সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#রফতানিবাণিজ্য

ইউরোপের অস্থিরতায় বাংলাদেশের পোশাক রফতানি নিয়ে উদ্বেগ
ইউরোপে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি, বাড়ছে উদ্বেগ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক-সামাজিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দেশের মোট পোশাক রফতানির প্রায় অর্ধেকই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে। ফলে ওই অঞ্চলে ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া, পণ্য কেনার প্রবণতায় পরিবর্তন কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন তৈরি হলে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের কয়েকটি বড় বাজারে আগে থেকেই রফতানি কমার প্রবণতা থাকায় নতুন অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।   গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিস, লিওঁ, মার্সেই ও লিমোজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ থেকে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এদিন পুড়িয়ে দেওয়া হয় দেড় শতাব্দী পুরোনো লিমোজের ঐতিহ্যবাহী সিটি হল। একই দিনে ইতালির মিলানেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা ও পর্যটকদের আনাগোনায় ব্যস্ত পিয়াজ্জা দেল দুয়োমো এবং আশপাশের বিলাসপণ্যের বিপণিবিতানগুলো খালি হয়ে যায়। ফ্রান্স ও ইতালির পাশাপাশি বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য ইউরোপ গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তবে চলমান অস্থিরতার কারণে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য বিক্রিতে প্রভাব পড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও অস্থিরতা কত দিন চলবে এবং আমদানি চাহিদার ওপর এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে পর্যটকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। অস্থিরতার কারণে পর্যটন ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের রফতানিকারকদেরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে এবং ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানির ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশ গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয়। এ সময়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯০৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। ইইউর বড় বাজারগুলোর মধ্যে জার্মানিতে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানির ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ, স্পেনে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ, ফ্রান্সে ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ এবং ইতালিতে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ গেছে। বছরওয়ারি হিসাবে জার্মানিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। ফ্রান্সে এ হার ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ইতালিতে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ সাম্প্রতিক অস্থিরতার আগেই ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের রফতানি নিম্নমুখী ছিল। নতুন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এ বাজারগুলোয় ব্যবসা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইইউর বাজারে রফতানিতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ইইউর দেশগুলোয় বাংলাদেশ ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। এ সময়ে স্পেনে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং সুইডেনে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে ফ্রান্সে রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ, ইতালিতে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জার্মানিতে দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে রফতানি বাড়লেও ইইউর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে তৈরি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমএস ডায়িং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব তারা অনুভব করছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা অর্ডারের পরিমাণ নিয়মিত সময়ের তুলনায় কম। তবে এ সমস্যা শুধু সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে তৈরি হয়নি; এর আগে থেকেই বাজারের মন্দার কারণে অর্ডার কম ছিল। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রতিষ্ঠানটি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্ডার কমে যাওয়ার পেছনে ইউরোপের বর্তমান অস্থিরতার প্রভাব কতটা, তা এখনই আলাদা করে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রফতানি খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয়কৌশলেও পরিবর্তন আসছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স ও প্রাইমার্কের মতো বড় ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে কেনা পোশাকের একটি অংশ ভারত, মিসরসহ অন্যান্য দেশে সরিয়ে নিচ্ছে। ক্রেতারা এখন একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন ও পণ্য সংগ্রহের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চাইছেন। পাশাপাশি পণ্যের দাম, সরবরাহের সময় এবং উৎপাদন ব্যয়ও তাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রফতানিকারকদের মতে, বৈশ্বিক চাহিদার মন্থরতা ও ক্রেতাদের ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তাও এ পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। ভারতসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোয় তুলনামূলক কম খরচে পণ্য উৎপাদন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনাও ক্রয়াদেশ বণ্টনে প্রভাব ফেলছে। ইউরোপে অস্থিরতা বাড়তে থাকলে ক্রেতাদের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (ইউরোচেম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ মনে করেন, ইউরোপের অস্থিরতার সম্ভাব্য প্রভাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তাঁর মতে, ইউরোপের পরিস্থিতি বাংলাদেশের রফতানিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্যবসা করা বিশ্বের অন্যান্য দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নুরিয়া লোপেজ বলেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ, বিভিন্ন দেশে আসন্ন নির্বাচন, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া চাপ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের ক্ষেত্রে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, শ্রম অসন্তোষ, মজুরি নিয়ে বিরোধ এবং ব্যবসার পরিবেশে স্থিতিশীলতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের কাছে স্থিতিশীলতার শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা, রফতানি কার্যক্রমের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিক করা জরুরি। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তুলাভিত্তিক পোশাকের ক্রয়াদেশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে সরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইউরোপের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানির পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশের রফতানির ওপর চাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানির মূল্য ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো থেকে কমে ১ হাজার ১৯২ কোটি ৮০ লাখ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আট মাসে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমার তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি হ্রাসের হার প্রায় তিন গুণ। নিট পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইউরোপের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রফতানির জন্য তা বড় উদ্বেগের কারণ হবে। এমনিতেই ইউরোপের বাজারে বিক্রি কমেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির দুরবস্থার প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাকের মতে, ইউরোপের অস্থিরতার প্রভাব শুধু বাংলাদেশের ওপর পড়বে না; ইইউতে পোশাক রফতানি করা সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ। শীতকালে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা ও দাম আরও বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং চলমান অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোয় ইউরোপের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকোচন দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে বাংলাদেশের বড় কোনো বিকল্প বাজার গড়ে ওঠেনি। ফলে ইইউর বাজারে চাহিদা কমে গেলে তার প্রভাব মোকাবেলা করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোপের অস্থিরতাকে সরাসরি বাজার সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তাঁর মতে, এ ধরনের বিক্ষোভ মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। কোনো দেশে অস্থিরতা দেখা দিলেই যে আমদানি কমে যাবে, তা নিশ্চিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে। মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। ব্যবসা-বাণিজ্যে এ ধরনের সংকট আসতেই পারে। তাই বাংলাদেশের রফতানিকারকদের এসব পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং সম্ভাব্য সংকটের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০