বর্তমান বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের চেয়েও অধিক ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফতিহ বিরল। সোমবার (২৩ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে এক বিশাল ও অভূতপূর্ব হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ফতিহ বিরল এই পরিস্থিতিকে দুটি বড় তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকটের সম্মিলিত ও জটিল রূপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইইএ প্রধান জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে ওই অঞ্চলের অন্তত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ‘ভয়াবহভাবে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট নিরসনে কোনো একক দেশ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইইএ ইতিমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে তাদের জরুরি তেলের মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে সদস্য দেশগুলো বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
ফতিহ বিরল আরও যোগ করেন, বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে আইইএ আরও মজুত তেল বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের নিয়মিত সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। যদি বর্তমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বের কোনো দেশই এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের আল-খারজ অঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি-র 'খাতাম আল-আনবিয়া' সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের চলমান 'ট্রু প্রমিজ ৪' (True Promise 4) অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি প্রধান কেন্দ্র এবং এখান থেকেই এই অঞ্চলে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইরানি গণমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, উন্নত মানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে যে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও কিছু অসমর্থিত সূত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া ফুটেজে ঘাঁটির ভেতরে আগুনের ধোঁয়া দেখা যাওয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত অ্যারোস্পেস সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই বহুমুখী ও সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি উপস্থিতির ওপর ইরানের ক্রমবর্ধমান পাল্টা আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি এক চরম কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র ইরান, অন্যদিকে শক্তিশালী অংশীদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—এই দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে নয়াদিল্লিকে এখন ‘ডিপ্লোম্যাটিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা কূটনৈতিক নমনীয়তার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক নয়, বরং এটি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কানেক্টিভিটির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশাধিকার এবং সস্তায় অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে ইরান ভারতের জন্য অপরিহার্য। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর সম্ভাব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা সরাসরি সামরিক সংঘাত ভারতের এই স্বার্থগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভারতকে ইরানের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিতে বাধা দিচ্ছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ না নিয়ে একটি ‘মধ্যপন্থা’ অবলম্বনের চেষ্টা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা মোদি সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি সফলভাবে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়াদিল্লির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। অন্যথায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের আঁচ ভারতের অর্থনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দশম দিনে বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছিলেন, তাতে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি 'প্যাট্রিয়ট' ইন্টারসেপ্টর মিসাইল জড়িত থাকার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স কর্তৃক পর্যালোচিত এবং একদল গবেষকের করা সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ৯ মার্চের ওই ভোরে হওয়া বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৩২ জন আহত হন এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। শুরুতে বাহরাইন ও ওয়াশিংটন এই ঘটনার জন্য ইরানের ড্রোন হামলাকে দায়ী করলেও, এখন ঘটনার মোড় পরিবর্তন হচ্ছে। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বাহরাইন সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, রাজধানী মানামার অদূরে অবস্থিত তেল শোধনাগার সংলগ্ন ওই এলাকায় প্যাট্রিয়ট মিসাইল সক্রিয় ছিল। তবে বাহরাইন সরকারের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, প্যাট্রিয়ট মিসাইলটি সফলভাবে একটি ইরানি ড্রোন মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল এবং এর মাধ্যমেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঠেকানো গেছে। তার মতে, সরাসরি মিসাইল বা ড্রোন মাটিতে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বাহরাইন বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই ওই ঘটনায় ইরানি ড্রোনের উপস্থিতির কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণটি সম্ভবত মার্কিন পরিচালিত কোনো এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারি থেকে ভুলবশত বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট।