মেরিল্যান্ড

ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরেও উৎসবটি ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জগন্নাথ রথযাত্রার উৎসব, হিন্দু মন্দিরগুলোতে ভক্তদের ঢল

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জগন্নাথ রথযাত্রা উপলক্ষে ধর্মীয় উৎসব, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠেছে হিন্দু মন্দিরগুলো। মেরিল্যান্ড, টেক্সাস, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহজুড়ে রথযাত্রা, পূজা, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ভক্ত ও দর্শনার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন।    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জগন্নাথ রথযাত্রা ভগবান জগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে রথে করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে নিয়ে যাওয়ার ঐতিহ্যকে স্মরণ করে উদযাপিত হয়। শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব ভারতের ওডিশার পুরী থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশে এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।    মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন)-এর উদ্যোগে ১৫ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ‘গোল্ডেন জুবিলি মহোৎসব’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে রথযাত্রা, মহাঅভিষেক, কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতশবাজি, নৌকা উৎসব এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ।    অন্যদিকে, টেক্সাসের হিউস্টনে বিএপিএস শ্রী স্বামিনারায়ণ মন্দিরে শনিবার রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা, ভজন, ধর্মীয় আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই দিনে হিউস্টনের ওড়িশা কালচার সেন্টারের উদ্যোগে ১৯তম বার্ষিক জগন্নাথ রথযাত্রাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা শিবির, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কীর্তন, রথ টানা এবং সবার জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।    আয়োজকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী সম্প্রদায়কে একত্রিত করাই এসব আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিবছরের মতো এবারও হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে জগন্নাথ রথযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক উল্লেখযোগ্য উৎসবে পরিণত হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকার ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাপিটল। ছবি:সংগৃহীত
মেরিল্যান্ডে রেড অ্যালার্ট, ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় মেরিল্যান্ডজুড়ে বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে অঙ্গরাজ্যজুড়ে ‘কোড রেড’ বায়ুমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম মেরিল্যান্ডে ‘কোড পার্পল’ বা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বায়ুমানের পূর্বাভাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।   মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর জানান, ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণার প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের বেশির ভাগ সময় পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান বিরাজ করতে পারে। শুক্রবার অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় বায়ুমান ‘কোড রেড’ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে শনিবার থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।   গভর্নর মুর বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি, তারা যেন ঘরের ভেতরে থাকেন এবং জানালা বন্ধ রাখেন। পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা স্বজনদের খোঁজ নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।   পরিবেশ কর্মকর্তারা জানান, ‘কোড রেড’ অবস্থায় বায়ুদূষণ শুধু শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তিদের নয়, সুস্থ মানুষের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান না করা এবং দীর্ঘ সময় বা ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে পশ্চিম মেরিল্যান্ডে পূর্বাভাস দেওয়া ‘কোড পার্পল’ পরিস্থিতিতে বায়ুর মান আরও খারাপ থাকবে। এ অবস্থায় সবারই বাইরে কষ্টসাধ্য কাজ সীমিত রাখা উচিত। বিশেষ করে ফুসফুস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।   স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন হাঁপানি, সিওপিডি বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং যাদের পেশাগত কারণে বাইরে কাজ করতে হয়। বাইরে যেতে বাধ্য হলে সময় যতটা সম্ভব কম রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে ভালোভাবে ফিট করা এন৯৫ বা কেএন৯৫ মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে গরম আবহাওয়ায় এসব মাস্ক পরে শ্বাস নিতে কিছুটা কষ্ট হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।   বাসিন্দাদের জানালা ও দরজা বন্ধ রাখতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলে ‘রিসার্কুলেট’ মোড ব্যবহার করতে এবং সম্ভব হলে ঘরের ভেতরে এয়ার পিউরিফায়ার চালানোর পরামর্শ দিয়েছে মেরিল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ। একই সঙ্গে বাইরের ব্যায়াম, খেলাধুলা ও অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম বায়ুর মান স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।   কর্মকর্তারা আরও জানান, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে কাশি, শ্বাসকষ্ট, শোঁ শোঁ শব্দে শ্বাস নেওয়া, বুকে চাপ অনুভব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ গুরুতর হলে বা কমে না গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্বাস নিতে মারাত্মক সমস্যা বা তীব্র বুকে ব্যথা হলে জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।   এদিকে অঙ্গরাজ্যের সরকারি সংস্থাগুলোকে সম্ভব হলে বাইরের কার্যক্রম ঘরের ভেতরে স্থানান্তর করতে এবং বাইরে কর্মরত কর্মীদের সময় সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাইরে কর্মরত অ-জরুরি সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ ছুটির সুবিধাও রাখা হয়েছে।   কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বায়ুমানের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা হালনাগাদ করা হবে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রতারণার মামলায় দোষী সাব্যস্ত জেনি সিয়ার্স। ছবি: সংগৃহীত
ডেটিং সাইটে আলাপ, তারপর ৪ লাখ ডলার জালিয়াতি, ২৩ বছরের কারাদণ্ডের মুখে ৭২ বছরের বৃদ্ধা

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডেটিং সাইটে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ফেডারেল সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। দোষী সাব্যস্ত ওই নারীর সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত নারীর নাম জেনি সিয়ার্স। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এক ফেডারেল কর্মচারীর সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে সিয়ার্সের পরিচয় হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে থাকতে রাজি করান। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে।   প্রসিকিউটরদের দাবি, সিয়ার্স ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি তার অর্থ ফাইজারের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। সেই বিশ্বাসে ভুক্তভোগী চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে ৪ লাখ ডলারের বেশি তার হাতে তুলে দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করেন সিয়ার্স। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি আলফা রোমিও গাড়ি কেনেন এবং এমজিএম-সহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ১ লাখ ডলারের বেশি জুয়া খেলেন।   মামলার বিচার চলাকালে জুরিদের সামনে ব্যাংক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগীর অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী বিচার শেষে মাত্র ৭৫ মিনিটের আলোচনার পর মন্টগোমারি কাউন্টির জুরি বোর্ড সিয়ার্সকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।   আদালতের রায় অনুযায়ী, এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা হলে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করবেন।   মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি ও ভবনে ধাক্কা; বাসের যাত্রী ও ভবনের বাসিন্দাসহ অন্তত ৩৭ জন আহত | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভবনে ঢুকে পড়ল যাত্রীবাহী বাস, আহত ৩৭

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর কাউন্টিতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একাধিক গাড়ি এবং রাস্তার পাশের একটি আবাসিক ভবনে সজোরে ধাক্কা য়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বাসের যাত্রী ও ভবনের বাসিন্দাসহ অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মঙ্গলবার মেরিল্যান্ড ট্রানজিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (MTA) একটি যাত্রীবাহী বাস রজার্স ফোর্জ এলাকায় দ্রুত গতিতে চলার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাসটি প্রথমে সড়কে থাকা কয়েকটি গাড়িকে পিষে দিয়ে সরাসরি রাস্তার পাশের 'রজার্স ফোর্জ অ্যাপার্টমেন্টস' নামক একটি আবাসিক ভবনের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে।   দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। উদ্ধারকারীদের সূত্রে জানা গেছে, আহত ৩৭ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ভবনটির একাংশ ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ভবনের সব বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বাসটির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল নাকি চালক অসুস্থ ছিলেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তাবাস্সুম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
মেরিল্যান্ডের হলিউড শহরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আগুনে পুড়তে থাকা বাড়িতে ১০ বছরের সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে আগুনে পুড়তে থাকা নিজের বাড়িতে ১০ বছর বয়সী সন্তানকে খুঁজতে আবারও ভেতরে প্রবেশ করে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। পরে জানা যায়, শিশুটি নিরাপদেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। এদিকে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের সময় ব্যবহৃত আতশবাজির অবশিষ্টাংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।   মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অফিস অব দ্য স্টেট ফায়ার মার্শাল জানিয়েছে, রোববার রাতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হলিউড শহরের একটি দ্বিতল বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।   জরুরি ফোন পেয়ে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির ভেতরে একটি শিশু আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।   ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানায়, আগুন লাগার পর শিশুটির বাবা তাকে খুঁজে বের করার জন্য আবারও বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দমকলকর্মীরা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন।   পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, ১০ বছর বয়সী শিশুটি আগেই নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং সে শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে।   তদন্তকারীরা নিহত ব্যক্তিকে বাড়ির মালিক এবং শিশুটির বাবা হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করবে মেরিল্যান্ড অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনার।   আগুন লাগার কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানিয়েছে, ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া স্পার্কলার আতশবাজি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় পরিবারটি বাড়ির বাইরে মাটিতে ব্যবহারযোগ্য স্পার্কলার আতশবাজি ব্যবহার করেছিল। পরে সেগুলো বাড়ির পেছনের ঢাকা বারান্দায় রাখা একটি ময়লার পাত্রে ফেলে দেওয়া হয়।   তদন্তকারীদের ধারণা, ফেলে দেওয়ার পরও আতশবাজিগুলোতে পর্যাপ্ত তাপ থেকে যেতে পারে। সেই তাপ ময়লার পাত্রে থাকা দাহ্য বস্তুতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সেখান থেকেই আগুন দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনার পর ফায়ার কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, ব্যবহারের পর নিভে গেছে মনে হলেও আতশবাজি দীর্ঘ সময় তাপ ধরে রাখতে পারে। তাই ব্যবহৃত আতশবাজি বা স্পার্কলার ফেলে দেওয়ার আগে ভালোভাবে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর সেগুলো বাইরে আগুন-প্রতিরোধী পাত্রে কিছু সময় ঠান্ডা করে তারপর ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।   ভারপ্রাপ্ত স্টেট ফায়ার মার্শাল জেসন মাউব্রে এক বিবৃতিতে বলেন, "এই পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তদন্ত চললেও সবাইকে মনে রাখতে হবে, আতশবাজির প্রদর্শনী শেষ হলেও এর ঝুঁকি শেষ হয় না। ব্যবহারের পর সঠিকভাবে আতশবাজি নিষ্পত্তি করলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
বাল্টিমোরে পুলিশের ট্রাফিক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোপেড চালকের মৃত্যু | ছবি: সিবিএস নিউজ
আমেরিকায় ট্রাফিক পুলিশের তাড়া খেয়ে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা, মোপেড চালকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে পুলিশের একটি ট্রাফিক চেকপোস্ট বা সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক মোপেড চালকের মৃত্যু হয়েছে। বাল্টিমোর পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার ঠিক কিছু আগে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।   প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে বাল্টিমোরের ইউটা স্ট্রিটের ১০০ ব্লকে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা দুটি মোপেড বা ছোট মোটরসাইকেলকে থামার জন্য সংকেত দেন। ট্রাফিক পুলিশের সংকেত পেয়ে মোপেড চালকদের একজন ঘটনাস্থলেই থেমে যান। তবে অপর চালকটি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তীব্র গতিতে নিজের মোপেড চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।   পরবর্তীতে ফ্র্যাঙ্কলিন স্ট্রিটের ৬০০ ব্লকে পৌঁছালে দ্রুতগতির মোপেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি ইটের দেয়ালের সঙ্গে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতায় চালক মোপেড থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তরুণকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   বাল্টিমোর পুলিশের ক্র্যাশ টিম বা দুর্ঘটনাবিষয়ক বিশেষ তদন্ত দল ইতিমধ্যেই এই ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন এই দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছে। তথ্যদাতারা চাইলে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেও অপরাধ দমন শাখার হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য দিতে পারবেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী গালায় মূল বক্তব্য রাখছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন | ছবি: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রথম ‘ফাইট ব্যাক অ্যান্ড উইন’ শীর্ষ সম্মেলন ও গালা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতা ও কর্মীদের চাঙ্গা এবং প্রস্তুত করতেই মেরিল্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শনিবার আরুন্ডেল মিলসের ‘লাইভ! ক্যাসিনো’তে এই বর্ণাঢ্য সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।   দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট নেতারা লবিং ও অ্যাডভোকেসি, বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রচারণার নানা সংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধারাবাহিক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেন। এছাড়া সান্ধ্যকালীন একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেরও ব্যবস্থা করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং আগামী নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা।   ওয়াশিংটন ডিসির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবেই মূলত এই বিশেষ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর বলেন, এটি আমাদের জন্য কেবল প্রতিহত করার সুযোগ নয়, বরং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি অনন্য সুযোগ। একই সুর মিলিয়ে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, আমরা ইতিহাসকে নতুন করে লিখব না এবং আমরা কখনোই ঘড়ির কাঁটাকে পেছনে ঘুরাব না।   এই সম্মেলনটি মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক সরকারের বিগত দিনগুলোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনারও একটি বড় ক্ষেত্র ছিল। বাল্টিমোরের মেয়র ব্র্যান্ডন স্কট বলেন, আমরা আমাদের বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে আরও শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর এলাকা গড়ে তুলছি। গভর্নর ওয়েস মুর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মেরিল্যান্ডের ইতিহাসে শিশু সুরক্ষায় এবারই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষানবিস ও বাণিজ্য কর্মসূচিতেও ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে রাজ্যে শিক্ষক শূন্যতা ৬০ শতাংশ কমেছে।   গভর্নর মুর আরও মনে করিয়ে দেন যে, কি ব্রিজ ধসের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাল্টিমোর বন্দর পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট সরকার দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। দলের এই সাফল্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন মেরিল্যান্ডের শীর্ষ নেতারা। সম্মেলনে বাইডেন সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিভিন্ন আসনে জয়লাভের কথা উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের প্রশংসা করেন।   জো বাইডেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি সারাজীবন ডেমোক্র্যাটদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, আমরা অতীতেও অনেক অন্ধকার এবং কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছি। তবে আমেরিকান জনগণের একটি বড় গুণ হলো তারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং আমরাও এখন হাল ছাড়তে পারি না। এই দেশে কোনো পরাজয় মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই, আমি আপনাদের পাশে সবসময় আছি।

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এফ-১৬ ফাইটার জেট | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ভিআইপি নো-ফ্লাই জোনে ঢুকে পড়া বেসরকারি বিমানকে তাড়া করল যুদ্ধবিমান এফ-১৬

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ওপর জারি করা একটি অতি সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত আকাশসীমায় অনধিকার প্রবেশ করায় একটি সাধারণ বেসামরিক বা বেসরকারি বিমানকে মাঝআকাশে পথরোধ বা ইন্টারসেপ্ট করেছে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এফ-১৬ ফাইটার জেট। শনিবার (২০ জুন) দুপুরের দিকে মেরিল্যান্ডের হ্যাগার্সটাউন এলাকার আকাশে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা। উত্তর আমেরিকার আকাশসীমা প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত যৌথ সামরিক কমান্ড ‘নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড’ (নোর্যাড) সোমবার (২২ জুন) এক বিবৃতিতে জানায়, ওই বেসামরিক বিমানটি ওই অঞ্চলের জন্য সাময়িকভাবে জারি করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ভিআইপি নো-ফ্লাই জোন’ বা বিশেষ উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করেছিল।   মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সাধারণত দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কিংবা মার্কিন সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অতি সুরক্ষিত যাতায়াত ও অবস্থানের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরণের জরুরি নো-ফ্লাই জোন বা সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে। এ ছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানের সফর অথবা সুপার বোলের মতো জাতীয় পর্যায়ের কোনো মেগা ইভেন্ট বা বড় ধরণের অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই ধরণের আকাশপথের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ন্যাশনাল বিজনেস এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ওই বেসরকারি বিমানটি মেরিল্যান্ডের আকাশে প্রবেশ করে।   সামরিক কর্মকর্তারা আরও জানান, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আকাশে নিয়ম লঙ্ঘনকারী বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করার সাথে সাথেই বিমান বাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমানটি সেটির মুখোমুখি হয় এবং গতিপথ রোধ করে। এরপর যুদ্ধবিমানটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বেসামরিক বিমানটিকে কড়া নজরদারিতে রেখে আকাশপথ দিয়ে এসকর্ট করে নিয়ে যায় এবং নিকটবর্তী একটি নিরাপদ বিমানবন্দরে সেটিকে অক্ষত অবস্থায় অবতরণ করতে বাধ্য করে। এই সফল অভিযানের পর নোর্যাড তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈমানিকদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে, যেখানে তারা সমস্ত পাইলটদের যেকোনো ধরণের ফ্লাইট পরিচালনা বা উড্ডয়নের ঠিক পূর্বেই আকাশপথের কোনো বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করে সর্বদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।   সাধারণত এফএএ-এর নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরণের সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞাগুলো বা নো-ফ্লাই জোনের তথ্য পাইলটদের কাছে বিশেষ নোটিশ বা 'নোটামস' (NOTAMs)-এর মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আগে থেকেই পৌঁছে দেওয়া হয়। এই নিয়ম জারির পর সুনির্দিষ্ট ওই আকাশসীমায় কোনো অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরণের সাধারণ বিমান বা রিমোট চালিত ড্রোনের চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই জাতীয় স্পর্শকাতর সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট বৈমানিকদের সতর্কবার্তা বা বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে তাদের পাইলট লাইসেন্স সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বা উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চলে কোনো বেসামরিক বিমান ভুলবশত বা অননুমোদিতভাবে নো-ফ্লাই জোনে ঢুকে পড়লে সামরিক ফাইটার জেট পাঠিয়ে সেটির গতিপথ রোধ করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়, বরং এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি নিয়মিত অংশ। মাত্র গত মাসেই ওয়াশিংটন ডি.সি.-এর ওপর জারি করা এক সুরক্ষিত আকাশসীমায় অন্য একটি বেসামরিক বিমান ঢুকে পড়লে সেটিকেও একইভাবে তাড়া করেছিল এফ-১৬ ফাইটার জেট এবং অত্যন্ত নিরাপদে সেই এলাকা থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিল। চলতি জুনের শুরুতেই সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তারা কেবল নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সি অঞ্চলেই চলতি মাসে এ পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি অননুমোদিত বিমানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে।   নোর্যাডের পূর্ববর্তী রেকর্ড ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের গ্রীষ্মকালেও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বেডমিনস্টার শহরে অবস্থিত তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ব্যক্তিগত গলফ ক্লাবের ঠিক ওপরের আকাশসীমায় বেসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা এক লাফে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় ওই এলাকার আকাশপথের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অননুমোদিত বিমানের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিউ জার্সির স্টেট এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের বৈমানিকদের অসংখ্যবার জরুরি ভিত্তিতে ফাইটার জেট নিয়ে আকাশে ডগফাইট বা ইন্টারসেপ্ট পজিশনে যেতে হয়েছিল। তবে এবারের মেরিল্যান্ডের ঘটনায় বিমানটির পাইলটের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কিনা বা অসাবধানতাবশত এই ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে এফএএ তদন্ত শুরু করেছে।

তাবাস্সুম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটসহ তিন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বোওয়ি শহরের একটি আবাসিক এলাকার কাছে মাঝরাতে ছোট একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) এবং মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ‘পাইপার পিএ-২৮’ মডেলের একক ইঞ্জিনের ওই বিমানটিতে একজন পাইলট ও দুজন যাত্রী ছিলেন, যারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। শনিবার মধ্যরাতের দিকে বিমানটি হঠাৎ করে ওই আবাসিক এলাকার কাছাকাছি একটি জঙ্গলে আছড়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই পাইলটসহ আরোহী তিনজনের মৃত্যু হয়।   মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের মুখপাত্র এলেনা রুশো রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিমানটি নিউজার্সির ওশান সিটি থেকে উড্ডয়ন করে মেরিল্যান্ডের গেইথার্সবার্গের মন্টগোমারি কাউন্টি বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। মাঝপথে বোওয়ির বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকার খুব কাছাকাছি থাকা একটি জঙ্গলে বিমানটি হঠাৎ বিধ্বস্ত হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, বিমানটি সম্ভবত মন্টগোমারি কাউন্টির একটি স্থানীয় ফ্লাইট স্কুলের মালিকানাধীন ছিল এবং দুর্ঘটনার সময় এটি কোনো প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে অংশ নিচ্ছিল।   বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তবে রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা মূল ধ্বংসস্তূপের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয় এবং আরোহীদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ২০ মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত ওই শহরের একটি খেলার মাঠের কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার ছবি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা উদ্ঘাটনে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এবং এফএএ ইতিমধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মাথায় গুলি লাগা সেই পুলিশ কর্মকর্তা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন, সহকর্মীদের স্যালুট

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর কাউন্টিতে ডিউটিরত অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। দীর্ঘ ১০ দিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিবিড় চিকিৎসা শেষে বুধবার (১৭ জুন) রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই বীর কর্মকর্তাকে বিদায় জানাতে হাসপাতালের বাইরে সমবেত হন সহকর্মী পুলিশ সদস্য, বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা, যারা তাকে স্যালুট জানিয়ে এক আবেগঘন ও বীরোচিত সংবর্ধনা দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বাল্টিমোর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে এই খবরটি প্রকাশ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, বাল্টিমোর কাউন্টি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা পি. কাতালফামো গত ৭ জুন মেরিল্যান্ডের পাইকসভিল এলাকার মিলফোর্ড মিল গুইন ফলস ট্রেইলে একটি পাবলিক নোংরামির (অশালীন এক্সপোজার) অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বাল্টিমোরের ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারের 'আর অ্যাডামস কাউলি শক ট্রমা সেন্টারে' ভর্তি করা হয়েছিল।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ৩৮ বছর বয়সী শাকা কামারা নামের এক অপরাধী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি মাথায় গুলি করে। এরপর সে পার্কের এক সাধারণ নাগরিকের কাছ থেকে জোরপূর্বক বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তাদের গুলিতে কামারা আহত হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এই সংঘর্ষের সময় বন্দুকের আসল মালিকও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন, তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।   পুলিশ জানিয়েছে, মাথায় গুলি লাগার আকস্মিকতায় কর্মকর্তা কাতালফামো নিজের অস্ত্র থেকে কোনো গুলি ছুড়তে পারেননি। বর্তমানে হামলাকারী শাকা কামারাকে জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার চেষ্টা ও অস্ত্র ছিনতাইসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হবে।   আহত পুলিশ কর্মকর্তা কাতালফামো গত প্রায় দেড় বছর ধরে এই বিভাগে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। বাল্টিমোর কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "কর্মকর্তা কাতালফামো বর্তমানে সুস্থতার পথে রয়েছেন। এই মুহূর্তে আমরা সবার কাছে তার এবং তার পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ জানাচ্ছি। তাদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তার পরবর্তী চিকিৎসা বা শারীরিক অবস্থার আর কোনো তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হবে না।"

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর হামলায় ২ শিক্ষক আহত

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের হারফোর্ড কাউন্টিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (এলিমেন্টারি স্কুল) এক শিক্ষার্থীর হামলায় দুই শিক্ষক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্কুল ছুটি হওয়ার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বাল্টিমোরের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, হারফোর্ড কাউন্টির হাভরে ডি গ্রেস এলাকার 'রয়-উইলিয়ামস এলিমেন্টারি স্কুল'-এ এক শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষকের মধ্যে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডেপুটিরা (পুলিশ সদস্য) ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এই হামলায় আহত দুই শিক্ষকের আঘাত অবশ্য গুরুতর বা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   শেরিফ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সহায়তায় ওই শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে আটকে বা হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় অন্য কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। মারামারির ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকস্মিক এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মনে যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব বা ট্রমা তৈরি না হয়, সেজন্য বুধবার (১৭ জুন) স্কুলে অতিরিক্ত কাউন্সেলিং বা মানসিক পরামর্শ সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় প্রচণ্ড ঝড়-বাতাসে বাড়িঘর ধ্বংস ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অ্যানাপোলিস শহরে গত শুক্রবার আঘাত হানা এক শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের সময় বড় বড় গাছ উপড়ে বাড়িঘরের ওপর ভেঙে পড়ায় অন্তত দুটি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর থেকে হাজার হাজার মানুষ চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।   অ্যান আরুন্ডেল কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা দপ্তরের পরিচালক প্রীতি এমরিক জানান, ঝড়ের তীব্রতার কারণে এক পর্যায়ে প্রায় ২৩ থেকে ২৪ হাজার গ্রাহক পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। একই সাথে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় শহরের অন্তত ৪০টি প্রধান সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার সকাল থেকেই উদ্ধারকারী দল রাস্তাঘাট থেকে গাছের ডালপালা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিজিই’ (BGE) সংযোগ সচল করতে মাঠে নামে।   প্রীতি এমরিক আরও জানান, শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৩ হাজারে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বন্ধ থাকা সড়কের সংখ্যা ৫টিতে নেমে এসেছে। তাদের পাবলিক ওয়ার্কস ও পাবলিক সেফটি বিভাগ রাতভর অক্লান্ত পরিশ্রম করে বেশিরভাগ রাস্তা সচল করেছে। অ্যানাপোলিস এলাকা, কেপ সেন্ট ক্লেয়ার এবং ব্রডনেক অঞ্চলে ঝড়ের আঘাত সবচেয়ে তীব্র ছিল এবং পুরো ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে গেছে।   অ্যানাপোলিসের মেয়র জ্যারেড লিটম্যান বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি জানান, ঝড়ের কারণে কিছু সাবস্টেশন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে শহরবাসী ও ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্য সিটি কর্পোরেশন ও বিজিই যৌথভাবে কাজ করছে।   ঝড়-পরবর্তী তীব্র গরম এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ভুক্তভোগী নাগরিকদের স্বস্তি দিতে অ্যান আরুন্ডেল কাউন্টির ম্যাগোথি রিভার মিডল স্কুলে একটি অস্থায়ী আশ্রয় বা ‘রেস্পাইট সেন্টার’ (Respite Center) খোলা হয়েছে। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কাছাকাছি এই কেন্দ্রটি খোলার উদ্দেশ্য হলো, যাতে স্থানীয় মানুষ সেখানে এসে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন, শরীর ঠাণ্ডা করতে পারেন এবং তাদের জরুরি ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা মোবাইল ফোন চার্জ করে নিতে পারেন।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঝড়ের সময় মেঘের ঘূর্ণন দেখে মনে হচ্ছিল যেন একটি ছোটখাটো টর্নেডো আঘাত হেনেছে। অ্যানাপোলিসের সেভার্ন গ্রোভ রোডে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটির কাছাকাছি ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিরাপদ হলে বাসিন্দারা তাদের বাড়ির সামনের ভেঙে পড়া ডালপালা রাস্তার পাশে এনে রাখতে পারবেন, যা পাবলিক ওয়ার্কসের কর্মীরা সপ্তাহজুড়ে এসে সংগ্রহ করে নিয়ে যাবেন।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচনে আলোচনায় বাংলাদেশি-আমেরিকান রাদওয়ান চৌধুরী
মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচনে আলোচনায় বাংলাদেশি-আমেরিকান রাদওয়ান চৌধুরী

মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের অ্যাট-লার্জ আসনের নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ রাদওয়ান চৌধুরী ক্রমেই আলোচনায় আসছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে তিনি কাউন্টির সব বাসিন্দার প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।   মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল হলো কাউন্টির আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী সংস্থা। কাউন্টির বাজেট অনুমোদন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা, আবাসন, পরিবহন এবং বিভিন্ন স্থানীয় নীতিমালার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এই পরিষদ। অ্যাট-লার্জ সদস্যরা নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়, বরং পুরো কাউন্টির ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করেন।   প্রচারণার শুরু থেকেই রাদওয়ান চৌধুরী জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি জবাবদিহিতা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততাকে তার অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছেন। তার মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল মন্টগোমারি কাউন্টির চাহিদা পূরণে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় রাদওয়ান চৌধুরী তার প্রচারণাকে সমর্থন জানানো স্বেচ্ছাসেবক, কমিউনিটি নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সমর্থন শুধু রাজনৈতিক সমর্থন নয়, বরং মন্টগোমারি কাউন্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি যৌথ স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।   তিনি আরও বলেন, তার প্রচারণা কোনো একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং পুরো কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান।   রাদওয়ান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে তার কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা তাকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় পরিচিত একটি মুখে পরিণত করেছে। তার সমর্থকদের মতে, অভিবাসী পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম এবং বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।   ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে অবস্থিত মন্টগোমারি কাউন্টি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৈচিত্র্যময় জনপদ হিসেবে পরিচিত। এখানে দক্ষিণ এশীয়, আফ্রিকান, লাতিনো এবং অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে বহুসাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচন শুধু স্থানীয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয় নয়; বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই প্রেক্ষাপটে রাদওয়ান চৌধুরীর প্রচারণা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।   নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মন্টগোমারি কাউন্টির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান ও পরিকল্পনা ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে। এর মধ্যেই রাদওয়ান চৌধুরী তার প্রচারণাকে কমিউনিটি-কেন্দ্রিক ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

নীলুফা নিশাত জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে এবারের মেরিল্যান্ডের ‘ঈদ আনন্দমেলা ২০২৬’

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্ণাঢ্য ‘ঈদ আনন্দমেলা ২০২৬’। মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির ব্যবস্থাপনায় আগামী ১৩ জুন ২০২৬, শনিবার দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে BWI এয়ারপোর্টের কাছে অবস্থিত Clarion Hotel BWI Airport Arundel Mills-এর মিলনায়তনে।    ঠিকানা: 7253 Parkway Drive, Hanover, MD 21076   এবারের ঈদ আনন্দমেলাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। আয়োজকদের পক্ষে মোহাম্মদ কাজল বলেন, ঈদ উৎসব, বাংলা নববর্ষ এবং বাংলা সংস্কৃতিকে একসঙ্গে তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হচ্ছে।   অনুষ্ঠানে থাকছে নানা আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ঈদ উদযাপন, বাংলা নববর্ষের আমেজ, পান্তা-ইলিশ পরিবেশন, নৃত্য পরিবেশনা এবং লাইভ কনসার্ট। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগের জন্য এটি একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন তিনি।   অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিথি আনোয়ার। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন শাহনাজ বেলী, মাহিন সুজন, রাজীব, নোয়েল এবং শোয়েব থমাসসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।   অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে চ্যানেল আই, এমকে টিভি এবং আমেরিকা বাংলা।   আয়োজকরা মনে করছেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি, উৎসব ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।   অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে মোহাম্মদ কাজলের সঙ্গে। যোগাযোগ নম্বর: ৪৪৩-৩৩৩-৭২৪৬।

তাবাস্সুম মে ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেরিল্যান্ডে বিসিএ’র বর্ণাঢ্য ‘ইস্টার পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসব’

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি খ্রিষ্টানদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইস্টার পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসব ২০২৬’। বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন ইনকরপোরেটেড (বিসিএ)-এর উদ্যোগে গত ১২ এপ্রিল সিলভার স্প্রিং এলাকায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।   রসকো নিক্স এলিমেন্টারি স্কুল প্রাঙ্গণে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে প্রায় চার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির মিলনমেলায় সৃষ্টি হয় এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ। বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।   অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রেগ উইম্স এবং মন্টগোমারি কাউন্টির কর্মকর্তা আনিস আহমেদ। শোভাযাত্রা শেষে সংগঠনের সেক্রেটারি বিভাস রোজারিও সঞ্চালনায় শুরু হয় মূল পর্ব। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও প্রার্থনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।   বিসিএ’র সভাপতি বিপুল এলিট গনছালভেস ইস্টার ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে যিশু খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে মেরিল্যান্ডের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন।   অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী খাবার। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ঘর থেকে নানা ধরনের খাবার নিয়ে এসে আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ইস্টার বানি’, যা তাদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।   এ সময় মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের প্রার্থী রেদোয়ান চৌধুরী ও জেরেমিয়া পোপ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপস্থিতি ইতিবাচক বার্তা দেয়।   সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক জীবন পেরার তত্ত্বাবধানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে সংগীত, নৃত্য ও কৌতুক পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পীরা। নৃত্য পরিবেশনায় মঞ্জুরি নৃত্যালয় ও সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গনের পরিবেশনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।   অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বয়োজ্যেষ্ঠদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ। এছাড়া র‍্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে গ্র্যান্ড পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশগামী বিমান টিকিট ছিল।   অনুষ্ঠানে ফাদার সুবাস কস্তা, বিসিএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুড ভি. গমেজসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ইস্টার ও বৈশাখ একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হয়।

Unknown এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

নিহত গুগল কর্মকর্তা শীতল রজেসিয়েন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের শীর্ষ ভারতীয় নারী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী, ছেলেও হাসপাতালে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০