যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি খ্রিষ্টানদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইস্টার পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসব ২০২৬’। বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন ইনকরপোরেটেড (বিসিএ)-এর উদ্যোগে গত ১২ এপ্রিল সিলভার স্প্রিং এলাকায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
রসকো নিক্স এলিমেন্টারি স্কুল প্রাঙ্গণে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে প্রায় চার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির মিলনমেলায় সৃষ্টি হয় এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ। বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রেগ উইম্স এবং মন্টগোমারি কাউন্টির কর্মকর্তা আনিস আহমেদ। শোভাযাত্রা শেষে সংগঠনের সেক্রেটারি বিভাস রোজারিও সঞ্চালনায় শুরু হয় মূল পর্ব। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও প্রার্থনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বিসিএ’র সভাপতি বিপুল এলিট গনছালভেস ইস্টার ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে যিশু খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে মেরিল্যান্ডের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী খাবার। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ঘর থেকে নানা ধরনের খাবার নিয়ে এসে আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ইস্টার বানি’, যা তাদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
এ সময় মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের প্রার্থী রেদোয়ান চৌধুরী ও জেরেমিয়া পোপ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপস্থিতি ইতিবাচক বার্তা দেয়।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক জীবন পেরার তত্ত্বাবধানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে সংগীত, নৃত্য ও কৌতুক পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পীরা। নৃত্য পরিবেশনায় মঞ্জুরি নৃত্যালয় ও সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গনের পরিবেশনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বয়োজ্যেষ্ঠদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ। এছাড়া র্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে গ্র্যান্ড পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশগামী বিমান টিকিট ছিল।
অনুষ্ঠানে ফাদার সুবাস কস্তা, বিসিএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুড ভি. গমেজসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ইস্টার ও বৈশাখ একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মঙ্গলবার, ২ জুন অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আইওয়া, নিউজার্সি থেকে নিউ মেক্সিকো পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ভোট শুধু প্রার্থীদের মনোনয়ন নির্ধারণ করেনি; বরং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব কতটা অটুট রয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটরা কোথায় নতুন ভোটার জোট গড়ে তুলতে পারছে, সে প্রশ্নগুলোর আংশিক উত্তর মিলেছে এই নির্বাচনী রাতে। সবচেয়ে বেশি নজর ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রাইমারিতে। গভর্নর গেভিন নিউসমের দুই মেয়াদের সমাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্যে নেতৃত্বের নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে অংশ নেন ৬১ জন প্রার্থী। ভোট গণনায় সাবেক স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সেক্রেটারি জেভিয়ার বেসেরা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। রিপাবলিকান ভাষ্যকার স্টিভ হিলটন এবং ডেমোক্র্যাটিক বিলিয়নিয়ার ও পরিবেশকর্মী টম স্টেয়ার প্রায় সমান অবস্থানে থাকায় চূড়ান্ত ফল জানতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘টপ-টু’ প্রাইমারি পদ্ধতিতে দল নির্বিশেষে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ কারণে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল ভোট বিভক্ত হলে দুই রিপাবলিকান প্রার্থীই নভেম্বরের নির্বাচনে জায়গা করে নিতে পারেন। আপাতত সেই সম্ভাবনা দূর হয়েছে। অন্যদিকে আইওয়ায় দেখা গেছে নির্বাচনী রাতের অন্যতম বড় চমক। রিপাবলিকান গভর্নর প্রাইমারিতে অধিকাংশ পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে কৃষক ও ব্যবসায়ী জ্যাক লান ট্রাম্প-সমর্থিত কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফিনস্ট্রাকে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনের আগে জ্যাক লানকে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তবে ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, আইওয়ার রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশ প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছেন। এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ট্রাম্পের সমর্থনকে বিজয়ের অন্যতম প্রধান নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হলেও আইওয়ার ফলাফল সেই ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ (এমএএইচএ) আন্দোলনের প্রভাবও দৃশ্যমান হয়েছে। স্বাস্থ্য ও খাদ্যনীতি-কেন্দ্রিক এই রাজনৈতিক ধারাটি রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইওয়ার সিনেট নির্বাচনও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্টের আসনে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পেয়েছেন প্যারালিম্পিয়ান ও আইনপ্রণেতা জশ তুরেক। রিপাবলিকানদের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কংগ্রেসওম্যান অ্যাশলি হিনসন। নভেম্বরে এই লড়াই সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউজার্সিতে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি ছিল ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর কংগ্রেসওম্যান বনি ওয়াটসন কোলম্যান অবসরের ঘোষণা দিলে আসনটি উন্মুক্ত হয়ে যায়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে মনোনয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৩ জন প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন ডা. আদম হামাওয়ি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হামাওয়ি সাত মাস বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কমব্যাট ট্রমা সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাক যুদ্ধ এবং হাইতির বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে ইরাকে হেলিকপ্টার হামলায় আহত বর্তমান সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের জীবন রক্ষার ঘটনায় তিনি জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন। বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের সমর্থন তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করে। গাজায় চিকিৎসা মিশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও তাকে মুসলিম, আরব এবং প্রগতিশীল ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলের মুখোমুখি হবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসনটির অতীত ভোটের ধারা বিবেচনায় হামাওয়ি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি নিউজার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। নিউজার্সির সপ্তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টেও গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। সেখানে সাবেক নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট রেবেকা বেনেট ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। নভেম্বরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বর্তমান রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম কিন জুনিয়র। তবে এই আসনের আলোচনায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি টম কিনের স্বাস্থ্যগত বিষয়ও উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনসমক্ষে তার সীমিত উপস্থিতি রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে এটিকে এখন নিউজার্সির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং ডিস্ট্রিক্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে সিনেটর কোরি বুকার সহজেই নিজের প্রাইমারি জয় করে মূল নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নিউ মেক্সিকোতে সাবেক হোম সেক্রেটারি ডেব হালান্ড ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নেটিভ আমেরিকান ক্যাবিনেট সদস্য হিসেবে পরিচিত হালান্ড এখন গভর্নর পদে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। মন্টানায় রিপাবলিকান মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যারন ফ্লিন্ট। অন্যদিকে সাউথ ডাকোটায় বর্তমান গভর্নর ল্যারি রোডেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন। ফলে এই দুই অঙ্গরাজ্যেও নভেম্বরের নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে পুরো নির্বাচনী রাতের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতোই নিরঙ্কুশ রয়েছে কি না। আইওয়ার ফলাফল অন্তত ইঙ্গিত দিচ্ছে, রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশ নতুন ধরনের নেতৃত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক বার্তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরাও নতুন ভোটার জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ভারসাম্য এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের ওপর। ২ জুনের প্রাইমারি নির্বাচনকে তাই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অনিশ্চিত এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির তীব্র আবাসন সংকট এবং লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ব্রঙ্কসের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের চেনা শহর থেকে ছিটকে পড়ছে, সেই বাস্তবতা সরাসরি শুনেছেন সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের হোসটোস কমিউনিটি কলেজের রেপার্টরি থিয়েটারে আয়োজিত এক বিশেষ গণশুনানিতে কয়েক শ শিক্ষার্থী, ভাড়াটে, অ্যাক্টিভিস্ট এবং স্থানীয় বাসিন্দা মেয়রের মুখোমুখি হন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘মোর পারফেক্ট ইউনিয়ন’-এর উচ্চশিক্ষা শাখা ‘মোর পারফেক্ট ইউনিভার্সিটি’ এবং মেয়রের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে। আয়োজিত এই “স্টুডেন্টস রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিং”-এ অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি আবাসন সংকট, উচ্ছেদ, নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই মিলনায়তন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থীর মাথায় ছিল মেয়রের সিগনেচার রঙ হলুদ ও লালে লেখা স্লোগান “দি রেন্ট ইজ টু ড্যাম হাই”। শুনানিতে একের পর এক শিক্ষার্থী ও তরুণ ভাড়াটে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সাউথ ব্রঙ্কসে জন্ম নেওয়া এক কলেজ সিনিয়ার ও ভাড়াটে সংগঠক জানান, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তার পরিবার চেনা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ‘সিইউএনডব্লিউ কেয়ার্স’-এর লিড অ্যাডভোকেট ব্রিটানি লাঞ্জানো জানান, ব্রঙ্কসে একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ২৫০০ ডলারে পৌঁছানোর পর চার বছর আগে তিনি কুইন্সে চলে যান, যেখানে ভাড়া প্রায় এক হাজার ডলার কম ছিল। ন্যাশনাল ক্লিন ওয়াটার কালেক্টিভ ইয়ুথ কাউন্সিলের এক শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন, সিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভাড়া পরিশোধের পরও কেন নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। গণশুনানির দুই দিন আগে মেয়র মামদানির প্রশাসন সিটির নতুন আবাসন এজেন্ডা “ব্লক বাই ব্লক: দ্য হাউজিং প্ল্যান ফর আ নিউ এরা” ঘোষণা করে। শুনানিতে তিনি পরিকল্পনার মূল দিকগুলো তুলে ধরেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২২ বিলিয়ন ডলারের পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে ২ লাখ সাশ্রয়ী ও স্থায়ী রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড আবাসন নির্মাণ এবং আরও ২ লাখ আবাসন সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভাড়াটেদের অধিকার শক্তিশালী করতে ‘টেন্যান্ট ইউনিয়ন’ কাঠামো জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কোনো ভবনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাড়াটে সংগঠিত হলে সিটি এজেন্সিগুলো পুরো ভবনে সমন্বিত পরিদর্শন ও ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানান মেয়র। অসৎ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে “ফিক্স দ্য সিটি” নামে নতুন কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৬৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তিনি বলেন, শহরের প্রশাসন এখন ভাড়াটেদের বৃহৎ অংশকে অবহেলার চোখে দেখবে না এবং আবাসন সংকট সমাধানে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে। আবাসনের গুণগত মান নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, সংকট শুধু উচ্চ ভাড়ার নয়, বরং জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ বাসস্থানেরও। এ সমস্যা সমাধানে পরিদর্শন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিয়ম ভঙ্গকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গুরুতর অনিয়মকারী মালিকদের সম্পত্তি প্রয়োজনে অলাভজনক সংস্থা বা ভাড়াটেদের নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। হোসটোস কমিউনিটি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে ব্রঙ্কসের সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনের একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আগামী ৮ জুন সেখানে নিউইয়র্ক সিটি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের বার্ষিক ব্রঙ্কস পাবলিক হিয়ারিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভাড়ার হার ও আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ মতামত দিতে পারবেন।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর সম্ভাব্য অভিযান ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের কারণে দর্শক ও স্থানীয়দের সতর্ক করতে অন্তত ১২০টিরও বেশি সংগঠন একত্র হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, মিয়ামি, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরে শ্রমিক ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বকাপ চলাকালীন সম্ভাব্য অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের সময় দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফাই স্টেডিয়ামে কর্মরত দুই হাজারের বেশি হোটেল ও পরিষেবা কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে, স্টেডিয়াম এলাকায় আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতি বন্ধ না হলে তারা ধর্মঘটে যাবে। ডালাসে মানবাধিকার সংগঠন এল মুভিমিয়েন্তো ডিএফডব্লিউ গির্জা, দোকান এবং আবাসিক এলাকায় ‘হুইসেল কিট’ বিতরণ করছে। এতে আইসিই উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য ও বিনামূল্যে অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের উপায় রাখা হয়েছে। একাধিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য ১ কোটি দর্শনার্থীর উদ্দেশে সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে “অবৈধভাবে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসনের ঝুঁকি” থাকতে পারে। বিশ্বের অন্যতম বড় এই ক্রীড়া আসর এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশটির অভিবাসন নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন দমননীতির কারণে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে দাবি করছে অধিকার সংগঠনগুলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। সংস্থাটির মতে, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তারা জরুরি প্রতিক্রিয়া নেটওয়ার্ক, আইনজীবী সহায়তা এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যাতে কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তার ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। সিয়াটলে শ্রম অধিকার সংগঠন ‘ওয়ার্কিং ওয়াশিংটন’ জানিয়েছে, তারা রেস্তোরাঁ ও কর্মস্থলে কর্মীদের জন্য সাংবিধানিক অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হলে করণীয় ও যোগাযোগ কৌশল। মিয়ামিতে, যেখানে অভিবাসী গ্রেপ্তারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে বিশেষ হটলাইন এবং আইন পর্যবেক্ষক দল সক্রিয় করা হয়েছে। এসব দল আইসিই উপস্থিতি নথিভুক্ত করার কাজ করবে। কিছু সংগঠন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ‘নো আইসিই ইন দ্য কাপ’ নামের একটি জাতীয় প্রচারণা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে আয়োজক শহরগুলোতে নিরাপদ অঞ্চল, কমিউনিটি সহায়তা কেন্দ্র এবং অভিবাসীদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিয়াটলে কিছু সংগঠন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে কাজ করে “সেফ জোন” ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে অভিবাসীরা সহায়তা ও তথ্য পেতে পারবেন। অধিকারকর্মীদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যুক্তি, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অভিবাসন অভিযান যদি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তবে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।