যুক্তরাজ্য রাজনীতি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার । ছবি: রয়টার্স-ফাইল
সোমবারই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার সোমবারই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদপত্র দ্য অবজারভার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পদত্যাগের একটি সম্ভাব্য সময়সূচিও প্রকাশ করতে পারেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এসব দাবি নাকচ করে জানানো হয়েছে, স্টারমার এখনও সরকার পরিচালনার দায়িত্বে সম্পূর্ণ মনোযোগী।   দ্য অবজারভারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি গ্রামীণ বাসভবন চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন স্টারমার। লেবার পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা আশা করছেন, সোমবারের মধ্যেই তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাবেন।   অন্যদিকে সরকারের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, স্টারমার পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং তিনি আগের মতোই দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় বিজয় এনে দেওয়া স্টারমারের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে কমে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে। একাধিক বিতর্ক, রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি এবং নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দলের ভেতরে তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।   রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টির শতাধিক এমপি প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ বা নেতৃত্ব ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।   স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে চাপ আরও বাড়ে শুক্রবার, যখন সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা বার্নহ্যামকে অনেকেই স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছেন। যদিও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেননি, বিজয় বক্তৃতায় তিনি দেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক পথের ইঙ্গিত দেন।   এ ছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে প্রস্তুত।   দ্য টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।   শুক্রবার স্টারমার নিজেও বলেন, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবিলা করবেন এবং দলীয় বিভাজন সৃষ্টি করে লেবার পার্টিকে আত্মবিধ্বংসী পথে না নেওয়ার আহ্বান জানান।   স্টারমার যদি পদত্যাগ করেন বা তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে গত এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।   বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকট বর্তমানে ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনেই স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য অবজারভার

Unknown জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
যুক্তরাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ, নেতৃত্ব সংকটে লেবার পার্টি

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে নেতৃত্ব সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।   নর্থ-ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফেরার পথ নিশ্চিত করেছেন বার্নহ্যাম। এই আসনটি খালি হওয়ার পর থেকেই তার জাতীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। উপনির্বাচনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নির্বাচনের মতোই দ্রুত রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   লেবার পার্টির একাংশের মতে, দুই বছর আগে বিশাল ব্যবধানে ক্ষমতায় আসা দলটি এখন জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুই দিক থেকেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টির উত্থান দলটির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।   দলের ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় বার্নহ্যামই একমাত্র বিকল্প নেতা হতে পারেন, যিনি স্টারমারের মতো নয়, বরং ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক আবেদন তৈরি করতে সক্ষম।   নির্বাচনের পর দেওয়া বক্তব্যে বার্নহ্যাম বলেন, “রাজনীতি এখন কাজ করছে না। দেশ যেখানে থাকা উচিত সেখানে নেই। আজকের রাত একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত হতে পারে।” স্টারমার অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি যে কোনো নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিরুদ্ধে লড়াই করবেন।   অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগে টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হন। ২০১০ ও ২০১৫ সালে তিনি লেবার নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি।   ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারের মেয়র হওয়ার পর তিনি ওয়েস্টমিনস্টারের দলীয় দ্বন্দ্ব থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেন। এই সময়েই তিনি “কিং অব দ্য নর্থ” নামে পরিচিতি পান। তার নেতৃত্বে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয় এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আবাসন প্রকল্পে অগ্রগতি ঘটে।   বার্নহ্যামের রাজনৈতিক দর্শন এখন “ম্যানচেস্টারিজম” নামে পরিচিত। এতে রয়েছে অর্থনীতিতে আরও স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ, পাবলিক সার্ভিসের পুনর্গঠন এবং “ব্যবসাবান্ধব সমাজতন্ত্র” ধারণা। সমর্থকদের মতে, এটি যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।   তবে সমালোচকদের মতে, তার অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দলটির ভেতরে বিভাজনও বাড়ছে। ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টির উত্থান লেবারের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যাম যদি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামেন, তবে তাকে একই সঙ্গে মধ্যপন্থী, বামপন্থী এবং শ্রমিক শ্রেণির ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার কঠিন সমীকরণ মোকাবিলা করতে হবে।   এদিকে তার নীতিগত অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। অভিবাসন, অর্থনৈতিক নীতি এবং ব্রেক্সিট ইস্যুতে তিনি আগের তুলনায় তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অবস্থান নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।   বার্নহ্যাম এখন পার্লামেন্টে ফেরার পর জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছেন। তার পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করতে পারে ব্রিটিশ রাজনীতির আগামী দিনের গতিপথ।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি হতে পারেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলের নেতৃত্বের লড়াইয়ে আগের দুইবার ব্যর্থ হলেও সাম্প্রতিক একটি বিশেষ সংসদীয় উপ-নির্বাচনে বড় বিজয়ের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে তিনি কেবল দলীয় নেতৃত্ব নয়, বরং ভবিষ্যতে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন।   অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গত নয় বছর ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চমৎকার বাচনভঙ্গি ও ব্যক্তিগত ক্যারিশমার কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর লেবার পার্টির বর্তমান নেতা কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ গড়তে তার প্রয়োজন অন্তত ৮০ জন লেবার আইনপ্রণেতার সমর্থন।   করোনা মহামারির সময় ম্যানচেস্টারের স্থানীয় স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকার কারণে সমর্থকদের মধ্যে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবে পরিচিতি পান। একই সময়ে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি লেবার পার্টির সম্ভাব্য শক্তিশালী বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে আলোচিত হন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাকে কৌশলগতভাবে নমনীয় অবস্থান নেওয়া নেতা হিসেবে দেখেন।   ১৯৭০ সালে লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন বার্নহ্যাম। বাবা ছিলেন টেলিফোন প্রকৌশলী এবং মা স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত ছিলেন। চেশায়ারের কালচেথ গ্রামে তার শৈশব কাটে। রোমান ক্যাথলিক স্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।   রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি গবেষক ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। প্রথমে টেসা জোয়েলের গবেষক এবং পরে তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী ক্রিস স্মিথের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে লেই আসন থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বাধীন সরকারের কনিষ্ঠ মন্ত্রীদের একজন হন।   পরবর্তীতে গর্ডন ব্রাউনের সরকারের অধীনে তিনি ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০৯ সালের হিলসবোরো ট্র্যাজেডি নিয়ে তার ভূমিকা। ওই ঘটনায় ৯৭ জন লিভারপুল সমর্থকের মৃত্যুর পর ভুক্তভোগীদের পরিবারের বিচার দাবি জোরদার করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে নতুন তদন্ত শুরু হয়।   ২০১০ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর তিনি নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চতুর্থ হন। ২০১৫ সালে আবারও নেতৃত্বের চেষ্টা করলেও জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে তিনি করবিনের নেতৃত্বাধীন দলে কাজ করেন এবং ২০১৭ সালে জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচিত হন।   ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক মনে করেন, মেয়র হিসেবে বার্নহ্যাম স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা সংস্কার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। তার মতে, তিনি রাজনৈতিক যোগাযোগে দক্ষ এবং জনমত গঠনে সক্ষম একজন নেতা।   তবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার জুড়ে বিভিন্ন সরকারের অধীনে কাজ করায় তাকে রাজনৈতিকভাবে নমনীয় বা কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনকারী নেতা হিসেবে সমালোচনাও করা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি স্টারমারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন কি না, তা নির্ভর করছে দলীয় সমর্থন এবং সংসদীয় সমীকরণের ওপর।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ম্যানচেস্টারের স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পদে যাত্রা সহজ নয়। তবে দলীয় সমর্থন পেলে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ভবিষ্যতে ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারেন।

Unknown জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
মাত্র ০.১% ভোটারই নির্ধারণ করতে পারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: কেন আলোচনায় মেকারফিল্ড উপনির্বাচন?

যুক্তরাজ্যের উত্তর ইংল্যান্ডের অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ডে অনুষ্ঠিতব্য একটি উপনির্বাচনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সাধারণ একটি কমিউনিটি সেন্টারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ভোটের ফলাফল ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রায় ৭৬ হাজার ভোটারের এই আসনে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার খুব ছোট একটি অংশ, আনুমানিক ০.১ শতাংশ ভোটারই পরোক্ষভাবে নির্ধারণ করতে পারেন স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং লেবার পার্টির দিকনির্দেশনা।   অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ড, উত্তর ইংল্যান্ডের এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। গত নির্বাচনে এই অঞ্চলের ২৫টির মধ্যে ২৪টি আসন জিতে নিয়েছে রিফর্ম ইউকে, যা লেবার শিবিরে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এই পরিস্থিতিতে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করছে লেবার সমর্থক শিবির। তিনি আগামীতে পার্লামেন্টে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন এবং তার সম্ভাব্য নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ স্টারমারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি না হওয়ায় তিনি সরাসরি লেবার নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। তবে এই উপনির্বাচনে জয় পেলে তার জন্য সেই পথ খুলে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।   লেবার পার্টির বর্তমান অবস্থান দুর্বল হওয়ার পেছনে নীতি পরিবর্তন, রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দ্বিধা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগকে দায়ী করা হচ্ছে। একাধিক মন্ত্রী ইতোমধ্যে সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে রিফর্ম ইউকে, যা জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে, লেবার ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি সবুজ দল এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোও ঐতিহ্যগত লেবার ভোট বিভক্ত করছে।   অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অনেকে “কিং অব দ্য নর্থ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে একজন কার্যকর স্থানীয় প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি ব্রিটিশ রাজনীতির প্রচলিত ওয়েস্টমিনস্টার কেন্দ্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে “ম্যানচেস্টারিজম” নামে একটি বিকেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক মডেল প্রস্তাব করছেন।   এই ধারণার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় অর্থনীতির পুনর্গঠন, প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোকে আরও সাশ্রয়ী করা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এই আসনের অন্তর্ভুক্ত ছোট ছোট শহরগুলো দীর্ঘদিন ধরে কয়লা খনি, ইস্পাত ও উৎপাদন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে গত কয়েক দশকে এসব শিল্প প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।   বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় অংশ নির্মাণ, খুচরা ব্যবসা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত। এলাকাটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের এবং উচ্চ হোমওনারশিপের অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভোটার বেস, যেখানে ব্রেক্সিট-সমর্থন এবং অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক আচরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে।   স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক হতাশা এবং মূলধারার দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে। কেউ কেউ রিফর্ম ইউকের অভিবাসন নীতিকে সমর্থন করছেন, আবার অনেকে লেবার ও কনজারভেটিভ উভয় দলকেই দায়ী করছেন। এই বিভাজনের মধ্যেই বার্নহ্যাম এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিফর্ম ইউকের প্রার্থী রবার্ট কেনিয়ন প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে উভয় প্রার্থীই গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপনির্বাচন কেবল একটি স্থানীয় ভোট নয়, বরং যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং স্টারমারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ফলাফল যাই হোক, এই ভোটকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ‘ভুল’ ছিল: ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর রাচেল রিভস। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আগের তুলনায় নিরাপদ করেছে—এমনটা তিনি মনে করেন না।   বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিভস এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা ছিল এবং আলোচনাও চলছিল। সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ছিল একটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত।   রিভস আরও বলেন, ইরান সরকারকে পছন্দ বা অপছন্দ করার বিষয়টি এখানে মুখ্য নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার সঠিক পদ্ধতি কী। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ইরান সরকারকে অপছন্দ করেন বলেও উল্লেখ করেন।   ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের মতে, যুদ্ধের পর বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। বরং সংঘাতের কারণে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বেড়েছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, সামরিক অভিযানে ইরান ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, রিভসের এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারণী মহলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এই সংঘাতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। ওয়াশিংটনের মাটিতে দেওয়া রিভসের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কেও নতুন করে টানাপড়েন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Unknown এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

নিহত গুগল কর্মকর্তা শীতল রজেসিয়েন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের শীর্ষ ভারতীয় নারী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী, ছেলেও হাসপাতালে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০