দুটি গবেষণাপত্রও স্থান পায়। গবেষণায় অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের ‘সার্টিফিকেট অব আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ পেয়েছেন। পাশাপাশি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি প্রতিযোগিতামূলক সামার রিসার্চ ফেলোশিপ অর্জন করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মেডিকেল স্টুডেন্ট রিসার্চ ডেতে মৌখিক গবেষণা উপস্থাপনায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একই আয়োজনের শিক্ষার্থী চেয়ার হিসেবেও নির্বাচিত হন। শিক্ষার্থীদের জন্য নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আনুম। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনে কার্ডিওলজি ইন্টারেস্ট গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের মেন্টরশিপ, গবেষণায় অংশগ্রহণ ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার সুযোগ বাড়াতে কাজ করে। একই সংগঠনের অধীনে নারীদের কার্ডিওলজি ক্ষেত্রে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি বিশেষ শাখাও চালু করেন তিনি। রেড ক্রস ইন্টারেস্ট গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও রক্তদান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন আনুম। তার মানবিক কাজের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ‘কাইন্ডকিন’। এই শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের পরিবারের সদস্য ও কেয়ারগিভারদের দৈনন্দিন কিছু কাজের চাপ কমাতে সহায়তা করা হয়। কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে পার্কিং মিটারের সময় দেখা, এমন ছোট ছোট কাজেও সহযোগিতা করে উদ্যোগটি। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটেও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন আনুম। সেখানে অপরিণত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক স্পর্শ ও সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবার, কেয়ারগিভার ও নার্সদেরও কিছুটা সহায়তা করেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে আসার পেছনে আনুমের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিতে হৃদ্রোগের উচ্চঝুঁকি এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ল্যাব রিপোর্ট ও ডাক্তারের নোট বুঝতে গিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিজে পড়াশোনা করতেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহই তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষ করে কার্ডিওলজির দিকে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্যসেবায় সুযোগের বৈষম্য কমানো এবং কমিউনিটির মধ্যে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করেছেন আনুম। বাল্টিমোরের একটি ফ্রি ক্লিনিকে চিকিৎসকদের সহায়তা ও রোগীদের কাউন্সেলিং করার পাশাপাশি মেরিল্যান্ডের ফিঙ্কসবার্গে একটি মন্দিরে বিনামূল্যে কমিউনিটি হেলথ এডুকেশন দিয়েছেন তিনি। এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের ২০২৭ সালের ক্লাসের শীর্ষ ১৫ শতাংশ কমিউনিটি সার্ভিসে অবদান রাখা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তার নাম রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও আনুমের মেন্টর কাশিফ মুনির বলেন, একাডেমিক দক্ষতা, মেন্টরশিপ, নেতৃত্ব, মানবিকতা, সমতা ও সহমর্মিতার বিরল সমন্বয় রয়েছে আনুমের মধ্যে। তার মতে, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড যে ধরনের মূল্যবোধসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চায়, আনুম তারই প্রতিফলন। স্কুল অব মেডিসিনের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক ও সহযোগী ডিন কেরি এ. থমও আনুমের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী হিসেবে সুযোগের পথে থাকা বিভিন্ন বাধার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে আনুম স্বাস্থ্যসমতা, মেন্টরশিপ ও কমিউনিটি আউটরিচের মাধ্যমে বাস্তব কাজে রূপ দিয়েছেন। প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে এই সম্মানের জন্য নির্বাচিত হওয়াকে নিজের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন আনুম। তিনি এই স্বীকৃতির জন্য পরিবার, বিশেষ করে তার মায়ের পাশাপাশি বন্ধু, মেন্টর, সহকর্মী ও রোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো কঠিন ও একই সঙ্গে rewarding ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে সহপাঠীদের নিজেদের সাপোর্ট নেটওয়ার্কের ওপর ভরসা রাখতে এবং যেসব বিষয় তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেগুলো নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন আনুম। মেধা, গবেষণা ও মানবসেবাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে তার এই অর্জন ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ২০২৬ সালের ফাউন্ডার্স উইক উদযাপনে বিশেষভাবে স্বীকৃতি পেল।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা।নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজলসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সৌজন্যপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। সংশ্লিষ্টদের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎটি ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। মোহাম্মদ কাজল মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। মেরিল্যান্ডে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামকরণের উদ্যোগের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে তাঁর প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে। এই দলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন। ফলে নিউইয়র্কে মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই সাক্ষাৎটি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময় অনুষ্ঠিত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কর্মসূচি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে ২০২১ সালে সরিয়ে নেওয়া ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামের সম্মানসূচক সড়ক নামফলক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করা হবে। ২০২১ সালের ২০ জুন বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ লেখা একটি সম্মানসূচক সড়ক নামফলক উন্মোচন করা হয়েছিল। ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কয়েক শ বাংলাদেশি-আমেরিকান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ড স্টেট ডেলিগেট রবিন টি. লুইস নামফলকটি উন্মোচন করেন। স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এতে অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ ও মোহাম্মদ কাজলকে ধন্যবাদ জানান। তবে নামফলক উন্মোচনের কয়েক মাসের মধ্যেই এর নামকরণ নিয়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে নামটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আপত্তিকারীদের বক্তব্য ছিল, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের একজন সামরিক শাসক ছিলেন এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া নিয়ে গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ সম্মানসূচক নামফলকটি সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে, মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতারা নামফলক অপসারণের উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে নামটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নামফলক অপসারণের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের প্রত্যেকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সমসাময়িক প্রতিবেদনে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানানো এবং নামফলক সরানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নতুন করে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাজা মোহাম্মদ কাজল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান তারা। অর্থাৎ নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপির। তবে সড়কটির সম্মানসূচক নাম পুনরায় স্থাপন করা হবে কি না, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য আইন, নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের ওপর। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার এককভাবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে একটি পাওয়ার লাইন বা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ১০৫ মিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে প্রকল্পটির ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান 'আন্ডার আর্মার' হঠাৎ করে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় পুরো কাজটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে 'ম্যারিল্যান্ড অফিস অব পিপলস কাউন্সেল' (ওপিসি) নামের একটি ভোক্তা অধিকার রক্ষাকারী সংস্থা অভিযোগ তুলেছে যে, মাঝপথে আটকে যাওয়া এই বিপুল ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। দ্য বাল্টিমোর সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপিসি দাবি করেছে যে স্থানীয় স্তরের ইউটিলিটি বা পরিষেবা প্রকল্পগুলোতে আঞ্চলিক পর্যায়ের বড় প্রকল্পগুলোর মতো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। আইনি এই ফাঁকফোকর বন্ধ করে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিপরীতে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা 'বাল্টিমোর গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক' (বিজিই) কোম্পানি নিজেদের সাফাই গেয়েছে। তাদের দাবি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চ শ্রম ব্যয়, সাপ্লাই চেইনের সমস্যা এবং ডেভেলপারের করা নকশায় বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণেই প্রকল্পের খরচ এতটা বেড়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ গ্রিডের উন্নয়ন এবং একই সাথে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি পরিচিত সংকট। পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো যদি কোনো প্রকল্পে তাদের অতিরিক্ত খরচের টাকা সহজেই গ্রাহকদের বিলের মাধ্যমে আদায় করে নেয়, তবে দৈনন্দিন খরচের চাপে থাকা পরিবারগুলো আরও বেশি বিপাকে পড়বে। এছাড়া, এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোনোর মতো বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোতে জনসমর্থন কমে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের বদলে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদেরই আর্থিক ঝুঁকি বহনের তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে রাইডশেয়ার গাড়ির এক অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবদুলায়ে দিয়া নামের এক অবৈধ অভিবাসী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির নাগরিক এই চালকের বিরুদ্ধে পূর্বেও নিউইয়র্কে যৌন নিপীড়নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ইতিহাস রয়েছে। মেরিল্যান্ডের ল্যানহ্যামের বাসিন্দা এই চালকের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির ধর্ষণ, অপহরণ, দ্বিতীয় ডিগ্রির শারীরিক নির্যাতন এবং তৃতীয় ডিগ্রির যৌন অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার মন্টগোমারি কাউন্টির একটি হাসপাতালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, 'এমপাওয়ার' নামের একটি রাইডশেয়ারের গাড়িতে ওঠার পর চালক তাকে সিলভার স্প্রিং এলাকার একটি নির্জন পার্কিং লটে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। পরে রাইডশেয়ার অ্যাপ থেকে পাওয়া ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে চালক আবদুলায়ে দিয়াকে শনাক্ত করে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিএইচএসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আবদুলায়ে দিয়া ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের সময় তিনি মুক্তি পান। এরপর গত বছরের ১০ জুন নিউইয়র্ক সিটিতে ১৭ বছরের কম বয়সী এক শিশুকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন ও আঘাতের অভিযোগে তিনি একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। এদিকে অভিযুক্তের এমন অপরাধের ইতিহাস থাকার পরও কীভাবে তিনি রাইডশেয়ারের গাড়ি চালানোর অনুমতি পেলেন, তা নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর জবাবে এমপাওয়ার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, উবার ও লিফটের মতো তারাও চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড, সেক্স অফেন্ডার তালিকা ও অপরাধের রেকর্ড আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করে থাকে। গত ১৬ জুলাই দিয়ার যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের সময় তার রেকর্ডে কোনো ধরনের নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলে নিশ্চিত করেছে।
মেরিল্যান্ডের ফ্রেডেরিক শহরের টাসকার্স চান্স এলাকায় প্রায় ৪০ ঘণ্টার আইসিই অভিযান ঘিরে বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ফেডারেল এজেন্টদের সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। সেপ্টেম্বরের ৩ ও ৪ তারিখে চলা অভিযানে আইসিই এজেন্টদের গাড়ি ফুটপাথে তুলে দেওয়া এবং ব্যাটন ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযানের শেষে কাউকে গ্রেপ্তার না করেই আইসিই এলাকা ছেড়ে যায়। আইসিই এজেন্টরা ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ফ্রেডেরিকের টাসকার্স চান্স এলাকায় যায়। সংস্থাটির দাবি, একটি গাড়ি থামানোর সময় পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল তারা। এরপর এজেন্টরা প্রায় ৪০ ঘণ্টা ওই এলাকায় অবস্থান করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং অনেকে বাড়ি থেকে বের হওয়া বা কাজে যাওয়াও এড়িয়ে চলেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আইসিইর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও কমিউনিটি পর্যবেক্ষকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক ডজন মানুষ একটি বাড়ির সামনে হাত ধরে মানববন্ধন তৈরি করে এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিক্ষোভকারীরা সহিংস ছিলেন না। হ্যাগারস্টাউন র্যাপিড রেসপন্সের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, আইসিইর গাড়ি ফুটপাথে উঠে বিক্ষোভকারী ও পর্যবেক্ষকদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে এজেন্টদের কয়েকজনকে ব্যাটন ব্যবহার করে লোকজনকে সরিয়ে দিতেও দেখা যায়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন আহত হন। ফ্রেডেরিক সিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট সিজার দিয়াজ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কেটি ন্যাশ ঘটনাস্থলে ছিলেন। ন্যাশকে একটি আইসিই গাড়ির কাছ থেকে সরে যেতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনার বিষয়ে সিজার দিয়াজ ও কেটি ন্যাশ দুজনই বিক্ষোভকারীদের আচরণকে শান্তিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। মেরিল্যান্ডের ডেলিগেট ক্রিস ফেয়ারও প্রকাশিত ভিডিও দেখে আইসিই এজেন্টদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, অভিযানে কারও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। এদিকে ফ্রেডেরিক পুলিশের প্রধান কেভিন মেয়ার জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ আইসিই এজেন্টদের কাছে ওই বাড়িতে প্রবেশের জন্য কোনো ওয়ারেন্ট আছে কি না জানতে চেয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেডারেল এজেন্টরা এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি নিয়ে ওয়ারেন্ট ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী সাধারণভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বাড়িতে অযৌক্তিক তল্লাশি ও প্রবেশ থেকে সুরক্ষা দেয়। তবে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে ফেডারেল ওয়ারেন্ট, প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট, বাড়ির মালিকের সম্মতি এবং জরুরি পরিস্থিতির মতো বিষয় অনুযায়ী আইনি অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। ফলে টাসকার্স চান্সের নির্দিষ্ট বাড়িতে আইসিইর প্রবেশের আইনগত ভিত্তি কী ছিল, সেটি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘটনার পর মেরিল্যান্ডের একাধিক নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ফ্রেডেরিকের স্থানীয় কর্মকর্তারা আইসিইর ব্যবহৃত শক্তির বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। মেরিল্যান্ড অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আইসিই ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রায় দুই দিন ধরে চলা এই অভিযানের পরও লক্ষ্য করা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, আইসিই কাউকে গ্রেপ্তার না করেই এলাকা ছেড়ে যায়। ফলে অভিযানের উদ্দেশ্য, বাড়িতে প্রবেশের আইনগত ভিত্তি এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত শক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখন তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
মেরিল্যান্ডে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বসছে রাজ্যের সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা। হারফোর্ড কাউন্টির অ্যাবারডিনে রিপকেন স্টেডিয়ামের পার্কিং লটে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত অ্যাভেনা মেরিল্যান্ড ইতালিয়ান ফেস্টিভ্যালে ২০ হাজারের বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। ১৫টিরও বেশি অঙ্গরাজ্য থেকে দর্শনার্থীরা এই উৎসবে আসবেন বলেও জানানো হয়েছে। ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে খাঁটি ইতালীয় খাবার, সরাসরি সংগীত পরিবেশনা, কার্নিভ্যাল রাইড ও বিভিন্ন খেলা। পাশাপাশি থাকছে কারুশিল্পের পণ্য কেনাকাটা, রান্নার প্রদর্শনী, ওয়াইন টেস্টিং, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী এবং আতশবাজি। অ্যাবারডিনে এবার দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। শহরের মেয়র প্যাট্রিক ম্যাকগ্র্যাডি বড় এই আয়োজনকে স্থানীয় ব্যবসাগুলোর জন্য ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, অ্যাবারডিনের ভৌগোলিক অবস্থান দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হওয়ায় মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়্যার এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে মানুষ সহজেই এখানে আসতে পারেন। মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসাগুলোও প্রস্তুতি নিচ্ছে। আয়োজকদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। অ্যাবারডিনের একটি ট্রপিক্যাল স্মুদি ক্যাফের স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এরিক মেটজ জানিয়েছেন, বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে তারা প্রস্তুত। মেলায় আসা মানুষদের জন্য নিজেদের পার্কিং সুবিধাও ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বেল এয়ারের ব্রে অ্যান্ড এম বুটিকের মালিক অ্যাশলি ওউয়েন্সও এবার মেলায় বিক্রেতা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি এবার আগের চেয়ে বড় পরিসরে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর দোকান থেকে মেলার জন্য বিশেষ কিছু ইতালীয় পণ্যও আনা হবে, যেগুলো সাধারণ সময়ে দোকানে পাওয়া যায় না। গতবার এসব বিশেষ পণ্য পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় এবার অতিরিক্ত পণ্য মজুত করা হচ্ছে। শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় মেলার কার্যক্রম শুরু হবে এবং চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এক দিনের সাধারণ প্রবেশ টিকিটের মূল্য ১২ ডলার। তবে ১২ বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা একজন প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে। অনলাইনে অথবা মেলাস্থলে সরাসরি টিকিট কেনা যাবে। এই আয়োজনের সঙ্গে দাতব্য কার্যক্রমও যুক্ত রয়েছে। মেলা থেকে পাওয়া নিট অর্থ সোসাইটি অব ইতালিয়ান আমেরিকান বিজনেসমেনের সহায়তায় পরিচালিত আঞ্চলিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয় করা হবে। আয়োজকদের সংগঠনটি মেরিল্যান্ডে ইতালীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমে সহায়তা করার সঙ্গে যুক্ত। মেরিল্যান্ডের পর্যটন বিভাগের তথ্যেও ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যাবারডিনে এই ইতালীয় মেলার আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকেরা বড় দর্শকসমাগমের প্রত্যাশা করছেন এবং তিন দিনের আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা ও বিক্রেতাদের মধ্যেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে মায়ের ওপর হামলা ঠেকাতে ছুরি হাতে এগিয়ে যায় ১২ বছরের এক কিশোর। প্রিন্স জর্জস কাউন্টির টেম্পল হিলসে শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মায়ের প্রেমিক তাকে গলা টিপে ধরার পর কিশোরটি রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে হামলাকারীকে ছুরিকাঘাত করে। কিশোরটির নাম জেভিয়ার লেদারস। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ মায়ের চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখে, তার মায়ের প্রেমিক তাকে আক্রমণ করছেন। মাকে বাঁচাতে জেভিয়ার রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে ফিরে আসে এবং ওই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে। এতে হামলাকারী সামান্য আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির নাম ৪২ বছর বয়সী রনি ম্যাককেইন। তাকে গ্রেপ্তার করে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। চিকিৎসার পর তাকে আবার পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনার পর জেভিয়ার জানান, ওই মুহূর্তে তার একটাই চিন্তা ছিল, মাকে বাঁচানো। তিনি বলেন, সে সেখানে না থাকলে কী ঘটত, তা সে জানে না। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা জেভিয়ারের সাহসের প্রশংসা করেন। কিশোরটি জানায়, পুলিশ তাকে বলেছে যে সে ভালো কাজ করেছে। তবে একই সঙ্গে সে বলেছে, এত অল্প বয়সে তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়াটা উচিত ছিল না। ঘটনাটি এখন তদন্ত করছে প্রিন্স জর্জস কাউন্টি পুলিশ। মায়ের ওপর হামলার পরিস্থিতি এবং ছুরিকাঘাতের পুরো ঘটনাক্রম নিয়েও তদন্ত চলছে।
মেরিল্যান্ডের আই-২৭০ মহাসড়কে শনিবারের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামিমা বেগম ও তার ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবাহ জাহিন। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা ভার্জিনিয়ার বার্ক ও আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আগামীকাল সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জোহরের নামাজের পর গেইথার্সবার্গের ইসলামিক সেন্টার অব মেরিল্যান্ডে মা ও মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে ফ্রেডেরিকের আল-ফিরদাউস মেমোরিয়াল গার্ডেনসে। ২৯ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটের দিকে বেথেসডায় ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের দক্ষিণে আই-২৭০-এর দক্ষিণমুখী লেনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একটি ফোর্ড মুস্তাং ভুল পথে উত্তরমুখী হয়ে দক্ষিণমুখী লেনে ঢুকে পড়ে। পরে সেটি একটি টয়োটা ক্যামরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শামিমা বেগম ও আরিবাহ জাহিন ওই টয়োটা ক্যামরির যাত্রী ছিলেন। গাড়িটিতে আরও ছিলেন ৬২ বছর বয়সী ওই পরিবারের কর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, এবং ৮ বছর বয়সী তাদের ছোট মেয়ে। দুর্ঘটনার পর তাদের দুজনকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে ফোর্ড মুস্তাংয়ের চালক হিসেবে ৩২ বছর বয়সী জার্মানটাউনের বাসিন্দা হোসে কাবায়েরো নোলাসকোকে শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা ব্যাহত হওয়া দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নোলাসকোর বিরুদ্ধে দুইটি গ্রস নেগলিজেন্ট ম্যানস্লটার, অ্যালকোহলের প্রভাবে মোটরযান চালিয়ে মৃত্যুর অভিযোগে দুইটি মামলা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে এমন আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কোর্ট কমিশনারের সামনে হাজিরার অপেক্ষায় রয়েছেন। মা ও মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হওয়ায় তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য কমিউনিটির সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও তাঁর বড় মেয়ে নিহত হয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বেথেসডায় ইন্টারস্টেট ২৭০ (আই-২৭০) হাইওয়েতে এই ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্যমতে, নিহতরা হলেন মুসাম্মাত শামীমা বেগম (৪৬) এবং তাঁর মেয়ে আরিবা জাহিন (২৩)। তাঁরা ভার্জিনিয়ার বার্ক এবং আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় তাঁদের টয়োটা ক্যামরি গাড়ির চালকের আসনে থাকা শামীমা বেগমের স্বামী ফারুক (৬২) এবং তাঁদের আট বছর বয়সী ছোট মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় ভার্জিনিয়া কমিউনিটি জানিয়েছে, আহত বাবা ও মেয়ের অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের ঠিক দক্ষিণে হাইওয়ের দক্ষিণমুখী অংশে একটি ফোর্ড মুস্তাং গাড়ি ভুল পথে (উত্তর দিকে) তীব্র বেগে ছুটছিল। একপর্যায়ে সেটি বিপরীত দিক থেকে আসা বাংলাদেশি ওই পরিবারের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমা ও আরিবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক তদন্তের জন্য হাইওয়েটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ঘাতক ফোর্ড মুস্তাং গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। অভিযুক্ত ওই চালককে শনাক্ত করা হয়েছে, যার নাম জোসে ক্যাবালেরো নোলাস্কো (৩২)। মন্টগোমেরি কাউন্টির জার্মেনটাউনের এই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে চরম অবহেলাজনিত জোড়া নরহত্যা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে রকভিলের মন্টগোমেরি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রাখা হয়েছে। এদিকে, মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে থাকা ফারুক ও তাঁর ছোট মেয়ের দ্রুত আরোগ্য কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছে শোকাচ্ছন্ন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি।
২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে স্কুল বাসে আগুন লাগার পর চালক রেনিটা স্মিথ দ্রুত ২০ শিশুকে বাস থেকে নামিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেন। কিন্তু সবার বের হওয়া নিশ্চিত করতে আগুনে জ্বলতে থাকা বাসে তিনি আবারও ঢুকে পড়েন। ঘটনায় কোনো শিশুই আহত হয়নি। সেদিন বিকেলে প্রিন্স জর্জেস কাউন্টির স্কুল বাসে গ্লেনার্ডেন উডস এলিমেন্টারি স্কুলের ২০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাড়ির পথে ছিলেন স্মিথ। বাসের ড্যাশবোর্ডে ব্রেকের সতর্ক সংকেত দেখার পর তিনি বাস থামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই পোড়া গন্ধ পান এবং রিয়ারভিউ মিররে আগুনের শিখা দেখতে পান। সময় নষ্ট না করে সিটবেল্ট খুলে তিনি একে একে সব শিশুকে বাস থেকে বের করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। আগুন তখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল এবং কালো ধোঁয়ায় পুরো বাস ঢেকে যাচ্ছিল। শিশুরা নিরাপদে বেরিয়ে গেলেও রেনিটা নিশ্চিত ছিলেন না যে সবাই বাস থেকে বের হয়েছে কি না। কোনো বাস অ্যাটেনডেন্ট না থাকায় তিনি আবারও জ্বলন্ত বাসের ভেতরে ঢুকে প্রতিটি সিট পরীক্ষা করেন। শেষবার বাস থেকে বের হওয়ার সময় আগুন আরও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগুনটি বাসের পেছনের একটি চাকার কাছ থেকে শুরু হয়ে দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুনের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীর কেউ আহত হয়নি। দুই সন্তানের মা রেনিটা পরে বলেন, বাসে থাকা শিশুরা তার কাছে নিজের সন্তানের মতো। তাদের বাবা-মায়ের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব নিজের সন্তানের মতো করেই দেখেন তিনি। তার সাহসিকতার স্বীকৃতিও আসে দ্রুত। প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস তাকে সম্মাননা দেয়। পরে তিনি ‘দ্য এলেন ডেজেনারেস শো’তেও অংশ নেন, যেখানে তার সাহসিকতার জন্য তাকে ২০ হাজার ডলারের একটি চেক দেওয়া হয়। রেনিটা অবশ্য নিজের কাজকে আলাদা কোনো বীরত্ব হিসেবে দেখেননি। তার কাছে সেদিনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ২০ শিশুকে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিশুকে জন্ম থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত লালন-পালন করতে এখন গড়ে ৩ লাখ ৩ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যবিমা, পোশাক, পরিবহন ও শিশু পরিচর্যার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সন্তান প্রতিপালনের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। লেন্ডিংট্রির গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটি শিশুর পেছনে বছরে গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৫৭ ডলার। তবে শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে খরচ আরও বেশি, কারণ এ সময় ডে কেয়ার ও পরিচর্যা ব্যয়ই সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্য হাওয়াই। সেখানে ১৮ বছরে একটি শিশুর পেছনে আনুমানিক ৪ লাখ ১২ হাজার ৬৬১ ডলার খরচ হয়। এর পরেই রয়েছে আলাস্কা ও মেরিল্যান্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মিসিসিপি, আলাবামা ও সাউথ ডাকোটা। ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া অঞ্চলেও শিশু লালন-পালনের ব্যয় দেশের অনেক অংশের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে আবাসন ও শিশু পরিচর্যার খরচ এই অঞ্চলের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। গবেষকরা হিসাব করতে গিয়ে বাড়িভাড়া, খাবার, শিশুর পোশাক, পরিবহন, স্বাস্থ্যবিমা, ডে কেয়ার এবং প্রযোজ্য কর-সুবিধা বিবেচনায় নিয়েছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সন্তান লালন-পালনের মোট ব্যয় এখনও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। শিশু পরিচর্যার ব্যয় নিয়ে আলাদা এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি নবজাতক ও চার বছর বয়সী একটি শিশুর বার্ষিক পরিচর্যা ব্যয় গড়ে ২৮ হাজার ডলারের বেশি। এই ব্যয়কে আয়ের ৭ শতাংশের মধ্যে রাখতে হলে একটি পরিবারের বছরে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন, যা অধিকাংশ পরিবারের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়, ডে কেয়ারের মূল্য এবং আবাসন সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালন অনেক পরিবারের জন্য আগের চেয়ে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জগন্নাথ রথযাত্রা উপলক্ষে ধর্মীয় উৎসব, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠেছে হিন্দু মন্দিরগুলো। মেরিল্যান্ড, টেক্সাস, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহজুড়ে রথযাত্রা, পূজা, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ভক্ত ও দর্শনার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জগন্নাথ রথযাত্রা ভগবান জগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে রথে করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে নিয়ে যাওয়ার ঐতিহ্যকে স্মরণ করে উদযাপিত হয়। শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব ভারতের ওডিশার পুরী থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশে এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন)-এর উদ্যোগে ১৫ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ‘গোল্ডেন জুবিলি মহোৎসব’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে রথযাত্রা, মহাঅভিষেক, কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতশবাজি, নৌকা উৎসব এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ। অন্যদিকে, টেক্সাসের হিউস্টনে বিএপিএস শ্রী স্বামিনারায়ণ মন্দিরে শনিবার রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা, ভজন, ধর্মীয় আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই দিনে হিউস্টনের ওড়িশা কালচার সেন্টারের উদ্যোগে ১৯তম বার্ষিক জগন্নাথ রথযাত্রাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা শিবির, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কীর্তন, রথ টানা এবং সবার জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী সম্প্রদায়কে একত্রিত করাই এসব আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিবছরের মতো এবারও হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে জগন্নাথ রথযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক উল্লেখযোগ্য উৎসবে পরিণত হয়েছে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় মেরিল্যান্ডজুড়ে বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে অঙ্গরাজ্যজুড়ে ‘কোড রেড’ বায়ুমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম মেরিল্যান্ডে ‘কোড পার্পল’ বা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বায়ুমানের পূর্বাভাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা। মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর জানান, ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণার প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের বেশির ভাগ সময় পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান বিরাজ করতে পারে। শুক্রবার অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় বায়ুমান ‘কোড রেড’ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে শনিবার থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। গভর্নর মুর বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি, তারা যেন ঘরের ভেতরে থাকেন এবং জানালা বন্ধ রাখেন। পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা স্বজনদের খোঁজ নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি। পরিবেশ কর্মকর্তারা জানান, ‘কোড রেড’ অবস্থায় বায়ুদূষণ শুধু শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তিদের নয়, সুস্থ মানুষের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান না করা এবং দীর্ঘ সময় বা ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম মেরিল্যান্ডে পূর্বাভাস দেওয়া ‘কোড পার্পল’ পরিস্থিতিতে বায়ুর মান আরও খারাপ থাকবে। এ অবস্থায় সবারই বাইরে কষ্টসাধ্য কাজ সীমিত রাখা উচিত। বিশেষ করে ফুসফুস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন হাঁপানি, সিওপিডি বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং যাদের পেশাগত কারণে বাইরে কাজ করতে হয়। বাইরে যেতে বাধ্য হলে সময় যতটা সম্ভব কম রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে ভালোভাবে ফিট করা এন৯৫ বা কেএন৯৫ মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে গরম আবহাওয়ায় এসব মাস্ক পরে শ্বাস নিতে কিছুটা কষ্ট হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বাসিন্দাদের জানালা ও দরজা বন্ধ রাখতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলে ‘রিসার্কুলেট’ মোড ব্যবহার করতে এবং সম্ভব হলে ঘরের ভেতরে এয়ার পিউরিফায়ার চালানোর পরামর্শ দিয়েছে মেরিল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ। একই সঙ্গে বাইরের ব্যায়াম, খেলাধুলা ও অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম বায়ুর মান স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে কাশি, শ্বাসকষ্ট, শোঁ শোঁ শব্দে শ্বাস নেওয়া, বুকে চাপ অনুভব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ গুরুতর হলে বা কমে না গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্বাস নিতে মারাত্মক সমস্যা বা তীব্র বুকে ব্যথা হলে জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এদিকে অঙ্গরাজ্যের সরকারি সংস্থাগুলোকে সম্ভব হলে বাইরের কার্যক্রম ঘরের ভেতরে স্থানান্তর করতে এবং বাইরে কর্মরত কর্মীদের সময় সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাইরে কর্মরত অ-জরুরি সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ ছুটির সুবিধাও রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বায়ুমানের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা হালনাগাদ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডেটিং সাইটে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ফেডারেল সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। দোষী সাব্যস্ত ওই নারীর সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত নারীর নাম জেনি সিয়ার্স। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এক ফেডারেল কর্মচারীর সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে সিয়ার্সের পরিচয় হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে থাকতে রাজি করান। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে। প্রসিকিউটরদের দাবি, সিয়ার্স ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি তার অর্থ ফাইজারের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। সেই বিশ্বাসে ভুক্তভোগী চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে ৪ লাখ ডলারের বেশি তার হাতে তুলে দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করেন সিয়ার্স। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি আলফা রোমিও গাড়ি কেনেন এবং এমজিএম-সহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ১ লাখ ডলারের বেশি জুয়া খেলেন। মামলার বিচার চলাকালে জুরিদের সামনে ব্যাংক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগীর অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী বিচার শেষে মাত্র ৭৫ মিনিটের আলোচনার পর মন্টগোমারি কাউন্টির জুরি বোর্ড সিয়ার্সকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা হলে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করবেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর কাউন্টিতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একাধিক গাড়ি এবং রাস্তার পাশের একটি আবাসিক ভবনে সজোরে ধাক্কা য়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বাসের যাত্রী ও ভবনের বাসিন্দাসহ অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মঙ্গলবার মেরিল্যান্ড ট্রানজিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (MTA) একটি যাত্রীবাহী বাস রজার্স ফোর্জ এলাকায় দ্রুত গতিতে চলার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাসটি প্রথমে সড়কে থাকা কয়েকটি গাড়িকে পিষে দিয়ে সরাসরি রাস্তার পাশের 'রজার্স ফোর্জ অ্যাপার্টমেন্টস' নামক একটি আবাসিক ভবনের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। উদ্ধারকারীদের সূত্রে জানা গেছে, আহত ৩৭ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ভবনটির একাংশ ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ভবনের সব বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বাসটির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল নাকি চালক অসুস্থ ছিলেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে আগুনে পুড়তে থাকা নিজের বাড়িতে ১০ বছর বয়সী সন্তানকে খুঁজতে আবারও ভেতরে প্রবেশ করে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। পরে জানা যায়, শিশুটি নিরাপদেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। এদিকে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের সময় ব্যবহৃত আতশবাজির অবশিষ্টাংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অফিস অব দ্য স্টেট ফায়ার মার্শাল জানিয়েছে, রোববার রাতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হলিউড শহরের একটি দ্বিতল বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি ফোন পেয়ে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির ভেতরে একটি শিশু আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানায়, আগুন লাগার পর শিশুটির বাবা তাকে খুঁজে বের করার জন্য আবারও বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দমকলকর্মীরা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, ১০ বছর বয়সী শিশুটি আগেই নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং সে শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে। তদন্তকারীরা নিহত ব্যক্তিকে বাড়ির মালিক এবং শিশুটির বাবা হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করবে মেরিল্যান্ড অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনার। আগুন লাগার কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানিয়েছে, ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া স্পার্কলার আতশবাজি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় পরিবারটি বাড়ির বাইরে মাটিতে ব্যবহারযোগ্য স্পার্কলার আতশবাজি ব্যবহার করেছিল। পরে সেগুলো বাড়ির পেছনের ঢাকা বারান্দায় রাখা একটি ময়লার পাত্রে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ফেলে দেওয়ার পরও আতশবাজিগুলোতে পর্যাপ্ত তাপ থেকে যেতে পারে। সেই তাপ ময়লার পাত্রে থাকা দাহ্য বস্তুতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সেখান থেকেই আগুন দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর ফায়ার কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, ব্যবহারের পর নিভে গেছে মনে হলেও আতশবাজি দীর্ঘ সময় তাপ ধরে রাখতে পারে। তাই ব্যবহৃত আতশবাজি বা স্পার্কলার ফেলে দেওয়ার আগে ভালোভাবে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর সেগুলো বাইরে আগুন-প্রতিরোধী পাত্রে কিছু সময় ঠান্ডা করে তারপর ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ভারপ্রাপ্ত স্টেট ফায়ার মার্শাল জেসন মাউব্রে এক বিবৃতিতে বলেন, "এই পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তদন্ত চললেও সবাইকে মনে রাখতে হবে, আতশবাজির প্রদর্শনী শেষ হলেও এর ঝুঁকি শেষ হয় না। ব্যবহারের পর সঠিকভাবে আতশবাজি নিষ্পত্তি করলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।"
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।