যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রথম ‘ফাইট ব্যাক অ্যান্ড উইন’ শীর্ষ সম্মেলন ও গালা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতা ও কর্মীদের চাঙ্গা এবং প্রস্তুত করতেই মেরিল্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শনিবার আরুন্ডেল মিলসের ‘লাইভ! ক্যাসিনো’তে এই বর্ণাঢ্য সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট নেতারা লবিং ও অ্যাডভোকেসি, বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রচারণার নানা সংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধারাবাহিক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেন। এছাড়া সান্ধ্যকালীন একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেরও ব্যবস্থা করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং আগামী নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা।
ওয়াশিংটন ডিসির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবেই মূলত এই বিশেষ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর বলেন, এটি আমাদের জন্য কেবল প্রতিহত করার সুযোগ নয়, বরং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি অনন্য সুযোগ। একই সুর মিলিয়ে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, আমরা ইতিহাসকে নতুন করে লিখব না এবং আমরা কখনোই ঘড়ির কাঁটাকে পেছনে ঘুরাব না।
এই সম্মেলনটি মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক সরকারের বিগত দিনগুলোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনারও একটি বড় ক্ষেত্র ছিল। বাল্টিমোরের মেয়র ব্র্যান্ডন স্কট বলেন, আমরা আমাদের বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে আরও শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর এলাকা গড়ে তুলছি। গভর্নর ওয়েস মুর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মেরিল্যান্ডের ইতিহাসে শিশু সুরক্ষায় এবারই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষানবিস ও বাণিজ্য কর্মসূচিতেও ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে রাজ্যে শিক্ষক শূন্যতা ৬০ শতাংশ কমেছে।
গভর্নর মুর আরও মনে করিয়ে দেন যে, কি ব্রিজ ধসের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাল্টিমোর বন্দর পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট সরকার দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। দলের এই সাফল্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন মেরিল্যান্ডের শীর্ষ নেতারা। সম্মেলনে বাইডেন সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিভিন্ন আসনে জয়লাভের কথা উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের প্রশংসা করেন।
জো বাইডেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি সারাজীবন ডেমোক্র্যাটদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, আমরা অতীতেও অনেক অন্ধকার এবং কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছি। তবে আমেরিকান জনগণের একটি বড় গুণ হলো তারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং আমরাও এখন হাল ছাড়তে পারি না। এই দেশে কোনো পরাজয় মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই, আমি আপনাদের পাশে সবসময় আছি।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি সহায়তাভোগীরা বর্তমানে এক অভিনব ও ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। 'কার্ড স্কিমিং' নামের এই কৌশলের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সরকারি বেনিফিট কার্ডের তথ্য চুরি করে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, এটিএম বা কার্ড রিডারে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অত্যন্ত সুকৌশলে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে দেওয়া সম্ভব। এরপর মেশিনে যতবার কার্ড সোয়াইপ করা হয়, ততবারই স্কিমারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ওয়্যারলেস ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে গ্রাহকের পিন নম্বর ও অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য প্রতারকদের কাছে চলে যায়। সিক্রেট সার্ভিসের বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, একটিমাত্র স্কিমার ব্যবহার করে প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত চুরি করা সম্ভব। এই অপরাধের মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সিক্রেট সার্ভিসকে এখন প্রেসিডেন্টকে নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে স্কিমার-বিরোধী অভিযান চালাতে হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালেই তারা ৪০০টির বেশি অবৈধ স্কিমিং ডিভাইস উদ্ধার করেছে। তবে এটি দেশটিতে ছড়িয়ে থাকা মোট ডিভাইসের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশটির ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৩২টি সক্রিয় ফেডারেল তদন্ত চলছে। সিক্রেট সার্ভিসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ ডিভিশনের সহকারী স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ মাইকেল পেক জানান, পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এই কাজের সাথে জড়িত। তারা প্রায়শই মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। এই জালিয়াতির ফলে প্রতি বছর আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকদের সম্মিলিতভাবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি ক্ষতি হচ্ছে। এই প্রতারক চক্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো 'ইবিটি' (EBT) বা সরকারি সহায়তা কার্ডগুলো, কারণ এগুলোতে আধুনিক 'ট্যাপ-অ্যান্ড-পে' বা চিপ প্রযুক্তির নিরাপত্তা নেই, ফলে এগুলো বাধ্য হয়ে মেশিনে সোয়াইপ করতে হয়। প্রতিটি কার্ডে প্রতি মাসে করদাতাদের হাজার হাজার ডলারের সরকারি সহায়তা (যেমন: খাদ্য সহায়তা ও বাড়িভাড়া) জমা থাকে। একবার এই টাকা চুরি হয়ে গেলে তা পুনরায় ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। মেরি বোয়েন নামের ছয় সন্তানের এক মা জানান, গত সপ্তাহে তাঁর কার্ড থেকে সব টাকা চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন বাড়িভাড়া বা খাবার কিছুই কিনতে পারছেন না। তিনি বলেন, "সব টাকা উধাও হয়ে গেছে। আমার কাছে নগদ কোনো অর্থ নেই, বাধ্য হয়ে আমাকে বন্ধুদের কাছ থেকে খাবার চেয়ে আনতে হচ্ছে।" সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত এক অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৩২৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১,৭৪৯টি ডিভাইস পরিদর্শন করে ১৬টি স্কিমার জব্দ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় এক কোটি ৬৬ লাখ ডলারের আর্থিক ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। বড় শহরগুলোর পাশাপাশি ছোট শহরগুলোতেও এই চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। তাই এই ডিজিটাল প্রতারণা থেকে বাঁচতে গ্রাহকদের যতটা সম্ভব কার্ড সোয়াইপ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের কার্ডে সুযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে 'ট্যাপ-অ্যান্ড-পে' বা স্পর্শবিহীন লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করাই নিজেকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে সেরা উপায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের রমরমা ব্যবসা, অভিযুক্ত ১১ জন
চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা
গর্ভপাত চেয়েছিলেন চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা, রাজি হননি সারোগেট মা; শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এলো টেক্সাস আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে হপকিন্স শহরের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুসহ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা, যেখানে এক বাবা তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। নিহত তিনজন একই পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে হপকিন্সের টাইলার এভিনিউ নর্থের ২০০ ব্লকে অবস্থিত একটি বাড়ির ডে-কেয়ারে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক অভিভাবক তার সন্তানকে ডে-কেয়ারে নামিয়ে দেওয়ার সময় এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান এবং আতঙ্কিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য শিশুদের চোখের সামনেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে মোট সাতজন শিশু উপস্থিত ছিল। তবে নিহত শিশুটি এই সাতজনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়। স্বস্তির বিষয় হলো, ভুক্তভোগী পরিবারটি ছাড়া সেখানে থাকা অন্য কোনো শিশুর শারীরিক ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিজ নিজ বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। মিনিয়াপোলিসের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত হপকিন্স শহরতলির এই ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার এক বক্তব্যে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই হামলাকে একটি "সংকটজনক ঘটনা" (ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমাদের হৃদয় ও প্রার্থনা হপকিন্সের মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে।" তিনি ইতোমধ্যে হপকিন্সের মেয়র হ্যানলনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং এই সংকটময় মুহূর্তে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে
চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বাবার, পুলিশকে ফোন করে নিজেই জানালেন
ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: ‘বাইডেনের জন্য আমার খারাপ লাগে না, সহানুভূতির দরকার নেই’
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নতুন রেকর্ড গড়েছে। জুলাইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মিডিয়ান রেন্টও বেড়ে ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছেছে। বুধবার প্রকাশিত রিয়েল এস্টেট মার্কেটের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ম্যানহাটনে প্রায় সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াই বেড়েছে। বিশেষ করে দুই ও তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনে একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া এখন ৪ হাজার ৮৮ ডলার। এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার, দুই বেডরুমের ৮ হাজার ৫৪ ডলার এবং তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ১২ হাজার ২২৮ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্টুডিওর ভাড়া ৮ শতাংশ এবং এক বেডরুমের ভাড়া ৭ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমে ১২ শতাংশ। স্টুডিও, এক বেডরুম ও দুই বেডরুমের গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে গড় ভাড়ার পাশাপাশি মিডিয়ান রেন্টের হিসাবটি ম্যানহাটনের সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য বাজারের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ে মিডিয়ান রেন্ট ছিল ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ভাড়ার অর্ধেক এর চেয়ে বেশি এবং অর্ধেক কম। ম্যানহাটনের ভাড়া বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি আবাসনের সীমিত সরবরাহ। নিউইয়র্ক সিটিতে ভ্যাকেন্সি রেট মাত্র ১ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্ন। সাধারণভাবে ৫ শতাংশের নিচে ভ্যাকেন্সি রেটকে বাড়িওয়ালাদের অনুকূলে থাকা বাজার হিসেবে দেখা হয়। একদিকে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে নিউইয়র্কে হাজার হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। বাড়িওয়ালাদের দেওয়া স্টেট রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরজুড়ে প্রায় ৫৭ হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট খালি ছিল। এটি নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার মোট অ্যাপার্টমেন্টের প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। কেন এত ইউনিট খালি রয়েছে, তা নিয়ে বাড়িওয়ালা ও টেন্যান্ট অ্যাডভোকেটদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু বাড়িওয়ালা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে না ছেড়ে খালি রাখছেন। অন্যদিকে বাড়িওয়ালাদের দাবি, ২০১৯ সালের রেন্ট আইন সংস্কারের পর পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নির্ধারিত ভাড়ায় আবার বাজারে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। এদিকে মেয়র জোহরান মামদানির রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থগিত রাখার পরিকল্পনা ঘিরেও রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক চলছে। রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের আশঙ্কা, রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিটের ভাড়া স্থির থাকলে বাড়িওয়ালাদের বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপ মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়াদের ওপর পড়তে পারে। তবে এই বক্তব্য মূলত রিয়েল এস্টেট শিল্পসংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন। ভাড়া স্থগিত রাখার নীতিই ম্যানহাটনের বর্তমান রেকর্ড ভাড়ার কারণ, এমন সরাসরি প্রমাণ প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যায় না। আবাসনের ঘাটতি, কম ভ্যাকেন্সি রেট, উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসনের চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহসহ একাধিক বিষয় নিউইয়র্কের রেন্টাল মার্কেটে চাপ তৈরি করছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দ্য করকোরান গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার গ্যারি ম্যালিন বলেন, শহর ও স্টেটের সাম্প্রতিক কয়েকটি হাউজিং নীতি রেন্টাল হাউজিংয়ের সরবরাহ সীমিত করেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার বিপরীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামদানি প্রশাসনের পিয়েদ-আ-তের কর পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও রিয়েল এস্টেট খাতে আলোচনা চলছে। শহরে মূল বাসস্থানের বাইরে দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত বাড়ির মালিকদের ওপর বাড়তি কর আরোপের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কর এড়াতে কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ার দিকে ঝুঁকলে উচ্চমূল্যের রেন্টাল মার্কেটে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। উচ্চ মর্টগেজ রেটও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। যারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাড়ি বা কনডো কিনতেন, তাদের একটি অংশ উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়ে রেন্টাল মার্কেটেই থেকে যাচ্ছেন। এতে সীমিত সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। সব মিলিয়ে ম্যানহাটনে বাসা ভাড়া নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যয়বহুল। গড় মাসিক ভাড়া ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার এবং মিডিয়ান রেন্ট ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছানো নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের চাপ আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
কলোরাডোয় খাড়া পাহাড়ে রাস্তা থেকে গাড়ি ছিটকে নিহত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর
'মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে আমাদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হবে'