রিলেশনশিপ

ছবিঃ সংগৃহীত
সম্পর্কের নাম বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নেই মাথাব্যথা, জেন-জিদের নতুন ডেটিং ট্রেন্ড ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’

সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, নামহীন সম্পর্ক বা 'সিচুয়েশনশিপ' কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস বদলানোর দিন হয়তো এবার ফুরোতে চলেছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণী বা জেনারেশন জেড (জেন-জি)-এর মধ্যে ডেটিং বা প্রেমের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রবণতা বা ট্রেন্ড ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই নতুন ট্রেন্ডের মূল কথা হলো—সম্পর্কের প্রচলিত সব নিয়মকানুন ছুড়ে ফেলে দিয়ে, কোনো একটি সম্পর্ককে তার নিজস্ব গতিতে এগোতে দেওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিংয়ের দুনিয়ায় নতুন এই শব্দটিকে বলা হচ্ছে ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ (Wildflowering)।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই নতুন ট্রেন্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ অনেকটা বুনো ফুলের মতো ফুটে ওঠা। এই ট্রেন্ডটি মূলত সিঙ্গেল বা অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করে, যেন তারা রোমান্টিক সম্পর্ককে কোনো চাপ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতে দেন। এখানে সম্পর্কের কোনো তকমা বা নাম (লেবেল) থাকে না, নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা থাকে না এবং সম্পর্কটি ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে বা এর ভবিষ্যৎ কী, তা নির্ধারণ করার কোনো চাপও থাকে না। সোজা কথায়, আগামী পাঁচ বছর পর সম্পর্কটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে, "দেখা যাক না, সম্পর্কটা কোন দিকে যায়"—এমন নির্ভার চিন্তাধারাই হলো ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং।   বর্তমান যুগে ডেটিং বিষয়টি অনেকের কাছেই বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেসেজের অর্থ বিশ্লেষণ করা, ডেটিং অ্যাপে কার সাথে কীভাবে কথা বলতে হবে তার কৌশল নিয়ে মাথা ঘামানো এবং ঠিক কোন মুহূর্তে গিয়ে সম্পর্কটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে অবিরাম বিতর্ক চলতেই থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের এই ‘ওভারথিংকিং’ বা অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার নিখুঁত প্রতিষেধক হিসেবেই উঠে এসেছে ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং। এই ধারণার মূল ভিত্তি খুব সহজ: একটি সম্পর্ককে জোর করে কোনো পূর্বনির্ধারিত ছাঁচে ফেলার চেষ্টা বন্ধ করা এবং সেটিকে তার নিজস্ব গতিতে উন্মোচিত হতে দেওয়া। আধুনিক শহুরে জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা অনেক সিঙ্গেল মানুষের কাছেই এই বিষয়টি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলে মনে হচ্ছে।   'আনসিঙ্গেল: হাউ টু ডেট স্মার্টার অ্যান্ড ক্রিয়েট লাভ দ্যাট লাস্টস' বইয়ের লেখিকা এবং প্রখ্যাত ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যান এই বিষয়ে তার বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যারা প্রতিটি ফার্স্ট ডেট বা প্রথম দেখাকে অনেকটা বিয়ের ইন্টারভিউ বা চাকরির সাক্ষাৎকারের মতো মনে করেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি বিশেষ উপকারী হতে পারে।   অ্যামি চ্যান বলেন, "আপনি যদি এমন কেউ হন, যিনি প্রথম বা দ্বিতীয় ডেটেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে ফেলেন; ভাবতে শুরু করেন যে সামনের মানুষটি আপনার জীবনসঙ্গী হতে পারবে কি না বা আপনাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের বাবা/মা হওয়ার যোগ্য কি না, তাহলে আপনার কিছুটা থামা প্রয়োজন। অনেকেই মনের ভেতরে থাকা একটি অদৃশ্য চেকলিস্ট মেলানোর জন্য ইন্টারভিউ স্টাইলে প্রশ্ন করতে থাকেন। এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের বিষয়ে আরও বেশি শিথিল ও স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাটা উপকারী হতে পারে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ফিনিশিং লাইনের দিকে দৌড়ানোর চেয়ে বরং কৌতূহলী থাকা, নিজেকে জানা এবং জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে আপনি আসলে কী চান, তা বোঝার চেষ্টা করা বেশি জরুরি।   তবে, যারা খুব বেশি রোমান্টিক এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের মানদণ্ডগুলোকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। এই ট্রেন্ডের একটি অন্ধকার দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।.   আরেক প্রখ্যাত ডেটিং কোচ ড্যামোনা হফম্যান মনে করেন, আধুনিক ডেটিংয়ের ‘গ্যামিফিকেশন’ বা সব কিছুকে খেলা হিসেবে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং ট্রেন্ডের জন্ম। বর্তমানে ডেটিং অ্যাপগুলোতে অবিরাম সোয়াইপ করা, ম্যাচ করা এবং একই সাথে একাধিক মানুষের সাথে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার কারণে রোমান্স বা প্রেমকে সত্যিকারের মানবিক সম্পর্কের চেয়ে একটি গেম বা খেলা বলে বেশি মনে হয়। ড্যামোনা হফম্যান সতর্ক করে বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রত্যাশা যদি একেবারেই ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে শেষ পর্যন্ত অনেকেই হতাশ হতে পারেন, বিশেষ করে তারা যদি নিজেরা পরিষ্কার না থাকেন যে তারা দিন শেষে আসলে কী চান। সব কিছু সময়ের ওপর ছেড়ে দিলে অনেক সময় মানুষ লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরপাক খেতে থাকে।   তাহলে এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং কাদের জন্য কার্যকর? ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যানের মতে, এটি নির্ভর করে মানুষের নিজস্ব ডেটিংয়ের ধরনের ওপর। যারা হুট করেই দ্রুত কোনো সিরিয়াস সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাদের জন্য একটু ধীরগতিতে চলা এবং সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে গড়ে উঠতে দেওয়াটা ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে, যারা এক সম্পর্ক থেকে আরেক সম্পর্কে দ্রুত লাফিয়ে বেড়ান এবং কখনোই কোনো গভীর মানসিক সংযোগ তৈরি করেন না, তাদের ক্ষেত্রে বরং এই অবাধ স্বাধীনতার চেয়ে কিছুটা নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি নিখুঁত বা আদর্শ সম্পর্ক আসলে এক্সেল শিটে করা নিখুঁত পরিকল্পনা এবং সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল রোমান্সের ঠিক মাঝামাঝি কোনো এক জায়গায় অবস্থান করে। কিছুটা স্বতঃস্ফূর্ততা ডেটিংকে আনন্দদায়ক রাখতে পারে, আবার কিছু নিজস্ব মানদণ্ড বা প্রত্যাশা সম্পর্কটিকে একটি অন্তহীন ও অর্থহীন ‘সিচুয়েশনশিপ’-এ পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। কারণ বুনো ফুল কোনো মালির যত্ন ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠলেও, একটি সম্পর্ককে সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হতে হলে তাতে অন্তত সামান্যতম দিকনির্দেশনা ও যত্নের প্রয়োজন হয়।   ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের এই ধারণাটি মূলত তরুণ প্রজন্মের একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ। জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, প্রেমে পড়ার জন্য আদৌ কোনো নির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা রুলবুকের প্রয়োজন আছে কি না। এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ প্রেমের ক্ষেত্রে অপ্রচলিত পদ্ধতি গ্রহণ করছে, যার মধ্যে ‘রিলেশনশিপ অ্যানার্কি’ (Relationship Anarchy) বা সম্পর্কের নৈরাজ্যবাদ অন্যতম। ২০০৬ সালে সুইডিশ লেখিকা অ্যান্ডি নর্ডগ্রেন এই দর্শনের প্রবর্তন করেন। এই দর্শন অনুযায়ী, একজন মানুষের জীবনে কেবল রোমান্টিক সম্পর্কই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে—সমাজের এমন প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এর বদলে তারা বন্ধুত্ব, সৃজনশীল অংশীদারত্ব এবং অন্যান্য মানবিক সম্পর্কগুলোকেও রোমান্টিক সম্পর্কের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।   সেক্স-পজিটিভ ডেটিং অ্যাপ 'ফিল্ড' (Feeld) এবং শিক্ষাবিদ রুবি রেয়ারের ২০২৫ সালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন তরুণ-তরুণীর মধ্যে একজন হয়তো নিজের অজান্তেই কোনো না কোনোভাবে এই 'রিলেশনশিপ অ্যানার্কি' বা প্রথাগত নিয়মের বাইরের সম্পর্ক চর্চা করছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের জীবনযাপনের কারণে তারা আগের চেয়ে কম একাকীত্ব অনুভব করেন এবং মানসিকভাবে বেশি সমর্থন পান। তবে এর কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথাগত সম্পর্কের কোনো মাইলফলক না থাকায়, সম্পর্কের সীমানা নির্ধারণ করা এবং প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।   ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের মতো এই দর্শনগুলো মূলত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, সামাজিক চাপ এবং সমাজ নির্ধারিত ছাঁচে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ। এই দুটি ট্রেন্ডই প্রমাণ করে যে, আধুনিক তরুণ ডেটাররা এখন ঐতিহ্যের চেয়ে স্বকীয়তা এবং চেকলিস্ট মেলানোর চেয়ে প্রকৃত মানসিক সংযোগকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।   অবশ্য, কোনো পদ্ধতিই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞরা যেমন সতর্ক করেছেন যে, ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং অনেক সময় মানুষকে কমিটমেন্ট বা দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে, তেমনি রিলেশনশিপ অ্যানার্কির ক্ষেত্রেও ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক আঘাত এড়াতে প্রচুর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আত্মসচেতনতার প্রয়োজন হয়।   তারপরেও, যে প্রজন্ম ডেটিং অ্যাপের যান্ত্রিকতা, নামহীন সম্পর্ক এবং অন্তহীন নিয়মের বেড়াজালে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, তাদের কাছে এই স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গির আবেদন বোঝা খুব কঠিন কিছু নয়। সম্পর্ককে প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত হতে দেওয়া হোক কিংবা সম্পর্কের প্রচলিত সংজ্ঞাকে নতুন করে সাজানো হোক—জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই মূলত একটি জিনিসই খুঁজছেন, আর তা হলো: আধুনিক যুগের যান্ত্রিক প্রেমকে কিছুটা হলেও স্ক্রিপ্ট বা পূর্বপরিকল্পনার বাইরে নিয়ে আসার একটি উপায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

ইউটিউবে বিনামূল্যে সরাসরি দেখা যাবে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ, যেভাবে দেখবেন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ২৯, ২০২৬ ১৪:০ 0