বিশ্ব

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অস্বস্তিতে চীন: তেল ও বাণিজ্যে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রভাব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের ওপর পড়তে শুরু করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ফলে চীনে পেট্রোল ও প্লাস্টিকের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বেইজিং এই সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে এক অস্বস্তিকর অবস্থানে রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে ইরান মূলত সস্তায় তেল পাওয়ার একটি উৎস। গত বছর ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশই কিনেছে বেইজিং, যা তেহরানের আয়ের প্রধান উৎস হলেও চীনের মোট আমদানির মাত্র ১৩ শতাংশ। ফলে চীন কৌশলগতভাবে ইরানের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। এছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের তুলনায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। এই অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যের কারণেই বেইজিং সরাসরি কোনো সামরিক পক্ষ না নিয়ে কেবল সংযম ও কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে।

 

তবে ইরান এই যুদ্ধে চীনের ‘বেইডু’ স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম এবং চীনা ড্রোন ও চিপ ব্যবহার করছে বলে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করেছে। চীন এই সংঘাতের দ্রুত অবসান চাইলেও সরাসরি তেহরানের নিন্দা জানানো থেকে বিরত রয়েছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের মতে, যুদ্ধের ফলে তেলের উচ্চমূল্য এবং ইউরোপীয় বাজারে চীনা পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। চীন মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বজায় রাখতে চায়, তবে তারা কোনোভাবেই একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান বা দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা সমর্থন করছে না।

 

সূত্র: এনডিটিভি

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Advertisement

বিশ্ব

View more
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন: জাতিসংঘ মহাসচিব

লেবাননে কর্তব্যরত অবস্থায় শান্তিরক্ষীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।  দক্ষিণ লেবাননে সোমবার এক ভয়াবহ হামলায় দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী প্রাণ হারান এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের "চরম লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। জাতিসংঘ প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় জানান যে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হামলা। এর আগে রোববার অন্য একটি পৃথক ঘটনায় আরও একজন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছিলেন।  শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে গুতেরেস দৃঢ়ভাবে বলেন, "শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কাউকে যেন প্রাণ দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।" এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই

ইরান সংকটে একাজোট চীন ও পাকিস্তান: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান

চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অস্বস্তিতে চীন: তেল ও বাণিজ্যে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত।

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড বিল: ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনায় ইইউ ও জার্মানি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইরান যুদ্ধে লাভবান হচ্ছে রাশিয়া, দাবি জেলেনস্কির

চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে রাশিয়া সরাসরি উপকৃত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার (৩০ মার্চ) এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউক্রেন থেকে পশ্চিমাদের মনোযোগ সরে যাবে, যা মস্কোর জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে। জেলেনস্কির মতে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রাশিয়ার তেল রপ্তানি আয় কয়েকগুণ বেড়েছে।   ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা ইউক্রেনের অস্ত্র সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কিয়েভ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে জানিয়েছে যে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করছে। জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনার জন্য নিজেদের ভূমি ছাড়তে চাপ দিতে পারে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জেলেনস্কির এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত

শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইন্দোনেশিয়া: জাতিসংঘে জরুরি বৈঠকের ডাক

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সময় চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান রমজান কাদিরভ।

ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান রুখতে যুদ্ধের ঘোষণা দিল চেচেন আর্মি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে কঠোর নতুন আইন: শত্রু রাষ্ট্রকে সহযোগিতার শাস্তিতে মৃত্যুদণ্ড

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘ইরানের তেল দখল করতে চাই’ খারগ দ্বীপ কবজায় নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।   তেল দখলের ছক ও ভেনেজুয়েলা মডেল সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের রণকৌশল তুলে ধরে বলেন, “আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ নেব, আবার হয়তো নেব না। তবে আমাদের সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থান করতে হতে পারে।” তিনি এই সামরিক অভিযানকে বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে ওয়াশিংটন দেশটির তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।   ১০ হাজার মার্কিন সৈন্যের প্রস্তুতি ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহের সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য প্রায় ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০ মেরিনসহ সাড়ে তিন হাজার কর্মী সেখানে পৌঁছেছেন এবং আরও কয়েক হাজার সদস্য বর্তমানে পথে রয়েছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খারগ দ্বীপ দখল করতে পারলে ইরান তার তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষমতা হারাবে, যা তেহরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেবে।   ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু ও আল্টিমেটাম ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং আরও ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু তাঁদের নিশানায় রয়েছে। তিনি তেহরানকে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলীতে রাজি হওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের অবশিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও মোজতবা খামেনি প্রসঙ্গ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, শুরুর দিকের হামলায় শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর তেহরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ঘটছে। তিনি পুনরায় দাবি করেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত মৃত অথবা গুরুতর আহত। ট্রাম্পের ভাষায়, “ছেলেটি হয় মারা গেছে অথবা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা তার কাছ থেকে কোনো খবরই পাচ্ছি না।” যদিও তেহরান এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে যে তাদের নেতৃত্ব অক্ষুণ্ণ ও নিরাপদ রয়েছে।   পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ‘ইরানি উপহার’ সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তানের ‘দূতদের’ মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান ‘উপহার’ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কারের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০-এ উন্নীত করেছে। ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই অনুমতি দিয়েছেন বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন।   সূত্র: এনডিটিভি  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাসের বাইরের অংশ | ছবি: সংগৃহীত

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ব্রিটিশ কূটনীতিক বহিষ্কার রাশিয়ার: অভিযোগ ‘অর্থহীন’ দাবি লন্ডনের

ছবি: সংগৃহীত।

স্পেনের পর এবার মার্কিন যুদ্ধবিমানের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইতালির

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’

হামলার মুখে পলায়ন? মেরামতের জন্য ক্রোয়েশিয়ায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

0 Comments